
নিজের সঠিকতা প্রমাণে কোরআন কোন কিছুর উপর নির্ভরশীল নয়। বরং নিজের সঠিকতা প্রমাণে কোরআন নিজেই যথেষ্ট।কিন্তু নিজের সঠিকতা প্রমাণে হাদিস কোরআনের উপর নির্ভরশীল। কারণ হাদিস কোরআনের ব্যখ্যা। ব্যখ্যা মূলের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তাকে এর ব্যখ্যা বলা যায়না।তা’ছাড়া মহানবি (সা.) তাঁর নামে মিথ্যা হাদিস প্রচার করার কথা বলেছেন।
হাদিস সংকলক বলেছেন, এ হাদিস সহিহ। কিন্তু তিনি নিজে সহিহ এ কথা কে বলেছেন? সে জন্য হাদিসের নিজেকে সহিহ প্রমাণের ক্ষমতা নেই। সংগত কারণে কোরআন হাদিসের সঠিকতার প্রত্যয়ন করলে হাদিস পালনযোগ্য হবে নতুবা তা’ পালনযোগ্য হবেনা। ইমাম আবু হানিফা (র.) কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হাদিস সহিহ মানতেন না এবং তেমন হাদিস দ্বারা ফতোয়া প্রদান করতেন না। অনেকে তাঁকে হাদিস খেলাফী বললেও মূলত তিনি সঠিক ছিলেন।কারণ হাদিস দাবী করা হলেও মূলত এমন হাদিস হাদিস নয়। আর সন্দেহযুক্ত হাদিসের চেয়ে কোরআনের ভিত্তিতে কিয়াছ উত্তম।
অনেকেই হাদিসের কথা বলে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করতে চায়। কিন্তু তারা যা হাদিস বলে প্রচার করছে তা’ যে হাদিস সে প্রমাণ যদি তারা না দিতে পারে, তবে সে হাদিস পালনে অন্যদের দায় কোথায়? অমুক বলছে হাদিস সহিহ। তো অমুক বললেই হাদিস সহিহ হবে? এধরনের প্রশ্নের আমরা সদুত্তর পাচ্ছিনা। বলা হচ্ছে তিনি ভাল লোক ছিলেন। তো তাঁর ভাললোক থাকার কি প্রমাণ আছে।এমন গাল-গল্পতো আর প্রমাণ নয়।মহানবি (সা.) তাঁর হাদিস মানতে বলেছেন। তো তাঁর হাদিস বলে বোধগম্য না হলে মানে কেমন করে? তাঁর হাদিসের নাম করেতো তাঁর নামে অন্যকারো হাদিস মানা যায়না।
কোরআন ও হাদিস এক নয়। মান্যতার ক্ষেত্রে কোরআন ও হাদিসকে এক কাতারে ফেলার উপায় নেই। কাজেই কোরআনকে তার জায়গায় ও হাদিসকে তার জায়গায় রেখে পালন করতে হবে।হাদিসকে কোরআনের সমান গুরুত্ব প্রদান, বা কোরআনের চেয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদান যেমন ঠিক নয় তেমনি হাদিসকে গুরুত্বহীন ভাবাও ঠিক নয়। তবে সাবধান থাকতে হবে হাদিসের নামে যেন অন্য কিছু পালন করা না হয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



