somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেম ও বিয়ে

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রেমের বিয়ে হোক বা পিতা-মাতার দেয়া বিয়ে হোক, সব তরুণ-তরুণী রোমান্টিসিজম নিয়ে বিয়ের মুখোমুখি হয়। ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীকে নিয়ে তারা কল্পনায় স্বপ্নের রঙিন বাসর গড়ে তোলে। রোমান্সের ফানুস উড়িয়ে স্বপ্নরাজ্যে উড়ে যায়। অপরিচিতের বাধা ডিঙিয়ে তারা পরস্পর প্রেমের বন্ধনে একাত্ম হয়ে আকাশ-কুসুম ভাবনা গড়ে তোলে। কিন্তু একদিন তাদের স্বপ্নের ভুবন থেকে মাটির পৃথিবীতে নেমে আসতে হয়। সমাজ-সংসারের রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। প্রেমের বিয়ে স্বাভাবিক পরিণতি লাভের পথে যখন বাধা সৃষ্টি করে তখনই বাধে বিপত্তি। বহু বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নানান ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে তরুণ-তরুণী তাদের ইপ্সিত লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করে। সমাজে ঘটে যাওয়া প্রেম-বিয়ের এমন বাস্তব ঘটনাবলি থেকে সৃষ্ট কাহিনীই স্থান পায় আমাদের সাহিত্যে।
প্রেম ও বিয়ের উপাখ্যানে রচিত হয় উপন্যাস, নাটক, গল্প, কাব্য ও সিনেমায়। প্রেমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ফুটে ওঠে সমাজের চিত্র। লায়লি-মজনু, শিরি-ফরহাদ, আনারকলি-জাহাঙ্গীর, শাহজাহান-মমতাজ, দেবদাস-পার্বতী, রোমিও-জুলিয়েট প্রভৃতি প্রেমের উপাখ্যান আজও পাঠ হয়। প্রেম পূর্ণতা পায়নি বিয়েতে এমন ঘটনা আছে অনেক।

শেক্সপিয়ারের কাব্যে রোমিও এবং জুলিয়েটের ভালোবাসা বিয়েতে পূর্ণতা পায়নি। দুটি প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছিল। তার কারণ হলো, জুলিয়েটের পিতা প্রেম স্বীকার করে দুজনের বিয়ে দিতে রাজি হননি। তিনি কন্যাকে জোর করে অন্য পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। মার্চেন্ট অফ ভেনিসের নায়িকা পোর্শিয়া ইচ্ছা করলেই মনের মানুষকে বিয়ে করতে পারতো না। তার বাবা মৃত্যুর আগে দানপত্রে স্পষ্টভাবে লিখে গিয়েছিলেন, পোর্শিয়া ইচ্ছা করলেই যাকে-তাকে বিয়ে করতে পারবে না। তিনটি মঞ্জুষা থাকবে। তার একটি সোনার তৈরি একটি রূপার তৈরি, আরেকটি সীসার। এর একটার মধ্যে থাকবে পোর্শিয়ার ছবি। যে পাণিপ্রার্থী বলতে পারবে কোন মঞ্জুষায় পোর্শিয়ার ছবি আছে সেই পোর্শিয়ার পাণি গ্রহণ করতে পারবে।

এক সময় এ দেশের কৌলিন্য প্রথা বিভীষিকার সৃষ্টি করেছিল। টেকচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলাল-এ উল্লেখ আছে, বাবু বনরাম ঠাকুরের সন্তান। এজন্য জাতি রক্ষার্থে কল্যাণদ্বয় জন্মিবামাত্র বিস্তর ব্যয় ভূষণ করিয়া তাহাদের বিবাহ দিয়াছিলেন; কিন্তু জামাতা কুলীন, অনেক স্থানে দায় পরিগ্রহ করিয়াছিল বিশেষ পারিতোষিক না পাইলে বৈদ্যবাটির শ্বশুরবাটিতে উঁকিও মারিত না।

