চোঁখ মেলে তাকালো ফারহান।তার যে ঘুম ভাঙলো তা না,বরং ব্যর্থ ঘুমানোর চেষ্টা বাদ দিতে চোখ খুললো।মাথার ভিতর চিন চিনে ব্যথা।উঠে বসার চেষ্টা করলো সে,কিন্তু পারলো না।হাত বাড়াল বিছানার পাশের সাইড টেবিলে ।কিন্তু হাতে কিছু স্পর্শ করলো না।না,চশমাটা নেই ওখানে।অবশ্য থাকা না থাকার কোন পার্থক্য নেই।চশমা পড়লেও সব ঝাপ্সা লাগে এখন তার,এখন।মনে পরে ফারহানের।কয়দিন আগে ও কি ছিল সে আর আজ কি।তার হৃদয় যেনও কেউ হাজার আঘাতে জরজরিত করেছে।কি এমন করেছি আমি যার জন্য এমন সাজা?ভাবে ফারহান।কিভাবে সব পালটে গেল ভাবতেই শিউরে উঠে ফারহান।মাত্র ৭২ ঘন্টায় সব পালটে গেল।
হ্যা,মাত্র ৭২ ঘন্টা।
৭ই জুন।
সন্ধ্যা ৬টা।
চকবাজার মোড়।নিউ-লাইফ ডায়াগনষ্টিক চেন্টার।
ডাক্তার আনিক রাব্বানির চেম্বার।
বাহিরে অনেক মানুষের ভিড় থাকলেও আগে থেকে সিরিয়াল থাকায় সরাসরি ভিতরে ঢুকে গেল ফারহান।
তাকে দেখে শুষ্ক হাশি দিলেন ডাক্তার আনিক রাব্বানি।
-কেমন আছ ফারহান?
জ্বি,ভাল।
তোমার সব রিপোর্ট আমি দেখলাম।সব ঠিক আছে তবে...।
-তবে কি আঙ্কেল??
-দূর্ঘটনার উপর তো কার ও হাত নেই ফারহান।“ Iam sorry.”
-কি হয়েছে প্লিজ বলুন।আমি জানতে ছাই কি আই কদ ৪৭১০৫??
-এ রকম কখনও ঘটে না,কিন্তু শুধু তোমার বেলায় কেন আমি বুঝতে পারছি না.........
তুমি তোমার প্রজেক্ট এর জন্য ফিট,কিন্তু......
এরপর ডাক্তার যা বললেন তার জন্য মটেও প্রস্তুত ছিল না ফারহান।
৫ই জুন।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হোসেন মুবারক এর একমাত্র সন্তান ফারহান।শান্তশিস্ট মায়াকারা চেহারার অধিকারী এবং রসবোধসম্পন্ন।সাদাসিদা চালচলন এবং উন্নত মন মানসিকতা কেন জানি যায়না রাশভারী ব্যবসায়ী মুবারকের সাথে।অ্যাষ্ট্রফিজিক্সে গ্র্যাজুয়েট ফারহান স্কলারশিপ পেয়েছে নাসা তে ইন্টার্নি করার।তারই কাগজপত্র প্রস্তুত করতে কিছু ব্যস্ত দিন কাটছে তার।
৫ই জুন।
সকাল ৯-৪৪ মিনিট।
ডিএনএ প্রফাইল(DNA Profile) তৈরি করার জন্য সকালে স্যাম্পল(Sample) দিতে আসল চট্টগ্রাম মেডিকেল ডিএনএ লাবে।তার বাবা-মা এর করা থাকলেও কেন জানি এতদিনেও তার প্রফাইল তৈরি করা হয় নি ।স্যাম্পল দেয়ার সময় একবারও মনে হয়নি তার যে,এই ডিএনএ প্রফাইলই তার জগৎটা এমন এলোমেলো করে দিবে।
৫ই জুন।
সন্ধা ৭:০০ টা।
গাড়িতে করে বাসায় ফিরছে ফারহান।হাতে ডিএনএ প্রফাইল এর রিপোর্ট।আলোকজ্জল রাস্তায় ছুটে যাচ্চে গাড়ি,কিন্তু কোনদিকে ফারহান এর মন আছে বলে মনে হয় না।মনের পর্দায় ভেসে উঠছে শুধু ল্যাব আ্যসিস্ট্যান্ট এর অদ্ভুত চাহনি,ডাক্তার এর নির্লিপ্ত আচরণ আর অদ্ভুত বাচনভঙ্গি।মনে পরছে ল্যাব ডাক্তার এর সাথে তার সংক্ষিপ্ত কথোপকথন।
-মিস্টার ফারহান,আপনি স্যাম্পলের সাথে আপনার বাবা-মা এর যে পেপার জমা দিয়েছেন তা কি ঠিক?
