somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক বাজারে সবাই কেন? নতুন বাজারে ঢুকুন, ভিড় কম পাবেন

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংগালী হিসেবে আমরা পুরানোদের দেখানো পথেই সব সময় হাটতে পছন্দ করি। নতুন কিছু সবার শেষে গ্রহণ করি।
এটার খারাপ দিক হচ্ছেঃ
- যেকোন বাজারে সবার শেষে আমার এন্ট্রি করি, তাই নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারিনা।
- একটা লাভজনক বাজারে সবাই মিলে ঢুকি এবং বাজারটাকে নষ্ট করে ফেলি।
- সেজন্য নতুন বাজারে নিজেদের অবস্থানটা আগেই তৈরি করতে পারিনা। পুরাতন বাজারে ঢুকি, স্বাভাবিকভাবেই সেই বাজারে আগেই অবস্থানকারীদের সাথে কঠিন প্রতিযোগীতার সম্মুখীন হতেই হবে।


এ বিষয়ে কিছু উদাহরণ দিচ্ছি, তাহলে নতুন বাজারে ঢুকার গুরুত্বটা নতুনদের ব্রেইনে গুরুত্ব সহকারে ঢুকবে।
১) পত্রিকাগুলো কাগজের পত্রিকা ছেড়ে অনলাইনে আসতে চাচ্ছিলোনা। শেষে গত বছর হতে সকল ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাগুলো অনলাইন ভার্সনে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিয়ে বাজারে নেমেছে। ততদিনে গুগলের কাছে লিস্টেড জনপ্রিয় আরো অনেক সাইটের নাম চলে এসেছে। পড়লো কঠিন প্রতিযোগীতাতে।
২) ট্রাডিশনাল মার্কেটিং ছেড়ে অনলাইনে প্রমোশন চালালে সেটা খরচ কম, প্রফিট বেশি। এ বিষয়টা সারা দুনিয়া অনেক আগেই বুঝলে ২০১১-১২ থেকে আমি সহ অনেকেই বিভিন্ন কনটেন্ট লিখে, কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকগুলোকে বুঝানো শুরু করি। শুরুতে কেউ গুরুত্ব না দিলেও এখন সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিচ্ছে অনলাইন মার্কেটিংয়ে। এবং সকল প্রতিষ্ঠানে অনলাইন মার্কেটার রাখার ধারনাটাও আস্তে আস্তে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
৩) শুধু লোকাল চাকুরিটাই স্মার্ট চাকুরির ধারণা হতে পারেনা। অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিংটাও হতে পারে নিরাপদ ক্যারিয়ার। এ ধারণা তৈরির জন্য ব্যাপক ব্লগিং, সেমিনার, সরকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুরুতে তেমন কেউ পাত্তা না দিলেও এখন অনেক স্মার্ট স্যালারী চাকুরিজীবিরাও এখন ফ্রিল্যান্সিং পেশাতে আসার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছে। সামনে আরো ভাল অবস্থানে যাবে এ পেশা।
৪) এক সময় শুধুমাত্র ওডেস্ক কেই (বর্তমান নাম, আপওয়ার্ক) মার্কেটপ্লেস হিসেবে মানতো। আমার মনে আছে, যখন শুরুর দিকে ফাইভারকে জনপ্রিয় করার জন্য অনেক সেমিনার করেছি, লিখালিখি করেছি, কেউ পাত্তাই দিচ্ছিলনা, ভাবছে ৫ডলারের কাজ করায়। তখন যারা কাজ শুরু করেছে, তারা অল্প প্রতিযোগীতাতেই একটা ভাল অবস্থান তৈরি করেছে। পরে এ বাজারটাতেই সবাই ঢুকে এমন কঠিন করে ফেলেছে, এখন আর নতুনরা সেখানে কাজ টিকে থাকাটাই অনেক কঠিন এবং অসাধ্য একটা বিষয়। এরপর আসলো টি-শার্ট অ্যাফিলিয়েশন, ইউটিউব সহ আরো নানাবিধ ইনকাম মার্কেটপ্লেস। নতুন এ বাজারগুলো বাংগালীদের কাছে জনপ্রিয় করা না গেলে এদেশে নতুন ফ্রিল্যান্সার হওয়ার আগ্রহটাই হয়ত কমে যেতো।
৫) ২০১৬ থেকে অনেক বেশি প্রচার শুরু করেছি, অনেক লিখালিখি শুরু করেছি, কোর্স করিয়েছি। বুঝাতে চেষ্টা করেছি, ফেসবুক মার্কেটিংটাই হবে সবচাইতে আকর্ষনীয় ক্যারিয়ার। কেউ তেমন পাত্তা দেয়নি। ট্রাডিশন্যাল নিয়মে এসইও কোর্স করার প্রতি আগ্রহ। এ বছর দেখছি, অনেক পরিবর্তন। ফেসবুক মার্কেটিং বিষয়ে অনেক কোর্স, ওয়ার্কশপ হচ্ছে। মানুষজন সেই সব জায়গাতে অংশগ্রহন করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন আরেকটা বিগ বাজার তৈরি হতে যাচ্ছে।

যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, ঐতিহ্যের পথে না হেটে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জনপ্রিয় বাজারে ঢুকবেন, তাহলে আপনার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।
ভবিষ্যতের সবচাইতে ডিমান্ডেবল বাজার সম্পর্কে আইডিয়াঃ
আমি এখানে নতুন মার্কেটপ্লেসগুলো বলবোনা। যে স্কীলগুলো বর্তমান এবং ভবিষ্যত বাজারে খুবই চাহিদাসম্পন্ন হবে, সেগুলো সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করছি।
গ্রাফিক ডিজাইন হলেঃ লোগো ডিজাইন, বিজনেস কার্ড ডিজাইন এ বিষয়ে দক্ষ হয়ে, ইতিমধ্যে যারা বাজারে ঢুকেছে, তাদের জন্য বাজারটা ছেড়ে দিন, সেই বাজারে ঢুকে যুদ্ধ করে খুব বেশি লাভবান হবেন না। ইনফোগ্রাফিক ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া ইমেজ ডিজাইন নিয়ে কাজ করুন। বিশাল বাজার, সামনে আরও বিশাল বাজার হতে যাচ্ছে। আগেই নিজের অবস্থানটা তৈরি করে রাখুন।
অনলাইন মার্কেটার হলেঃ পুরো এসইও কোর্স করে এ যুগে কিছুই করতে পারবেন না। যেকোন একটা টপিকসের উপর স্পেশাল কোর্সগুলোতে জয়েন করুন। হট টপিকস বলে দিচ্ছিঃ লিংক বিল্ডিং, আর্টিকেল রাইটিং, কীওয়ার্ড রিসার্চ, ফেসবুক মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং,
প্রোগ্রামিং সেকশনেঃ মোবাইল অ্যাপস ও গেমস ডেভেলপমেন্ট, আইওটি, ওয়েব সিকিউরিটি
অন্যান্যঃ ব্লগিং , অ্যানিমিটেড কনটেন্ট ইত্যাদি।
এগুলো নতুন বাজার বলছি, কিন্তু এগুলো আদৌ নতুন বাজার নয়। ইতিমধ্যেই অনেক দামী বাজার। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের কাছে এখনও এটি অপেক্ষাকৃত নতুন বাজার। এ বাজারগুলোতে ঢুকলে অপেক্ষাকৃত কম প্রতিযোগীতাতে পড়তে হবে, এবং ইনকাম অনেক ভাল করবেন।



সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৯:১৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ন্যায়ের আন্দোলন হোক নিয়মতান্ত্রিক ভাবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের সাথে ভুয়া আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে অরাজকতা প্রিয় অ ছাত্রদের বিরাট একটা অংশ অশ্লীল ভাষায় অশোভন উক্তি করে চলছে। একশ্রেণীর মেয়েরা এহেন অশ্লীল নোংরামির হোতা-... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাজারের আগুন নিভবে পে-স্কেলে, প্রবৃদ্ধি ছুঁয়ে যাবে দশ শতাংশ ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৮


কেরামত মওলা সাহেবকে চেনেন না এমন মানুষ সচিবালয়ে কমই আছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদের একজন সিনিয়র সচিব। আজ নতুন পে স্কেল নিয়ে গঠিত সচিবদের কমিটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×