somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার পুরান ঢাকার বাসিন্দারা

২৬ শে মার্চ, ২০১৪ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আদি পুরান ঢাকার মানুষগুলোকে আমার সব সময়ই পছন্দ , সবসময়ই তাদের ভাল লাগে আমার । খুব আনন্দ ফুর্তিতে থাকে তারা , মানুষকে আপন করে নেয় । আবার যারা খারাপ,তারা খারাপ ই , ঢাকার বাইরের মানুষদের তারা দেখতে পারেনা , বাঙ্গাল বলে গাল দেয় :(

পুরান ঢাকা ছেড়েছি জীবনের তাগিদে , প্রয়োজনে । কিন্তু মন প্রাণ দিয়ে এখনও ভালবাসি পুরান ঢাকাকেই , পুরান ঢাকায় কেউ থাকে শুনলেই অন্যরকম ভাল লাগে , নিজের আপন মনে হয় । যতই মডার্ন আর ভাল ফেসিলেটিস ন্তুন ঢাকায় পাইনা কেন পুরান ঢাকার সেই মজা, শান্তি যেন কোথাও নেই ।

আজ প্রায় দেড় বছর পর গেলাম পুরান ঢাকায় ।
যেখানে আজীবন কাটালাম , বেড়ে উঠলাম সেখানে নয় , একদম আদি পুরান ঢাকায় , কলতাবাজার ,লক্ষ্মীবাজার এর দিকে , আমার জন্মস্থানে । :)
মূলত গিয়েছিলাম একজন অসুস্থ রোগীকে দেখতে । যে বাসায় গিয়েছিলাম ঠিক তার আগের গলিতেই নাকি আম্মুরা ভাড়া থাকতো , আম্মুদের বিয়েরও আগে :P

তখন আপু(কাজিন) পিচ্ছি ছিল
তাই আম্মা (আন্টি) , আম্মু , আপু চাচ্ছিল অনেক বছর পর যখন আসা হল , নিজেদের চেনা সেই বাড়ি ঘর দেখে যাক , হয়তো পুরনো সেই বাড়ির মালিকরা নেই , চেনা মানুষরা নেই , তাও ঘুরে যাবে।
আমিও খুব আগ্রহ নিয়ে তাদের সাথে ঢুকচ্ছিলাম দেখার জন্যে , আগে আমরা কোথায় থাকতাম?

শুধু আম্মুদের মুখে গল্পই শুনি , সব কিছু , সবার। চিকন , অন্ধকার , শ্যাতশেতে গলি দিয়ে ঢুকতেই চেনা একজনের সাথে দেখা হল আপুর, সেখান থেকে সেই পুরনো বাড়ির মালিকদের সাথে। আম্মা,আম্মুকে জড়িয়ে ধরলেন সেই আন্টি , আপুকে , আমাকে কি আদর :)

মনেই হলনা যে এরা বাড়িয়াওলা ছিল আর আমরা ভাড়াটিয়া । বাড়িয়ালি আন্টি জোর করে নিয়ে গেলেন তাদের বাসায় , এখন আর সেই আগের ২তলা বাসা নেই,সেই জায়গায় এখন ৬তলা বিল্ডিং , উঠলাম ৬তলায় , সেই কি মায়া , কি গল্প , হাসি খুশি , এর কথা , ওর কথা জিজ্ঞেস করছে , খবর দিচ্ছে , নিচ্ছে , কে কোথায় আছে । কার কয়জন ছেলে মেয়ে । সেই বাসার বাড়িয়ালারা মানে আংকেলরা তো খুবই ভাল , তারাই আগলে নিল বেশি । তাদের মাঝে আমি যেন আমার পাপাকে(আংকেল) দেখতে পেলাম ।একদম কথা বার্তার ধরণ , মানসিকতা , চলা ফেরা,সব পাপার মতন।

পরে আম্মু আম্মা বলছিল , তোর পাপা এদের সাথে থেকে থেকেই এমন হয়েছিল,যা ইচ্ছে হত তা ই করতো ,বাজার সদাই বেশি বেশি করে করতো,আর সারাক্ষণ হইচই পছন্দ করত।

তাদের সাথে কিছুক্ষণ থেকে মনে হল , কোন কিছুরই কোন চিন্তা নেই যেন , তারাও বলে , কিসের চিন্তা , খাও দাও , মজা কর , চিন্তা করে কি হবে? বাঁচব কদিন ?
আরও বেশি ভাল লাগছিল অনেক বছর পর ঢাকাইয়া ভাষা শুনলাম
যে এলাকায় ছোট থেকে এত বছর কাটিয়ে এসেছি, সেটাও পুরান ঢাকাতেই কিন্তু তারাও এমন ভাষা বলতো না । এটা একেবারে আদি ঢাকাইয়া ভাষা :P

মজাই লাগছিল শুনতে ,কিছুক্ষণের জন্য আমিও কয়েকটা শব্দ শিখে গিয়েছিলাম ;)
আমার মনে হচ্ছিল কোন রূপকথার দেশে চলে গিয়েছি আমি , যেখানে শুধু খাও দাও , আনন্দ কর , বিপদ আপদ যা ই আসুক একসাথে মোকাবেলা কর। কোন চিন্তা নেই , ধান্দা নেই ।

আম্মুও বারবার বলছিল,এসব মানুষের সাথে থাকলে মন এমনিই ভাল থাকে , হার্ট ভাল থাকে । এত হাশি খুশি । মানে সে এক অন্যরকম জগত মনে হল আমার , সবগুলা মানুষ এত ভাল।

তারা খুব শিক্ষিত নয় , হাই সোসাইটির নয় ,মডার্ন নয় কিন্তু তাদের মন টা খুব ভাল , খুব সরল সহজ , মিশুক , কিছুক্ষণের মধ্যেই কেমন আপন করে নিল আমাদের যারা প্রথম দেখেছে আমাদের কে , তাদের ছেলে মেয়েরা , তারাও যে কি ভাল ।

এত বছর পরেও সেই আগের মতই তুই তুকারি করে কথা বললেন তারা , বুকে জড়াল। যেন কয়েকদিন পর দেখা হল , অথচ মাঝে কেটে গেছে কয়েক বছর।
সেই সময়কার আদি ঢাকার মানুষ গুলোই ছিল অন্যরকম ।

খুব ভাল লাগলো , অনেক মন খারাপ ছিল সেই অসুস্থ রোগীর জন্য কিন্তু একটা গোলি পরেই যেন অন্য কোন জগত থেকে ঘুরে আসলাম :)

আশা রাখি তারা সবাই যেন খুব ভাল থাকেন , এমন ই থাকেন :)

১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×