somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুজঝটিকা...

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কী ঘন কুয়াশা...আধহাত দূরের জিনিসও ঠাওর করতে কষ্ট হয়...সকাল আটটা বাজে কিন্তু সূর্যের দেখা নেই..লঞ্চের যাত্রীরা অনেকে বলাবলি করছে আজ লঞ্চ ছাড়বে না...কেবিনে চোখ বন্ধ করে মটকা মেরে পড়ে আছি.. যাত্রীদের টুকটাক কথা কানে ভেসে ‍আসছে...এসব কথার মাঝেই লঞ্চটা হালকা দুলে উঠলাে...লঞ্চের হুইসেলে কেঁপেে উঠলো চারপাশ...কেবিনে শুয়েও টের পাই লঞ্চের বারান্দায় মানুষের ছুটোছুটি...লঞ্চ ছেড়ে দিয়েছে....পর্দ‍া সরিয়ে লঞ্চের বাইরের জমাট বাঁধা কুয়াশা দেখি...কঠিন ভাষায় যারা বাংলা লেখেন তারা এখানে ‘কুজঝটিকা’ শব্দটি অনায়াসে লিখে দিতে পারতেন...
আধা ঘন্টার মতো হয়েছে শক্ত কিছুতে বাড়ি লাগার মতো শব্দ হয়..খানিকটা কেঁপে ওঠে থেমে গেলো লঞ্চ...বারান্দায় ডেকে হুটোপুটির শব্দ...কি হয়েছে জানতে কেবিন ছেড়ে বেরুবার আগেই আবারো খানিকটা কেঁপে একপাশে সামান্য কাত হয়ে গেলো লঞ্চ...
কেবিন ছেড়ে বেরুতেই ছোট ভাই Rakibul Hasan খানিকটা আতঙ্কিত চোখে জানায় চড়ায় আটকে গেছে...বারান্দায় সব মানুষ ভিড় করেছে...লাইনের নিয়মিত যাত্রীরা নির্বিকার ভঙ্গিতে ঘোরাফেরা করছে আর আমাদের মতন মৌসুমি যাত্রীরা একটু আতঙ্কিত হয়ে রেলিংয়ে ঝুঁকে নদীর দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে ঘটনাটা কী?
আবারো লঞ্চের ইঞ্জিন গোঁ গোঁ শব্দ করতে করতে গর্জে উঠলো...লঞ্চটা এবারে একটু পিছিয়ে অ‍ারেকটু কাত হয়ে গেলো আর লঞ্চের প্রপেলারের ধাক্কায় পানির নীচের কাদামাটি উঠে আসতে লাগলো....এবারে নির্বিকার ভঙ্গিতে ঘোরাফেরা করা মানুসগুলোও বেশ চিন্তিত মুখে রেলিংয়ে ঝুঁকে ঘটনাটা বোঝার চেষ্টা করতে লাগলো...
আমার পাশ থেকে একজন বলে উঠলো লঞ্চ চরে আটকালো কেমনে? সারেং ব্যাটা জিপিএস দেইখ্যা চালায় না...এবারে তার পাশেরজন উত্তর দিলেন এই লঞ্চটায় জিপিএস নেই...আবার ছোটভাই এবার তাকে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা ভাই এটা কোন জায়গা আন্দাজ করতে পারেন? লোকটা চোখ খুব ছোট করে চারদিকে দেখার চেষ্টা করলো যদি আন্দাজ করার মতো কিছু পাওয়া যায়...লোকটা কিছু বলার আগেই ও আমাকে বললো, এ্যাই ভাইয়া তোমার ফোনে দেখো তো...আমি জিপিএসটা অন করলাম...সঙ্গে সঙ্গে লোকটা প্রায় চেঁচিয়ে উঠলাে আপনার মোবাইলে জিপিএস অছে...তাড়াতাড়ি মাষ্টার রুমে যান...আমি একটু ইতস্তত করছি দেখে তিনি নিজেই আমাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলেন...
মাষ্টার রুমে গিয়ে দেখি সেখানকার পরিস্থিতি যাত্রীদের চেয়ে আরো খারাপ...সারেং ঠিক বুঝতে পারছেন না এটা কোন জায়গা আর তার দুই সহকারী চালক দুজনে একে অপরকে দোষ দিয়ে ক্রমাগত ঝগড়া করছে...আমি ভেবেেছিলাম আমাকে দেখে বোধহয় সারেং ঝাড়ি দেবেন...কারন উৎসুক জনতার অনেকেই মাষ্টার কেবিনের দরজার ভিড় করেছে আসল ঘটনাটা জানার জন্য আর সেই সঙ্গে উপদেশ বৃষ্টিতো সমানতালে ঝরছে...
আমি কিছু বলার আগেই ওই ভদ্রলোক আমার মোবাইল দেখিয়ে বললেন, জিপিএস আছে...সারেং আমার দিকে বেশ আগ্রহভরে তাকিয়ে বললেন, ঠিক কোথায় আটকাইছে আমাকে দেখান তো???আমি তাকে দেখালাম...একটু চিন্তা করে বললেন ম্যাপটা ছোট করেন...এবারে আমাকে ঢাকা যাওয়ার রুটটা দেখান....আমি তাকে পুরো রুটটা দেখালাম...কয়েক মিনিট মনোযোগ দিয়ে দেখলেন...
এরপর চিৎকার দিয়ে বললেন ওই দড়ি ফালা, পানি মাপ...আর তার সহকারী চালকের দিকে তাকিয়ে বললেন, কোর্স ঠিক কর...লঞ্চটা একটু দুলে উঠলো...একপাশে ‌একটু কাত হয়ে ধীরে ধীরে চলতে শুরু করলো...
দুইঘন্টার মতো হয়েছে লঞ্চটা কুয়াশা কেটে চলছে...এখনো কুযাশা সরে যায়নি...তাই মাষ্টার একটু পরপর ভেঁপু বাজাচ্ছেন সামনে বড়ো কোন নৌযান নোঙ্গর করা থাকলে যেনো শব্দের প্রতিধ্বনিতে তা বুঝতে পারেন...আর একটু পর পর আমার হাতে ধরে থাকা মোবাইলের স্ক্রীনে চিন্তিতমুখে লঞ্চের গতিপথ দেখছেন...
তবে লঞ্চ চলা শুরু করা মাত্রই যাত্রীরা সব নির্বিকার তা ওই মাষ্টার কেবিনে বসেও খুব বুঝতে পারছিলাম...গজারিয়ার কাছাকাছি আসতেই হুট করে কুয়াশা কেটে রোদ উঠলো...রোদ উঠার সঙ্গে সঙ্গেই সারেংয়ের সহকারী দুটি কথা বললেন...প্রথমটি আলহামদুলিল্লাহ...দ্বিতীয়টি ভাই অনেক কষ্ট করলেন...একটু চা খান...
চা খেতে খেতে আমি নিজেও দুটি কথা ভাবছিলাম...প্রথমটি.... একটু আগেও ভয়ে সিঁটিয়ে ছিলাম এই ভেবে, লঞ্চটা না কোন নৌযানের সঙ্গে ধাক্কা খায়। কারন কুয়াশায় একরকম অন্ধের মতই পথ চলতে হয়েছে...দ্বিতীয়টি...থাক এটা না জানলেও চলবে...সব কথা জানতে নেই...
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×