somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ব্যাক্তি স্বাধীনতা, রাজনীতির অতীত এবং বর্তমান...

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্যাক্তি স্বাধীনতা, রাজনীতির অতীত এবং বর্তমান...

রাস্ট্রীয় ভাবে রাজনৈতিক দূর্বিত্বায়নের ফলে "আমি BNP কিম্বা জামায়াত সমর্থন করি" বলার মতো দুঃসাহস বর্তমান সময়ে কারোরই নাই। ঠ্যাংগারে বাহিনী জানতে পারলে ধন-মানতো যাবে-ই, হামলা মামলা হবেই- জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যায়...এমনকি দীর্ঘ দিনের বন্ধু স্বজনের সাথেও রাজনৈতিক তর্ক বিতর্কের ডামাডোলে বন্ধুচ্যুত, স্বজনচ্যুত হতে হয় হামেশাই।

BAL Vs BNP তর্ক বির্তক করার সাহস কিম্বা রুচি আমার নাই, অতএব, নিজেই নিজেকে সরিয়ে নেই। কখনো আবার ক্রমাগত ব্যক্তিগত আক্রমণ হতে থাকলে বাধ্যত তাদের থেকে সরে যাই। দুই তরফেই যেটা অবশিষ্ট থাকে তা হল আফসোস, দুঃখ! দিনের শেষে কোন রাজনৈতিক মত সঠিক, কোন মত জয়ী এগুলো অসার হয়ে যায়। বন্ধু হারানোর দুঃখ সেখানে জ্বলজ্বল করে।

অথচ বিগত সময়ে আমাদের বাবা চাচা, তাদের বন্ধু বান্ধবদের তুমুল তর্ক ঝগড়ার সাক্ষী। মুসলিমলীগ- আওয়ামী লীগ- জামায়াত, ন্যাপ, কমিউনিস্ট, জাসদ এর রাজনৈতিক সঠিক লাইন, ভ্রান্ত লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ভয়ংকর ঝগড়া!
মা-চাচীরা তটস্থ- দুই পরিবারের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায় বুঝি। অথচ তর্ক বির্তক শেষে সবিস্ময়ে দেখে, যে মানুষগুলির হুংকারে পাড়ার সবাই এতক্ষণ তটস্থ ছিলেন- এখন তাদেরই পিলে চমকানো অট্টহাসিতে আসর মাতোয়ারা! মন কষাকষি একেবারেই অপ্রতুল ছিল এমন নয় কিন্তু তাতে আজকের মতো দহন ছিল না।
আর সবকিছুর মতো তর্কের চরিত্র পালটে ফেলেছে সময়। যে রাজনৈতিক দলটির আমি, আপনি বা আমরা সমর্থক তার নিন্দা আমার, আপনার এবং আমাদের ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সম্পর্কে, তর্ক ছুটে চলেছে অনিবার্য সংঘাতের পথে।

স্বাভাবিক নিয়মে যে যার পক্ষ নেবেনই, তার ঠিক ভুল অবশ্যই থাকবে কিন্তু প্রাজ্ঞ মানুষরা বুঝবেন না যে আসলে প্রত্যেকেরই দুশ্চিন্তা সেই সর্বনাশা শক্তিটির উত্থানের কারণে, ব্যক্তিগত অসূয়া থেকে নয়? কোনো রাজনৈতিক ভুলের কারণে, হঠকারিতার জন্যে সেই শক্তি এ দেশে ক্ষমতাসীন হয়ে গিয়েছে।

এই তর্কের সারাৎসার ধাবিত হবার কথা ছিল দেশ ও জনগণের কল্যাণে, গণতান্ত্রিক অধিকার, মৌলিক মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে। অথচ ফল হয়েছে বিপরীত।

বর্তমানে "বিশ্বের ক্ষমতাধর" মানুষ হতে লাগে বিবেক বর্জিত দানবীয় পশুর মতো পেশীশক্তি। থাকতে হবে হিংস্রতা। প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে হবে বর্বরোচিত নিষ্ঠুরতায়- তা না হলে কিসের ক্ষমতাধর!

তুমুল তর্ক শেষে আমরা পরস্পরের প্রতি পুঞ্জিভূত ক্ষোভ নিয়ে ঘুমোতে যাই। সকালে উঠে ঝগড়া একপাশে রেখে পরদিন সামনা-সামনি দেখা হলে জিজ্ঞেস করতে পারি না- "বন্ধু, কী খবর বল"?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৮:৩৮
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ছিলো সোনার কণ‍্যা, মেঘ বরন কেশ!!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:১৩



শাওন প্রশ্ন করেছিলে ৭৮ বছর বয়স্ক একজন মহিলার। অন্তর্বাস উচিয়ে যখন অন্তর্জালে দাঁত মুখ খিচিয়ে উল্লসিত বহু পোস্টে ভেসে যায় ।কিংবা দেয়ালে সরাসরি দি লিখে প্রচার করছিলো তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

×