গতকাল ভারতের হিন্দি সংস্কার টিভিতে হিন্দুধর্মের এক পন্ডিতের ধর্মকথা শুনলাম । ব্যক্তিটি খুবই জ্ঞানী । লক্ষ লোকের আসর । তিনি একটি ভজন গেয়ে শুরু করলেন কথা । তার কোন ধর্মের সংর্কীর্ণতা নেই , কথা যখন বলছেন তখন সকল ধর্মের কথা তুলেধরে বলছেন । তার কাছে অধর্ম মানে কোন বিশেষ ধর্ম বুঝায় বলে মনে হলনা , তিনি বুঝালেন অধর্ম মানে যে ধর্মেরই হোক সে মিথ্যাবাদী লোভী কামৃক ক্রোধী ...ইত্যাদি । যাহোক তার কিছু কথা তুলে ধরছি ...
"...ধর্ম লোভ দেখাবে কেন ? ধর্ম ভয় দেখাবে কেন ? .. স্বর্গের লোভে পূণ্য করানো, দোযখের ভয়ে পাপ করানো ধর্মের কাজ না । ধর্মের কাজ হল ঈশ্বরের ভক্তিতে একাকার হয়ে যাওয়া । ... লোভই যদি শেখাও তবে ধার্মিক হবে কি করে ? লোভ ত্যাগ করে চলতে হবে ... ভয় দেখিয়ে নেকি করানোয় কোন মহত্বতা নেই ! ..
মানুষ পাপ করবেনা এটা হতে হবে তার বৈশিষ্ঠ , মানুষ নেকি করবে এটা হবে তার আদর্শ । তার আদর্শের গুণেই সে ভালকাজ করতে থাকবে , সে কোন ভয়থেকে ভালকাজ আর মন্দথেকে দূরে থাকবেনা । পাপ না করা , অন্যের ক্ষতি নাকরা এগুলো যদি তার চারিত্রীক বৈশিষ্ট হয় তবেই তিনি আসল ধর্মীক । .... হিন্দুধর্মে বলে ভালকাজ যখন করেথাক আর এতে আনন্দে থাকো , তখন তোমার স্বর্গের সুখ লাভ হয় , আর যখন মন্দকাজ কর মনের মধ্যে যে বেদনা লাভ হয় সেটাই নরকের আজাব । মানুষের স্বর্গসুখ আর নরকের দু:খ ত এই জগতেও আছে । ... একদিন এক রাজার সামনে হারিশচন্দ্র গেলেন , রাজা তাকে বললেন বলুন স্বর্গ কি আর নরক কি ? .. পন্ডিত হরিশ তাকে বললেন 'আপনাকে রাজা কে বানিয়েছে ? আপনার এটুকু জ্ঞান নেই !' শুনেই রাজা তলোয়ার বের করে মারতে চাইলেই .. সাথে সাথে পন্ডিত জানালেন এইত আপনি নরকে বাস করছেন কারণ আপনি পাপ করছেন আর মনোকষ্টে আছেন ... শুনে রাজা শান্ত হল এবং তলোয়ার খাপে রেখে বললেন তাহলে আপনি মন থেকে বলেননি , পন্ডিত বললেন এইত আপনি স্বর্গে আসলেন , আপনার মন শান্ত । ............মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ঠই হবে আমি ঘৃণা করবনা .. পাপ করবনা .. ক্ষতি করবনা ।
যেমন মুসলিম ধর্মের নারী তপস্যী রাবেয়া বসরী প্রতিদিন বলতেন তোমরা আল্লাহকে ভালবাসো , আল্লাহকে ভালবাসো ...
এক পুরুষ আওলিয়া এসে জিঙ্গেস করলেন 'হে রাবেয়া , তুমি প্রতিদিন বল আল্লাহকে ভালবাস আল্লাহকে ভালবাস । তবে কেন বলনা তোমরা শয়তানকে ঘৃণা কর ?' ... রাবেয়া বললেন ' আমি আল্লাহকে এতটাই ভালবাসি যে শয়তাকে ঘৃণা করার সময়ই পাইনা !!" .......... ঘৃণা থেকে কোন লাভ বা প্রাপ্তি হয়না , ঘৃণা থেকে শুধু নিজেরই ক্ষতি হয় , নরকের দরজা খুলে যায় । ... একদিন ইসলাম ধর্মের হযরত আলী যুদ্ধ করছেন , শত শত মানুষকে হত্যা করছেন তলোয়ার দিয়ে , যুদ্ধে এক কাফের নেতা আলীর সাথে মুখোমুখী যুদ্ধকরতে করতে এই কাফেরের তলোয়ার পড়েগেল । আলী তার তলোয়ার দিয়ে কাফেরকে মারতেগেল ... তলোয়ার যখন উচিয়ে মারতে যাচ্ছে তখন ঐ কাফের কিছু উপায় না পেয়ে আলীর মুখে থুথু নিক্ষেপ করল । আলী সাথে সাথে ক্রোধে লাল হয়েগেল গেল .. তার তলোয়ার খাপের মধ্যে রেখে আলী তাকে বলল 'আজ যা তোকে মারব না , কাল তোর সাথে আবার যুদ্ধ হবে ...' কাফের বলল তুমি কি পাগল ? আজ তুমি আমাকে না মারলে কাল আমার পাল্লা ভারি হতে পারে আর আমি তোমাকে মারতে পারি । আজ সুযোগ থাকতেও কেন মারবেনা ? আলী বলল তুমি যখন আমাকে থুথু মেরেছ তখন আমার রাগ এতটাই বৃদ্ধি হয়েছে যে তোমাকে আমি এক কোপে কেটেফেলতে চাইলাম , কিন্তু যদি আমি ক্রোধের বশবর্তী হয়ে তোকে মেরেফেলি তবে ত আমার সেটা জেহাদ হবেনা । যা কাল আবার জেহাদ হবে .. তোকে আজ ছেড়ে দিলাম ।
এটাই প্রকৃত জেহাদ .. জেহাদ মানে হিংসা নয় , ক্রোধ নয় , বরং মহানুভবতাও জেহাদ হয় । লোভ ক্রোধ কামনা যদি বশবর্তী না হয়ে ধর্মের পথে লড়াই করে তবেই জিহাদ । .. আমাদের শ্রী কৃষ্ণ কি বলেছেন গীতায় ??
"ত্রিবিধং নরকস্যেদং দ্বারং নাশনতাত্বন:।
কাম: ক্রোধন্তথা লোভক্তশ্মাদেতত্রয়ং ত্যজেং ।।"
অর্থাৎ: কাম ক্রোধ তথা লোভ । এই তিনটি নরকের দ্বার স্বরূপ , ইহারা আত্মার বিনাশের মূল , সুতরাং এই তিনটিকে ত্যাগ করিবে । ....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


