উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-ভূমিকা
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-১
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-২
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৩
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৪
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৫
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৬
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৭
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৮
-৯-
আগামী কাল ১লা এপ্রিল। সবার মনে আনন্দ কিন্তু আজকের রাততো সহজেই কাটছেনা। মনে হচ্ছে যেন শুধু ২৪ ঘন্টাই রাত। ভাবতে ভাবতে অনেকেরই রাত কেটে গেল। আশে পাশের মসজিদ গুলোতে প্রতিদিনের মত আযানের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সকলের ঘুম ভেঙ্গে গেল। সবাই দাঁত ব্রাশ করে আর গোসল করা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেল কারন ৮টার সময় গাড়ী ছেড়ে দিবে। তাই সবাই যার যার কাপড় নিয়ে ৮টার ভিতরেই সবাই গাড়ীর কাছে উপস্থিত হল। সবাই গাড়ীতে উঠে বসল। সাগর গাড়ী ছাড়ার আগে গুনে দেখল যে সবাই আসছে কি না ? সব কিছু ঠিক আছে। বিসমিল্লাহ্ বলে আল্লাহর নাম স্মরন করে ড্রাইভার গাড়ী ষ্ট্যার্ট দিল। ড্রাইভার গাড়ীটা নিয়ে সর্বপ্রথমে গ্রামের চারপাশ দিয়ে একটা রাউন্ড দিল। তারা যাত্রা করল পিকনিকের উদ্দেশ্যে। কি আনন্দ মাইক বাজছে বাসের ছাদের উপর। মনের খুশিতে যার যার মনে যে গান ভাসছে সে সেই গান গাইছে। সাগর ও নদীকে নিয়ে গুন গুন করে গান গাইছে। গাড়ী আপন গতিতে চলছে। অনেক বড় বড় ব্রীজ পার হচ্ছে। আর মনে হচ্ছে দুই পাশের ধান ক্ষেত, ঘর বাড়ী, গাছপালা সব কিছু আমাদের বাসের পিছু পিছু ছুটছে। অনেক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে গাড়ী তার গন্তব্য স্থানে পৌঁছাল।
সব মালপত্র নামিয়ে এক জায়গায় তাবু খাটানো হল। সবাই অবহেলা না করে কাজে নেমে পড়ল। সকলেরই খিদে পেয়েছে তাই রান্নার জন্য বাবুর্চি তার কাজে লেগে গেল। আর এদিকে ফুল সাউন্ডে চলছে মাইক নানা রকমের গান। মাঝে মাঝে মনির খাঁন, মাঝে মাঝে চলছে আসিফ ও হিন্দি গান। গানের মিউজিকের তালে তালে চলছে কাজ। কেউবা কাজ করে বিশ্রাম নিচ্ছে, কি সুন্দর পরিবেশ, কেউবা বিশ্রাম নিচ্ছে তাবুর নিচে, কেউবা নদীর তীরে ছোট ছোট গাছের নিচে। স্বপন, নাইমুল, মঈন, রুমি, বকুল, নজরুল, আলিম, মকবুল ও অন্যান্য আরো বন্ধুরা বসা ছিল সেখানে। সবাই বলে আচ্ছা সাগর তুইতো অনেক গান, কবিতা ও উপন্যাস লিখিস তবে এখানে তো আর কবিতা বা উপন্যাস শোনার সময় নাই তাই তুই তোর মনের মানুষ নদীকে নিয়ে লেখা একটা গান শোনা আমাদের। সাগর বলে তোরা আমার লেখা গান শুনতে চাস এইতো তবে হয়ে যাক তোরা সবাই হাত তালি দে এই বলে সাগর গান শুরু করে দিল।
অন্তরে তুমি,হৃদয়ে তুমি
তুমি শুধু আমারই তুমি
নদী আমার নদী
আমারে হারিয়ে যদি হও
তুমি বড় একাকী
তবে মনে রেখ একটি কথা
চাইব মরণ আমি।
আমাকে রেখে যদি হও
তুমি একা পরবাসি
তবে মনে রেখ একটি কথা
হৃদয় হবে মরুভূমি
নদী আমার নদী
নদী আমার নদী।
