প্রতিবছর চৈত্র মাসের ১২ তারিখ ঘাটাইল উপজেলার গুপ্তবৃন্দাবন গ্রামে জমায়েত হন হাজার হাজার বৈঞ্চব। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পাহাড়ের ভেতরের এই নির্জন গ্রাম। সেই সঙ্গে বারুনি মেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে বসে জমজমাট আসর। এতো ভক্ত ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে মূলত একটি তমাল গাছকে কেন্দ্র করে। অজ্ঞাত বয়সী এই তমাল গাছটিই হলো গুপ্তবৃন্দাবনের প্রাণ। এ গ্রাম ও আশপাশে প্রচলিত নানা উপকথার মূলেও এই গাছ।
তমাল গাছটির সঠিক বয়স সম্পর্কে নানা তথ্য পাওয়া যায়। এ গাছের উত্তর পাশে অবস্থিত রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পুরোহিত অসিদ বৈরাগী বলেন, তমাল গাছটির বয়স কমপক্ষে সাতশ বছর। তার মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে পার্শ্ববর্তী লক্ষিন্দর গ্রামের অশীতিপর বৃদ্ধ শামসুল হক বলেন, গাছটি প্রায় তিনশ বছর বয়সী। এ তথ্য তিনি তার পিতামহের কাছ থেকে জেনেছেন বলে জানান। আজ থেকে ৮০/৯০ বছর আগে এ এলাকায় অসংখ্য তমাল গাছ ছিল বলে জানা যায়। সাগরদীদি গ্রামের বাসিন্দা ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু ইমান আলী রেজা তার পূূর্ব পুরুষদের উদ্ধৃত করে বলেন, এ গাছটির বয়স ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর। গাছের বয়স নিয়ে শামসুল হক ও ইমান আলী রেজার অনুমান এ এলাকার অধিকাংশ বয়ষ্ক মানুষই সমর্থন করেন।
ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিমি পূর্বে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সীমানা বরাবর গুপ্তবৃন্দাবন গ্রাম অবস্থিত। এ গ্রামের দক্ষিণপ্রান্তে ঘাটাইল-ভালুকা সড়কের উত্তর পাশে ছাতার মতো ডালপালা মেলে দাঁড়িয়ে আছে এই গাছ। জনশ্র“তি আছে , শ্রীকৃষ্ণ রাধাকে নিয়ে এই তমাল গাছের ডালে অভিসারে মিলিত হতেন। এ গাছের দুটি ডাল পরস্পর মিলিত হয়ে এক অপূর্ব মিতালির সৃষ্টি করেছে। এ যেন জীবাতœার সঙ্গে পরমাতœার মহামিলন। কথিত আছে, গাছটি এক সময় মৃত ছিল। ঘন কালো রঙের এ গাছটি আবার বেঁচে ওঠেছে। গাছের কালো রঙ শ্রীকৃষ্ণের গায়ের রঙের প্রতিরূপ বলে এলাকবাসীর বিশ্বাস। সবকিছু মিলিয়ে এই তমাল গাছটি বৈষ্ণব ভক্তসহ সবার কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার। সারা দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা আসেন গাছের কাছে. কেউ দেখতে কেউবা মানত করতে। গাছের কাছে থাকার মতো কোন ব্যবস্থা নেই। সাগরদীঘিতে এলজিইডির একটি রেস্ট হাউজ আছে। অগ্রীম বুকিং দিলে কক্ষ পাওয়া যাবে। ঐতিহাসিক সাগরদীঘির পারে মনোরম এই রেস্ট হাউজটি আপনার মনকে অনাবিল প্রসন্নতায় ভরিয়ে দিবে। আপনি উপভোগ করবেন নির্জন পাহাড়ের বুকে প্রকৃতির নিবির সান্নিধ্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


