somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ ভুল সবই ভুল!

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভর দুপুর বেলা। নুসরাত ইউনিভার্সিটির ক্লাস শেষ করে দুই তলার তিশা আপুর সাথে বাসায় ফিরল দুইটার সময়। গোছল করে ফ্রেস হয়ে কানে ওয়াকম্যান লাগিয়ে গান শুনছে। বাসায় দুপুরের রান্না এখনও শেষ হয়নি। ওর মা ওর রুমে এসে হাজির। হঠাৎ মাকে দেখে নুসরাত অবাক, এখন তো উনার রান্না ঘরে থাকার কথা? খাটে বসে উনি মেয়ের দিকে তাকালেন-
-আজকে বিকালে তোর খালা সাদেককে নিয়ে বাসায় আসবে। আপা আজকে আংটি পড়িয়ে দিতে চাচ্ছে। বিয়ের জন্য অনেক জোরাজুরি করছে দেখে আমি মানা করিনি। বিয়ে যখন হবেই, তখন দেরি করে লাভ কি? তুই আজকে বিকালে ঘর থেকে কোথাও যাবি না। এটাই আমার শেষ কথা।

কথা শেষ করেই সাথে সাথেই উনি চলে গেলেন। নুসরাত এই কথা শুনে হতভম্ব, একটা কথা বলারও সুযোগ দিল না, এটা কেমন কথা? মা'র কথা শুনার সাথে সাথেই ওর মুডটা একদম নষ্ট হয়ে গেল। সাদেক ভাইকে বিয়ে করার প্রশ্নই উঠে না। আস্ত একটা লুচ্চা ছেলে। এই ছেলের চোখ দেখলেই বুঝা যায় এর চরিত্র কি রকম! আর যাই হোক, মেয়েরা কখনও ছেলেদের চোখ ভুল করে না। থাকে দুবাই তে। ওখানে কি আকাম কুকাম করে কে জানে? নিউজ পেপারে ওই জায়গার কত উলটা পাল্টা নিউজ আসে? বদমায়েসটা দেশে ফিরে আমাদের বাসায় এসেই, আমার পিছনে ছোঁক ছোঁক করতে থাকে। যতক্ষণ আমাদের বাসায় থাকে, ততক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকি। গতবার আমার রুমে এসে আমার হাত ধরে টানাটানি করছিল। মেজাজ এমন খারাপ হয়েছিল যে, পা থেকে স্যান্ডেল খুলে এক বাড়ি দিয়েছি, তারপর আমার রুম থেকে ভেগেছে। এই ছেলেকে আমি ইহ জিন্দেগিতেও বিয়ে করা যাবে না। কি করা যায়? বাসা থেকে পালাবো? পালিয়ে কোথায় যাব? মার দুই বোনের ঘরে এই একটাই ছেলে। জন্ম হবার পর থেকে বিয়ের আগ পর্যন্ত মা'ই নাকি এটাকে পালত। আমাদের দুই বোনের চেয়েও এই শয়তানটাকে বেশী পছন্দ করে। আমার কোন কথাই বিশ্বাস করে না। আর এটাও এমন বদের হাড্ডি, মা'র সামনে একেবারে ভিজে বেড়াল, টু শব্দও করে না। মনের কষ্টে দেখি চোখে পানি চলে এসেছে। বিয়েটা যেভাবেই হোক ভাঙতে হবেই, অন্তত আজকের আঙটি পড়ানো টা। কানের ওয়াকম্যানটা খুলে এক মনে ভাবছি কি করা যায়, মনে অনেক রকম চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। চোখের পানিতে ওড়না প্রায় ভিজিয়েই ফেলেছি। কিছুই যখন বের করতে পারছি না, ঠিক তখনই বুদ্ধিটা মাথায় আসলো। আহ, যদি ঠিক মতো কাজে লাগাতে পারি আজকের মতো আঙটি পড়ানোটা বন্ধ করা যাবে। পরেরটা পরে দেখা যাবে। আগে কাজ শুরু করি………….

