somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের অর্থনীতিতে ইপিজেডের ভূমিকা

২৮ শে মার্চ, ২০১৪ দুপুর ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের অর্থনীতিতে ইপিজেডের ভূমিকা



দেশের অগ্রগামী অর্থনীতিতে ইপিজেডগুলোর রপ্তানী ও কর্মসংস্থান বেড়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের বেপজা অধীন আটটি ইপিজেড থেকে পণ্য রপ্তানী ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকাগুলোতে ইপিজেড স্থাপিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্র“য়ারি সময়ে ৩০৬ কোটি ৭ লক্ষ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানী করেছে, যা এর আগের ২০১১-১২ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৭০ কোটি ১৯ লক্ষ ২০ হাজার ডলার।

দেশের অর্থনীতিতে অন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের তুলনায় রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবদান ক্রমশঃ বাড়ছে। বেসরকারি খাত উন্নয়নে সরকারের বিনিয়োগমুখী নীতি ও কৌশল গ্রহণের ফলে দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ মানচিত্রে ক্রমেই মোট বিনিয়োগের সঙ্গে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে। ফলে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে দিন দিন বাড়ছে বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ। তৈরি হচ্ছে ব্যাপক কর্মসংস্থান। পাশাপাশি দেশের অগ্র ও পশ্চাৎ সংযোগকারী শিল্পের চাকাও সচল রাখতে সহায়তা করছে।

বাংদেশ রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (বেজপা) তথ্যানুযায়ী শুধু চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি পর্যন্তই দেশের ৮টি ইপিজেড ভিত্তিক ৩২৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৭১ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এর বিপরীতে মোট কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ লোকের। যদিও এর মধ্যে ২১৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠানই বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থানের পরিধি আরও ভারি হবে।

বেজপা সূত্রমতে ইপিজেড ভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে এখন পর্যন্ত জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, চীন, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানী, তুরস্ক, ফ্রান্স, ইতালী, সুইডেন, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ইউক্রেন, মার্শাল আইল্যান্ড, মরিশাস, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, পানামা, নেপাল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ মোট ৩৩টি দেশের বিনিয়োগ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে বাংলাদেশের ইপিজেডসমূহ বিদেশী বিনিয়োগের আকর্ষণে মডেল হিসেবে কাজ করছে। উৎপাদিত পণ্যের গুণগতমান বজায় রাখতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের জন্যও এর প্রতিষ্ঠান অনুকরণীয় হয়ে উঠছে। আধুনিক বিশ্বে বিদেশী ক্রেতারা শিল্প প্রতিষ্ঠানে স্যোস্যাল কমপ্লায়েন্সের উপর জোর দিচ্ছে। তাই ইপিজেড ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা বিদেশী ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নিজস্ব প্রতিষ্ঠানেও স্যোস্যাল কমপ্লায়েন্সের বিভিন্ন শর্ত মেনে চলার চেষ্টা করছে। ফলে ইপিজেডে কর্মপরিবেশ অন্য কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক উন্নত। সব ধরণের কমপ্লায়েন্স সুযোগ- সুবিধা বহাল থাকায় শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও তুলনামুলক বেশি। এ কারণে ইপিজেড অঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ নেই বললেই চলে। সঙ্গত কারণেই উৎপাদন ব্যবস্থা সারা বছরই থাকে সচল।

দেশে বিদ্যমান ইপিজেডগুলো চট্টগ্রাম, ঢাকা, মংলা, কুমিল্লা, ইশ্বরদি, উত্তরা (নীলফামারী), আদমজী ও কর্ণফুলী এলাকায় অবস্থিত। বেজপার তথ্যানুযায়ী চট্টগ্রাম ইপিজেড-এ বিনিয়োগের পরিমাণ ৭৫ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার। ইপিজেড ভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রেখেছে চট্টগ্রাম ইপিজেড। এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৭৮ জন লোকের। আর উৎপাদনরত শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৫৭টি ও প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে ৩৪টি। কর্মসংস্থান তৈরিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা ইপিজেড। এখানে বিনিয়োগ পরিমাণ ৬৮ কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার ডলার। উৎপাদনরত শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৫টি ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প সংখ্যা ২৫টি। কুমিল্লা ইপিজেডে বিনিয়োগের পরিমাণ ৯ কোটি ৭ লাখ ডলার। উৎপাদনে রয়েছে এমন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২১টি ও প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে ২৪টি। এ ছাড়া মংলা ইপিজেড বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প ৯টি এবং উৎপাদনরত শিল্প সংখ্যা ৮টি। এখানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৪ লাখ ২৩ হাজার ডলার। অন্য ইপিজেড ভিত্তিক প্রকল্পগুলোও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।

দেশের অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চারের ক্ষেত্রে ইপিজেডগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। সরকারের বিনিয়োগমুখী নীতি ও কৌশল গ্রহণের ফলে দেশী-বেদেশী উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ মানচিত্রে ক্রমেই মোট বিনিয়োগের সঙ্গে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দিন দিন বাড়ছে বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ। তৈরি হচ্ছে ব্যাপক কর্মসংস্থান।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×