somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জাদিদ
তুমি আমার রাতবন্দিনী। ধূসর স্বপ্নের অমসৃণ সুউচ্চ দেয়াল তুলে তোমাকে আমি বন্দী করেছি আমার প্রিয় কালোর রাজত্বে। ঘুটঘুটে কালোর এই রাজত্বে কোন আলো নেই। তোমার চোখ থেকে বের হওয়া তীব্র আলো, আমার হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব জ্যোৎস্না।

যাপিত জীবন কড়চাঃ গায়ে হলুদ কথন!

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং ( আধুনিক, অভিজাত এবং উচ্চবিত্ত শ্রেনী সহ প্রায় সকল শ্রেনীর) গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে কনের কপালে বা মুখে হলুদ দেয়া একটি অপরাধ। এমনকি খুব বাধ্য না হলে কেউ শরীরেও হলুদ লাগাতে চান না।

আমি একবার এমন একটি অভিজাত হলুদ অনুষ্ঠানে হাতে পরিমান মত ( যেন পাত্রীর কপালে হলুদ মেখে সামাজিক রীতি অনুসারে কপালে আমিও কিছুটা মাখতে পারি, সেই পরিমান) হলুদ নিয়ে পাত্রীর দিকে তাকাতেই বেচারী এক রাশ আতংক ও অবিশ্বাস নিয়ে আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকালো। আমি কাছে অগ্রসর হতেই মিনমিন করে বলল, প্লীজ হাতে দেন, মুখে মেকাপ নষ্ট হয়ে যাবে।

আমি এক গাল হেসে বলেছিলাম, চিন্তা করবেন না। এত দামী মেকাপের গুরত্ব আমি বুঝি। হাতেও অনেক মেকাপ আছে দেখছি। আপনি অনুগ্রহ করে পা খানি তুলুন। আমি পায়ে হলুদ দিবো। পা তো গায়েরই অংশ। আর গায়ে হলুদ বলে কথা!

কনের স্বামীর সহকর্মী কোটায় সেই যাত্রা খুব একটা ঝামেলা হয় নি। দিন শেষে তকমা পেলাম - উনি খুবই রসিক লোক। অথচ আমি ব্যাপারটা খুবই সিরিয়াস ভাবে বলেছিলাম।

যতদুর মনে পড়ে, শেষবার প্রাণভরে হলুদ দিয়েছিলাম আমার ছোট মামার বিয়েতে। মোটামুটি কেজিখানেক হলুদ বেচারার গায়ের প্রতিটি ইঞ্চিতে মতান্তরে প্রতিটি কোষে উপযুক্তভাবে ডলার পর, জানা গেলো, যে পাটায় হলুদ বাটা হয়েছে, সেই বাটায় সকালে কিছুটা মরিচও বাটা হয়েছে। পরবর্তী ঘটনা খুবই অনুমেয়।

মামাকে নিয়ে যখন আমাদের মফস্বল শহরের জেন্টস পার্লারে গেলাম, তখন ফেসওয়াস নামক একটি জিনিস করার পরও দেখলাম, সাদা ক্রিম কিছুক্ষন পর হলদেটে হয়ে যাচ্ছে আর মামা আমার দিকে দাঁত কিড়মিড় করে তাকাচ্ছেন।

যাইহোক, অনেকেই মনে করেন, মুসলিম সমাজে গায়ে হলুদ একটি হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি। হিন্দু পুরান অনুসারে হলুদকে শুভ ও পবিত্র ভেষজ হিসাবে দেখা হয়। কেন গায়ে হলুদ দেয়া হয় বা এর প্রচলন বিয়েতে কেন হলো এই ঘটনা জানতে গিয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য জানতে পারলাম। যে বিষয়টিকে আমরা ধর্মীয় সংস্কৃতি বা সামাজিক সংস্কৃতি হিসাবে দেখছি, তার পেছনে আছে মুলত বিজ্ঞান।

প্রাচীন কালে হলুদকে বলা হতো প্রাকৃতিক হেক্সোসল বা ক্লিনজার। কাঁচা হলুদ প্রাকৃতিক ভাবে জীবাণুনাশক। বিবাহের অন্যতম কারন মানুষের জৈবিক চাহিদা মেটানো। ফলে একজনের শরীরের জীবানু খুব সহজেই আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে বা শরীরে কোন ক্ষত থাকলে সেটা অনেক সময় উভয়পক্ষের জন্য বিব্রতকরও হতে পারে। তাই বিবাহের পুর্বে শরীরকে জীবানুমুক্ত বা বিভিন্ন রোগের সংক্রমন মুক্ত করার জন্যই গায়ে হলুদ দেয়া হতো। এই হলুদ দেয়ার প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র একদিনের জন্য সীমাবদ্ধ ছিলো না। রূপচচ্চায় প্রাকৃতিক উপাদান হিসাবে চন্দন ও হলুদ প্রতিনিয়তই ব্যবহার করা হতো। কাঁচা হলুদের সাথে খাঁটি সরিষার তেল, কমলার খোসা সহ আরো বেশ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে একটি ধরনের বিশেষ ক্রিম ব্যবহার করা হতো। এতে ত্বকের অবাঞ্চিত ক্ষত, অসুখ ইত্যাদি দুর হয়ে যেত, ত্বক হতো সুন্দর মসৃণ এবং ছড়িয়ে পড়ত এক অদ্ভুত সুন্দর আভা। ফলে গায়ে হলুদ দেয়াটা মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ন দৈনন্দিন অভ্যাস যার সাথে ধর্মের কোন যোগসুত্র ছিলো না। বরং ধর্ম-ই পরবর্তীতে এই অভ্যাস তাদের রীতি রেওয়াজে ঢুকিয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মে হলুদ ও চন্দনের ব্যবহার মুলত তাদের পবিত্র দেবদেবীদেরকে সেবা করার উদ্দেশ্যেই প্রচলিত হয়েছে। এছাড়া যারা ভেষজ নিয়ে কাজ করেন, তাঁরা দাবি করেছেন হলুদ মানসিক স্ট্রেস কমায়, বিষন্নতা দুর করে এবং শরীরকে নানা ধরনের বিষাক্ত পদার্থ নিঃসরণে সাহায্য করে শরীরকে সজীব করে তোলে।