দশ মিনিট পর
রান্না ঘরে মা'র কাছে চলে গেলাম। বিয়েতে কিছুতেই রাজি না জানিয়ে, দরকার হলে গলায় দড়ি দেব সেই ভয়ও দেখিয়ে আসলাম। জানি কোন লাভ হবে না, আমার মতো একটা ভীতুর ডিম যে একটা পিপড়াও মারতে পারব না, সেটা আমার মতো মা'ও জানে। এই বার শুরু করতে হবে আসল কাজ। গত সপ্তাহে টিভিতে দেখেছিলাম। ছোটটা দেখছিল, হঠাৎ মোবাইলে ফোন আসাতে বারান্দায় চলে গেল। ঠিক তখনই এটা দেখালো জি বাংলা চ্যানেলের একটা সিরিয়ালে। আমার ছোট বোন এই চ্যানেলই দেখে সারাদিন। এই সব কুটনামি বুদ্ধি এখানে ছাড়া আর কোথায় দেখাবে? অ্যাড শুরু হবার আগ পর্যন্ত দেখে চলে এসেছিলাম। গত সপ্তাহ থেকে এমনিতেই আমার ফুড পয়জনিং সমস্যাটা হচ্ছিল। গত ৪ /৫ দিন থেকে জ্বালাচ্ছে। রুমের দরজাটা আগে হালকা ভাবে লাগিয়ে দিয়ে আসলাম। বেডে বসে ডান হাতের মধ্যম দুইটা আংগুল টা মুখে ঢুকিয়ে আলাজিহবা পর্যন্ত নিয়ে গেলাম। এ্যাকশন শুরু হলো সাথে সাথেই। আমার রুম থেকে বের হলেই ডাইনিং টেবিল। কোন রকমে দৌড়ে যেয়ে রুমের দরজাটা পার হতে পারলাম। তারপর ডাইনিং টেবিলের সামনের মেঝে বমি করে ভাসিয়ে দিলাম। ভার্সিটি থেকে বের হয়ে আজকে চার বান্ধবীরা মিলে চাঁদা তুলে পিজা খেয়েছিলাম, টাকাটা পুরোই গচ্ছা গেল! মা রান্না ঘর থেকে এসে দেখে এই অবস্থা। কোন রকমে ধরে নিয়ে আমাকে রুমে নিয়ে বেডে শুইয়ে দিল আর কাজের বুয়াকে বলল ঘর পরিষ্কার করতে। ছোট বোন বাসায় নেই, কলেজে গেছে, আসবে ৪ টার দিকে। জি বাংলায় সিরিয়াল দেখতে দেখতে অতিরিক্ত পেকে গেছে। যা করার ও আসার আগেই করতে হবে। ১৫ মিনিটের মতো চুপচাপ বেডে শুয়ে থাকলাম। প্রায় ৩ টা বাজে। কিছুক্ষণ পর আবার এ্যাকশনে যেতে হবে। রুমে কেউ নেই দেখে আস্তে যেয়ে ছোট বোনের ওয়ারড্রোব খুলে ন্যাপথলিনের প্যাকেটটা নিয়ে বেডে চলে আসলাম। ন্যাপথলিনের গন্ধ আমি একদম সহ্য করতে পারি না। বড় বড় ৪ টা