-আমার কোন সন্দেহ নেই ডাক্তার,কিন্তু ...কিন্তু কেন??
-তাহলে আপনার জন্য খারাপ সংবাদ।
“your DNA profile don’t match…. U r not their original child.”
৫ই জুন।
রাত ১১-০০টা।
সৌদিয়া পরিবহনের একটি বিলাশবহুল গাড়ি চট্টগ্রাম থেকে ছুটে যাচ্ছে ঢাকার দিকে।অন্য যাত্রীদের মধ্যে ই-১ এ বসা যাত্রীকে আলাদাভাবে দেখার কোন কারণ নেই।তারপর ও ই-২ এর যাত্রীর মধ্যে কিছুটা উস্খুস ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।আলোছায়ায় বুঝা না গেলেও,এই সে,আমি নিশচিৎ।ভাবল ই-২ এর প্যাসেন্জার।
অবশেসে নিরবতা ভাঙলেন তিনি।
-তুমি মুবারক সাহেবের ছেলে ফারহান না?? অনেকদিন পর দেখলাম তোমায়...তা কেমন আছো??
-আমি??...। হটাৎ প্রশ্ন শুনে চমকে উঠল ফারহান...।।হ্যা...। শুষ্ক হাসি হাসলো ফারহান।হ্যা,মুবারক সাহেবের ছেলে ছিলাম আমি...... শেষের দিকে তার কন্ঠটা ধরে এলো......।
ডাক্তারের কথায় যা বুঝার বুঝতে পেরেছিল ফারহান।তারপর ও বাসায় ফিরে তার বাবা-মা এর মুখোমুখি হল ফারহান।কিছু বলল না,শুধু রিপোর্টটা এগিয়ে দিল ফারহান।কিছুক্ষণ আগে তার ধ্বংস হওয়া পৃথিবীতে যেন একা দাড়িয়ে রইল সে।
রিপোর্ট পড়ে চমকে উঠলেন মুবারক সাহেব।তিনি যানতেন বেশিদিন সত্য চেপে রাখতে পারবেন না,তাই বলে আজ......
অনেক্ষণ তিনজনই চুপ করে রইল।
অবশেষে নিরবতা ভাংলেন মুবারক সাহেব।ফারহান,আমাদের নিঃসঙ্গ জীবনে আমরা একটা অবলম্বন চেয়েছিলাম,তাইতো আজ থেকে ২০ বছর আগে তোমাকে আমরা দত্তক নিয়েছিলাম,কিন্তু,তোমাকে তো আমরা কখনও তা বুঝতে দেইনি,তাইনা ফারহান??
-আমি আসলে কে বাবা?? আমি আমার নিজেকে জানতে চাই বাবা,বলল ফারহান।
-বেশ,তবে তাই হোক......
