somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমজনতার রাজনৈতিকরণ

১৫ ই আগস্ট, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলায় যখন পত্রিকায় দেখতাম “অমুক আর তমুক দলের মধ্যে সংঘর্ষে,এতজন আহত” তখন ভাবতাম তারা কেন মারামারি করে… কিভাবে করে?? তারা কি আলাদা ড্রেস পরে মারামারি করতে নামে?? কে কাকে মারছে কিভাবে বুঝে তারা??? আস্তে আস্তে যত বেড়ে উঠতে লাগলাম ততই ব্যাপারগুলো আরও ব্যপকভাবে চোঁখে ধরা পরতে লাগত… তবুও ভাবতাম।। তাদের কি আর কোন কাজ নাই?? কেন মারামারি করে আহত নিহত হয়? পড়াশুোনার খাতিরে এখন বাসার বাহিরে থাকতে হয়,তাই এখন অনেক কিছুই বুঝি,বুঝতে হয়,বুঝে চলতে হয় ।যাই হোক,কিভাবে দেশের সাধারণ আমজনতা রাজনৈতিক মাঠের দাবার গুটি হয়ে উঠে তা নিয়ে আমার ধারাবাহিক আলোচনার আজ প্রথম পর্বে থাকছে শিক্ষার্থীদের নিয়ে………।।
জ্ঞান আহরনের মহান উদ্দেশ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিস্ঠানে গিয়ে কিভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতির ফাঁদে পড়ে রাজনৈতিক কর্মী হয়ে উঠে,আসুন দেখা যাক………।



কেস স্টাডি-০১

ফরহাদ্………। সদ্দ্য স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছে………। সদা উচ্ছলতা,প্রাণচাঞ্চলতায় মাতিয়ে রাখে ক্যাম্পাস……।ক্লাসের সবাই তার বন্ধু…………ভালোই জনপ্রিয়তাই তার।। কিন্তু একদিন ক্লাসে আসে ক্ষমতাশীল দলের কিছু বড় ভাই …।তারা এসে সেই ক্ষমতাশীল দলের কমিঠি ঘোষণা করলো যেখানে ফরহাদ সহ আরও অনেকের নাম……।।কিছু না করেই ফরহাদ হয়ে গেল সেই দলের কর্মী……। এরপর ফরহাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ক্লাস থেকে নিয়ে যাওয়া হত…… টঙে দাড়িয়ে আডডা দিতে হত,কখনোবা পালাতে না পারলে মিছিলে যোগ দিতে হতো……।।আর প্রতিবাদের চেষ্টা করলে চোখঁ রাঙ্গানিতো আছেই……।।এভাবে সবার প্রিয় ফরহাদ হয়ে গেল বিশেষ কোন দলের…।। আমজনতা থেকে রাজনৈতিক কর্মী।





কেস স্টাডি-০২

নাফীস………ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে যখন বরিশাল মেডিকেলে চান্স পেল,তখন তার পিতা মাতা খুশি হওায়র সাথে সাথে উথকন্ঠিত ও হয়েছিল ছেলেকে নিয়ে……চটটগ্রাম থেকে এত দূরে গিয়ে ছেলে কোথায় থাকবে,কিভাবে থাকবে চিন্তা করে তারা দুশ্চিন্তায় থাকতো…। বরিশালে তাদের কোন আত্তীয় নেই যে,তাকে দেখে রাখবে…।।দুই একদিনের মধ্যে বরিশাল মেডিকেল থেকে তাদের কাছে ফোন আসতে শুরু করল,যে ছেলেকে নিয়ে চিন্তা করবেন না,আমরা আছি…।। একদিন দুইজন বাসায় আসল। তারা আসলো নাফিস যে কোচিং এ ক্লাস করেছিল সেখান থেকে…।। তারা নাফিসকে দেখে রাখবে,কোন সমস্যা হবে না……ইত্যাদি ইত্যাদি আশ্বাস দিয়ে গেল নাফিসের পিতামাতাকে……।নাফিসের আব্বার আবার রাজনীতিকে অনেক ভয়… চাননা ছেলে এইসবে জড়াক…। সেই ভাইয়েরা তাকে আশ্বাস দিল এইরকম কিছু ঘটবে না,তারা সবাই সাধারন ছাত্র……।যাই হক,একদিন নাফিস বরিশাল মেডিকেল গেল…কিছু দিনের মধ্যে বুঝতে পারল তার সব সহপাঠী এক না… তাদের মধ্যে বিরাজমান অদৃশ্য এক দেয়াল…। তারা কিছু একসাথে,অন্যরা আলাদা… কিছু বড়ভাই তাদের দেখলে কথা বলে,খবর নেয়… আর কিছু ভাই দেখলে দূরে দূরেই থাকে…। কয়েকদিনের মধ্যে বুঝতে পারল যে,সে আর কিছুই নয় বরং এক রাজনৈতিক দলের ব্যানারে জনশক্তি………। আস্তে আস্তে তাকে অনেক কিছুই বুঝানো হল,তাদের আদর্শ ছাড়া আর সব আদর্শ বস্তাপচা,দেশ ও দশের জন্য তারাই একমাত্র দল যারা কাজ করছে… ইত্যাদি ইত্যাদি ………।। দেখতে দেখতে বাবা মায়ের আদরের নাফিস হয়ে উঠল এক রাজনৈতিক দলের খেলার কার্ড………।। সাধারন থেকে রাজনৈতিক কর্মী…। কিছু না করেও বলির পাঠা………।


## বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিস্ঠানের আজ এই অবস্থা। আপনাকে যদি হলে থাকতে হয়,কোন না কোন রাজনৈতিক দলের নামে উঠতে হবে…। নিরপেক্ষ বলে কোন রুম নেই… প্রসাশন ও নিয়ন্ত্রণ করে সরকারী দল,আপনি কোন ভাবেই এটাকে পাস কাটাতে পারবেন না…। আপনি কিছু করেন আর নাই করেন,হলে থাকলে আপনি সেইদলের কর্মী বলে গন্য হবেন… আপনি হয়ে যাবেন রাজনৈতিক দলের কর্মী …………।।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×