somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছুটছি: সেন্টমার্টিন- ছেড়াদ্বীপ

২১ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সাগরের গর্জন, আঁধার ভেদ করে ফসফরাসের ঝলকনি, জোনাকি জ্বলে ওঠা মধ্যরাত-প্রচণ্ড রকমের উপভোগ্য আমার কাছে সেন্টমার্টিন্স আইসল্যান্ড।

সেই ২০০০ সাল থেকে এখনো। বয়স হয়েছে, আগের মত ট্রলারে ছুট দেই না ঠিকই, তবুও যাই। বেড়াতে কিম্বা বাণিজিক্য ভ্রমণে। বছওের ৬ থেকে ৭ বার। তবুও মন ভরে না।

এবারের আয়োজনটা ভিন্ন। আমার দুই পুত্র নাজিব ও নাকিবকে নিয়ে সেন্টমার্টিন্স যাচ্ছি। সব ঠিকঠাক থাকলে আজ শুক্কুরবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় গাড়ি ছাড়বে।

এটা একটা ভিন্ন রকমের অনুভূতি- নাজিব এর আগে কক্সবাজার গেছে। সেন্টমার্টিনে তার প্রথম যাত্রা। দেশে এই একটি দ্বীপ আমার কাছে অপার বিস্ময় এবং ভালোলাগার।

যে সময় ঢাকা ইউনিভার্সিটি ট্যুরস্ট সোসাইটিতে ছিলাম, ট্যুরের দায়িত্বে থাকতাম, সে সময় দল বেঁধে যেতাম, ঘোরঘুরিতে আমি একলা দুই চারজন নিয়া আনন্দ পাই কম, খুবই কম। আমার বন্ধু ও শত্রু বাবু আমার এক সময়কার ভ্রমণসঙ্গী। সেন্টমার্টিন্সে আমি আর ও একসাথে গেছিলাম।

তার পর বার বার অনেক বার। এ দ্বীপে যেতে আমার কখনো খারাপ লাগে না। মনে হলেই ছুটে যাই, সে রকম এক আনন্দময় এক দ্বীপ-সেন্টমার্টিন্স। পুরনো নাম নারকেল জিঞ্জিরা, দারুচিনি দ্বীপও বলা হয়্। আগে আরব্য ব্যবসায়ীরা এ দ্বীপে বিশ্রাম করতেন, দক্ষিণ পাড়ায় অনেক নারকেল গাছ। এক সময় কেবল নারকেলে জলপান নয়, মুখ ধোয়ার কাজেও ব্যবহার করতাম। এখন সেটা স্বপ্ন।
সেন্টমার্টিন্সের ডাবের চাহিদা মেটাতে মায়ানমার হাল ধরেছে!

সেন্টমার্টিন্সের নেক ঘটনার মধ্যে নেক স্মৃতি আছে- প্রথম আমরা যখন দল বেঁধে গেলাম, সেবার জোছনা রাত। সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। হুমায়ূন আহমেদের বই পড়তাম- জোছনা মানে আমার কাছে অন্য রকম একটা ব্যাপার।

এক রাতে আমরা পুরো দ্বীপ চক্কর মারলাম। সমুদ্রের মাঝখানে একটা রূপময় দ্বীপ ভেসে থাকলো, সন্ধ্যার পরে ছেড়াদ্বীপ থেকে ফিরতে ফিরতে আমাদের এ জোছনা দর্শন। মানুষ আমরা গোটা চল্লিশেক। সে সময় ছেড়দ্বীপ যাবার বাহন ছিল পা।

ফেরার পথে পানি বেড়ে গেছে, মানে জোয়ার। আমরা সে জোয়ারে হাবুডুবু খেয়ে ফিরছিলাম! তবুও আনন্দ, সীমাহীন সেই আনন্দ ছাড়াও সেন্টমার্টিনসের দক্ষিণ পাড়ার যাবার পথে অনেকগুলো প্রবাল পড়ে, সেখানে এক সন্ধ্যায় পা ডুবিয়ে সূর্যাস্ত দেখেছি, এমন মুগ্ধ আমাকে আর কিছুই করতে পারেনি, আমার ছেলেদের হাসি ছাড়া।

সেন্টমার্টিন্সের প্রেমে আমি মজনু। থাকতেও চা্ই। আজকে যখন গোত্তা মেরে জলের ভেতর আঁচড়ে পড়ে জাহাজের নোঙর, মনে হয় আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। লঞ্চের খট খট শব্দ, সিগালের ওড়াওড়ি দেখতে দেখতে নৌকার নাচন আর মাঝির ভিজ্ঞতা শুনতে শুনতে যে সেন্টমার্টিনস যাত্রা করতাম, সেই আমেজ পাই না।

তবুও

আজ যখন যাবো তখন অনেক স্মৃতি ভিড় করছে। আমরা যখন ট্যুর আয়োজন করতাম, ট্যুরের আগে সকালে আমি আর বাবু কেনাকটা করতে যেতাম বঙ্গবাজারে। ফিরতাম হলে, ফ্রেশ হয়ে ট্যুরিস্ট সোসাইটি অফিসে বসতাম। সবাই আসতো, গল্পে আড্ডায় আমরা ছুটতাম।

আজকের ভ্রমনটা একেবারই ভিন্ন। টিকিট করা গাড়ি একজন বয়সী-তরুণ উঠবে পরিবার পরিজন নিয়ে। সাথে ছোট ভাই, সেও বউ নিয়ে এবং বন্ধু সেও বউ-কন্যা নিয়ে। সময়ের স্রোতে কি দারুণ এক বদল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে, মধুর ক্যান্টিনের বাটার টোস্ট খেয়ে, মিস্টির রস চুষে নিয়ে আনোয়ারের সিগারেটে ফুঁ দেয়া ছেলেপুলো সব বড় হয়ে গেছে!