এরপর ঠিকানা নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা দিল ফারহান।
৬ই জুন।
সকাল ৮-৪৫ মিনিট।
“৪৭/২ মুহুরিপাড়া,এয়ারপোর্টরোড”।
পালকপিতা হোসেন মুবারকের দেওয়া এই ঠিকানা পেতে খুব একটা অসুবিধা হল না ফারহানের।মূলসড়ক থেকে হাতের বাম দিকে নেমে কিছুদূর আগাতেই দেখতে পেল বিশাল সাইনবোর্ড,”মুহুরিপাড়া এবতেদিয়া মাদ্রাসা & এতিমখানা”।ফটক দিয়ে ভিতরে ঢুকতেই শিশু কিশোরদের সম্মিলিত কন্ঠে কুরাআন পড়ার সুর কানে ভেশে এল।অফিসরুমে গিয়ে এক পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তিকে চোখে পরলো।
-“আসসালামুয়ালাইকুম, আপনি কি আমাকে একটু সাহায্য করতে পারবেন??” বলল ফারহান।
-“জ্বি বলুন”,নির্লিপ্ত স্বরে বলল লোকটা।
-“একটা ছেলের ব্যাপারে কিছু জানতে চাই”।
-“ছেলের নাম??”
-“ফারহান।‘
-“বয়শ??”
-“যখন এখান থেকে নেওয়া হয় তখন ছিল ২ বছর।“
-“কবে নেওয়া হয়??”
-“২১ বছর আগে”।
-আকাশ থেকে পড়ল লোকটা।“দেখুন এতো আগের কার কোন ইনফর্মেশন দেওয়া কঠিনই না,অসম্ভব ব্যাপার”।
-“সেই অসম্ভব কে সম্ভব করতে হবে আপনার।যে ভাবেই হোক”।একটু হুমকির স্বরেই বলল ফারহান।“ছেলেটার ব্যাপারে যে কোন তথ্য আমি জানতে চাই।আমি দুইঘন্টা পর ফিরে আসছি”,এই বলে দুইটা ১০০০ টাকার নোট টেবিলে রেখে বেরিয়ে আসলো ফারহান।
৬ই জুন।
সকাল ১১-০০টা।
এই দুইঘন্টা ঢাকা শিশু অধিদপ্তর এর কম্পিউটার আর্কাইভে ঘুরে আসলো ফারহান।কিন্তু তেমন কিছুই পেল না।না জানি কি শুনতে পাই, এমন শঙ্কিত মস্তকে ফিরে এল এতিমখানার অফিসে।
“তা,কি পেলেন আপনি??”লোকটাকে জানতে চাইল ফারহান।
হাসিমুখে তারদিকে তাকাল লোকটা।
তারপর বলল,”তেমন কিছু না।শুধুমাত্র এই যে,২১ বছর আগে ২২সে জানুয়ারী লোকমান নামক এক ব্যক্তি ফারহানকে এখানে দিয়ে যায়।তারপর তিন মাস পর হোসেন মুবারক নামক এক শিল্পপতি...”।।
-থামিয়ে দিল ফারহান।“তার বাবা-মা র ব্যাপারে কোন তথ্য নেই???” জানতে চাইল ফারহান।
-“না,এব্যাপারে কোন তথ্য নেই”।
-“লোকমান সাহেবের কোন ঠিখানা??”
-“আছে,তবে ঐ ঠকানা এখনোও ঠিক আছে কিনা কে জানে”।
এরপর লোকমান সাহেবের ঠিখানা নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পিছন থেকে ডাক দিল লোকটা।“আচ্ছা জনাব,ফারহান আপনার কি হয়???”
