আমাদের পারিবারিক জীবনের সমস্যার নানা দিক সম্পর্কে খুব কমি আমরা জানি বা জানতে আগ্রহী হই না, কেননা আমরা এখনো অতটা উন্নত মানসিকতার হয়ে উঠিনি। আমি বা আমরা নিজেদের অনেক খোলামেলা বা আধুনিক মন অ মননের বলে দাবি করে থাকি আদতে মনের মাঝে পুষে রেখেছি আদিম ধ্যান ধারনা যার সাতপাক থেকে নিজেদের এখনো মুক্ত করে তুলতে পারিনি।
বর্তমান সমাজে আমাদের সবথেকে বড় সমস্যা হল পরিবারের সদস্যদের সাথে মানসিকতার মিল না হওয়া বা মতের চরম অমিল হওয়া। আমাদের সমাজের প্রতিটা ঘরে এই সম্যস আজ প্রকট আকার ধারন করেছে, কোন ঘরের সমস্যা বাইরে প্রকাশ হয়ে পড়ছে আবার কোন ঘরের ব্যাপার লুকিয়ে রাখার অদম্য প্র্যাস চলছে। আমাদের পরিবার গুলো এখন ছেলে মেয়ের প্রেম ঘটিত ব্যাপারগুলো নিয়ে সব থেকে ব্র সমস্যায় ভোগে কিন্তু দুঃখের ব্যাপারটা হল পরিবারগুলো এই সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী না হয়ে জোর জবরদস্তির মাধ্যমে ব্যাপারগুলো পুতে ফেলার চেষ্টায় রত। প্রশন আসতে পারে আগে তো এই সমস্যা ছিল না তাহলে এখন কেন? হ্যা আগে ছেলে মেয়ে কাছাকাছি আসার সুযোগ কম পেত নানা কারনে তাই প্রেম বা ভালবাসার ব্যাপার গুলো কম ছিল। একেবারেই যে ছিল না তা কিন্তু নয়। এখন আধুনিক সমাজে শিক্ষা দিক্ষার প্রসার ঘটায় একদিকে যেমন ছেলেমেয়েরা কাছাকাছি আসার সুযোগ পাচ্ছে সেই আথে মেয়েরাও নানা পেশাতে সমান তালে পুরুষের সাথে কাজ করতে পারছে। এতে করে একই মন মানসিকতার মানুষদের মধ্যে প্রেম ভালবাসার জন্ম নিচ্ছ। আর এটা এমন একটা ব্যাপার যা পরিবারের মানুষ জনরা বিশেষ করে বাবা-মা জানতে পারছে না। কোন ছেলে মেয়ে প্রেম করার সময় তাদের বাবা/মা কে জানিয়ে প্রেম করে না। সাধারনত মনে করে পরে বলে ব্যাপারগুলো মানিয়ে নিবে। সমস্যা একখানে যে পরে বাবা মায়ের মতের সাথে ছেলে বা মেয়ের মতের মিল হয় না এতে করে পারিবারিক সমস্যার জন্ম হয় যা এক সময় জটিল আকার ধারন করে।
ছেলে বা মেয়ে নিজেদের পছন্দকে সবার থেকে বড় করে দেখে তারা মনে করে তাদের পছন্দ ঠিক আছে বাড়ির মুরুব্বিজনরা ইচ্ছা করে মেনে নিচ্ছে না। আবার বাড়ির বাবা/মা মনে করে মেয়ে বা ছেলে তাদের সিদ্ধান্তের কোন মুল্য না দিয়ে নিজের ইচ্ছাকে বড় করে দেখছে। দু পক্ষ তাদের জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে যায় যার ফলে সংঘাত নিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরই ফলশ্রুতিতে অনেক মেয়ে আত্মহত্যা করে বসে বা অনেক ছেলে নিজের অনেক বড় ক্ষতি করে বসে তখন বাপ মার হুশ ফেরে।আবার অনেক মেয়ে বা ছেলে পরিবারের চাপে পড়ে নিজের ইচ্ছাকে মাটি চাপা দেয়। বাবা-মা রা বিজয়ীর মত ছেলে-মেয়েকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেয় । আবার অনেক ক্ষেত্রে ছেল-মায়ে বাড়ি হতে ভেগে যায়।
উপরের কোন ব্যাপারগুলো খুব ভালো না। মানুষের জীবনে বিয়ে বার বার আসে না , বিয়ে পাগলাদের কথা বাদ দিলে। এখানে সবাই খুশি না থাকলে কেউ ই শান্তি পাই না। এসকল সমস্যা একাধারে ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যতকে অন্ধকারের পথে চালিত করে। ভার্সিটিতে ৫/৭ বছর ধরে যে সকল ছেলে বা মেয়ে একত্রে চলে সেছে তারা নিশ্চয় তাদের পরস্পর কে ভাল্ভাবে জানে তাই তারা একে অপরকে চাই এটা দোষের কিছু না। বাবা-মাদের এখন বোঝা উচিত যে ছেলে মেয়েদের পছন্দের একটা দাম আছে। আমাদের বর্তমান সামজে যদি বাবা-মারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারে তাহলে তার ফল ভোগ করে ছেলে বা মেয়ে।
বাবা মা কি কখনোভাবে যে একটা মেয়েকে বিয়ে চাপিয়ে দিলে সে পড়ে কি করবে বা তার সাথে যে ছেলেটা ৭ বছর সময় দিছে সে এখন কি করবে? ক্যাম্পাসে যে সকল মেয়েদের প্রেম আছে তাদেরকে দেখে রাখে তাদের প্রেমিকরা মেয়েদের বাবা-মা না, এটা বাপ মা ভুলেই যায়। ছেলের দোষ হয়ে যায় কেন সে প্রেম করেছে মেয়ের সাথে কত কি? ছেলেদের বাবা মা ভাবে তাদের ছেলেকে ভুলিয়ে ভালিয়ে মেয়ে দখল করে নিছে।
এভাবে সম্পর্ক জোর করে ভেংগে বিয়ে অন্য জায়গায় দেওয়ার ফলেই আজকাল সব আজেবাজে ঘটনা ঘটে চলেছে, এ থেকে নিস্তার পাবার জন্য বাবা-মা কে এগিয়ে আসতে হবে ছেলে বা মেয়ে যদি কাউকে পছন্দ করে তাহলে তাদের সে পছন্দের ব্যাপারে খোজ নিতে হবে এবং যদি মেয়ে বা ছেলে দেওয়া যায় তাহলে দিয়ে দিতে হবে কেননা পরবর্তীতে জীবন ধারন করবে ছেলে বা মেয়ে বাবা-মা না। ছেলে মেয়েদের অ সময় নিয়ে বাবা মাকে বুঝিয়ে রাজি করানো উচিত কাউকে ক্ষট দিয়ে সুখী জীবনে যাওয়া উচিত না। কেননা বাবা মা হাসি মুখে বিয়ে না দিলে তা ভবিষ্যতে ভাল ফল আনে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


