অপরাজিতা,
প্রতিদিন সকাল দেখে পণ করি , আজকের বিকেলটা হবে বর্ণময়। মরারোদে মৃদু বাতাসে বসব দীঘির পাড়ে। পদ্মদীঘির গভীর কালো জলে ছোট একটা ডিল ছুঁড়ে দেব। সারা দীঘিতে হইচই তুলে ক্রমে মিইয়ে যাবে ক্রমবর্ধমান পাতলা ঢেউ।
ধান ক্ষেতের আলপথে রাখালের সাথে গল্প করব। সে আমাকে দেখাবে কোন ধরনের ঘাস খেয়ে গাভী পুষ্টিকর দুধ দেয়।
আমাকে আরও শেখাবে তার বাঁশির নানান বাজনা। কোন সুরে কি পাখি তার সাথে তাল মিলায়।
সে গল্প করবে, তে-মাথার মাঠে নির্জন দুপুরে পরীরা কোন ঢংয়ে নাচে। এক পরী তাকে ভালবেসে ফেলেছে। রাখালকে তাদের দেশ মিলান শহরে নিমন্ত্রণ করেছে।
রাখাল জিজ্ঞেস করে, সেখানে এরকম সবুজ মাঠ, পাখি, দীঘি আর অনেক মায়া আছে? পরী বলে, না সেখানে এ সব নেই তবে এর চেয়েও অনেক ভাল কিছু আছে।
'আমার এ সবের চেয়েও ভাল কিছু হতে পারে না।' রাখাল নির্লিপ্তভাবে বলে।
তাই তার আর পরীর দেশে যাওয়া হয় না।
সোনারোদে এলো চুলে তুমি নাকি রোজ পাড়া বেড়াও। পাড়ার যত দলছুট তোমার সাথী। ভাবি কোনদিন তোমার সে পরিভ্রমণে সঙ্গী হব। তোমার খোঁপায় গুঁজে দেব বুনো জবা ফুল। অস্তগামী রক্তিম সূর্য এনে টিপ পরাব তোমার প্রশস্ত কপালে। তোমার নির্ঝরের মত হাসিতে চকিত ডেকে উঠবে বউ কথা কউ।
বউ কথা কও ঠিকই ডাকে তবে আমার সে সোনারোদ মাখা বিকেল আর আসে না!
মাঝে মাঝে মনে হয় সব ছেড়ে ছুঁড়ে বেরিয়ে পড়ি।
এই রাস্তাটা ছেড়ে দিই; জানালার পাশের জারুল গাছটা ছেড়ে দিই; প্রতিদিনের টেবিলটাকে ছেড়ে দিয়ে পালাই।
আমি যে কটা স্বপ্ন দেখেছি তার মধ্যে একটা ছিল 'কোন একদিন পালাবো ঠিকই'। এই সকাল থেকে; এই দুপুর থেকে; এই নিশুতি রাতের তারাদের কাছ থেকে একদিন পালাবো ঠিকই।
মায়ার চক্করে পড়ে আমার পালানো হয় না!
মাঝে মাঝে ঘূর্ণি চক্করে পড়ে ভাবি 'মানুষ হব'।
কেন ভাবি তা জানি না। বোধে আসে না। তবে কি আমি এখন মানুষ নই? আমি কি? পাখি? গাছ? মাছ? নাকি পশু?
যদি তা না হই তবে আমাকে মানুষ হতে বলে কেন?
আর আমি কেন ভাবি মানুষ হব?
মানুষ কিভাবে হয়?
বোধের বাড়ীতে কে যেন বলে,'আমি কে?
আমি কে?
আমি কি নাগরিক হতে চেয়েছিলাম?
ইতি
বসন্ত বিলাপ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



