somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাব্যপ্রেমী রিফাত
মায়াবতী বেঁচে থাকবে আমার গল্পে, গল্পেই তার জন্ম, গল্পেই তার অস্তিত্ব আর আমার অস্তিত্ব মায়াবতীর কল্পনায়...... অসাধারন কল্পনা থেকে বাস্তবতায় সাধারন বেশে হেঁটে হেঁটে পৃথিবীর ধূলিকণা খাই...

আজ অনন্যার বিয়ে

২১ শে মার্চ, ২০১৪ সকাল ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ অনন্যার বিয়ে ,
কথাটা মায়ের মুখে শুনে কষ্ট পেয়ে জাহিদুল পার্কে এসেছে । ফোন ধরছে না কারো । মা ফোন দিয়েছে । এমনকি অনন্যা ও অনন্যার বাবাও । তাদের সম্পর্কের কথা জানতো । উপহাসের পাত্র হতে রাজি নয় ।

অনেক ভাবনা চিন্তার পর পকেট থেকে ফোন নিয়ে কাব্যকে ফোন দেয় । বলেঃ
আসতে পারবি ?
কাব্য কিছু হ্যাঁ বা না সূচক কিছু না বলে ফোন রেখে দেয় ।

খানিকবাদে বাইক নিয়ে চলে আসে ।এসেই চুপ করে ফেসবুকে কারো সাথে টাংকি মারতে থাকে।

ফেসবুকিং ছাড়া আর কিছু পারে না । ইতিমধ্য আওশা ও আরো কয়েকজন এসে গেছে ।

জাহিদুল বলতে শুরু করেঃ
কাল অনন্যার বিয়ে । আম্মু বললো ।

কয়েকজন হেসে ফেললো ।
কাব্যঃ বিয়ের কার্ড দেখছিস ?
জাহিদুলঃ I'm serious.
কাব্যঃ আমরা লাগে ফাজলামো করতাছি । শালা ন্যাকামী করবি না । :@

জাহিদুলের রাগ ওঠে আওশার মাত্র ধরানো সিগারেট টেনে নেয় হাতে ।

আওশা কাব্য ও সবাইকে চোখের ইশারা করে বলেঃ
তাই নাকি JP?

জাহিদুল কথা বলে না ।

সবাই মিলে একসাথে বললোঃ চল আগে খাওয়া ।সব গিয়ে তোর সাথে ওর ইয়ে ঠিক করে দিবো ।
জাহিদুলঃ ইয়ে মানে ?
কাব্যঃ বিয়ে ।

এ পর্যায়ে তারেক এসে পড়েছে।
ছেলেটা আগে ভদ্র ছিল ।
এখন পুরাই গান্জাখোর টাইপ ।
সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়া কিছু বোঝে না ।

অতঃপর ?

খাওয়া দাওয়া করে ট্রেনে চেপে রওনা হলো বগুড়া । বাসে গেলে ৫ ঘন্টা অথচ ট্রেনে ১১ ঘন্টা লাগবে জেনেও ওদের বাঁধা দেয়নি । ওর ফোন কেড়ে নিয়েছে । আড়ালে গিয়ে কথা বলেছে এর ওর সাথে । অথচ জাহিদুলকে কেউ দেখছে । প্লান ও করছে না ।
জাহিদুল খুব অবাক হলো ।

এরা এত স্বার্থপর ?

গান গাইছে , ফান করছে । চিত্‍কার করছে।কাব্য কুত্তাটা গিয়ে এক মেয়ের সাথে ফ্লার্ট করছে।
আর
আওশা ফোনালাপে ব্যস্ত । অফিসের মিটিং সংক্রান্ত ঝামেলা।

তারেক গাইছে অর্থহীনের বিখ্যাত একটা গানঃ
চাইতেই পারো !