ন্যাপথলিন বের করে হাতে নিলাম। ৫ মিনিট পর নাকের সামনে ৪টা ন্যাপথলিন জোর করে চেপে ধরে রাখলাম। ন্যাপথলিনের পঁচা গন্ধে আমার সাথে সাথেই আবার বমি চলে আসল। বেড থেকে কোন রকমে উঠে বসতে পারলাম, নামার সময়ও পেলাম না। নিজের রুমের মেঝে বমি করে আবার ভাসিয়ে দিলাম। এবার মনে হয় সকালের নাসতা গুলি বের হলো, এখনও হজম হয়নি দেখে একটু অবাকই হলাম। পরপর দুই বার বমি করে এখন সত্যি সত্যি শরীর খারাপ লাগছে, মাথাও কিছুটা ঘুরাচ্ছে। মা আবার বমির আওয়াজ শুনে এসে দেখে বেডে আমি টলছি, কোন ব্যালান্স নেই। আবার আমাকে বেডে শুইয়ে দিল। কাজের বুয়া ডেকে এক গ্লাস পানি এনে আমাকে খেতে দিল। পানি খেয়ে একটু ভালো লাগছে। কিন্তু উঠে বসার মতো কোন গায়ে শক্তি নেই। মা'র কপালে কয়েকটা ভাঁজ পড়ল। জিজ্ঞেস করল, কয়দিন ধরে এই অবস্থা? চুপ করে আছি দেখে আবার জিজ্ঞেস করল, তবে এবার জোরে। আমি মিনমিন করে বললাম, গত সপ্তাহ থেকে। মা জানে এটা সত্যি কথা। লুকিয়ে লুকিয়ে ৩ বান্ধবী মিলে বাইরে দই ফুচকা খেয়েছিলাম। বাসায় বলিনি। খাবার মনে হয় বাসি ছিল। ওদের কিছু না হলেও আমার খবর হয়ে গিয়েছিল। বমির জন্য এই সপ্তাহেই ২দিন ক্লাসে যেতে পারিনি। মা কাজের বুয়াকে রুম থেকে চলে যেতে বলল। বেডে বসে আস্তে জিজ্ঞেস করল আর কি কি সমস্যা হচ্ছে? আমার ক্লোজ এক বান্ধবী তিন মাস আগেই কন্সিভ করেছে। আমি ভালো করেই জানি প্রাথমিক সিমটম কি কি? খুব ভালো করে শুনেছিলাম সবাই গোল হয়ে বসে। কি চমৎকার সুযোগ আহরিত জ্ঞান চারপাশে ছড়িয়ে দেবার! আমি বোকা বোকা ভাব নিয়ে বললামঃ
-তেমন কিছুনা, শুধু সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠলে, পিঠের দিকে একটু ব্যথা ব্যথা করে, সারা দিন সামান্য মাথা ঘুরায়।
খেতে ইচ্ছে করে নাকি জিজ্ঞেস করতে সাথে সাথেই বললাম-
-না না, কিচ্ছু খেতে ইচ্ছে করে না। খাবার দেখলেই বমি পায়।

