somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযুদ্ধ কবে এই দুই দলের দখল থেকে মুক্তি পাবে?

৩১ শে মার্চ, ২০১৪ দুপুর ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তর্ক বিতর্কের বাজার হঠাৎ করেই বেশ গরম হয়ে উঠেছে। বাজারটা বেশ কিছুদিন থেকেই নেতিয়ে ছিল। সব দিকেই আওয়ামী নেতাদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। জাতীয় সঙ্গীত, ইসলামী ব্যাংকের তিন কোটি টাকা, চেক ফেরত—সবগুলো ঘটনাতেই বিএনপি নামক কোন দলের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিএনপির খবর বলতে কিছু গ্রেফতার আর উপজেলা নির্বাচন। প্রথম দুই দফা উপজেলায় কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও ৪র্থ দফায় ধরাশায়ী। তাঁর চেয়েও বড় কথা, শত চেষ্টা করেও ‘ভোট কারচুপি’ ব্যাপারটাকে ঠিক লাইম লাইটে আনতে পারে নি। নেতারা এখন সবাই চৌদ্দ শিকের ভয়ে অস্থির। কর্মীরা আছেন ক্রসফায়ারের ভয়ে। সব মিলিয়ে খেলা চলছে একতরফা। আওয়ামী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়বার সামর্থ্য কিংবা ইচ্ছা কোনটাই এখন বিএনপির নেই। এদিকে আওয়ামীদের এই একতরফা মাঠ দখল তাঁদেরকে আরও কোণঠাসা করে দিচ্ছিল। ফলে কিছু একটা তাঁদের দরকার ছিল। আবার আলোচনায় ফিরে আসবার জন্য।
সাম্প্রতিক চেষ্টা গুলো কাজে দিচ্ছিল না। কারণ দেশ তখন ‘জাতীয় সঙ্গীত’ বিতর্ক নিয়ে মহাব্যস্ত। একদিকে ‘ইসলামী ব্যাংক’ অন্যদিকে নুর সাহেবের নিজের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া। একদিকে ৯০ কোটি অন্যদিকে বিভিন্ন স্কুলের দৈন্য দশা। প্রায় দিনই বিভিন্নভাবে আলোচনায় চলে আসছিল ‘জাতীয় সঙ্গীত’ রেকর্ড। আর আলোচনায় সত্যিকারের কোন দিক নির্দেশনা না থাকলেও বিএনপি সেখানে কোনভাবেই স্থান পাচ্ছিল না। কারো মতে এই বিতর্ক ইচ্ছে করেই তৈরি করা। ‘৫ই জানুয়ারী’ কে পেছনে ফেলে নতুন কোন বিষয়কে সামনে আনবার জন্য। কারো মতে সমুদ্রের ব্লক বণ্টন বিষয়টিকে আলোচনায় না এনে দেশবাসীকে অন্য বিষয়ে ব্যস্ত রাখবার জন্য। এমনই বিভিন্ন ‘কৌশল’ থিয়োরিতে দেশ যখন ব্যস্ত তখন লন্ডন থেকে বক্তব্যটি আসলো। ছোট খাট কোন নেতা বললে হয়তো অনেকে হেসে উড়িয়ে দিতো। ‘তেলের ড্রাম’ ফর্মুলার ক্ষেত্রে যেমনটা আগে একবার হয়েছিল। সবাই একচোট হেসেও ছিল। এবার কি হবে বোঝা যাচ্ছে না। প্রথমে অনেকে ভেবেছিলো, হয়তো মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। তবে এখন মনে হচ্ছে ‘মুখ ফসকে’ না বরং রীতিমত চিন্তা ভাবনা করেই মুখ খোলা হয়েছে।
কারণ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীও যখন সুর মেলালেন। ফলে তখন দেশীয় আণ্ডা বাচ্চা নেতৃত্বেরও সুরে সুর মিলিয়ে ফেলা ছাড়া আর করণীয় কিছু ছিল না। যেহেতু এখন আর পিছু হটার কোন উপায় নেই, তাই বলা যায় এ ব্যাপারে আগামী বেশ কিছুদিন মাঠ গরম থাকবে। আওয়ামী নেতারা তাঁদের বিভিন্ন ‘ফিতা কাটার’ অনুষ্ঠানে রসিয়ে রসিয়ে এই বক্তব্যের সূত্র টানবেন। ‘টক শো’র পক্ষেও এই মজার টপিক হাতছাড়া করার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। পাড়ায়, মহল্লায়, নাপিতের দোকানে আর চায়ের আড্ডায় তো আলোচনা হবেই। আমরা কলামিস্টরাও নেমে পড়বো। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন ইতিহাসবিদরা এই তর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আওয়ামী আর জাতীয়তাবাদী ইতিহাসবিদরা বোধহয় কোমর বেঁধে ফেলেছেন।
