
মনে হচ্ছে, ড: কামাল হোসেন নিজের অজান্তেই জাতির জন্য সামান্য ভালো কিছু করেছেন: শেখ হাসিনার এক গুঁয়েমীতে একটা ছোট আঁচড় কেটেছেন, এটার দরকার ছিলো; শেখ হাসিনা বিএনপি-জামাতের রাজনীতিকে কন্ট্রোল করতে গিয়ে, দেশের মানুষকে রাজনীতি বিমুখ করে ফেলেছেন; এটা জাতির জন্য ভয়ংকর অবস্হা!
শেখ হাসিনা কথায় কথায় সংবিধানের কথা বলছিলেন আজকাল; সংলাপে, সংবিধান প্রণেতাদের সভাপতির সাথে সামানাসামনি কথা হলো অনেকদিন পর!
শুধু বিএনপি জামাতের লোকেরা নয়, শেখ হাসিনার সাপোর্টারেরা হতাশ, কোথা থেকে উড়ে এসে লোকজন আমাদের পার্লামেন্টে স্হান করে নিচ্ছে; আওয়ামী লীগের হানিফ, ড: হাছান মাহমুদ, টুকু, ওবায়দুল কাদের, মতিয়া চৌধুরী, নাসিমরা যে ভাষায় কথা বলছে, এগুলো স্বয়ং আওয়ামী লীগ সাপোর্টারদের কাছে ভীতিজনক!
ব্লগার রাজীব নুর সাহেব খুলনার জনপ্রিয় ফুটবলার ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, কোন এক সালম মুর্শেদীকে নিয়ে পোষ্ট দিয়েছেন, সালাম মুর্শেদী সাহেব এখন পার্লামেন্ট সদস্যও, রাজিব উনাকে ভালো মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছেন; আমি জানতে চেয়েছিলাম, সালম মুর্শেদী সাহেব কি পার্লামেন্টে "বিল এনে আইন পাশ" করানোর নিয়ম কানুন জানেন? রাজিব নুর সেটার উত্তর জানেন না! আমাদের পার্লামেন্ট কি গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের ক্লাব, নাকি শতকরা ১৭.৪ হারে বর্ধিত হারের সুপার ধনীদের আড্ডাখানা? শেখ হাসিনাকে ভাবতে হবে, জাতীর পার্লামেন্টকে ক্লাব বানানো কি ঠিক হচ্ছে?
শেখ হাসিনা গতদিন সংলাপে বসেছিলেন ড: কামাল হোসেনের সাথে; শেখ হাসিনার সাথে ২২/২৩ জন ছিলেন, ড: কামাল সাহেবের সাথে ছিলেন ২১ জন; একমাত্র ড: কামাল ও শেখ হাসিনা ব্যতিত বাকী যারা দিল সবই ছিল অপ্রয়োজনীয় ও অদক্ষ; আসলে, সংলাপে ড: কামাল ও শেখ হাসিনা উপস্হিত থাকলে সংলাপটা আরো কার্যকরী হতো!
সংলাপ শেখ হাসিনার উপর কিছুটা প্রভাব ফেলবে অবশ্যই; উনি এতদিন পত্রপত্রিকায় ড: কামালের কথা শুনে আসছিলেন, নিজেও উনার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন; এখন সামনাসামনি বসে কথা বলেছেন, এটার প্রভাব অবশ্যই পড়বে শেখ হাসিনার উপর; ড: কামাল হোসেন বিএনপি-মনা মানুষ নন, উনি কেন বিএনপি'কে কোয়ালিশনে নিয়ে শেখ হাসিনার উপর চাপ স্বষ্টি করছেন, সেটা শেখ হাসিনাকে বুঝতে হবে: দেশে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ব্যতিতও মানুষ আছেন, তাঁরা সন্তুষ্ট নন; এদেশের মানুষ পার্লামেন্টকে সালাম মুর্শেদীদের ঢাকা ক্লাব হিসেবে দেখতে চাহে না; শেখ হাসিনা বিএনপি-জামাত ঠেকেতে গিয়ে বাংগালীদের পার্লামেন্টকে কলাবাগানে পরিণত করেছেন, ধনীদের আড্ডাখানায় পরিণত করেছেন, এটার অবসান হওয়ার দরকার!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