আমার খেতে ইচ্ছে করে না শুনে মা'র চোখ চড়খগাছ হয়ে গেল। জিহবা সামলাতে পারি না দেখে ছোট বেলা থেকেই মা'র কাছ দিনরাত বকা শুনি! আমার এই কথা শুনে মা'র তো এরকম হবেই। মা দেখি বড় বড় করে শ্বাস নিচ্ছে। হজম করতে কষ্ট হচ্ছে মনে হয়! আমার দিকে চোখ ছোট করে অনেকক্ষন তাকিয়ে থেকে আসল প্রশ্নটা করল।
-তোর শেষ কবে হয়েছে?
আমি বুঝেও না বুঝার ভান করে বললাম-
-কি শেষ হয়েছে?
মা অনেক কষ্টে রাগ সামলিয়ে আবার জানতে চাইলঃ
-তোর শেষ পিরিয়ড কবে হয়েছে?

স্কুল কলেজে থাকতে মা আমার জিনিসগুলি কিনে এনে দিত। ভার্সিটিতে উঠার পর খুব লজ্জা লাগতো। এখন মেয়েদের দোকান থেকে নিজেই কিনে আনি। মা'র আমার এসব বিষয় মনে না থাকারই কথা! ছোটটাকে নিয়েই সারা দিন ব্যস্ত থাকে। এই চ্যান্সটাই নিলাম। খুব ভালো করে গুনে বলছি, এমন ভাব করে আঙ্গুল দিয়ে গুনে গুনে বললামঃ
-৩৫ দিন তো হবেই।
কনর্ফাম হয়ে যে বলছি সেটা বুঝানোর জন্য আমার রুমে ঝুলানো ALICO'র ওয়াল ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে বললাম। আমি ভালো করেই জানি ৪/৫ সপ্তাহের আগে সিমটম ভালো ভাবে বুঝা যায় না।

যা আশা করেছিলাম সেটাই হলো। সাথে সাথেই মা এক চিৎকার দিয়ে উঠল। রাগে বাম হাতে আমার চুল ধরে, ডান হাতে কষে গালে একটা থাপ্পড় দিল। যা ইচ্ছা তাই ভাষায় আমাকে বকা দিতে লাগল। আমি যে চরিত্রহীন মেয়ে, বংশের কুলাঙ্গার সেটা বার বার মনে করিয়ে দিল। আমি চুপ করে আছি। বোবার কোন শত্রু নেই। সুতরাং নিরবতাই সব চেয়ে ভালো বুদ্ধি। কিন্তু চিৎকার চেচামিচি শেষ করে যখন জানতে চাইলো, কোন সেই হারামজাদা ছেলে আমার এত বড় সর্বনাশ করেছে, তখনই পরলাম আমি আসল বিপদে। হায় হায়, এটা তো আমি চিন্তা করিনি! হায় খোদা! এখন আমি কি বলব? ঐ সিরিয়ালটার অ্যাডের পর বাকিটা দেখা অবশ্যই উচিত ছিল। না দেখে যে কি ভূল করেছি সেটা এখন মর্মে মর্মে টের পাচ্ছি। উল্টা পালটা কারো নাম বললে সেই ছেলের খবর আছে! বাবা হাইকোর্টের উকিল। নির্ঘাত রেইপ কেসে ফাঁসিয়ে দিয়ে ছেলের পুরো লাইফ শেষ করে দেবে! মুখ যেভাবেই হোক বন্ধ রাখতে হবে। আমি কোন কথা বলছি না দেখে মা আরো ক্ষেপে গেল। পা থেকে স্যান্ডেল খুলে ৫/৬ টা বাড়ি দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল। আমি নিশ্চিত বাবাকে এখনই ফোন দেবে! বাবাকে ছাড়া মা কোন সিদ্ধান্তই নিতে পারে না। ডাইনিং রুম থেকে মা'র কথা শোনা যাচ্ছে, বাবাকে ফোনে কানতে কানতে আমার নামে বিচার দিচ্ছে। আজকে আমার খবর আছে! হাত পা এখনই ঠান্ডা হয়ে আসছে। এর পরের ঘটনা গুলি আমার চোখের সামনে খুব দ্রুতই ঘটতে লাগলোঃ

এক
মনে হয় বাবাই বুদ্ধি দিয়েছে, মা খালা কে ফোন করে আসতে মানা করে দিল। কি কি সমস্যার কথা যে বলল, এত দূর থেকে বুঝলাম না। বুঝার দরকারও নেই। আসতে মানা করে দিয়েছে এটাই বড় কথা। একটু আগেও মার খেয়ে যে ব্যাথা লাগছিল সেটা ভূলে গেলাম। চরম শান্তি পেলাম মনে! এত কষ্ট করে যা পরিশ্রম করেছি পুরোপুরি সার্থক!

দুই
মা এসে আমার ঘরের দরজা লাগিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে তালা মেরে দিল। আমার কোন সমস্যা নেই। আমি আমার রুমে খুব ভাল এবং নিরাপদে থাকবো।

তিন
অনেক টায়ার্ড লাগছিল ২ বার বমি করে। মনে পরম শান্তি নিয়ে আরাম করে নিজের বেডে গভীর একটা ঘুম দিলাম। কি যে ভালো লাগছে!