গান শেষ হতে হতেই সাগর বলল, চল আমরা সবাই খাবার আগে গোসল করে আসি। সকলে বলল এখানে এসেছি আনন্দ উপভোগের জন্য তাই প্রতিটি মূহূর্তই কাটাব আনন্দের মাঝে। সকলে গেল সাগর পাড়ে কেউ পানি ছিটা ছিটি আবার কেউবা ছোয়া ছুয়ি খেলছে এভাবে তাদের গোসল শেষ হল। সবাই তাবুতে ফিরে গেল। সকলে ভেজা কাপড় ছেড়ে শুকনো কাপড় বদলিয়ে নিল। এবার খাবার পালা। সবাই মিলে বসল। চারদিক ঘিরে যে যার মত খাচ্ছে। কেউ খাচ্ছে ভাজি দিয়ে, কেউবা খাচ্ছে মাছের তরকারি দিয়ে কেউবা মুরগির রোস্ট কেউবা আবার গরুর মাংস দিয়ে। সবাই খাচ্ছে পেট পুরে গল্প করতে করতে। খাওয়া শেষ হওয়া পর সবাই কোল্ড ড্রিংকস পান করে, যে যার মত বিশ্রাম নিতে চলে গেল। সূর্যটা পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ছে আর সূর্যের তাপ কমে আসতে লাগল এবং সবাই মিলে বল ব্যাট নিয়ে খেলায় মেতে উঠল। কুয়াকাটার বুকে দীর্ঘ সময় খেলাধুলা করতে করতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। সবাই হাত পা ধুয়ে তাবুর কক্ষগুলিতে ফিরে এলো। একটু পরেই মসজিদে মুয়াজিনের কন্ঠে ধ্বনিত হল এশার আজান। আজান শুনতে পেয়ে সিপন, হেদায়েত, রাকিব, রুমান ও আকবর সহ অন্যান্য ছেলেরা নিকটস্থ মসজিদে নামাজ পড়তে গেল। আর নদী, ছবি, নীলা, হেনা, রুমা, ঝুমুর, নদী, রুপা, আমিনা ও অন্যান্য মেয়েরা অযু করে নামাজ পড়ার জন্য বসে গেল। নামাজ শেষ হয়ে গেল। মসজিদে যারা গিয়েছিল তারা আবার ফিরে এলো মেয়েদেরও নামাজ শেষ হয়ে গেল। সবাই এক জায়গায় বসল। এখন তাদের আর কোন পড়ার চিন্তা নাই। তাই কিছুতেই সময় কাটছেনা। রুমান,আজাদ গুন গুন করে গান গাইছে আর বাকিরা সবাই বিভিন্ন গল্প নিয়ে বসেছে কারণ একটা গল্প শেষ হতে না হতেই আর একটি গল্প শুরু হয়ে যায়। বিভিন্ন গল্প হচ্ছে হাসি ঠাট্টা চলছে। তবে কেউ কারো কথায় বিন্দু মাত্র কষ্ট পাচ্ছেনা। বরং মনে হয় এখানে খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে। যে জলে ভেসে যাচ্ছে সকলের মনের দুঃখ কষ্ট। অনেক গল্প করতে করতে প্রায় ১১.০০টা বেজে গেল সাগর বলল কি বন্ধুরা খাওয়ার দরকার আছে নাকি শুধু এভাবে গল্প করলেই চলবে। তখন গল্পের আসর ভেঙ্গে গেল। হাত মুখ ধুয়ে খেতে বসল সবাই দুপুরের মত সবাই চারদিকে ঘিরে। তবে রাতে কেউ বেশি খেতে পারলো না। কারণ দুপুরে সকলেরই একটু বেশি খাওয়া হয়ে গেছে। অল্প কিছুনের মধ্যেই খাওয়া শেষ হয়ে গেল। সবাই নির্দিষ্ট কক্ষগুলিতে চলে গেল এবং ঘুমিয়ে পড়ল।।
ঘুমের মাঝে অনেকে অনেক প্রকার স্বপ্ন দেখলো। কেউ দেখে মা বাবাকে নিয়ে,কেউ দেখে ভাই-বোনকে নিয়ে,কেউবা দেখে তার প্রেমিক-প্রেমিকাকে নিয়ে। রাতের আধার কাটতে না কাটতেই মুয়াজ্জিনের আজান শোনা গেল। চারিদিকে পাখিদের কলরব শোনা যাচ্ছে।
