somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিবর্তন কেন দরকার ???

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে আমরা বলি দেশ তো বেশ ভালোই চলছে, উন্নয়ন ভালই হচ্ছে কি দরকার পরিবর্তনের। যে চালায় তাকে চালাতে দাও, কোন সমস্যা নেই। আজকে দেশে এত এত সমস্যা হওয়ার পর ও কোন সমাধান নেই। তার কারণ হিসেবে আমরা ২ নেত্রীকে দোষারোপ করি। আসলে নেত্রীদের দোষ না, দোষ আমাদের। আমরা দেশ গড়ার প্রশ্নে কেউ এক না। আমরা সবাই চাই নাম ফুটাতে কেউ দেশের জন্য কাজ করতে চাই না।

আজকে আমাদের মুসলমানদের এত অধঃপতন কেন? খুব সহজ উত্তর, আমরা মুসলমানরা এক হতে পারি নি, তাই। আমরা যখন শিয়া-সুন্নি নিয়ে যুদ্ধ বাধিয়ে দেই এ সুযোগে পচ্ছিমারা আইএস নামক জঙ্গি সংগঠন বানিয়ে মুসলমানদের শোষণ করছে।আমাদের আফসোস আমরা অযথা ব্যাপার যুদ্ধ করি কিন্তু কখনোই বলি না যে আমরা কেবলমাত্র মুসলমান, এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে বিশ্বাস করি না।

আমরা বৈপ্লবিক নেতা চে গুয়েভারা র নাম নিতে নিতে মুখে ফেনা ছুটিয়ে ফেলি কিন্তু কেউ জানি না তার আদর্শ কি? আজকে যে বাম রাজনীতি তা তার হাত ধরেই শুরু হয়েছিলো। তার বিপ্লবের অন্যতম অংশ ছিল তিনি অনেক ভালো লিখতেন। যা পড়ে মানুষ অনুপ্রাণিত হয়ে নেমে পড়তেন। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে শত্রু পক্ষের হাতে মৃত্যুর আগে কিউবা বিপ্লবের এ নেতা বলেছিলেন তোমরা কেবল একজন মানুষ কে মারার চেষ্টা করতেছো কিন্তু আমি লাখ লাখ মানুষ তৈরি করে দিয়ে আসছি, আমার দুঃখ নেই।

আজকে সারা পৃথিবীতে আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে ধরা হয় আয়াতুল্লাহ খামেনীর মত নেতা কে। গত শতকে তিনি একাই ইরানে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি শুধু নারী জাতির কাছে সুন্দর সুন্দর চিঠি লিখতেন। যার কারণে কেউই তাকে দেখতে পারতেন না। একদিন তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন এ নারী জাতি ই আগামী দিনের মা। বিপ্লব টা তাদের সন্তান রাই করবে, আমি কেবল পথ দেখিয়ে দিচ্ছি। হয়েছিলো ও তাই। বিপ্লব টা পরের জেনারেশন করেছিল ঠিক যাদের মায়েদের কাছে তিনি চিঠি দিয়েছিলেন তাদের সন্তানেরাই করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে আজ ইরান এত্ত ভালো অবস্থানে। আজ অ্যামেরিকা পর্যন্ত ইরানের সাথে কথা বলতে ভয় পায়। এবং সেখান থেকেই সৃষ্টি হয়েছে আহমাদিনেজাদ এর মত নেতাদের।

বিপ্লব টা এমনিতেই হয়ে যায় না, অনেক ত্যাগ করতে হয় অনেক ত্যাগ !!!
আজ চায়না বিশ্ব অর্থনীতির ১ নাম্বার দেশ। আজ অ্যামেরিকার বাজেট হয় চায়নার টাকা দিয়ে। একদিনেই চায়না এত উন্নতি করে ফেলে নি। একসময় চায়নার একটা জেনারেশন ছিল যারা শুধু পরিশ্রম করতো কখনও মিডিয়া র সামনে আসতো না। যার ফলশ্রুতিতে আজ চায়নার এ অবস্থা। বিশ্বব্যাংক থেকে চায়না নিজেদের টাকা সরিয়ে ফেললে অ্যামেরিকা অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে।

যেটা বলছিলাম, আমরা দেশের মধ্যে কেউ বলি আমি বিএনপি কেউ বলে আমি আওয়ামীলীগ। কিন্তু কেউ বলতে পারে না, আমি একজন সত্যিকারের বাংলাদেশি। আজ আমাদের রাজনীতির এমন অবস্থা হচ্ছে যোগ্য লোক এমপি/মন্ত্রী হতে পারে না। এমপি/মন্ত্রী বানানো হয় ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে, যোগ্যতা দেখে নয়। তাহলে নিউ জেনারেশন রাজনীতি তে আসবে কিভাবে? কেউ কাউকে ফ্লোর দিতে চায় না। কিন্তু এমন হলে তো হবে না, সারাজীবন অন্য কারো কাছে গোলামী করতে হবে। আজ আমি আমার ক্লাসে দাঁড়িয়ে কথা বললে ৫০ জন মানুষ শুনবে, কিন্তু একজন এমপি সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বললে সাড়া দেশ সে কথা শুনবে। এই ব্যাপার গুলো বুঝতে হবে। নিজের ডিমান্ড, নিজের কোয়ালিটি নিজেকেই বিচার করতে হবে !

''গুড মর্নিং, গুড নাইট, মিস ইউ বেবি, ফিলিং হট'' লিখে হাজার হাজার লাইক পাওয়া যায় কিন্তু বিপ্লব করা যায় না। বিপ্লব অনেক বড় শব্দ। ৪০/৪৫ মিনিট যাবত সময় ধরে লেখা লিখার পর সে লেখা পড়ে কারো শরীরের মধ্যে যদি শিহরণ না ঘটানো যায় কিংবা রক্তে আগুন না লাগানো যায় তাহলে সে লেখাই বৃথা।

সিদ্ধান্ত টা আপনাকেই নিতে হবে কি করবেন না করবেন। কারো সিম্পেথি পাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিলে তাকে সিদ্ধান্ত বলে না তাকে স্বার্থ বলে। যা হওয়ার তা হবেই তাই বলে বসে থাকলে হবে না। উঠতে হবে, ঘুরতে হবে, দাঁড়াতে হবে, পৃথিবীকে দেখতে হবে নতুন চেতনার মাধ্যমে, নব উত্থানের মাধ্যমে, ত্যাগের মাধ্যমে !!!

---গোলাম রাব্বানী
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×