somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে রম্য গল্প

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাহিনী ২০১০ সালের।
আমার এক বন্ধু(নাফিস) নতুন গার্লফ্রেণ্ড(সূচনা) যোগাড় করছে,দেমাগে তার মাটিতে পা পড়ে না(লাফায়ে লাফায়ে হাঁটে) সন্দেহ । এই মাইয়ার অবশ্য আগেও ২-৩ জায়গায় লাইন-ঘাট ছিলো।নাফিসের কথা,”ওবামা বলিয়ায়ছেন পরিবর্তন আসবেই,” ”শেখ হাসিনা বলিয়াছেন,দেশে পরিবর্তন আসবেই।“ সেইরকম এই মাইয়ার মধ্যেও পরিবর্তন অলরেডি আসিয়া গিয়াছে,এর জন্য অবশ্য সে আমাকেই ধন্যবাদ দেয়।বলেছিলাম,বন্ধুবর তোমার মানিব্যাগের অবস্থা কি?এই কথায় সে কিঞ্চিত বিরক্ত হইয়া বলিলো,"দেখো বন্ধু,ঐ মেয়েটা আমার জন্য তার আগের লাভারকে ত্যাগ করিয়াছে আর আমি প্রতিদিন সামান্য ৩০০-৪০০ টাকা খরচ করিতে পরিবো না?" সেই হিসেবে মাসে খরচ প্রায় ১২-১৫ হাজার টাকার মত(এই জন্য অবশ্য তাহাকে আমাদের কাছে অফেরতযোগ্য ধার চাইতেই হতো+বাপের পকেট মারিং তো আছেই) চান্দিছিলা
তো তার লেটেস্ট এক্স বয় ফ্রেণ্ড(লিমন) বিষয়টা মেনে নিতে পারে নাই(কারণ মাঝে মধ্যেই রাইতের বেলা হটাত্‍তার মধ্যে পুরান প্রেম জেগে উঠতো)। তো যাই হোক লিমন একদিন ফোন করিয়া নাফিসকে ব্যাপকের উপ্রে ৩ ডিগ্রি থ্রেট,"অনেকটা পাড়ায় ঢুকলে ঠ্যাং গুড়া করে দিবো টাইপের "।এরই মধ্যে লিমন একদিন রিক্সা থেকে নাফিসকে কলার টেনে ধরে ব্যাপক অপমান,সূচনাও রিক্সাতেই ছিলো(সূচনা অবশ্য এই সময় নাকি মেক আপ ঠিক করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলো)।নাফিসের পুরুষত্ব নিয়ে কথা।
নাফিস আমাদের মধ্যে সবচেয়ে টেরর(!) মামুনরে দিলো ফোন,"দোস্ত,একটু আসালাগবে,ঝামেলা হইছে,তোরে চাইনিজ-জাপানিজ এক সাথে খাওয়াবো। " মামুনের মুখে এই কথা শুনে আমরা লাগাইলাম ভৌ দৌড়। গিয়ে দেখিতে পাইলাম,শার্ট ছিড়িয়া নাফিস নিউ মার্কেটে বসিয়া রইয়াছে।বন্ধুর এই অপমান আমরা সহ্য করিতে পারি নাই।ঐদিন বিকালেই লিমনরে দিলাম ব্যাপক ঠেঙ্গানি,(সাথে বাড়িতে খাইলাম ঝাড়)। আতংকে হাত পা .....
১ মাস পরের ঘটনা।
এই কয়দিন নাফিস সাথে ২-৩জন পোলাপান ছাড়া বীরত্ব দেখানোর জন্য বাইর হইতো না।এমনকি ডেটিং গেলেও তাদের কেহ না কেহ পিছে দাঁড়িয়ে বাদাম খাইতো ও তাহাদের রঙ্গলীল বিনা টিকিতে দেখিতো। এর মধ্যে হটাত্‍ একদিন জরুরী কাজে সে নিউমার্কেটে আসিলো(without বডিগার্ড)।কথায় আছে 'যেখানে বাঘের ভয় সেইখানেই রাত হয়'। লিমনও সেদিন তার ৫-৬ জন বন্ধু নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলো।নাফিসকে একা পাইয়া তার মাথায় কূট চাপিয়া উঠিলো।এদিকে নাফিসও দেখিলো অবস্থা বেগতিক।সে আবার টেরর মামুনকে ফোন দিলো, "দোস্ত,পুরা মাইনকা চিপায়,লিমনরা আমাকে ঘিরে নিয়েছে,তাড়াতাড়ি আয়"।
মামুন: "দোস্ত টেনশন নিস না,তুই ঐখানে খাড়া আমি পোলাপান নিয়ে এক্ষুনি আসতাছি,এর মধ্যে আবার ওগো মাইর দেওয়া শুরু করিস না"
আধা ঘণ্টা পার হইয়া গেলো,নাফিস মামুনকে ফোনের পর ফোন দেয় ,সে ধরে না। লিমনও বুঝিতে পারিলো পোলা জালে আটকাইছে।
১ ঘণ্টা পর মামুন নাফিসকে ফোন দিলো--
মামুন: বন্ধু তুমি কোথায়?আজ লিমনের একদিন কি আমার ৩৬৫ দিন। মাইরা ডাস্টবিনে ফেলমু ওরে।
নাফিস: দোস্ত,ব্যাটারা আমারে ব্যাপক হারে উত্তম-মধ্যম দিয়া আমার পকেটের টাকা দিয়ে রিক্সায় করে আমারে বাড়ি পাঠাইছে,ওদের দয়ার শরীর।
মামুন: দোস্ত,এইডা তো খুশির সংবাদ।পুরাই ঈদ লাইগা গেলো।এক্ষুনি থানায় চল,ডিআইজি আমার আপন খালুর মত।এক্কেবারে মার্ডার কেসে ফাঁসিয়ে দিবো।মাইর খাইয়া ব্যাপক সওয়াবের কাম করছিস।
নাফিস: দোস্ত আমার জন্য তুই এতোদিন মেলা করেছিস,আজ একটা কাজ করবি?
মামুন: খালি বলেই দেখ না।
নাফিস: তুই প্লিজ আর কিছু করিস না। মা কইছে,আমি খালি একটু সুস্থ হই,তারপর তিনি আমার নতুন করে ট্রিটমেন্ট শুরু করবে।যদি পারিস তো আমার বাড়িতে কুকুর আছে মনে কইরা ১০০০ হাত দূরে থাকিস।
এরপরে নাফিসের প্রেম আর ১ মাস চলিয়াছিলো,তাহার মা তাহাকে ভালোই ট্রিটমেন্ট দিয়েছিলেন,হাত খরচও প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়া আসিয়াছিলো।সূচনা নাফিসের জন্য চু চু করিয়া দু:খ প্রকাশ করিয়াছিলো বলে লোক মারফত সংবাদ পাওয়া গিয়েছিলো।
নাফিসের এখন প্রিয় গান,আসিফের বিখ্যাত "ও প্রিয়া,ও প্রিয়া তুমি কোথায়?" দিলটা টুকরা টুকরা হৈয়া গেলো দিলটা টুকরা টুকরা হৈয়া গেলো
বি.দ্র. শুনিয়াছি সূচনাকে নাকি এখন এক MBA করা বড় ভাইয়ের সাথে ঢাকার বিখ্যাত কিছু রেস্তোরায় দেখা যাইতেছে। (মাথা চুলকানোর ইমো) (মাথা চুলকানোর ইমো)
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×