চার
হঠাৎ ঘুম ভাঙলো আমার রুমে মা’র চিৎকার শুনে। তাকিয়ে দেখি মা'র হাতে একটা গোলাপি রঙের খাম। ভালো মতো তাকিয়ে দেখে সারা শরীর কাটা দিয়ে উঠল! সর্বনাশ হয়ে গেছে! আমি ঘুমিয়ে গেছি দেখে মা আমার রুমে এসে সি-আই-ডি ইনভেস্টিগেশন চালিয়েছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ০৪ঃ৪৫। হায় হায়, ছোটটা চলে এসেছে। নিশ্চয়ই ওর বুদ্ধি! বাবা'র গলাও শুনতে পেলাম। কোন কিছু বুঝার বা করার আগেই এই ভর বিকাল বেলায় আমার লাইফের ১২টা বেজে গেল।

ইস, কোন দুঃখে চিঠিটা লেখা শেষে কালকে সন্ধ্যার সময় খামসহ আলসেমি করে দিয়ে আসলাম না। কি দারুন একটা রোমান্টিক হিন্দী মুভি হচ্ছিল, ওটা রেখে উঠতেই মন চাচ্ছিল না। ইস, একবার যদি জানতাম এই ঘটনা ঘটবে? মা দেখি খুশিতে ডগমগ হয়ে খামটা বাবার কাছে নিয়ে যাচ্ছ। আসল শয়তান ছেলেকে খুঁজে পাওয়া গেছে! কোন রকমে খাট থেকে নেমে দৌড়ে যেয়ে মা'র পা জড়িয়ে ধরলাম।
-মা, তুমি বিরাট ভূল করছ। আমার কথা শোন। আমাকে একটু কথা বলতে দাও। কোন কিছু না শুনে, না জেনে এত বড় সর্বনাশ করো না, যা শাস্তি দেবে আমাকে দাও, তাও এই চিঠি বাবাকে দিও না। বাবা এই ছেলেকে একদম খুন করে ফেলবে!
মা সারা জীবনই হট টেম্পারের জন্য বিখ্যাত। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। কে শোনে কার কথা?
-খুনই করা উচিৎ এই ছেলেকে। এই রকম কুলাঙ্গার ছেলে না শুধু, ছেলের চৌদ্দগুস্টি কে খুন করা উচিৎ।

মা এক লাথি দিয়ে আমার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বাবা'র কাছে চলে গেল। আমার হাত পা ভয়ে ঠান্ডায় জমে গেল। হায় খোদা! কি থেকে কি হয়ে গেল? এটা তো আমি চাইনি? কোন রকমে বেডে যেয়ে বসলাম। মাথা বনবন করে ঘুরছে। আহা, ছেলেটা একেবারে নিষ্পাপ, এর কিছুই জানে না। যা বোকা, হয়ত বুঝবেও না ঘটনা কি? পায়ের আওয়াজ শুনে তাকিয়ে দেখি বাবা আসছেন। অস্তাগফিরুল্লাহ! কোন দিকে পালাব বুঝতে পারছি না?
-আমার ইচ্ছা করছে, তোকে এখনই গলা টিপে মেরে ফেলি, কিন্তু তুই মরে গেলে আমি কিছুই প্রমান করতে পারব না। আগে ওই হারামজাদা শুয়োরের বাচ্চাটাকে ধরে নেই। তুই কি মনে করেছিস এইসব আকাম কুকাম করে এত সহজেই পার পেয়ে যাবি? আগে উপর থেকে আসি, তারপর দেখিস আমি তোকে কি করি?
যা মা'র সাথে করেছিলাম, সেটাই করলাম, দৌড়ে যেয়ে বাবা'র পা জড়িয়ে ধরলাম।
-বাবা তোমরা বিরাট ভুল করছ। আমার কথা শোন। আমাকে একটু কথা বলতে দাও। আন্দাজে এত বড় সর্বনাশ করো না, যা শাস্তি দেবে আমাকে দাও। উপরে যেও না। ভাইয়া খুব ভালো ছেলে। আংকেলের অনেক রাগ। এই ভয়ংকর কথা শুনলে আংকেল ভাইয়াকে একদম জবাই করে ফেলবে!

