চট্টগ্রাম ব্যুরো
নতুন বার্তা ডটকম
চট্টগ্রাম: দফতরবিহীন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি বলেছেন, “জামায়াত-বিএনপি-হেফাজত ইসলাম শাপলা চত্বরে ৫ মে সরকারের উৎখাতের যে ষড়যন্ত্র করেছিল, মধ্যরাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পিটুনি খেয়ে ‘সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ’তারা পালিয়েছেন।”
শনিবার দুপুরে চট্টগাম সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য সুরঞ্জিত এসব কথা বলেন।
শেখ রাসেল মেমোরিয়াল সমাজ কল্যাণ সংস্থা, চট্টগ্রাম আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার নাথের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দিন খান বাদল এমপি ও সংগঠনের মহাসচিব সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইসহাক মিয়া প্রমুখ।
একটি চক্র এখন নতুন করে সাম্প্রদয়িক সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করে সুরঞ্জিত বলেন, “কিন্তু যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করে অগণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতায় আনা যাবে না।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুরঞ্জিত বলেন, “হেফাজতের কাঁধে ভর করে জামায়াত-বিএনপি দেশে যে তাণ্ডব শুরু করেছে, তা মূলত দেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্তির জন্যই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে ছিলাম।”
ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দেশ না হলে এদেশের অস্তিত্ব থাকবে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক সাধারণ মানুষ জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।”
সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কোনো দলের ভোট ব্যাংক নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিগোষ্ঠী যদি মনে করে, হিন্দু-বৌদ্ধদের কয়েকটি মন্দির-মূর্তি পুড়িয়ে দিয়ে তাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়া যাবে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। এগুলো পুড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে তারা দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পুড়িয়ে দিয়েছে। সংখ্যালঘুরা কারো করুণার পাত্র না হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নিজেদেরই লাড়াই করে বাঁচতে হবে।”
হাসানুল হক ইনু বলেন, “এ মুহূর্তে গণতন্ত্রের জন্য দুটি বড় হুমকি হচ্ছে সামরিকতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িকতা। দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রাম করে আমরা সামরিকতন্ত্রকে পরাজিত করে পিছু হঠতে বাধ্য করেছি। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদকে এখনো পুরোপুরি পরাজিত করতে পারিনি।”
তিনি বলেন, “এখন রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য বড় আপদ সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ। গণতন্ত্রকে অর্থবহ ও নিরাপদ করতে হলে এ শক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা চলবে না। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মাঝামাঝি কোনো পথ নেই।”
View this link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