-ফারহান?? মৃদু হাসলো সে... পিছনের দিকে না ফিরেই বলল,”ফারহান আমার কিছু হয় না......,আমি নিজেই ফারহান”।
৬ই জুন।
সন্ধ্যা ৬-০০টা।
মানিকনগর,রাজশাহী।
পদ্মার কূল ঘেসে বয়ে যাওয়া গ্রাম।
লোকমান মিয়ার বাড়ী খুজে পেতে যেরকম সমস্যা হবে ভেবেছিল ফারহান,তেমন কোন সমস্যাই হল না।মানিকনগর হাটের এক বয়স্ক ব্যবশায়ীকে জিজ্ঞাসা করতেই তাকে বাড়ী চিনিয়ে দিল।
আধা ঘন্টা পর।
মুখোমুখি লোকমান মিয়া এবং ফারহান।
-চাচা,আমি ঢাকা থেকে আপনার কাছে এসেছি শুধু একটা তথ্য জানতে”,বলল ফারহান।
-জ্বি বাবা বল।
-আজ থেকে ২১ বছর আগে যে শিশুকে আপনি মুহুরিপাড়া এবতেদিয়া মাদ্রাসা & এতিমখানায় দিয়ে এসেছিলেন আমি তার পরিচয় জানতে চাই।
-এতো বছর পর হঠাৎ তার পরিচয়…. কিন্তু কেন?
-চাচা,আমার খুবই দরকার….. প্লিজ বলুন.
-কিন্তু বাবা,আমি নিজেওতো তার পরিচয় জানিনা।
-মানে?? অবাক হল ফারহান।
-তবে শোনো।ফাতেমা বেগম নামের আমার এক দূর সম্পর্কের কাজিন ছিল,এখানেই আশে পাশে থাকতো।তার কোন সন্তান ছিল না।একবার সে আর তার স্বামী গ্রাম থেকে ঢাকা চলে যায়।এর বছর খানেক পর সে এক শিশু পুত্র নিয়ে একা ফিরে আসে।শোনা যায় তার স্বামী নাকি সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়।আর,শিশুটি নাকি সে পালক নিয়েছে,কিন্তু সে সবসময় তার সন্তান দাবী করতো.যাই হক,দুর সম্পর্কের বোন,তাই আমি তাকে আশ্রয় দেই।কিন্তু আসার কয়েকদিন পর সে মারা যায়।মরার আগে সে আমাকে একটা খাম দিয়ে বলে,আমি যেন এই শিশুর দায়িত্ব নেই।কিন্তু আমার অবস্থা এতো ভাল ছিল না বিধায় আমি ওই শিশুকে এতিম খানায় দিয়ে আসি।
-ওই খামে কি লেখা ছিল???
-আমি বাবা মুর্খ মানুষ।আমি জানি না।
-ওই খামটা কি আছে আপনার কাছে?? ব্যাকুল হয়ে জানতে চাইল ফারহান।
-তারদিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকালো লোকমান মিয়া।কিছু না বলে উঠ গেল।বেশ কিছুক্ষন পর ফিরে এল একটা জীর্ণ খাম নিয়ে।নিরবে বাড়িয়ে দিল ফারহানের দিকে।কাঁপাকাপা হাতে খুললো খামটি ফারহান।পুরনো হলদে এক কাগজে লেখা পেল...।
“এই মরমে,ফারহান,ছেলে,ক্রমিক নং:৪৭১০৫, এর সকল দায়ভার বিনা সর্তে ফাতেমা বেগম,মানিকগঞ্জ,রাজশাহীর নিকট আজীবন,তার আবেদনের প্রেক্ষিতে হস্তান্তর করা হইল”
আদেশক্রমে
বাংলাদেশ শিশু অধিদপ্তর,ঢাকা।
৬ই জুন।
রাত ১১-৩০টা।
এই মাত্র ঢাকার দিকে ফারহানের গাড়ী ছাড়লো।
অনেক চিন্তাই মাথায় আসছে ফারহানের কিন্তু সে ঠিক কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।শুধু বুঝতে পারল,ফাতেমা বেগমও তার আসল মা নয়,আবেদন করে তার দায় ভার নিয়েছে।কিন্তু কেন???বুঝতে পারলো ফারহান নামটা এই ফাতেমা বেগমেরই দেওয়া,কিন্তু কেন এই কোড ৪৭১০৫?