বাবা এতক্ষন যা রাগ করেছিল, আমার মুখে ভাইয়া ভালো ছেলে শুনে তার তিনগুন ক্ষেপে গেল। কষে আমার গালে একটা থাপ্পড় মেরে বাবা উপরে চলে গেল। ধ্যাত, কথা বলতে যেয়ে হীতে বিপরীত হয়ে গেল। বাবা'র যা স্বভাব উপরে যেয়ে কি তুঘলকি কান্ড ঘটাবে সেটা ভেবে সারা শরীর আমার পানিশূন্য হয়ে যাচ্ছে! কি চাইলাম আর কি হলো শেষে? এখন তো মনে হচ্ছে খালা এসে আঙটি পড়িয়ে দিলেই এরচেয়ে অনেক ভালো হতো। অধিক শোকে পাথর হয়ে আমি বেডে চুপচাপ বসে রইলাম।

পাঁচ
মা এসে আমার ঘরের দরজা বাইরে থেকে আবার তালা মেরে দিল। কিচ্ছু ভাল লাগছে না! আমার মনের সব গোপন ইচ্ছে আর অসম্ভব ভালবাসার কথাগুলি যখন মনটা খুব ভালো থাকত, তখন এই চিঠি গুলিতে লিখে রাখতাম। নির্ঘাত সব কয়টা চিঠি এখন উদ্ধার করা হবে। ভাইয়া যা বোকা, হয়ত ভালো ভাবে লুকিয়েও রাখবে না। তার উপরে এখন বাসায়ও নেই। আমাকে এখন কে বাঁচাবে? এগুলি এখন এই বিল্ডিং এর মনে হয় সবাই পড়বে! এর চেয়ে গলায় দড়ি দেয়াও ভাল। ছাদের ফ্যানের দিকে তাকালাম। অনেক উঁচুতে। এত উপরে উঠব কিভাবে? আমার মতো অপদার্থ একটা মেয়ে ঝামেলা লাগান ছাড়া আর কিবা করতে পারব? আজকের এই সমস্ত ঝামেলার জন্য আমি একমাত্র দায়ী। মা রুম থেকে বের হবার সময় আমার মোবাইলটাও নিয়ে গেল দেখলাম, চাইবার সাহসও পাইনি। নির্ঘাত ওখানে ভাইয়ার বেশ কয়েকটা ছবিও পাবে। লুকিয়ে লুকিয়ে বারান্দা থেকে তুলেছিলাম। দুই চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে, আর কোন দিনও ভাইয়ার সামনে যেতে পারব বা, শত ইচ্ছা হলেও এক পলক দেখতেও পারব না। আমি নিশ্চিত আমাদের এই ভাড়া বাসা ছেড়ে চলে যেতে হবে। তিশা আপু আমার হাতের লেখা দেখলেই চিনবে। কোন ভুল হবে না। বুকের সব কষ্ট আর চেপে রাখতে পারলাম না। বেডে ঝাঁপিয়ে পড়ে উপুর হয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলাম…….

ছয়
কতক্ষন ধরে কেঁদেছি জানি না। বাবা'র গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আল্লাহ জানে উপরে কি তুঘলকি কান্ড ঘটিয়ে এসেছে? বেড থেকে নেমে দরজার কাছে যেয়ে দাড়ালাম। কি কথা বাবা মা'কে বলছে শুনা দরকার। যা শুনলাম তাতে সাথে সাথেই মাথা ঘুরে পড়ে যাবার উপক্রম হলো।
* ভাইয়ার রুম থেকে আরো এরকম আমার ১১টা চিঠি খামসহ উদ্ধার করা হয়েছে।
* সেগুলি পড়ার পর, বিনা যুদ্ধে তিশা আপুর বাবা সব মেনে নিয়েছেন।
* ভাইয়াকে বাসায় ডাকা হয়েছে, তবে এসব কিছুই বলা হয়নি, উনি রওনা দিয়েছেন, কিছুক্ষন পরেই চলে আসবেন।