সকলের ঘুম ভেঙ্গে গেল। নামাজ পড়তে ব্যস্ত হল সবাই। নামাজ শেষে কেউ দেখছে সূর্য উদয়ের দৃশ্য, কেউ দেখছে সাগরের বুকে ঢেউ আর ঢেউ। কেউ দেখছে ঐ বিশাল সাগরের বুকে জেলেদের জাল ফেলা। জালে উঠছে বিভিন্ন প্রকার মাছ। সাগর, হেদায়েত,সিপন ও আকবর মিলে জেলেদের কাছ থেকে কিছু মাছ কিনে আনলো। আজ তাদের ভ্রমনের শেষ দিন। তাই খাওয়া দাওয়া হবে একটু ভিন্ন রকমের। সকাল থেকেই বাবুর্চি তার রান্না বান্নার কাজ শুরু করে দিল। অন্যান্যরা তাকে রান্না বান্নার কাজে সাহায্য করছে। রান্নার সব কিছু গুছিয়ে দেয়ার পর সবাই মিলে আশে পাশের জন-জীবন পরিদর্শন করতে গেল। সেখানে তারা নানা রকম ছবি তুলল এবং ভিডিও করলো। বিভিন্ন জায়গা তারা পরিদর্শন করতে লাগলো। একটার পর একটা করে তারা দেখতে লাগলো। আর এদিকে সাগর ও নদী গেল অন্য দিকে। দুজনে মিলে একটি গাছের ছায়ার নিচে বসল। দুজনে মিলে বিভিন্ন আলাপ আলোচনা করছে। সাগর বলে নদী তুমি কি আমাকে সারা জীবন ভালবাসবে। নদী বলে আমাকে তুমি কি ভালবাসবে কিনা জানিনা তবে আমি তোমাকে সারা জীবন ভালবাসব এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার জন্য আমি অপো করব। তবে জানিনা তোমার বাবা মা আমাদের এই ভালবাসা মেনে নিবে কিনা। সাগর আমার অনেক ভয় হয় কারন তোমরা অনেক বড় লোক আর আমরা খুব গরীব। সাগর বলে নদী এনিয়ে ভেবনা সময়ই সব বলে দিবে। আমি শুধু জানি নদী সাগরের এবং সাগরেরই থাকবে। এসব কথা বলতে বলতে হেদায়েত, সিপন, আকবর ও অন্যান্য বন্ধুরা চলে এল সবাই। তোরা দুজন এখানে মিলে মিশে গল্প করছিস আর এদিকে আমরা তোদের খুজে খুজে দিশেহারা সাগর ও নদী উঠে বলে চল এবার গিয়ে দেখি রান্নার কাজ কতদূর। কারন আমাদের তো আবার আজই ফিরতে হবে। তাবুতে ফিরে দেখে যে রান্নার কাজ প্রায়ই শেষ পর্যায়ে। তাই সকলে মিলে একটু বিশ্রাম নিয়ে যে যার ইচ্ছা মত গোসল করতে গেল। গোসল খুব শীঘ্র শেষ হয়ে গেল। ভিজা কাপড় রোদ্রে শুকাতে দিয়ে খেতে বসলো। সবাই যার যার মত নিয়ে খাচ্ছে। বাবুর্চিও তাদেরকে খাওয়া দাওয়ার কাজে সাহায্য করছে। সাগর বলছে হাসা হাসি না করে একটু তাড়াতাড়ি খাও। আকবর বলে আরে দোস্ত তাড়া তাড়ি করে লাভ কি আজ তো আমরা ফিরে যাচ্ছিতো তাই যত সময় এই জায়গায় থাকবো ততটা সময় আনন্দে কাটবে। সাগর বলে আচ্ছা তোরা আস্তে আস্তে খা। আস্তে আস্তে খেলেই আর কি হবে যার পেটে যা ধরে তারপরে একসময়তো খাওয়া শেষ হয়েই যাবে। একে একে সকলের খাওয়া শেষ হয়ে গেল। কেউ কেউ বিশ্রাম নিচ্ছে কেউ সব কিছু গুছিয়ে নিচ্ছে। সব কিছু গোছানো শেষে সবাই বাসে উঠে বসল। ড্রাইভার গাড়ী ছেড়ে দিল। বাসটি সর্ব প্রথম কুয়াকাটার চারপাশে একটি চক্কর দিয়ে টাউনের দিকে যাত্রা করলো। কুয়াকাটা শহর ত্যাগ করে বাসটি তার গন্তব্য স্থানের উদ্দেশ্যে ছুটতে লাগলো। বাসের ভিতরে একে অপরকে বলা বলি করছে কি বনভোজন কেমন হল। সিপন বলে একটু মজা করার জন্য আমরাতো বনভোজন করিনি আমরা তো সবাই মাংশ-পোলাও ভোজন করেছি। তবে এই কথা স্বীকার করছি যে, এই বনভোজন বা মাংশ-পোলাও ভোজন খুবই আনন্দের ও সুন্দর হয়েছে। যা আমার চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে সারা জীবন। সিপনের কথা শুনে সবাই হাসা হাসি করছে। হাসা হাসি গল্পের ভিতর দিয়ে গাড়ী পৌছে গেল। রাত প্রায় ১০.০০ বেজে গেল। গাড়ী যার যার বাড়ীর সামনে নামিয়ে দিল। অবশেষে সব মালপত্র সাগরদের বাড়ীতে নামিয়ে রাখা হল। যে যার বাড়ীতে গিয়ে ব্যাগ রেখে যার যার বেড রুমে ঘুমিয়ে পড়ল। সবাই খুব কান্ত তাই এক ঘুমে সকাল হয়ে পড়ল।
===============
তারপর দিন.......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