তবে এ অবকাশ যাপান আমরা কাছে একটা অনন্য ও অসাধারণ ঘটনা। আমার দুটো ছেলেই সাথে যাচ্ছে। সাথে তাদের মা। পিতা হিসাবে নিজেকে স্বার্থক মনে হচ্ছে। ওরা যখন বড় হবে, বার বার যাবে, নিজে যাবে, বান্ধবী-বউ নিয়ে যাবে। বুড়ো বাবা মাকেও নিয়ে যেতে পারে, যদি ততদিন তারা বেঁচে থাকে।

নাজিবের মুখের দিকে তাকালে আমার মনে হয়, পৃথিবীতে এর চেয়ে বেশি কিছু আমি চাইনি। বয়স ওর ৫ । বুদ্ধিভিত্তিক কিছু জটিলতা আছে। তবুও এ ছেলেটার কারণে আমি আজ অন্যরকম এক মানুষ। নাকিবকেও রাখতে হবে সে দলে, গুট গুট করে হাঁটে, টুক টুক করে কথা বলে। এত মায়াবী দুইখান পুত্র আমার। সাথে যাচ্ছে বন্ধু শামীম ও তার কন্যা এবং স্ত্রী আসমা এবং ছোটভাই শিপু ও তার স্ত্রী রীতি। আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে আমরা একসাথে বেড়ে উঠেছি।

তবুও আমি এখানে কারো শূণ্যতা খুব অনুভব করি, সামনেও করবো- মীর মামুন, বাবু, মাহমুদ, সাদিয়া , লিপি, মিটি, নিম্মি, খালিদ, দিলরুবা, গ্লোরিয়া- আরো অনেকে। মিস ইউ মাই ডিয়ার ফ্রেন্ডস, এনিমিজ, সিস্টারস অ্যান্ড ব্রাদারস।

লাভ ইউ সেন্টমার্টিন্স, লাভ ইউ অল।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বৃহন্নলা-কথন এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্রের একটি সামাজিক বাস্তবায়ন

লিখেছেন রূপম রিজওয়ান, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৮



মধ্যরাত। মুহুরিপাড়ার জোড়া-খাম্বার সামনের সুনশান রাস্তাটায় দু'টো মাত্র প্রাণী। একটি আপনমনে পায়চারি করছে এদিক-সেদিক;অন্যটি খাম্বায় আলতো হেলান দিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে।উভয়ের মধ্যেই অসম্ভব মিল। দু'টোই ম্যামিলিয়ান ভার্টিব্রেট। তাই একটা সময় পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শ্রাউড অভ তুরিন অথবা যীশুর কাফন (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন শের শায়রী, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫৩



সন্ধ্যা তখন ঘনিয়ে এসেছে, সেদিন ছিল প্রস্ততির দিন অর্থ্যাৎ সাব্বাথের দিনের আগের দিন। সে জন্য আরিম্যাথিয়া নিবাসী জোসেফ সেখানে এলেন। ইনি ছিলেন ধর্ম সভার একজন সন্মানিত সদস্য। তিনি ঐশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডে- ২০১৯

লিখেছেন শায়মা, ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০৮


"ব্লগ ডে" এ দু'টি শব্দ মনে পড়লে আমার চোখে ভাসে কৌশিকভাইয়ার অসাধারণ কন্ঠে উপস্থাপনার ছবিটি। চোখে ভাসে জানা আপুর ছিপছিপে শাড়ি পরা চেহারাটা। চোখে ভাসে প্রায় তুষার কন্যা টাইপ ধপধপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (শেষ পর্ব)

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:০২



আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১৮)

বুঝেছি আমার নিশার স্বপন হয়েছে ভোর।
মালা ছিল তার ফুলগুলি গেছে, রয়েছে ডোর।
নেই আর সেই চুপি চুপি চাওয়া,
ধীরে কাছে এসে ফিরে ফিরে যাওয়া-... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতাব্দী রায় ভালো আছেন, সুখে আছেন

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৫৯


যাঁরা সম্প্রতি আমার পোষ্ট মোষ্ট পড়েছেন, তাঁরা নিশ্চয় শতাব্দী রায় সম্পর্কে কিছুটা জানেন: শুধু ব্লগার নুরু সাহেব অনেকবার পড়ার পরও শতাব্দী রায়কে মনে রাখতে পারেননি; নুরু সাহেব মানুষের জন্মদিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×