কতদিন জল তাকে ডাকে নি
কতদিন রোদন বেদনার ভারে পূর্ণ হয় নি।
সে তো জলের কাছেই ছিল
জল তাকে ভালোবাসবে বলে কথা দিয়েছিল।
যন্ত্রণারা দ্বগ্ধ করার আগেও জল তার পাশে ছিল।
কিন্তু সেদিন চোখে কোনো জল ছিল না
সেদিন আকাশে কিঞ্চিৎ বৃষ্টি ছিল
বৃষ্টির খানিকটা জল ছিল
নদীতে ভরা যৌবন ছিল
দু’কুলে ঢেউ ছিল, ঢেউয়ের পাশে গাঙচিল ছিল।
চিলের ঠোঁট অধিকতর সিক্ত ছিল
আর বাতাসে সামান্য আর্দ্রতা ছিল।
শুধু দুটি চোখে কোনো জল ছিল না।
মরুর রুক্ষ্মতাকে আশ্রয় দেবে বলে চোখ জলশূন্য ছিল।
জলের পাশে জল ছিল, জলের কলকল শব্দ ছিল
শব্দেরও জল ছিল।
কারণ শব্দেরা জলে ডাকা ছিল।
জল জলের মুখোমুখী ছিল
পাখিরা, আকাশের গায় গোমড়ামুখী মেঘেরা জলের আপন ছিল
শুধু চোখ জলশূন্য ছিল
যন্ত্রণা নিঃশেষিত হওয়ার আগে চোখ তাকে ফিরে ফিরে দেখছিল
এবং অবশেষে অশ্রুশূন্য চোখ জলকে নিমন্ত্রণ করেছিল।
জলের দেহে জল ছিল
জলেরা অধিকন্তু সরল ছিল
জলের মতো হও বাবারা
জলেরা বোবা হলে মৃতেরা সবাক হবে
জলেরা শান্ত হলে পাখিরা কি গাইবে?
আকাশের নীল ফিরে কি চাইবে?
মেঘেরা যদি ভেঙে পড়ে জলের গায়
আর বাতাসের সঙ্গমে জলেরা গাভিন হলে
হয়তো অনেক জল থাকবে,
চোখেরা জলকে বিরহের কাব্য করে নেবে
জলেরা শব্দের তুবড়ি ছোটাবে
জলে জলে হাঙ্গামা লেগে আবাদি বিরান হলে
অশ্রুশূন্য চোখ জলকে নিমন্ত্রণ করবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



