আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন....
‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝিনা’ - সবাই জানি কিন্তু মানি কয়জন! আমরা প্রত্যেকেই জ্ঞানপাপী। আর এই পাপের কারণেই আমরা এতকিছু জেনেও ভুগছি। পারস্পরিক সম্পর্কগুলোরও যথার্থ মূল্যায়নও হয় দূরে বা চোখের আড়াল গেলে। আর এই চোখের আড়াল যদি হয় চিরতরে, তখন কেঁদে আকুল হই। নিজের কৃতকর্মের অনুশোচনায় পুড়ি বাকি জীবন। এও এক প্রকারের শাস্তি। আসলে সহজলভ্য প্রাপ্তি ক্রমাগত পেয়ে একটা সময় ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’ হয়ে দাঁড়ায়।
রবি ঠাকুর বলেছেন ‘মনের দিক থেকে আমরা এক একটি দ্বীপের মতো’! জীবন সমুদ্রের নানান ঢেউয়ের ঝাপটা সইতে থাকা এই এক একটি দ্বীপ আসলে বড়ই একা।
মানুষ সর্বদা কল্পনা প্রবণ। কল্পনা করুন - আপনার আপনজনের কোন বিষয় যখন আপনার কাছে একঘেয়ে কিংবা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, প্রতি নিয়ত মানষিক বিবাদে আপনার মনে যখন তার স্থান ক্রমেই দূরে হয়ে যাচ্ছে, আপনি কিছুতেই আর তাকে সহ্য করতে পারছেন না এমন অবস্থায় কল্পনা করুনঃ-
মানুষটি আর পৃথিবীতে নেই। বাস্তব পৃথিবীতে নিজের একাকী অবস্থাটা অনুভব করুন। আপনার অনুভবে ধরা পড়বে চারপাশের মানুষের ভিড়ে, সবকিছু থেকেও আপনি কতটা অসহায়। সেই প্রিয়জনের মুখটা যখন আপনি আর দেখতে পারছেন না, তাকে হারাবার অনুভূতিটা আপনাকে ভীষণ ভাবে নাড়িয়ে দেবে। কল্পনাতেও আপনি অনুভব করতে পারবেন যে তাকে আপনি কতটা মিস করছেন। সেই একাকীত্বের অনুভূতি আপনাকে আবারো শত অভিযোগের মাঝেও তাকে নতুন করে ভালবাসতে উদ্বুদ্ধ করবে। তার মন্দ দিকগুলোর সাথে তখন আর আপনার আপস করতে অসুবিধে হবেনা। এভাবেই সম্পর্কগুলো মেনে, মানিয়ে সুদীর্ঘ পথ চলতে পারে। আখেরে এটা অনুভব করতে পারবেন যে, মন থেকে সত্যিকারের আপনার ভালো চাইবার মতো আপনার প্রিয়জন ছাড়া সত্যিই এ পৃথিবীতে খুব কম মানুষ আছে বা হয়তো কেউই নেই। সত্যিকারের ভালবাসতে পারে কয়জন বা সেই ভালোবাসা পায় কয়জন! তাই প্রিয়জন সত্যিই প্রয়োজন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



