somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোরাল অফ দ্যা টক

২৪ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক ছাত্র তার অতিপ্রিয় শিক্ষকের কাছে গেলো একটা গুরুত্ব পুর্ন সমস্যার সমাধানের জন্য । শিক্ষক ছাত্রের সমস্যা শুনিয়া তাকে দু’টা গল্প শুনালেন। চলুন দেখি গল্প গুলো কি ছিলো ।

#১
এক গ্রামে একটা বিচার বসলো।বিচারে কারন টা ছিলো একটা ছেলে একটা মেয়েকে চোখ মেরেছে ,তো সবাই মিলে ঐ ছেলের দোষ দিচ্ছে। বিচারে ছেলেকে ২০ বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দিলেন বিচারকরা।সেখানে উপস্থিত জৈনক ভদ্র লোক বিচারকদের কে ইঙ্গিত করে চোখ মারলেন কিন্তু বিচারক বৃন্দ সেদিকে লক্ষ্য করলেন না।জৈনক লোক তাদের জিজ্ঞাসা করলেন আপনারা আমার চোখ মারার দিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না কেন,তখন বিচারক রা বলল আমরা লক্ষ্য করিনি।লোক টি বলল ,তাহলে ছেলে টি যখন মেয়েটিকে চোখ মারলো সে তখন লক্ষ্য না করলেই হতো । যেহেতু সে লক্ষ্য করেছে তাহলে দু জনই সমান অপরাধী। এরপর বিচারকগন দুজন কেই ১০ টি করে বেত্রাঘাত করলেন।

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে দু জনই সমান অপরাধী

#২
একটা গ্রাম ছিলো।সে গ্রামে বাস করত একজন তাঁতি যাকে আবার গ্রামের সবাই সন্মান করতো এবং কোনও সমস্যা হলে সবাই আগে তার কাছে যেত সমাধানের পথ খুজতে।যাদের গ্রামে বাড়ী আছে তারা হয়ত দেখেছেন প্রত্যেক বাড়ীতে কিছু খড়ের ঘর আছে যেগুলো বাঁশের তৈরি।তো এক মহিলা সেই খড়ের ঘরে চাল ভাজতেছে এইটা দেখতেছে একটা বাচ্ছা ছেলে। ছেলেটি দুহাত বাঁশ জড়িয়ে দাড়িয়ে ছিলো।চাল ভাজা শেষ হলে ছেলেটি মহিলার কাছে কিছু চাল ভাজা চাইলো ।মহিলা তার দু হাত ভরে
চাল ভাজা দেন ,বিপত্তি টা বাঁধলো তখন কেননা ছেলেটার দু হাত বাঁশ টা কে জড়িয়ে ধরা ছিলো। হাত সরাতে গেলে তার চাল ভাজা পড়ে যাবে।ছেলেটি কি করবে কিছু বুঝতে না পেরে কান্না শুরু করে দিলো ,ছেলেটির কান্না দেখে মহিলাটি ও কান্না করতেছে।একে একে গ্রামের অনেকে এসে দেখলো ছেলেটা আর মহিলা টা কাঁদতেছে।কি করবে এখন কারো মাথায় কিছু আসতেছেনা তো সবাই মিলে সেই তাতীর কাছে গেল সমাধানের জন্য।তাঁতি সব শুনে দুইটা সমাধান দিলেন এক,ছেলেটার হাত কেটে পেলতে হবে ।দুই, যে বাঁশ টা ছেলেটা জড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো সেই বাঁশ টা উপড়ে পেলতে হবে ।
গ্রামের লোকজন ঠিক করলো হাত না কেটে বরং বাঁশ টা উপড়ে পেলবে।সবাই বাঁশ উপড়ে পেলার জন্য যাবে তখন জৈনক এক ব্যক্তি গ্রামের ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, মানুষের ভিড় দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন কি হয়েছে তো সবাই বিষয় ওনাকে বললেন।লোক টি তখন চিন্তা ভাবনা করে সবাই কে বললেন একটা বেত পড়া দিলে সমস্যার সমাধান হবে ।সবাই তো শুনে খুশি হয়ে বেত নিয়ে আসলেন।তো জৈনক লোকটা একটা শর্ত দিলেন যে আমি যতক্ষন না বলবো আপনারা কেউ চোখ খুলবেন না । সবাই তার শর্তে রাজী হয়ে চোখ বন্ধ করলো তখন লোকটা ছেলেটার পাছায় বেত দিয়ে বারী দিলেন ছেলেটা দুহাত বাঁশটাকে ছেড়ে পাছা মালিশ করতে শুরু করলো তখন লোক টা সবাই কে চোখ খুলতে বললেন। সবাই চোখ খুলে দেখে ছেলেটার হাতটা বাঁশ থেকে মুক্তি পেল।


গল্প টা পড়ে হয়ত অনেকে ভাবতেছেন যে এটা তো স্বাভাবিক একটা ব্যাপার ,আমিও মনে করি।দেখুন তো আপনার আমার এবং দেশের এরকম অনেক সহজ সমস্যা আছে যেগুলোর সমাধান করতে আমরা কত চিন্তিত হই কত জনের কাছে ধরনা দেই
অথচ চাইলে খুব সহজে সেই সব সমস্যার সমাধান করা যায় ।


এবার চলুন ছাত্রটি কি সমস্যায় শিক্ষকের কাছে গিয়েছিল ?
ছেলেটি একটা মেয়েকে পছন্দ করতো। যত ভাবে সম্ভব মেয়েটি কে বুঝালো কিন্তু মেয়েটি ছেলেটি কে প্রত্যাখান করলো ।প্রত্যাখিত হওয়ার পর ছেলেটি চরম হতাশায় ভুগতেছিলো যার প্রেক্ষিতে ছেলেটি শিক্ষকের কাছে সমাধানের জন্য যায় । তো শিক্ষক তার ছাত্রের উপর ২য় গল্পটি প্রয়োগ করলেন, যার ফলশ্রুতিতে ছাত্রটি আজ অনেক বড় মাপের একজন মানুষে পরিনত হয়েছে ।


সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ১২:১৭
১৪টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×