বুদ্ধিজীবী, টকশোজীবী থেকে শুরু করে ছাত্র, যুব এবং মূল সংগঠনের পাতি থেকে বড় সব নেতাই এখন অপেক্ষা করে আছেন। যে যখন যেখানে ডাক পাবেন—হামলে পড়বেন। তর্কে তর্কে টিভির পর্দা গরম করে ফেলবেন। ‘জাতির জনক...’ আর ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি...’ বলে শুরু করবেন। এরপরে চালাবেন এক পশলা গুণগান। মৃতদের গুণগান শেষ হতে না হতেই শুরু করে দেবেন জীবিতদের। এরপরে মনোযোগী হবেন আগামীদের গুণকীর্তনে। এরপরে কিছুটা দম নিয়ে শুরু করবেন তর্ক। তা চলুক। এতে আমার খুব একটা আপত্তি নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ‘খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স’ কিংবা ‘কি করণীয়’ নিয়ে যেমন সঙ্গীত শিল্পীর কাছ থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত শুনতে শিখেছি তেমনি ৭১ এর ঘটনাবলীর ওপর বিশেষজ্ঞ মতামত হজম করাও শিখে যাব। সবচেয়ে মজার ব্যাপার যেটা ঘটবে তা হচ্ছে সে সময়ের ঘটনাবলী সম্পর্কে তথ্য দেয়ার লোকের কোন অভাব হবে না। ‘অনন্ত জলিল এবং বর্ষার মাঝে এখন কেন ঝগড়া হচ্ছে’ জাতীয় অপ্রয়োজনীয় রিপোর্ট দেখার মত আরও কিছু ভয়ংকর অভিজ্ঞতা অচিরেই হতে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।
তা না হয় দেখলাম। সময়ের যেহেতু আমাদের খুব একটা অভাব নেই, তাই আগামী কিছুদিন এনিয়ে যে আমরা মেতেও থাকবো, এব্যাপারেও আমার খুব একটা সন্দেহ নেই। তবে আমার চিন্তা অন্যখানে। লন্ডন প্রবাসী নেতাটি কাজটা কেন করলেন। বক্তব্যটির পরে যে বিতর্ক শুরু হবে তা তিনি নিজেও জানতেন। আওয়ামী বাহিনী এমন একটি বক্তব্য নিয়ে যে ঠাট্টা মশকরা শুরু করবে এটিও তাঁর অজানা না। আর তথ্যটি যে তিনি প্রমাণ করতে পারবেন? তারপরও কেন কাজটি করলেন? ‘ঘোষক’ কিংবা ‘ঘোষণাপত্র পাঠক' দিয়ে তো বেশ চলছিল। বরং সেই ঘটনার কিছু ছোট খাট ডালপালা ছড়ানো যেত। ‘সেই সময়ে আওয়ামী নেতারা সব ভারতে পালিয়েছিল-- তাই একজন মেজরকে রাজনীতিবিদের দ্বায়িত্ব নিতে হয়েছিল।’ তবে একেবারে রাষ্ট্রপতি?
আসলে ‘বাকশাল’ আর ৭৫ পরবর্তী আওয়ামী নেতাদের ভল পাল্টানো দিয়ে বিএনপি বেশ কিছুদিন চালিয়েছিল। একঘেয়েমির কারণেই হোক আর তার্কিকের অভাবের কারণেই হোক বিষয়গুলো আর আকর্ষণীয় হচ্ছিল না। এদিকে ‘৫ই জানুয়ারী নির্বাচন’ নিয়ে বিএনপির চেষ্টাগুলো খুব একটা লাইম লাইটে আসছিল না। মিডিয়া বেশিরভাগই আওয়ামীদের দখলে। বিদেশী প্রভুদের ভেতর আমেরিকা এখন একটু বিপদে আছে। রাশিয়া মাথা চাঁড়া দিচ্ছে। ফলে সেদিক দিয়েও সুবিধা করতে পারছে না। ফলে নতুন কোন ভুমিকম্প না ঘটালে বিএনপির পক্ষে আবার আলোচনার মধ্যমণি হওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এই বিতর্কের মাধ্যমে আলোচনায় ফিরে আসবার বুদ্ধিটা জনৈক সম্পাদকের দেয়া, না লন্ডন বাসী নেতার নিজস্ব উদ্ভাবন, এখনও ভালো বোঝা যাচ্ছে না। তবে বিএনপি এই তত্ত্ব এগিয়ে নিয়ে যেতে যে বেশ বদ্ধ পরিকর, তা বেশ স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। ফলে আগামী দিনের ‘টক শো’ গুলোতে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নিয়ে টানাটানি বেশ জোরেসোরেই শুরু হবে। একটা প্রশ্ন কেন যেন মনে জাগছে। ‘জাতীয় পতাকা’, ‘জাতীয় সঙ্গীত’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’ কবে যে দুই দলের দখল থেকে মুক্তি পাবে? কবে আমরা বলতে পারবো এগুলো আমাদের সবার অহংকার?

লেখকঃ কলামিস্ট, গল্পকার
https://www.facebook.com/ahmad.z.sani
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×