নীরা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। তার মুগ্ধ চোখ দেখতে ভালো লাগছে। নীরা এতটা আনন্দিত হবে, ভাবতে পারিনি।
-আবার ম্যাজিকটা দেখাবেন?
-তুমি চাইলে শতবার দেখাব।
আমি পয়সাটা হাতের মুঠোয় নিয়ে নীরাকে হাতটি স্পর্শ করতে বললাম।
নীরার আঙুলের আনন্দিত স্পর্শের পর আমি তার সামনে হাতটা মেলে ধরলাম। পয়সাটা নেই। ম্যাজিক।
-আপনি আমাকে ম্যাজিকটা শিখাবেন?
-অবশ্যই, কিন্তু অনেক অনুশীলন করতে হবে।
আরো কয়েকটা ম্যাজিক শিখতে হবে। নীরাকে আরো সুন্দর ম্যাজিক দেখাতে হবে। কিন্তু সমস্যাটা হল ঐ ম্যাজিশিয়ান ব্যাটা কিছুতেই ম্যাজিক শিখাতে চায় না। বললেই বলবে, 'ওস্তাদের নিষেধ আছে'। আজ পাঁচশ টাকা নিয়ে যাচ্ছি, দেখি রাজী হয় কিনা।
ম্যাজিশিয়ানের হাতে পাঁচশো টাকা গুজে দিতেই সে একটু দানাই পানাই করে রাজী হয়ে গেল। দুটি ম্যাজিক শেখালো।
নীরার বিস্মিত চোখ দুটি দেখতে কেমন হবে সেটাই ভাবছি। নীরাকে এই ম্যাজিক দেখানোর পরই কথাটা বলতে হবে। ম্যাজিকের প্রতি ভালোবাসা ছোটবেলা থেকেই। সেই কঠিন ম্যাজিকটা দেখেছিলাম খুব অল্প বয়সেই। এক মিনিটেই যখন বাবার হাসিমুখটা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গিয়েছিল দূর্ঘটনায়। এ এক আশ্চর্য্য ম্যাজিক।
নীরা সেজেগুজে বসে আছে। তাকে খুব সুন্দর লাগছে।
-নীরা, ম্যাজিক দেখবে?
-আজ আমি আপনাকে ম্যাজিক দেখাবো।
-ঠিক আছে দেখাও।
-আপনি চোখ বন্ধ করুন।
আমি চোখ বন্ধ করে নীরার ম্যাজিকের জন্য অপেক্ষা করছি।
-চোখ খুলুন।
চোখ খুলে দেখি নীরার পাশে একটি সুদর্শণ ছেলে দাড়িয়ে আছে।
-আমার পাশে যে ছেলেটিকে দেখছেন, সে আমার বর হতে চাইছে। ম্যাজিকটা কেমন হলো?
-খুব ভালো হয়েছে। আজ আমি আসি।
-আপনি না ম্যাজিক দেখাবেন।
-অন্য আরেক দিন দেখাবো।
আমি হাটছি। চোখের কোণে জলের অস্তিত্ব টের পাচ্ছি। এই চোখের জলকে পৃথিবীর কাছে আনা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছিনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


