somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিংহপুরের ডায়েরী: মালাক্কা এবং সামহোয়্যারের মানুষের সাথে গপসপ

১৩ ই মে, ২০০৬ দুপুর ১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মালয়শিয়ার একসময়ের ডাকসাইটে বন্দর, মালাক্কা বা মেলাকা থেকে এক দিনের ঝটিকা সফর থেকে ফিরলাম ঘন্টাখানেক আগে। এন ইউ এস (ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিংগাপুর) এর প্রায় 160 জন ইন্টারন্যাশনাল পোস্টগ্র্যাড স্টুডেন্টদের নিয়ে ঘুরে আসা হলো মালাক্কার কিছু ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্কগুলোতে।

এখানে আমাদের গ্রাজুয়েট স্টুডেন্টদের একটা সোসাইটি আছে যার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই অধমের ঘাড়ে খুবই বেমক্কা সময়ে এই টু্যরের ব্যবস্থা র দায়িত্ব নিতে হয়েছে। বেমক্কা, কারন ঘাড়ের উপরে অনেক কাজ, প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যে সময় যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে প্রায়ই অনুরোধে ঢেকি গিলতে রাজী হই, পরে দেখা যায় গলায় আটকে যায়। এই আয়োজনটাও সেরকম ছিলো।

আমি এ্যাডমিন কাজ পছন্দ করি না, এবারও বুঝলাম। টু্যর কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করোরে, ছাত্রদের ইমেইল করোরে, তাদের রেজিস্ট্রেশন করো এবং টাকার হিসাব রাখোরে, তাদের বিশাল লিস্টি জমা দাওরে ইনসুরেনস করতে... মোট কথা হাজারটা বায়ানাক্কা। রিসার্চের কাজ, থিসিস লেখা সিকেয় তুলে কয়েকদিন মাথা জুড়ে এই কাজের আয়োজন আর ঝামেলা সামলানো। অবশেষে আজ (13ই মে, শনিবার) ছিলো টু্যরের দিন।

আগেই গন ইমেইল করে থ্রেট দিয়ে রেখেছিলাম পাবলিকরে যে 6:15তে ইউনিতে জড়ো হও, ঠিক কাটায় কাটায় বাস ছেড়ে দেওয়া হবো। কতজন আসলা আমি জানি না। পাবলিক ঠিকই কথা রেখেছে। সময়মতো সবাই হাজির, এমনকি বাংলাদেশী গ্রুপও। কে বলেছে বাঙ্গালী সময় অনুসারে কাজ করতে পারে না? ইচ্ছে থাকলেই পারে।

ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে তড়িঘড়ি করে এসে ফরমালিটি সেরে বাসে সবাইকে উঠিয়ে বাস ছাড়তে ছাড়তে প্রায় 7টা। খুব ভয়ে ছিলাম মানুষের দেরী নিয়ে কারন দেরী করলে জ্যামে পড়তে হতো সিংগাপুর মালয়শিয়া বর্ডারে। সেই ঝামেলায় পড়তে হয় নি।

বেশ কয়েকটা জায়গায় গেলাম। মালাক্কা একটা ঐতিহাসিক বন্দর শহর। এখানে বিভিন্ন সময়ে সুমাত্রা থেকে হিন্দু প্রিনস থেকে শুরু করে ডাচ, পতুগর্ীজ বনিক, ব্রিটিশ এবং ইউরোপিয়ান মিশনারীরা এসেছে। আরো এসেছে চীন থেকে অভিবাসী যারা মালয় জনগোষ্ঠির সাথে মিশে গিয়ে জন্ম দিয়েছে নতুন জাতি, সংস্কৃতির। এ দিক থেকে প্রচুর ফিউশন এলিমেন্ট পাওয়া যায় মালাক্কার ইতিহাস, সংস্কৃতি আর লোকজ ব্যাপারগুলোতে। আমরা মূলত যে জায়গাগুলোতে ঘুরেছি তা হলো: ফামোসা, ক্রাইস্টচার্চ, ফ্রানিসস জেভিয়ার চার্চ, স্টাডউস, ঝংকার স্ট্রিট আর একটা গলফ ক্লাব (দুপুরের খাবার জন্য)। সব মিলিয়ে খুব খারাপ যায় নি।

