somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার মোটোরোলা ডবি্লউ 220 ( পর্ব 2 : শেষ পযনর্ত্দ... )

৩০ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কর্ম েখত্রের প্রয়োজনেই আমার মোবাইলে নানাজনের ফোন আসে। অনেক লোকের সাথেই কথা-বার্তা বলতে হয়। রাতের বেলা মোবাইল বন্ধ রাখাটা অনেক দিন যাবৎ একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে আসছে। অবশ্য দরকার কিংবা আগে থেকে জানা থাকলে বন্ধ রাখিনা। যেমন রাখিনি গত 24শে মার্চ রাতে। সেদিন রাতেই একটা কল রিসিভ করলাম জনৈক সাজ্জাদ ওয়াসি নামক এক ব্যক্তির। একটা টেলিটক নাম্বার ছিল - 0152404861। বেশ স্মার্ট, চটপটে ভঙ্গিতেই কথা-বার্তা বললেন। জানালেন তার বাপি (বাবা) আমাদের একটা প্রজেক্ট দেখেছেন এবং এখন অফিসিয়ালি কথা বলতে চান। একটু ব্যসততার কারণে তারা বেশী দেরী করতেও চাননা। সুতরাং আমি তাকে পরেরদিন অফিসে আসতে বললাম।

অবধারিতভাবেই সকালবেলা উক্ত ব্যক্তির ফোন পেলাম যে তিনি আসছেন এবং আমি তাকে অফিসের ঠিকানাটা ভালভাবে বুঝিয়ে দিলাম। আমাকে জানানো হলো যে তার সাথে ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমান নামক একজন থাকবেন। এটা তেমন বিচিত্র ব্যাপার নয় তাই আমি অবাক হলাম না এবং সম্মতি জানালাম।

কিছুন এর মধ্যেই সাজ্জাদ ওয়াসি একা হাজির হলেন অফিসে। আমার সহকমর্ী তখন একটি জরুরী কাজে বাইরে অবস্থান করছে। তাই কথা যা বলার তা আমাকেই বলতে হলো। শুনলাম তার বাপি নামাজে আছেন এবং কিছুন এর মধ্যেই আসবেন।

আলোচনা বেশ দ্রুততার সাথেই এগিয়ে যাচ্ছিল। এর মাঝে অবশ্য একবার লোকটিকে একা রেখে একটু কফির কথা বলতে ডেস্ক ছেড়ে উঠেছিলাম। সেই সাথে আমাদের এম.ডি. স্যারকেও আলোচনার অগ্রগতিটা একটু রিপোর্ট করে আসলাম।

ফিরে এসে দেখি লোকটা নেই। অফিসের অন্য এক সহকর্মী জানালেন লোকটা রিসিপশন এর দিকে গেছে। আমিও সেদিকে যেয়ে তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। আমাকে জানানো হলো একজন লোকের জন্য অপো করা হচ্ছে এবং তাকে নিয়েই ভেতরে আসবে লোকটি। হলোও তাই। আমি ডেসকে ফিরে আসার একটু পরেই সেই লোক আরও দুজনকে নিয়ে আসলো। একজনের কাছে বিশাল দুইটা ব্যাগ।

যাই হোক আমরা আমাদের আলোচনায় ফিরে আসি। টাকা-পয়সার হিসেব-নিকেশটাও একটু ঝালিয়ে নিলাম। ভাবটা ছিল কেউ কাউকে ছাড় দেবনা কিনতু ঠিকই সেটা দেয়া হলো। লোকটি 50% অগ্রিম দিতে চাইলে আমি একটু অপারগতা প্রকাশ করি এবং শেষ পর্যনত আমার চাহিদানুযায়ী না হলেও অনুপাতটা অনেকটাই বাড়লো। আমাকে বলা হলো একটা ড্রাফট পেমেন্ট শিডিউল করে দিতে এবং একিই সাথে এগ্রিমেন্টের ড্রাফটও চাওয়া হলো। মাঝে একবার অপর দুজন ব্যক্তির একজন - ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমান বাইরে গিয়েছিলেন নামাজ পড়ার জন্য । এদিকে আমাদের এম.ডি. স্যার ফোন করে আমাকে বল্লেন লোকগুলোকে তার কাছে নিয়ে যেতে। আমি জানালাম লোকটির বাপি নামাজ থেকে ফিরে আসলেই সবাইকে নিয়ে যাব ।

যাইহোক, আমি মনোযোগী হলাম ড্রাফট এর দিকে। দেরী দেখে এডিট করার ফাঁকে একবার জানতে চাইলাম তার বাপির কতখন লাগবে। লোকটি বলল, চলেই আসবে এবং তার বোনও সাথে আসবে। আমি পেমেন্ট শিডিউল এর হিসাব দেখায় মনোযোগী আবার। এরমধ্যেই লোকটা আমাকে বলল, "ম্যাডাম, প্লিজ, একটু মোবাইটা দেবেন, বাবাকে একটা ফোন দেব " । কমপিউটার টেবিলে মালয়শিয়া থেকে আনানো কালো, ভেলভেটের ছোট ব্যাগের উপর রাখা মোবাইলটি আমি কোন প্রশ্ন না করে বাড়িয়ে দিলাম। লোকটা আমার সামনেই একবার "হ্যালো , বাবা..." বলে গলার স্বর একটু নীচু করে কথা বলতে বলতে আমার রুম থেকে বার হলো।

ওদিকে আমি ড্রাফটগুলোর প্রিন্ট নিতে নিতে রুমে বিরাজমান নিঃসতদ্ধতাকে হালকা করার জন্য অপর দুজনের সাথে কথা বলতে শুরু করলাম। একটা-দুটো কথাতেই আমি একটু চমকে গিয়ে প্রায় ছুটেই বাইরের দিকে চলে আসলাম । আমার মোবাইল নাম্বার এবং সেই লোকের নাম্বার দুটোতেই ফোন করলাম; দুটোই বন্ধ । বুঝলাম দেরী যা হওয়ার তা আসলে হয়েই গেছে! শেষ পযনর্ত চোখের সামনে দিয়েই অনেক নাটকীয়ভাবেই চুরি হলো আমার মোবাইলটি...।

(শেষ পর্ব আসছে খুব শীঘ্রই...)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×