"আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” – অন্নদামঙ্গল কাব্যে কবি ভারতচন্দ্র রায়ের বিখ্যাত পঙক্তি, যা সকল মা বাবার প্রত্যাশা।
এখন প্রশ্ন কিভাবে আমার সন্তান দুধে, ভাতে থাকবে? দুধ ভাত খাওয়ার জন্য কয়েক বস্তা চাল আর গরু কিনে দিলেই কি হবে! চেতনাহীন ভাবনা হয়তো তাই বলে। সন্তানকে ভালোবাসা বলতে তার ইচ্ছে বা চাহিদা পূরণকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকি অনেকে। তাই আমাদের সন্তানদের শৈশবের চকোলেটের চাহিদা যৌবনে বাইকে সওয়ার হয় . . . চেতনাশূন্য ভাবী প্রজন্ম দুরন্ত গতিতে অন্ধকারের দিকে ছুটে যায়। প্রতিযোগিতার পৃথিবীতে সাধ আর সাধ্যের ফাঁকটা একদিন হতাশায় ভরে যায় একই গতিতে। আর সেই হতাশার নামই বর্তমান প্রজন্ম!
আমার স্বপ্ন তা কেবল আমারই। তাই নিজের স্বপ্নকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও আমার।
আপনার সন্তান একটি বীজ, একটি চারাগাছ কিম্বা একতাল কাদামাটি। তার ভেতরে হয়তো লুকিয়ে আছে কোন আইনস্টাইন, হেলেন কেলার, ডঃ ইউনুস, মার্টিন লুথার কিং কিংবা একজন চে ! আসলে কোন শিশু জন্ম নেয়া মানেই একটা সম্ভাবনা, একটা স্বপ্ন। জন্ম নেওয়া সেই সম্ভাবনা, সেই স্বপ্নকে সফল করতে পারে মাত্র তিনজন মানুষ। মা, বাবা এবং শিক্ষক। চেতনাশূন্য আজকের এই দুনিয়ায় মা, বাবা, শিক্ষক এই শব্দগুলো তার প্রকৃত অর্থ হারিয়েছে। তাই জন্মদাত্রী যথার্থ ‘মা’ হতে পারছে না, অভিভাবক ‘বাবা’ হতে পারছে না, শিক্ষাদানকারী ‘শিক্ষক’ হতে পারছে না। তাই অন্তঃসার শূন্য স্বপ্ন, সম্ভাবনা জৈবিক নিয়মে বেড়ে উঠছে শুধু শরীরে।
শিক্ষকদের কাছে এখন সত্যিকারের শিক্ষা গ্রহণ প্রায় অসম্ভব। কারণ, এখন শিক্ষকতা পেশায় প্রথম, দ্বিতীয় স্তরের মেধাবীরা আসেই না, তৃতীয় স্তরের মেধাবীরাও ঠেকায় পরে আসে। যাদের কাছে শিক্ষকতা ব্রত নয়, কলকারখানায় চাকরির মতো একটা পেশা মাত্র। শুধুমাত্র পেটের টানে শিক্ষকতার চাকরি।
অসুস্থ শরীর সুস্থ করতে চিকিৎসক যেমন ছুরিকাঁচির সাহায্য নেয়, ট্র্যাকের বাইরে গাড়ি চলে গেলে জোরে টেনে আনতে হয় বা ধাক্কা দিয়ে হয়। বিপথগামী সন্তানের ক্ষেত্রেও তাই করতে হবে। বুঝিয়ে বা মুখের কথায় না হলে শাসন করতে হবে। সন্তানকে শাসন করা মানে তার অমঙ্গল কামনা করা নয়। ঘুড়িকে সাবলীল ভাবে উড়তে দিলেও সুতোটা টেনে রাখতেই হয়, তার ভেসে চলে যাওয়া আটকাতে। মাঝে মাঝে হ্যাঁচকা টানেই তার সীমার বাইরে উড়ে চলা ঠিক রাখতে হয়।
"লাগেজ য়্যাট ইওর ওউন রিস্ক" (মাল মিজ দায়িত্বে রাখুন)- কথাটা ট্রেনে, বাসে অর্থাৎ পাব্লিক পরিবহনে লেখা থাকে।
আপনার সন্তান -আপনার সম্পদ, আপনার মাল। তাই আপনার ‘মাল’ নিজ দায়িত্বে রাখুন। আপনার সন্তানের মঙ্গলে অন্যের দায় নেই। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় সন্তানের ‘কেরিয়ার’ হয় হোক, মানুষ করুন নিজের হাতে। চারাগাছের মত রক্ষা করতে তার চারপাশে শৃঙ্খলার বেড়া দিন। আপনাকেই করতে হবে, কারণ স্বপ্নটা যে একান্তই আপনার।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



