জীবন ও সফলতাঃ
মানুষ মাত্রেই জীবনের নানান ঘাত প্রতিঘাতের মাঝেও আমরা জীবনের সফলতা খুঁজে বেড়াই-আমিও তার ব্যতিক্রম নই। অনেক সময় ভাবি-আসলে সফলতা কী? আজ সফলতা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত ধারনা সংক্ষিপ্ত ভাবে শেয়ার করতে চাই। সফলতা আপেক্ষিক শব্দ। সফলতার পূর্ব প্রয়োজনগুলো হতে পারেঃ-
(১) স্বচ্ছতা, (২) আর্থিক সামর্থ্য, (৩) যোগ্যতা, (৪) প্রতিযোগিতা, (৫) পারিপার্শ্বিকতা, (৬) সামাজিক অবস্থান।
সফলতাকে যদি আমরা সংজ্ঞায়িত করতে যাই তাহলে মোটামুটিভাবে বলা যায়, লক্ষ্য নির্ধারণ করে, সঠিক পরিকল্পনামাফিক পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে কাজ সম্পাদন করতে পারাটাই সফলতা।
সফলতার মধ্যে স্বাতন্ত্র্য থাকে। সফলতা দুই ধরনের হতে পারে। একটা হচ্ছে গুণগত, আরেকটি হচ্ছে পরিমাণগত। সব সময় দু'টো ধরন যুগপৎভাবে ধরা দেয় না। তখন জীবন হয় আংশিক। জীবন চলার পথে সফল হতে হলে অবশ্য নিজের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে। দুঃখ, মনোকষ্ট, ক্ষোভ, যন্ত্রণা এগুলো চিরদিন থাকবে। কারণ দুঃখের শিক্ষা না পেলে সাফল্য পাওয়াটা বড় কঠিন। প্রত্যেক সুখের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দুঃখ এবং দুঃখের সঙ্গে সুখ। এই দুঃখকে অনুধাবন করতে পারলেই প্রকৃতপক্ষে আমরা সঠিক সাফল্যের পথ খুঁজে পাবো।
আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থাটা আধা সামন্তবাদী, আধা পুঁজিবাদী আর শতাংশের একাংশ সাম্রাজ্যবাদের মিশ্রণ। এই সামাজিক প্রেক্ষাপটের লক্ষ্যে পৌঁছানোটাই সফলতা তা যে করেই হোক।
জীবন চলার পথে সফলতা পাওয়ার জন্যে আমাদের পাঁচটি পর্যায় অতিক্রম করতে হয়।। (১) লক্ষ্য, (২) পরিকল্পনা, (৩) কৌশল, (৪) শ্রম, (৫) প্রাপ্তি তথা সফলতা।
কোনো বিষয় লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরিকল্পনা মাফিক কৌশলী হয়ে নিজের মেধা ও শ্রমের মাধ্যমে কাজ করলেই মানুষ তার প্রাপ্তি বা সফলতার দ্বার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আর সফলতার পেছনে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান অবদান থাকতে হবে। কারণ জীবন চলছে নারী-পুরুষ মিলেমিশে। সফলতা ব্যাপারটাতে নারী-পুরুষ উভয়ের ভূমিকা প্রয়োজন।
তবে সব কর্মেই যে মানুষের এক রকম সফলতা আসবে তা নয়। কোন কাজে কতোটা সফলতা আসবে তা নির্ভর করে কর্মে বিদ্যমান উপাদানসমূহের ওপর। উপাদানগুলো হলো আত্মনিয়োগ, একনিষ্ঠতা, আন্তরিকতা, অধ্যবসায়, সময় প্রয়োজনীয়তা, একাগ্রতা, ধ্যান, পারিপার্শ্বিকতা, জ্ঞান, শ্রম, একরৈখিকতা। আবার সফলতা লাভে ব্যর্থ হলে মানুষ হিংসুক, অপদার্থ, ছিদ্রান্বেষী, মতিভ্রম, অপাংক্তেয়, অনুদার ও অন্যের জন্যে বোঝা হয়ে অশান্তির সাগরে নিমজ্জিত থাকে এবং অশান্তির সৃষ্টি করে। জীবনের সফলতা মানেই কর্মের সফলতা। আমার দৃস্টিতে সফলতার সাতটি ভিত্তিমূল রয়েছে।।
সংস্কারমুক্ত চিন্তা,
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি স্থির দৃষ্টি,
কর্মে লেগে থাকা,
কর্মে একনিষ্ঠতা,
সম্যক কর্ম সম্যক সময়ে গ্রহণ ও সমাপ্ত,
কর্মকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করা,
আত্মবিশ্বাস রাখা।
আমরা প্রত্যেকে সংস্কারে আবদ্ধ আছি। জীবনে চলার পথে সংস্কারমুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টায় যে যতো আত্মনিবেদিত সে ততোই সফলতা অর্জনে সক্ষম। কাজেই বলা যায়, সফলতা ব্যক্তিবিশেষের অর্জন ও সন্তুষ্টির ওপর নির্ভরশীল। জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই ছোট জীবনেও মানুষ এমন কিছু করে যেতে চায়, যা দ্বারা মানুষ চিরস্মরণীয় ও চিরবরণীয় হয়ে থাকতে চায় পৃথিবীতে। তবে বড় বড় বিজ্ঞানী-দার্শনিক বলেন, সফলতার মূলে রয়েছে শ্রম। যেমন নিউটন বলেছেন, "আমার আবিষ্কারের কারণ আমার প্রতিভা নয়। বহু বছরের পরিশ্রম ও নিরবছিন্ন চিন্তার ফলেই আমি আমাকে সার্থক করেছি"। ডাক্তার বেনটলেকে বলেন, "মানব সাধারণের যদি কোনো কল্যাণ আমার দ্বারা হয়ে থাকে তবে তা আমাদের অনেক বছরের সহিষ্ণু সাধনার দ্বারা হয়েছে"। ডালটনকে সবাই প্রতিভাবান বলতো। তিনি অস্বীকার করে বলতেন, পরিশ্রম ছাড়া আমি কিছুই করিনি।
সুতরাং সফলতা বলতে আমরা পরিশ্রম, পর্যবেক্ষণ, সহিষ্ণুতা, সহমর্মীতা ইত্যাদির যোগফলও বলতে পারি।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