সনাতন ধর্মে নারীর পবিত্রতাকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। নারী হবেন সতী, পবিত্র এবং কোমল। নারীকে যুগযুগ থেকে দেখা হয়েছে শুধুমাত্র ভোগের সামগ্রী হিসাবে। ফলে নতুন কোন পুরুষের কাছে যাবার আগে নারীকে পুতঃপবিত্র হয়েই যেতে হবে। এই ধরনের নানাবিধ ধারনা থেকে ধীরে ধীরে প্রথমে বিবাহের অনুষ্ঠানে নারীদের হলুদ দেয়া হতো পরবর্তীতে বিশেষ করে মোঘল আমলে গায়ে হলুদ নারী পুরুষ সকলের জন্য একটি আবশ্যই বৈবাহিক রীতিতে পরিনত হয়। তবে আমি খুব সংক্ষিপ্ত আকারে এই ব্যাপারটি বুঝিয়ে বললাম, পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গেলে বিষয়বস্তু পরিবর্তন হয়ে যাবে। তবে বর্তমানে যেভাবে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে 'হলুদই' হারিয়ে যাচ্ছে, তাতে কয়েক বছর পর এই অনুষ্ঠানের নাম হবে, গায়ে মেকাপ কিংবা মেকাপ সন্ধ্যা। এমনটা হলে আমি খুব একটা বিস্মিত হবো না।

যাইহোক, গায়ে হলুদের আসল কাহিনী হচ্ছে - মাছ ভাজার আগে ভালো করে হলুদ মরিচ মেখে কিছুক্ষন রেখে দিতে হয়। তেমনি বিয়ের সময় পাত্রপাত্রীদের হলুদ মেখে প্রস্তুত করা হয় ভাজার জন্য। তিন কবুল বলার পর শুরু হবে ভাজাভাজির অসীম খেলা। ইহা বিবাহিত মাত্রই বুঝিতে পারিবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০৩
২৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিষাদের উত্তরাধিকার....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৯:৫৬

বিষাদের উত্তরাধিকার....

আমি হাজার হাজার বছর ধরে পিঠে বিষাদ বেঁধে হেঁটে চলেছি। আমার বাবা, আমার মা তার মা তার বাবা…
একইভাবে এগিয়ে গেছে আমার মতই।
পিঠ থেকে নামিয়ে চোখের কোলে বসিয়ে তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুমিল্লায় ঘটনা তিনটা: আমি যেভাবে দেখি

লিখেছেন সরোজ মেহেদী, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:৪৬

১. মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরানের অবমাননা করা হয়েছে। ‘কে করেছে?’ হিন্দু ভাইরা সবার আগে এই প্রশ্নটা করবেন। উত্তর: আমি জানি না। কোনোদিন জানা যাবে বলেও বিশ্বাস করি না। কথা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোদন ভরা আমাদের শিক্ষা জীবন শুরু

লিখেছেন জুন, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:৫৯

আমাদের শিক্ষা জীবনে প্রথম বাংলা সাহিত্যের সাথে পরিচয় ঘটে সবুজ সাথী বই এর মাধ্যমে। সেই বইতে ছিল নানা রকম শিক্ষা মুলক গল্প, কবিতা,প্রবন্ধ । কিন্ত আজ চিন্তা করলে দেখি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাইওয়ান দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩২



চীনের ভাবসাব দেখে ও শি জিনপিং'এর কথা থেকে মনে হচ্ছে, চীন তাইওয়ান দখল করার ব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছে; এবং চীন ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে।

তাইওয়ান হচ্ছে আরেকটি চীনদেশ, ইহা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবনিক~১ম পর্ব (তৃতীয় খন্ড)

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ৮:৫৩


আগের পর্বের জন্যঃ Click This Link
দুই বছর পর...
নেক্ষন ধরে টু টুটুট টুটুট করে টেলিফোন বাজছে।
সৌম্য গভীর ঘুমে তখন।মনে হচ্ছিল বহু দুরের কোন শব্দ। ঘুমটা হালকা হতেই সে ভীষণ আলস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×