বুঝতে পারল ফারহান,এই কোডের পিছনেই লুকিয়ে আছে তার আসল পরিচয়।
৭ই জুন।
সকাল ১০-০০টা।
বাংলাদেশ শিশু অধিদপ্তর,ঢাকা.
মহাপরিচালক রাকিব চিস্তিয়ার মুখোমুখি ফারহান।
-তবে তুমি জানতে চাও এই কোড ৪৭১০৫ সম্পর্কে??ফারহানের কাহিনী শোনার পর ধীরে ধীরে বললেন রাকিব চিস্তিয়া.
-হ্যা স্যার,আমার জীবন আজ এই কোড ৪৭১০৫ এর সাথে জরিত।প্লিজ আমাকে বলুন।
-তোমাকে এই ব্যাপারে ভাল বলতে পারবেন ডাক্তার আনিক রাব্বানি।“৪৭” সিরিজের কাজগুলো সব তার তত্বাবধানে ছিল।আমি এই কোড ৪৭১০৫ সংক্রান্ত সব কাগজ পত্র তার কাছে ফ্যাক্স করে দিচ্চি।তুমি আজ ৭ই জুন, সন্ধ্যা ৬-০০টায় তার সাথে দেখা করবে।best of luck.”এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন রাকিব চিস্তিয়া।
ডাক্তার আনিক রাব্বানির শেষ কথা গুলো মনে আসতেই চোখঁ বেয়ে কান্না নামল ফারহানের।
”দেখ ফারহান,কোড- ৪৭১০৫ হল তোমার সিরিয়াল নাম্বার।
আচছা,তুমি কি জানো তোমার জন্ম কিভাবে হয়েছে?জানতে চাইলো ডাক্তার আনিক রাব্বানি।
যে বিষয় নিয়ে জীবনে ভাবেনি,কেউ কিছু বলেনি তা ফারহান কিভাবে জানবে??শুষ্ক একটা শব্দ বেড়িয়ে এলো তার কন্ঠনালী দিয়ে,”না ডাক্তার”।
-আসলে ফারহান,তুমি একজন টেস্টটিউব শিশু।তোমার আসল বাবা মায়ের নিসিক্ত শুক্রাণু-ডিম্বানু ফাতেমা বেগম এর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়,কারণ তোমার মা এর জন্য ফিট ছিলেন না।কিন্তু তোমার জন্মের ৬ মাস পরও তারা তোমাকে নিতে আসেনি।আমরা যোগাযোগের চেষ্টা করি কিন্তু কাউকে পাইনি।সম্ভবত তারা মারা গিয়েছিল।তাই তোমার গর্ভধারিণী মাতা ফাতেমা বেগম এর আবেদন এর উপর তোমার দায়ভার তাকে দেওয়া হয়।” একটু বিরতি নিলেন ডাক্তার আনিক রাব্বানি।
-আমার বাবা-মা কারা ছিল ডাক্তার?? কান্না ভেজা কন্ঠে জানতে চাইল ফারহান।
-“সেটাইতো সবচেয়ে হতাশা জনক বিষয় ফারহান”,যথাসম্ভব সহানুভূতি নিয়ে বলল ডাক্তার আনিক রাব্বানি।“৫ বছর আগে এক দূর্ঘটনায় আমাদের পুরোনো আর্কাইভ ধ্বংস হয়ে যায়।ফলে আজ থেকে ২০ বছর আগে জন্মগ্রহন করা কোন টেস্টটিউব শিশুর আসল পরিচয় আমাদের জানা নেই।we are extremely sorry,my child”.ধীরে ধীরে বললেন ডাক্তার আনিক রাব্বানি।
-“তাহলে ডাক্তার, কে আমি?? শুধুই কি কোড-৪৭১০৫??” বুকের জমানো কষ্ট নিয়ে চাপা আর্তনাদ বেড়িয়ে এলো ফারহানের মূখ দিয়ে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


