somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

আত্মপোলব্ধি......

১১ ই নভেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আত্মপোলব্ধি......

একটা বয়স পর্যন্ত অনিশ্চয়তার পর মানুষ তার জীবন সম্পর্কে মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায়। এই বয়সটা হল পঁয়ত্রিশ এর আশেপাশে। মানব জন্মের সবকিছু যে অর্থহীন এবং সস্তা সেটা বোঝার বয়স হল এই পঁয়ত্রিশ। এরপরে কেউ তার জীবনকে খুব বেশি পরিবর্তন করতে পারে না। বা বলা যায় তার জীবনের ডিরেকশন সে বুঝে যায়। সবচেয়ে মোদ্দা কথা, ব্যক্তির গুরুত্বহীনতাও সে টের পায়। ফলে এক ধরনের ম্যাচুরিটি সে পায়।
এসময় অনেক মানুষ ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বিশেষত যার পেটের ভাতের অভাব ঘুচেছে বা অন্তত পক্ষে জীবনে স্টাবিলিটি এসেছে। আগের জীবনের কৃত পাপের জন্য অনুতাপে এবং ক্ষমা প্রার্থনায় তার এক দীর্ঘমেয়াদি স্পিরিচুয়াল ভ্রমণ শুরু হয়। অন্য অনেকে হয়ে পড়ে ইনডিফারেন্ট।

অনেক মধ্যবিত্তদের কথা চিন্তা করলে দেখি, এ বয়সে এসে তারা বুঝে যায়, এই বস্তির মত শহরে একটি নিজস্ব বাড়ি/ফ্ল্যাট আর যানযটে ভরা রাস্তায় চড়ার জন্য একটি গাড়ি- এর বাইরে নিজের জীবনকে দেয়ার মত তাদের কিছু নেই। এটা একটা নির্মম জীবন।

এক্ষেত্রে আর্ট কালচারের মধ্যে থাকাটার একটা বেনিফিট আছে। জীবনের এই ফাঁদ তাকে আটকে ফেলতে পারে না। হিসাব কিতাবের বাইরে গিয়ে সে চিন্তা করতে পারে, এক্ট করতে পারে। সে নিজেকে মাঝে মাঝে কিছু উপহার দিতে পারে।

কিন্তু হতাশাজনক হলেও সত্য আর্ট কালচারে বাঙালির তেমন আগ্রহ নেই। মাস পিপলের মধ্যে এরকম কোনো অভ্যাস দেখাও যায় না। এমনকি ত্রিশ বছর পর, পড়া-লেখা বন্ধ হয়ে যায় এ দেশে। অনেকে মনে করে সে অনেক পড়ে আসলে তা না। ত্রিশ পার হওয়া অনেক পড়ুয়াকে আমি পরীক্ষা করে দেখেছি, তাদের পড়া বন্ধ হয়ে গেছে। তারা চাইলেও এখন একটা ইন্টারেস্টিং বই পড়ে ফেলতে পারছে না।

মাস লেভেলে আর্ট কালচারের এই নাজুক অবস্থার একটা কারন হতে পারে ভাষা। এদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা এতই নাজুক যে আমি দেশের সবচেয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ার পরও, আবিস্কার করেছি, ইংরাজিতে আমার দক্ষতা কম শুধু নয়, আমি আসলে খুব লো লেভেলের বাইরে ইংরাজিতে দক্ষই না। বারো বছর ইংরাজি ভাষা ছিল পাঠ্য, এর পর পাঁচ বছর মিডিয়াম অফ লার্নিং ছিল ইংরাজি, তারপরও এ দশা। তাহলে এ সতের বছর কি শিখলাম। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভীষণ গলদ আছে।
এর চেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, বাংলায় দক্ষতা এর চেয়েও কম। এ লেখায়ও প্রচুর ভুল বের করা যাবে। বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষ লেখা দূরে থাক, একটা কিছু বর্ণনা করতেও পারে না। বলতে পারে না। কাজের বাইরে মজার কিছু ঘটলে সেটা বোঝাতে হিমিশিম খায়। আর কাজের বাইর আধা পেজ লিখতে পারবে এমন লোক কমই পাওয়া যাবে।

যে মানুষ ভাষায় সমৃদ্ধ না সে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পেছানো । বর্তমান সময়ে আমাদের ক্রাইসিসের একটা অন্যতম কারণ হতে পারে আমাদের ভাষার সীমাবদ্ধতা। যার শব্দভান্ডার উন্নত নয়, ইমাজিনেশন বলতে কিছু নেই, যে জীবনযাপনের বাইরে, শব্দ সাজিয়ে দু'মিনিট নতুন কিছু বলতেও পারে না, তার ক্রাইসিসটা সমাজে এখন কিউমিলিটিভ আকারে হাজির হয়েছে।
আমাদের কলেজের এক স্যার বলেছিলেন, এদেশে যদি সবাই পঞ্চাশ পাতা করে সৃজনশীল লেখা লিখতে পারত, তবে সব ধরনের হানাহানি বন্ধ হয়ে যেত। তিনি কী ভেবে বলেছিলেন জানি না, তবে কথাটা ফেলনা নয়।

বড় ব্যাপার হল, গড়পড়তা এদেশে শিক্ষাজীবন বাইশ থেকে পঁচিশ বছরের। এর মধ্যেও আমরা কেন অন্তত একটা ভাষা ঠিকমত রপ্ত করতে পারি না? এমনকি মাতৃভাষা বাংলাও না!

আর্ট-কালচার সমাজে জাগরুক আত্মা হিসাবে জারি থাকে। ভাষা আর্ট কালচারের জননী। যে সমাজ আর্ট-কালচার প্রসিদ্ধ নয়, সে সমাজ হয় মৃত, না হয় স্থবীর। চারপাশে তাকালে তার কিছু আভাস পাই।
অতএব, আপনার শিশুকে ভাষা শিক্ষা দিন, আর্ট-কালচারের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:২৫
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”
==========================================
চুক্তি মানেই তো স্বার্থের ভারসাম্য। কিন্তু সেই ভারসাম্য যখন দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে, তখন সেটি আর চুক্তি থাকে না প্রশ্নবিদ্ধ সমঝোতায় পরিণত হয়। ইউনূসের শেষ সময়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইব্রাহীমের (আ.) কুরাইশ আহলে বাইতের মধ্যে হযরত আলীর (রা.) মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের সময় সবচেয়ে কম

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৯



সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×