কালীপ্রসন্ন সিংহের হুতোম প্যাঁচার নকশা-য় কুলীন স্বামীর বিস্তারিত বর্ণনা আছে। একজন কুলীন এতো বিয়ে করতো যার হিসাব রাখা সম্ভব ছিল না। তাই একটা খেরো খাতা সব শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা লিখে রাখতে হতো এবং পর্যায়ক্রমে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে জামাই বিদায় নিতো।

বঙ্কিমচন্দ্রের প্রখ্যাত উপন্যাস চন্দ্রশেখর-এ প্রতাপ কেবল জ্ঞাতি সম্পর্কের কারণে শৈবালিনীকে বিয়ে করতে পারেনি। নিজের ভালোবাসার দাম দিতে গিয়ে সে জীবন বিসর্জন দিয়েছিল।

বেগম রোকেয়া অবরোধবাসিনী গ্রন্থে বিয়ে প্রসঙ্গে লিখেছেন, এক জমিদার বাড়িতে তিন মেয়ের একই দিনে বিয়ে দেয়া হয়েছিল। বর-কনে কেউ কাউকে কখনো দেখেনি। কাজি এক আসরে তিনটি বিয়ে পড়াতে গিয়ে সব গোলমাল করে ফেলেছিলেন। ফলে যার বিয়ে ঠিক হয়েছিল তার সঙ্গে তার বিয়ে না দিয়ে ওলট-পালট বিয়ে দিয়েছিলেন। এক জমিদার কন্যার বিয়ে একজন সুপাত্রের সঙ্গে স্থির হয়েছিল। কিন্তু দেনা-পাওনা নিয়ে বিরোধের ফলে বিয়ে ভেঙে যায়। তখন মেয়ের অভিভাবক তার এক চরিত্রহীন ভ্রাতুষ্পুত্রের সঙ্গে কন্যার বিয়ে দেন। মেয়েটি ওই ভ্রাতুষ্পুত্রের জঘন্য চরিত্র সম্পর্কে অবহিত ছিল। কিন্তু বিয়েতে বাধা দেয়ার তার শক্তি ছিল না। জোর করে তার বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়েছিল।

লুৎফর রহমানের রায়হান উপন্যাসে আমিনার সঙ্গে আমিনার ভাই মজিদের বিয়ে দিয়ে জাত খোয়াতে অস্বীকার করছিল। কারণ মজিদ ছিল চাষার ছেলে। এনায়েত আলী অশিক্ষিত হলেও উচু বংশের ছেলে। তার সঙ্গে আমেনার বিয়ে দিলে তার ভাইয়ের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। তাই প্রবঞ্চনার আশ্রয় নিয়ে আমিনার বিয়ে দেয়া হয়েছিল এনায়েত আলির সঙ্গে। এই বিয়ের পরিণামে আমেনাকে দুঃসহ কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল।

দেবদাস উপন্যাসে পার্বতীর সঙ্গে মিলনে বঞ্চিত দেবদাসের মৃত্যু প্রসঙ্গে শরৎচন্দ্র এই সত্যের প্রতিধ্বনি করেছেন, যদি কখনও দেবদাসের মতো এমন হতভাগ্য অসংযমী পাপিষ্ঠের সহিত পরিচয় ঘটে, তাহার জন্য প্রার্থনা করিও। প্রার্থনা করিও আর যাহাই হোক যেন তাহার মতো এমন করিয়া কাহারও মৃত্যু না ঘটে। মরণে ক্ষতি নাই, কিন্তু সে সময় যেন একটি স্নেহ-কর স্পর্শ তাহার ললাটে পৌঁছে, যেন একটিও করক্ষণাদ্রে স্নেহময় মুখ দেখিতে দেখিতে এ জীবনের অন্ত হয়। মরিবার সময় যেন কাহারও এক ফোঁটা চোখের জল দেখিয়া সে মরিতে পারে।

মানুষের এই চিরন্তনী বাসনা একমাত্র বিয়ের মাধ্যমে পরিপূর্ণ হতে পারে।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×