ইস, মোবাইলটা যদি আমার কাছে থাকত, ভাইয়ার নাম্বার আমার কাছে আছে। তিশা আপুর কাছ থেকে লুকিয়ে নিয়েছিলাম। কোনদিন সাহস করে ফোন দেইনি, এখন অবশ্যই দিতাম। দিয়ে যত দূরে সম্ভব পালিয়ে যেতে বলতাম! ঝড় যা যেত আমার উপর দিয়ে যেত! তাও তো ভাইয়া বেঁচে যেত…..

সাত
অনেকক্ষন পরে ছোট টা এসে তালা খুলে ভিতরে ঢুকল। আমাকে হাত মুখ ধুয়ে, ড্রেস চেঞ্জ করে ভালো একটা ড্রেস পড়ে নিতে বলল। আমি কিছুই বুঝলাম না। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, এসব কেন? যা শুনলাম তাতে আমার হৃদ-কম্পন সাথে সাথেই বেড়ে গেল। তিশা আপুর বাসা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এহেন অযাচিত জঘন্য অপকর্মের শাস্তি স্বরুপ একটু পরেই ভাইয়ার সাথে আমার বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হবে! হতভম্ব হয়ে ছোট টার কাছে আবার জিজ্ঞেস করে ভালো করে পুরো ঘটনা শুনলাম। ভাইয়ার সাথে আমার বিয়ে? হায় আল্লাহ, কি বলে এসব? ভাইয়ার বড় মামা নাকি একটু আগে কাজী ডাকতে গেছে। এই দীর্ঘ নয় মাস আল্লাহর কাছে কত যে কান্নাকাটি করেছি ভাইয়ার জন্য, ভাবতাম কবে আল্লাহ আমার দিকে মুখ তুলে তাকাবে? অবশেষে তাকাল কিন্তু এভাবে কেন? যাক, যা করে আল্লাহ ভালোর জন্যই করে। বুকের মধ্যে এত দিনের চাপা কষ্টটা হঠাৎ করে বুক থেকে বের হয়ে গেল, হাল্কা হাল্কা লাগছে। খুশির একটা আমেজ মনে হয় মুখেও ফুটে উঠল। ছোট টা এটা দেখে বললঃ
-এত খুশির কিছু হয়নি। আন্টি অনেক, অনেক খেপে গেছে। উপরে গিয়েছিলাম, আমাকে ডেকে বলল, মেয়েটা এত বেহায়া কেন? আমি তো ওকে এমনিতেই পছন্দ করি। শাকিলের পড়াশুনা এখনো শেষ হয়নি দেখে দেরী করছিলাম। আর কয়টা দিন অপেক্ষা করতে পারল না। আমি তো কয়েক দিন পরে প্রস্তাব পাঠাতামই। এই জঘন্য কাজটা কিভাবে করতে পারলো? একবারও দুই বাসার সবার কথা চিন্তা করলো না। সবাইকে আমরা মুখ দেখাবো কিভাবে? এরপর ও নিজে মুখ দেখাবে কিভাবে?