এর মধ্যে একটা বোনাস ছিলো সামহোয়্যারের একজন মানুষের সাথে দেখা করার সুযোগ। ফারিয়ালকে ইমেইল করেছিলাম যাওয়া আগে যে আমি মালাক্কা যাচ্ছি। তো ওর সাথে কয়েকবার ফোনকল চালাচালি করে দেখা করার জায়গা ঠিক করলাম দুপুরের দিকে। আমরা ক্রমাগত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছিলাম। এর ভিতরে শেষ ভেনু্য ছিলো মাহকোতা প্যারেড। প্রায় সাড়ে তিনটার দিকে ফারিয়াল ফোন করলো আমার গাইডের মোবাইলে, জানালো সে মাহকোতা মার্কেটের আশে পাশে। ফোনে চড়াগলা শুনে মনে হচ্ছিলো মেয়ে মনে হয় কর্কট রাশি (আমার মা যেমন, কর্কট এবং আস্তে কথা বলে কম)। পরে জানা গ্যালো সে কুম্ভ। নো ওয়ান্ডর্ার মেয়েটার অনেক এনার্জি আর স্পোটির্ং মনোভাব!

যাই হোক, আমি কোথায় আছি জানিয়ে অপেক্ষা করছিলাম মার্কেটের ভিতরে। কিছুক্ষন পরে বান্দি হাজির। মুহুর্তেই উভয় তরফের আন্তরিক, অসংকোচ গপসপে নতুন পরিচয়ের ধোঁয়া গ্যালো কেটে। মনে হলো যেন অনেক আগেই চেনা। সামহোয়্যার মানুষকে ভালোই কাছে এনে দেওয়ার প্লাটফর্ম হয়ে গ্যাছে আজকাল। কিছু মানুষ থাকে না যারা একটু বেশি রকমের অনেস্ট হয়, যা মনে আসে বলে দ্যায় .. আমাদের ফারিয়াল হলো সেই টাইপ। লুকোপাছা করে না। পাগল পাগল ভাব অথচ খুব ভালো মানুষ। শরীরটা একটু খারাপ যাচ্ছিল কয়েকদিন, তবু তা নিয়েই চলে এসেছে দেখা করতে। যেটা ভালো লাগলো তা হলো সামহোয়্যারের অনেকের লেখা অনেক দরদের সাথে পড়ার ব্যাপারটা। অনেকদিন ফারিয়াল এখানে লিখতো না, কিন্তু জানালো প্রায় প্রতিদিনই অনেকের লেখাই পড়া হয়।

অল্প সময়েই মালয়শিয়া, বিশেষ করে মালাক্কা নিয়ে ওর একগাঁদা অভিযোগ জানা গ্যালো। আলাপ হচ্ছিল সেখানকার বাংলাদেশীদের নিয়ে। তাদের প্রতিও ফারিয়াল বেজায় নাখোশ। অনেক কারন আছে, পরে বলবো'খন। আপাতত একটা হিন্টস দিয়ে রাখি: আমরা দেশের মানুষরা বিদেশে আসলে মাঝে মধ্যে খুব বিচিত্র আচরন করি, খ্যাতগিরি খুব বেড়ে যায় কারো কারো। সেইরকম মানুষগুলো নিয়েই কথা হচ্ছিল ফারিয়ালের সাথে।

কথা বলতে বলতে আমাকে ঘুরিয়ে দেখালো মার্কেটটা। মন্দ না। ছুটির মরসুম বলে প্রচুর মানুষ। আলাপ করিয়ে দিলাম আমার পুরাতন সহপাঠিদের সাথেও। ফারিয়ালের সাথে গপসপ শেষ করে বিদায় জানিয়ে বাসে উঠলাম। রওনা হলাম সিংহপুর।

মনের মধ্যে প্রাপ্তির খবর জানার জন্য কেমন খচখচ করছিলো। এর মধ্যে ইমিগ্রেশন পার হতেই সিঙ্গাপুরে একজন ফোন করে জানালো সে প্রাপ্তির জন্য কিছু কনট্রিবিউট করতে চায়। ভালো লাগলো মেসেজটা কিছুটা হলেও সফল হয়েছে চিন্তা করে।

বাস ক্যাম্পাসে নামিয়ে দিতে দিতে প্রায় রাত 12টা। প্রচন্ড টায়ার্ড সারাদিনের ধকলে। তারপরেও ল্যাবে এসে সামহোয়্যার না খুলে পারলাম না। প্রাপ্তির ভালো থাকার খবরটা পড়ে ভালো লাগলো।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৬ রাত ১২:৪৮
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×