ভূমিকম্পে কয়েকটি দেশের ব্যাপক ধ্বংসযষ্ণ হয়েছে। হতাহতের সংখ্যাও কম নয়। ইরানে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার ভূমিকম্প আঘাত হানে। অপর দিকে চীনে ভূমিকম্পে কয়েকশ’ লোক নিহত হয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে এখন ধরিত্রী। বাংলাদেশও ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু সে তুলনায় প্রস্তুতি তেমন চোখে পড়ার মতো নয়। উন্নত রাষ্ট্রগুলো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে পারছে না। সেখানে বাংলাদেশে যদি বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি যে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ঘন ঘন ছোট বা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বলে মনে করে থাকেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এদেশে যার ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে অচিন্তনীয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশে বড় মাত্রার একটি ভূমিকম্পের আশঙ্কা করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রতিরোধ করার কোনো উপায় আজো আবিষ্কৃত হয়নি কোনো দেশে। তবে ভূমিকম্প মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমান কমিয়ে আনা সম্ভব। দুর্ভাগ্যজনক, এ ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য শহরের অধিকাংশ দালানকোঠাই বড় মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় করে নির্মিত নয়। এ বিষয়ে যে আইন রয়েছে, তার প্রয়োগ খুবই দুর্বল। এ ক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের নজরদারি দু’য়েরই রয়েছে অভাব। আরো উদ্বেগের বিষয়, ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান চালানোর মতো যথেষ্ট সরঞ্জামও আমাদের হাতে নেই। বর্তমান সরকার এ ধরনের সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগ নিলেও এর অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়।
ইদানীং অবশ্য সীমিত আকারে হলেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার অভিযানের মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে। ভূমিকম্প সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে এটা একটি ভালো উদ্যোগ সন্দেহ নেই। তবে বিশেষ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এ ধরনের মহড়া নিয়মিত ও দেশব্যাপী হওয়া উচিত। মানুষকে ভূমিকম্পের মুহূর্তে করণীয় সম্পর্কেও শিক্ষা দিতে হবে। এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমও পালন করতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বড় ধরনের ভূমিকম্প যে ধ্বংসলীলায় পরিণত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কোনো ঘটনার পর তাদের হম্বিতম্বি করতে দেখা গেলেও তার পর আর তা বাস্তবায়ন করতে তাদের তৎপর হতে দেখা যায় না। এহেন পরিস্থিতি থেকে আমাদের দেশের কর্তাব্যক্তিদের কী টনক নড়বে না? দেশে এমনিতেই বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে টর্নেডো, সাইক্লোন, হ্যারিকেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্লাবনে ক্ষতির মাশুল গুনতে হচ্ছে আমাদের মানুষগুলোকে। ভূমিকম্পের প্রভাবে বড় ধরনের কোনো ঘটনার সম্মুখীন হলে তাতে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মতো কোনো সাধ্য থাকবে না। প্রকৃতির রোষের কবল থেকে রক্ষা পেতে কোনো প্রযুক্তি এখন পর্যন্ত বের করা সম্ভব হয়নি। তবে তার আগাম সতর্ক বার্তা পাওয়া সম্ভব। দেশের মানুষ বড় বড় ঘূর্ণিপাক ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা থাকলে ভূমিকম্পের মোকাবিলা তাদের এখন পর্যন্ত করতে হয়নি। মান্ধাতা আমলের যন্ত্রপাতি দিয়েই চলছে এখন ভূ-কম্পনের মাত্রা নির্ধারণের কাজ। ভূমিকম্প মোকাবিলায় সরকারের জনসচেতনতার কোনো পরিকল্পনা না করার কারণে বড় ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হলে তা কীভাবে মোকাবিলা করে নিজেদের রক্ষা করতে হবে তা এখনো দেশের মানুষ পায়নি। জাপানেও ঘটেছিল এ শতাব্দীর ভয়াবহ বিপর্যয়। তাতে ক্ষতির পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। তাই ভূমিকম্পের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার মতো প্রস্তুতির বড় প্রয়োজন। সে জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সরকার অগ্রণী ভূমিকা নেবে বলেই আমরা আশা করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