অসাধারণ লাগছে ওর কন্ঠে ।
অনন্যার চেহারা ভেসে উঠছে মনের আঙিনায়।

ক্ষুধা পেয়েছে জাহিদুলের।কাব্য আর আওশা একটা প্যাকেট কিনেছিলো বসিয়ে রেখে।খুলে দেখলেই পারে।

হাত দিতে যাচ্ছে দেখেই কাব্য তেড়ে আসে।
ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে বলেঃ
শালা মুড়ি খা ।

জাহিদুল এ পর্যায়ে রেগে যায় ।

ট্রেন একটা স্টেশনে থামতেই নেমে যায় ।
ব্যাগ হাতে কাব্য আসে ।সবাই নেমে পড়ে পিছু পিছু । একটু দূরে গিয়ে চায়ের দোকানে বসে । সিগারেট খেতেই জাহিদুল ঠান্ডা হয় ।
বলেঃ চল ।

খানিকবাদে এসে দেখে ট্রেন চলে গেছে । এবার মেজাজ বিগড়ে কাব্য একটা লাথি হাঁকায় জাহিদুলের পিছে।

অতঃপর ?

একটা সিএনজি ধরে সবাই আসতে থাকে বগুড়া ।

ঘুম ভাঙতেই জাহিদুল একটা ঘরে আবিষ্কার করে নিজেকে ।
ঘুমিয়ে পড়েছিলো সিএনজিতে ।

অচেনা একটা বাড়ি। দরজা খুলে বাইরে গিয়ে দেখে বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতি চলছে ।
তারেক গান গেয়ে মাতিয়ে রেখেছে মেয়েদের ।
কাব্য তদারকি করছে কিসবের।

আওশাকে দেখা গেলো মেয়েদের হাত দেখছে পামিস্ট হয়ে ।

হঠ্যাত্‍ গেটে লেখা দেখেঃ
আজ অনন্যার বিয়ে।

এসেই কাব্যকে একটা থাপ্পর দেয়।হঠ্যাত্‍ এমন এক কান্ডে পুরো বাড়ির উত্‍সব আমেজ কেটে যায় ।

ওদের ঘিরে দাঁড়িয়ে পড়ে লোকজন ।
কারো কারো মুখে মিটিমিটি হাসি ।

চিত্‍কার করে কাব্যকে শাসায় জাহিদুলঃ শালা ! আজ অনন্যার বিয়ে আর তুই নাচিস?কাল থেইক্কা এইসব করতাছোস।

এ পর্যায়ে কাব্য উল্টা একটা চড় দিয়ে একটা কার্ড ধরায় দেয় জাহিদুলের হাতে।

বলেঃ শালা টিউবলাইট এই নে বিয়ার কার্ড ।

দিয়ে হাসতে হাসতে চলে যেতে যেতে সবাইকে যার যার কাজে যেতে বলে ।

জাহিদুল কাব্যের কলার ধরতে যাচ্ছে ঠিক সে সময় একটা হাত তার কাঁধ ছুঁয়ে দেয়ঃ
থামো !

কন্ঠটা অনন্যার ।
মেয়েটা হেসে বলেঃ
আগে কার্ডটা তো খুলে দেখো ।

কার্ড খুলতেই জাহিদুল হা হয়ে যায়।
কার্ডটিতে লেখা ছিলঃ
আজ অনন্যা ও জাহিদুলের বিয়ে ।

গাধার মত দাঁড়িযে আছিস ক্যান বলে আওশা রাতের প্যাকেট ধরিয়ে দেয় জাহিদুলের হাতে ।

প্যাকেটে নতুন শেরওয়ানী ।

পরিশিষ্টঃ গল্পটি অবাস্তব ও কাল্পনিক । সুতরাং অযথা জ্ঞান দিবেন না । এটা কলেজের বেস্ট ফেন্ডদের নিয়ে লেখা একটা গল্প । গতকাল বিদায় উপলক্ষে একটি বিশেষ কাল্পনিক গল্প ।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×