এক ছাত্র তার অতিপ্রিয় শিক্ষকের কাছে গেলো একটা গুরুত্ব পুর্ন সমস্যার সমাধানের জন্য । শিক্ষক ছাত্রের সমস্যা শুনিয়া তাকে দু’টা গল্প শুনালেন। চলুন দেখি গল্প গুলো কি ছিলো ।
#১
এক গ্রামে একটা বিচার বসলো।বিচারে কারন টা ছিলো একটা ছেলে একটা মেয়েকে চোখ মেরেছে ,তো সবাই মিলে ঐ ছেলের দোষ দিচ্ছে। বিচারে ছেলেকে ২০ বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দিলেন বিচারকরা।সেখানে উপস্থিত জৈনক ভদ্র লোক বিচারকদের কে ইঙ্গিত করে চোখ মারলেন কিন্তু বিচারক বৃন্দ সেদিকে লক্ষ্য করলেন না।জৈনক লোক তাদের জিজ্ঞাসা করলেন আপনারা আমার চোখ মারার দিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না কেন,তখন বিচারক রা বলল আমরা লক্ষ্য করিনি।লোক টি বলল ,তাহলে ছেলে টি যখন মেয়েটিকে চোখ মারলো সে তখন লক্ষ্য না করলেই হতো । যেহেতু সে লক্ষ্য করেছে তাহলে দু জনই সমান অপরাধী। এরপর বিচারকগন দুজন কেই ১০ টি করে বেত্রাঘাত করলেন।
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে দু জনই সমান অপরাধী
#২
একটা গ্রাম ছিলো।সে গ্রামে বাস করত একজন তাঁতি যাকে আবার গ্রামের সবাই সন্মান করতো এবং কোনও সমস্যা হলে সবাই আগে তার কাছে যেত সমাধানের পথ খুজতে।যাদের গ্রামে বাড়ী আছে তারা হয়ত দেখেছেন প্রত্যেক বাড়ীতে কিছু খড়ের ঘর আছে যেগুলো বাঁশের তৈরি।তো এক মহিলা সেই খড়ের ঘরে চাল ভাজতেছে এইটা দেখতেছে একটা বাচ্ছা ছেলে। ছেলেটি দুহাত বাঁশ জড়িয়ে দাড়িয়ে ছিলো।চাল ভাজা শেষ হলে ছেলেটি মহিলার কাছে কিছু চাল ভাজা চাইলো ।মহিলা তার দু হাত ভরে
চাল ভাজা দেন ,বিপত্তি টা বাঁধলো তখন কেননা ছেলেটার দু হাত বাঁশ টা কে জড়িয়ে ধরা ছিলো। হাত সরাতে গেলে তার চাল ভাজা পড়ে যাবে।ছেলেটি কি করবে কিছু বুঝতে না পেরে কান্না শুরু করে দিলো ,ছেলেটির কান্না দেখে মহিলাটি ও কান্না করতেছে।একে একে গ্রামের অনেকে এসে দেখলো ছেলেটা আর মহিলা টা কাঁদতেছে।কি করবে এখন কারো মাথায় কিছু আসতেছেনা তো সবাই মিলে সেই তাতীর কাছে গেল সমাধানের জন্য।তাঁতি সব শুনে দুইটা সমাধান দিলেন এক,ছেলেটার হাত কেটে পেলতে হবে ।দুই, যে বাঁশ টা ছেলেটা জড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো সেই বাঁশ টা উপড়ে পেলতে হবে ।
গ্রামের লোকজন ঠিক করলো হাত না কেটে বরং বাঁশ টা উপড়ে পেলবে।সবাই বাঁশ উপড়ে পেলার জন্য যাবে তখন জৈনক এক ব্যক্তি গ্রামের ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, মানুষের ভিড় দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন কি হয়েছে তো সবাই বিষয় ওনাকে বললেন।লোক টি তখন চিন্তা ভাবনা করে সবাই কে বললেন একটা বেত পড়া দিলে সমস্যার সমাধান হবে ।সবাই তো শুনে খুশি হয়ে বেত নিয়ে আসলেন।তো জৈনক লোকটা একটা শর্ত দিলেন যে আমি যতক্ষন না বলবো আপনারা কেউ চোখ খুলবেন না । সবাই তার শর্তে রাজী হয়ে চোখ বন্ধ করলো তখন লোকটা ছেলেটার পাছায় বেত দিয়ে বারী দিলেন ছেলেটা দুহাত বাঁশটাকে ছেড়ে পাছা মালিশ করতে শুরু করলো তখন লোক টা সবাই কে চোখ খুলতে বললেন। সবাই চোখ খুলে দেখে ছেলেটার হাতটা বাঁশ থেকে মুক্তি পেল।
গল্প টা পড়ে হয়ত অনেকে ভাবতেছেন যে এটা তো স্বাভাবিক একটা ব্যাপার ,আমিও মনে করি।দেখুন তো আপনার আমার এবং দেশের এরকম অনেক সহজ সমস্যা আছে যেগুলোর সমাধান করতে আমরা কত চিন্তিত হই কত জনের কাছে ধরনা দেই
অথচ চাইলে খুব সহজে সেই সব সমস্যার সমাধান করা যায় ।
এবার চলুন ছাত্রটি কি সমস্যায় শিক্ষকের কাছে গিয়েছিল ?
ছেলেটি একটা মেয়েকে পছন্দ করতো। যত ভাবে সম্ভব মেয়েটি কে বুঝালো কিন্তু মেয়েটি ছেলেটি কে প্রত্যাখান করলো ।প্রত্যাখিত হওয়ার পর ছেলেটি চরম হতাশায় ভুগতেছিলো যার প্রেক্ষিতে ছেলেটি শিক্ষকের কাছে সমাধানের জন্য যায় । তো শিক্ষক তার ছাত্রের উপর ২য় গল্পটি প্রয়োগ করলেন, যার ফলশ্রুতিতে ছাত্রটি আজ অনেক বড় মাপের একজন মানুষে পরিনত হয়েছে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


