somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

সর্বনাশ

১১ ই নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গ্রীষ্মকালে মহল্লার রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে
ছেলেটি মেয়েটিকে প্রথম দেখল নতুন বাড়ির দোতালার বারান্দায়।

সূর্যের প্রচণ্ড তাপের সাথে সাথে
মেয়েটির একটা চাহনিতেই
ছেলেটির শরীর আর মন আচমকা ঝলসে গেলো।
আশ্চর্য পুরো মহল্লার একজন মানুষও টের পেল না ছেলেটি পুড়ছে শরীর আর মনে!
প্রতি দিনক্ষণ পুড়তে পুড়তে
বর্ষাকাল কখন যে চলে এলো
ছেলেটি টেরও পায়নি।
সেই নতুন বাড়ির উল্টো দিকের মলিন দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছেলেটি প্রথম যেদিন দেখল-
বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে মোবাইল ফোনে ‌ মেয়েটি অন্য কারো সাথে কথা বলতে বলতে হেসে হেসে গলে পড়ছে,
তখনই ছেলেটি টের পেলো বর্ষাকাল এসেছে!
হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে পুরো মহল্লার সাথে সাথে তারও শরীর-মন ভিতর বাহিরে ভিজতে থাকল দিন রাত,
তবুও মহল্লার কেউ টের পেলনা একটি ছেলে ভিজছে শরীর আর মনে।
প্রতিদিন সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ভিজতে ভিজতে
একদিন ছেলেটি দেখল
-মেয়েটি আজ বারান্দায় আসেনি,
এমনকি বারান্দার দরজা জানালাও খোলেনি সারাদিন একটি বারের জন্য!
বুককাঁপানো ঠাণ্ডার এক শীতল ভয়ে তার শরীর মন কেঁপে উঠল।
এক হাহাকার চোখে তাকিয়ে দেখল,
পুরো বাতাসে কুয়াশা ভাসছে।
সেদিনও মহল্লার কেউ জানলনা
শুধু ছেলেটি টের পেল
বুককাঁপানো এক শীতকাল চলে এসেছে।
ঈশ্বর যদি ছেলেটিকে আবার নতুন করে জীবন বেছে নিতে বলেন,
আমি বাজি ধরে বলতে পারি
বুকে হাহাকারের এক মরণ নেশায়
ছেলেটি আবারো স্বেচ্ছায় সেই মেয়েটির চাহনিতেই পুড়তে চাইবে।
প্রয়োজনে আগামী গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত
সেই নতুন বাড়ির উল্টোদিকের দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
মহল্লাবাসী,
আপনাদের এসব কথা বিশ্বাস করার দরকার নেই।
এভাবেও যে ঋতু পরিবর্তন হতে পারে আবহাওয়া বিষয়ক কোনো বইয়ে কিন্তু লেখা নেই,
এসব অর্থহীন কথা শুধু কবিরাই লিখতে পারে।
—————————
র শি দ হা রু ন
১১/১১/২০২১
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৪৩
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ছিলো সোনার কণ‍্যা, মেঘ বরন কেশ!!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:১৩



শাওন প্রশ্ন করেছিলে ৭৮ বছর বয়স্ক একজন মহিলার। অন্তর্বাস উচিয়ে যখন অন্তর্জালে দাঁত মুখ খিচিয়ে উল্লসিত বহু পোস্টে ভেসে যায় ।কিংবা দেয়ালে সরাসরি দি লিখে প্রচার করছিলো তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

×