আসেন, ভারতীয় রেল ট্রানজিট নিয়ে ফেসবুকে একটু আলোচনা করি।
আমি আমার মত দিচ্ছি, আপনারা আপনাদের মত কমেন্টে লিখুন।
আপনারা যারা আমাকে চিনেন, ভাল করেই জানেন যৌক্তিক কথাবার্তা আমার পছন্দ। বেহুদা আবেগী আলাপ না। তথ্য প্রমান যুক্তি দিয়ে আলোচনা হলে অনেকেই অনেক কিছু শিখবেন, এবং আমি শিখবো সবচেয়ে বেশি।
প্রথমেই বলে নেই, দেশে অর্ধযুগের বেশি সময় ধরে নেই। এর মাঝে দেশের অবস্থা কি হয়েছে, কতটা পাল্টেছে, কিছুই ধারণা নাই। পত্রিকায় বেনজির থেকে শুরু করে ছাগলকাণ্ডের কাহিনীগুলি দেখছি। এসব ঘটনা দুর্নীতি কোন পর্যায়ে চলে সেটা কেবল ধারণা দিচ্ছে।
এই তথ্য ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে ভারতীয় ট্রানজিট বিষয়টা আলোচনা করা যাক।
তো একটা বাস্তব জীবনের উদাহরণ দেই, তারপরে কথা আগাই।
চিটাগংয়ে আমার এক নানার ছোট খালি জমি ছিল। জমির ওপাশে কিছু একটা বড় প্রকল্পের কাজ চলছিল। মূল রাস্তা দিয়ে সেই জায়গায় যেতে বেশ অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হতো। সময় ও অর্থের অপচয়। তাই প্রোজেক্টের লোকজন নানাকে বলেন "আমরা আপনার জমির উপর দিয়ে ট্রাক নিয়ে যাই? আমাদের অনেক উপকার হবে।"
নানা রাজি হয়ে যান। বিনিময়ে এক পয়সাও নেন না।
সেই জমির উপর দিয়ে দিনে কমসে কম হাজার ট্রাকতো যেতই। প্রতিটা ট্রাকে একশো টাকা করে ধরলেও তাঁর পকেটে জমা হতো দৈনিক এক লাখ টাকা। উনি লাল হয়ে যেতেন। নিজের উদারতার কারনে হতে পারলেন না। উল্টো অতিরিক্ত ট্রাক যাতায়াতে তাঁর জমির বারোটা বেজে গেল। ভূমি ক্ষয়ে গেল, পরে মাটি ভরাট করতে হয়েছে।
তো একই কনটেক্সট যদি আমি এখানে এপ্লাই করি, তাহলে ভারত আমাদের দেশের মধ্য দিয়ে নিজের দেশের অপর প্রান্তে যেতে চায়। এতে দৈনিক ওদের কোটি টাকা প্রফিট হবে। আমরা যদি সেই প্রফিটে ভাগ বসাই (শুল্ক/ট্যাক্স/টোল ইত্যাদি) - তাহলে আমাদের ইকোনমি ভাল হবে। আর যদি বিনা পয়সায় দিয়ে দেই, তাহলে ক্ষতি ছাড়া কিছুই হবে না। এইটা সাধারণ সিনারিও।
এখন আমাদের দেশের শীর্ষ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের কথা মাথায় রাখলে, ওরা লালে লাল হয়ে খুশিতে মরেই যাবে। এখন দুর্নীতির টাকায় দুইটা বিয়ে করছে, তখন পঞ্চাশটা করবে। ওদের অগণিত পোলাপান সেই টাকায় পনেরো লাখ টাকার ছাগলই না, কোটি টাকায় ভেড়া কিনবে। সাদিক এগ্রো বলবে সেই ভেড়া হচ্ছে ইব্রাহিম (আঃ) নবীর জবাই করা দুম্বার বংশধর। গুগল করলেই তথ্যটা পেয়ে যাবেন। এর বংশ মর্যাদাই আলাদা!
কেউ বলবেন, ইউরোপ রেলওয়ে দ্বারাই ইন্টারকানেক্টেড। রাজ-সিমরানের মতন আপনি ট্রেনে চেপেই অমুক তমুক নানান দেশ ঘুরে বেড়াতে পারবেন, গাইতে পারবেন "না জানে মেরে, দিল কো কেয়া হো গায়া!"
কিন্তু ইউরোপের বর্ডারে আমাদের মতন কাঁটাতার থাকে না। গুলি করে পাখির মতন মানুষ মারেনা। মেরে মৃত লাশকে তারের বেড়ায় শুঁটকি হওয়ার জন্য ঝুলিয়ে রাখেনা। বর্ডারের এপারে ওপারে বোমা বিনিময় হয়না। তাই ইউরোপ আর দক্ষিণ এশিয়াকে মেলানো যৌক্তিক হবে না। আমাদেরকে আমাদের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। "শুধু আওয়ামীলীগ করছে বলে" একদল লোককে পদ্মাসেতুর বিরোধিতা করতে দেখেছিলাম। এই এরাই যমুনা সেতুর সময়ে গলা উঁচু করে গর্বের সাথে বলেছিল ওটা বিএনপির অবদান। তো এইরকম পল্টিবাজি/দলকানা দৃষ্টিকোণ থেকেও কোন যুক্তি তর্ক শুনতে চাইছি না। একজন বাংলাদেশী হিসেবে, দেশের সাধারণ মানুষ হিসেবে আপনার এ ব্যাপারে মতামতটা কি?
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৪ রাত ১:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




