গোলাম মাওলা রনি প্রথমে বলেছিলেন তিনি সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলেননি। কিন্তু পরে তিনি ঠিকই আসল সত্য স্বীকার করেছেন।
এক বিবৃতিতে রনি জানান, ‘পরিস্থিতির শিকার’ হয়ে তিনি সাংবাদিকদের একটু মারধর করেছিলেন।
যা-ই হোক, এখন এই তরুণ সাংসদের কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে সবাই যদি আসল সত্য স্বীকার করে বিবৃতি দেওয়া শুরু করেন, তাহলে কী হবে? ভেবেছেন আলিম আল রাজি
ফাঁকিবাজ ছাত্র
স্যার, আপনি ঠিকই ধরেছিলেন। আমি নকল করছিলাম। তবে আপনি দেখে ফেলেছেন দেখে সঙ্গে সঙ্গে লুকিয়ে ফেলেছিলাম। তাই আপনি আর ধরতে পারেননি।
কী করব স্যার! সারা বছর টাংকি মেরেছি। ফাঁকি দিয়েছি। পড়াশোনা করিনি। তাই পরিস্থিতির শিকার হয়ে নকল করতে হয়েছে।
রাজাকার
হেহ্, বাংলাদেশ আবার কী? আমাদের হূদয়ে শুধু পাকিস্তান আর পাকিস্তান। কিন্তু পাবলিকের ধোলাইয়ের ভয়ে কথাটা সবার সামনে বলতে পারি না। ৪২ বছর আগে যা একটা ধোলাই খেয়েছিলাম! এখন আবার খাচ্ছি। তাই চুপচাপ থাকাই ভালো। এখন পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমরা বঙ্গপ্রেমিকের বেশ ধরে আছি। তবে সামনে চান্স পেলে বোঝাব রাজাকার কী জিনিস! পাকিস্তান জিন্দাবাদ।
একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
জি না, ওইটা মোটেও ‘ক্রসফায়ার’ ছিল না। আমরা মুরগি মানিককে ধরে তাকে নিয়ে আস্তানায় যাচ্ছিলাম না। পথিমধ্যে তার সাঙ্গপাঙ্গরা আমাদের ওপর হামলা করেনি। উভয় পক্ষের গোলাগুলির মাঝখানে মানিক দৌড় দিয়া পালানোর সময় গুলি খায়নি। তার পকেটে পাঁচটি গুলিও পাওয়া যায়নি।
আসলে মানিক আমাদের সঙ্গে একটু বেয়াদবি করেছিল। তাই পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমরা গুলি করে আপাতত তাকে মেরে ফেলেছি।
প্রেমিক
না লক্ষ্মীটি, তোমার সঙ্গে আমি মিথ্যা বলেছি। আমি আসলে ক্যাম্পাসে ছিলাম না। পাশের ফ্ল্যাটে আসা নতুন মেয়েটার সঙ্গে ডিনার করতে গিয়েছিলাম। বেশ কয়েক দিন হলো এসেছে মেয়েটা। আমার থেকে এক সেমিস্টার জুনিয়র। পড়াশোনাসংক্রান্ত কিছু কাজে আমার কাছে রেগুলার আসত। কথা বলত। সাহায্য চাইত। এভাবে পরিচয়। পরিচয় থেকে অনেক কিছু।আজ সন্ধ্যায় আমাকে সে হঠাৎ ডিনারে যাওয়ার অফার করে বসল। আমিও পরিস্থিতির শিকার হয়ে তার সঙ্গে চলে গেলাম। কী করব বলো! আফটার অল একটা সুন্দরী মেয়ে...
দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী
জি, চুরিটা আমিই করেছি। উন্নয়নের কথা বলে সরকারের কাছ থেকে এনেছিলাম ৮০ লাখ টাকা। ৮০ লাখ টাকা এনে ভাবলাম, দূর! এত টাকা দিয়ে কী হবে? বেশি উন্নয়ন করে কী লাভ? একসঙ্গে এত টাকার উন্নয়ন করার কোনো মানে হয় না। তাই আমি আর আমার এপিএস মিলে একটা ফন্দি করলাম। ১০ লাখ টাকা রেখে আমরা নিয়ে নিলাম বাকি ৭০ লাখ টাকা। তারপর পরিস্থিতির শিকার হয়ে গভীর রাতে ড্রাইভারকে দিয়ে টাকা বাসায় পাঠিয়ে দিলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


