somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাতাঝরার মৌসুম, সমুদ্রবিষাদ-৪

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রোববার ভোর।
আমি বসে আছি ম্যাকডোনান্ডের কোণের টেবিলটিতে। ক্যাপাচিনোর কাপ হাতে। শূণ্য দৃষ্টিতে কাচের ফাক দিয়ে দেখছি, সামনের অপরিসর সবুজে ভোরের কুয়াশার সম্মিলন। দু’একজন জ্যাকেট পরিহিত মানুষ আয়েসী ভঙ্গীমায় হেটে যাচ্ছে সমুদ্রের পথে। অক্টোবরের হালকা কুয়াশা, হেমন্তের পাতাঝরা বাতাস আর খন্ড খন্ড বৃষ্টি। খুব আদুরে অপরিচ্ছন্নতা। পথে- প্রান্তরে, মননে, বাতাসে আর সমুদ্রের ঢেউয়ে। আমি যদিও উপভোগ করতে চাই সবরকম আবহাওয়া, আমি যেহেতু আমার ফেলে আসা উষ্ণমন্ডলীয় দিনযাপনের সাথে মেলাতে চাই এই মেরুদেশীয় শীতলতা, তাই বিভিন্ন ঋতু আমাকে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে মাতিয়ে রাখে। যেমন, এই পাতাঝরা মৌসুমেও আমি ঝরা পাতায় যে এক অদ্ভূত দ্যোতনা থাকে তার ঘ্রাণ নিতে একটুও ছাড় দিই না।

দু’একটি মানুষ কাচের গেইট ঠেলে ঢুকে পড়ে। অর্ডার স্ক্রিনের সামনে দাড়িয়ে অবসাদ ঝেড়ে ফেলে। আমার সামনের কফির মগের তরল ফুরিয়ে আসতে থাকে। আমি ভাবনার রেলগাড়ির মিটারগেজ বিস্তৃত করতে থাকি অক্ষাংশের স্তরে স্তরে-

হঠাৎ চোখ আটকে যায় আমার। একজন তরুনী হাতের প্যাকেট থেকে সামনের সবুজ চত্বরে ছিটিয়ে দিচ্ছে পাখিদের খাবার। তাকে ঘিরে অজস্র কবুতর আর সমুদ্রচিল ঘুরছে পাকে পাকে। নেমে খুটিয়ে খাচ্ছে সবুজ ঘাষের মাঝে ছডিয়ে পড়া সকালের আহার! যেন একটি নক্ষত্রচারী মানবী ছড়িয়ে দিচ্ছে শুভ্র বরফচ্ছটা, আর সবুজ চত্বর মুখোরিত করে অসংখ্য শাদা সূর্য্যফুল উঠছে আর নামছে!

তখনই বুকের মাঝে একরকম শূণ্যতা টের পেলাম। যে হাহাকার আমি পুষে রেখেছি সেই বোধবুদ্ধির সূচনাপর্ব থেকেই। সহমর্মিতার জায়গায় যে ফাকা অনুচ্ছেদ সেখানে শুধু একটি শব্দ বসিয়ে রেখেছি এতকাল- ‘নিজেকে ভালোবাসা’ ! শব্দেরও অধিক যে দায়বন্ধন সেখানে শুধু ‘আমিত্ব’ ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।অথচ চারপাশের এই পারিপার্শ্বিকতা যে ভালো থাকার সবচে আশ্চার্য্য সৌরভ, আমি তা আবারও একবার অনুভব করলাম এই সকালে।

টেবিলে রাখা খালি কাপটি একজন ক্রু’মেম্বার নিয়ে যাবার জন্য এগিয়ে এলে আমি সংবিদ্ধ ফিরে পেলাম। ধন্যবাদ জানিয়ে উঠে দাডালাম। আমাকে ফিরতে হবে সমুদ্রপথে, নিজস্ব ট্রেইলে এখন!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:১২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুলতেকিন কই যাবে?

লিখেছেন দপ্তরবিহীন মন্ত্রী, ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৪২



১. ২০০৩ সালের আগে হুমায়ুন আহমেদের শাওন প্রীতির সময়টাতে গুলতেকিন পরকীয়া করলে সমালোচনা হত।
২. ২০০৩ সালে ডিভোর্সের পর গুলতেকিন আবার বিয়ে করলে সমালোচনা হত।
৩. ২০১৯ সালে বিয়ে না করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইলেক্ট্রিকের তারে বসা হতচকিত জোড় শালিক বেজোড় হল ।

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৫২



বহুকাল আগে ইলেক্ট্রিকের তারে একাকী শালিক দেখে বলেছিলে -
'One for Sorrow' ; পরক্ষনেই কোথা থেকে উড়ে এলো আরেকটি শালিক
বসলো গিয়ে একাকী শালিকের পাশে , ওরা জোড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেয়াঁজ বিহীন ভর্তার রেসিপিঁঁ

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:০৪



খোদ গনভবনে যেহেতু পেয়াজ ছাড়া রান্না হইতেছে , সেখানে আপনি ২৮০ টাকা কেজি দিয়ে পেয়াজ কিনে রান্না করবেন সেটা কি ভাল দেখায়? যাই হোক ব্লগে আমরা পেয়াজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোলকাতা ভ্রমন- ৩ (শেষ পর্ব)

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৫



শান্তিনিকেতন থেকে কোলকাতা ফিরলাম ট্রেনে করে।
ভয়াবহ সেই ট্রেন। পা রাখার জায়গা নাই। ট্রেনের নাম কাঞ্চন। আসাম থেকে এসেছে যাত্রী বোঝাই করে। কোনো রকমে ট্রেনে উঠলাম। যাওয়ার সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরার যাতনা

লিখেছেন আরোগ্য, ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৫

( কাব্যিক পোস্টের জন্য মা হাসান ভাই ও ভুয়া মফিজ ভাইদ্বয়ের সমীপে দুঃখিত। গল্প বা বিশদ বিশ্লেষণ লিখতে পারি না, তাই স্বল্প সময়ে অকবিতাই মোর ভাব প্রকাশের বাহন)... ...বাকিটুকু পড়ুন

×