হায় আল্লাহ, লজ্জায় মনে হলো এখনই ইঁদুর মারার বিষ খেয়ে মরে যাই। নিজের কি সর্বনাশটাই না করলাম? ওই বাসায় যেয়ে এখন নিজের মুখ দেখাব কিভাবে? ইস্ রে, একবার যদি বুঝতে পারতাম? সব রাগ যেয়ে পরল তিশা আপুর উপর। প্রত্যেক দিন একসাথে ইউনিভার্সিটি যাওয়া আসা করি, জগৎ সংসারের এমন কোন বিষয় নেই যে আমরা মেয়েলি আলাপ করি না। একবার আমাকে একটু ইংগিত দেবে না! মেয়েদের পেটে নাকি কথা থাকে না! ধ্যাত, এটা কিছু হলো? শুধু আমার বেলায় যত রকমের ঝুট ঝামেলা লাগে কেন? আমার কপাল এতই খারাপ? আর সাথে সাথে এটা ভালো করেই বুঝলাম, এই বিয়ে যদি কোন কারনে এবার না হয়, ইহ জনমেও শাকিল ভাইয়ের সাথে আমার আর বিয়ে হবে না! নিজের মনকে শক্ত করে উঠে দাড়ালাম, বাথরুম যেয়ে ফ্রেস হতে হবে। মনপ্রান দিয়ে আল্লাহ কে ডাকা শুরু করলাম। আর যেন কোন গিট্টু না লাগে বিয়ের আগে!

আট
সবুজ রঙ এর একটা ড্রেস পড়ে আমার বেডে চুপ করে বসে আছি। তিশা আপুর কাছে শুনেছি, ভাইয়া সবুজ রঙ খুব পছন্দ করে। আমার কাছে এই রঙটা একদম খ্যাত টাইপের রঙ মনে হয়। কিন্তু কিছু করার নেই! না চাইলেও মেয়েদের অনেক কিছু মেনে নিতে হয়। আমি ইচ্ছে করেই অনেক গুলি সবুজ রঙের ড্রেস কিনেছি আর মাঝে মাঝে পড়ি অভ্যাস করার জন্য।

মা এসে মাথায় বড় ঘোমটা দিয়ে বসে থাকতে বলে গেলেন। আরো বললেন, শাকিল ভাইয়ার বাসা থেকে সহজে বিয়েতে রাজি হয়ে যাওয়ায়, বাবা আমাকে আর কিছু বলেন নি। আজ এখন, একটু পড়েই আমার বিয়ে হবে, কিন্তু আমার মনটা আসলেও ভালো নেই। এভাবে বিয়ে হোক আমি কেন, কোন মেয়েই চাইবে না! কত হইচই করে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম আর কি হচ্ছে! কি যে ভয়ংকর অনিশ্চিত জীবনের দিকে হাঁটছি, সেটা শুধুই আমি জানি। সত্য কখনই চাপা থাকে না, একদিন সবাই জানবেই, তখন আমার ভবিষ্যত কি? যদি শাকিল ভাই মেনে নিতে না চায়? আমি কোথায় যেয়ে দাড়াব? বড় একটা দীর্ঘশ্বাস বুক থেকে বের হয়ে এলো। খুব ইচ্ছে করছে আসল ঘটনা সবাইকে চিৎকার করে বলে দেই কিন্তু তিশা আপুর বাসার কথা চিন্তা করে সাহস পাচ্ছি না। এটা করলে আমার একমাত্র ভালোবাসাকে গলা টিপে মেরে এখনই মাটির নীচে নিজের হাতেই সারা জীবনের জন্য কবর দিতে হবে!

নয়
ভাইয়ার সাথে প্রথম দেখা হবার স্মৃতি খুব করে মনে পড়ছে। পাঁচ দিন হলো এই নতুন বাসায় এসে উঠেছি। তিশা আপুর সাথে এক দিন পরেই পরিচয়, একই ইউনিভার্সিটিতে এক ইয়ার উপরে পড়ে। যাক ভালো হয়েছে, একসাথে যাওয়া আসা যাবে। তিশা আপুর বাসায় যেয়ে প্রথম ভাইয়ার ছবি দেখি। কি সুন্দর, ফর্সা, টল, হ্যান্ডসাম ছেলে! আপু বলল, বুয়েটে লাস্ট সেমিস্টারে সিভিলে পড়ছে, তিন মাস পরেই পাস করে বের হয়ে যাবে। পাত্র হিসাবে তো দেখি খুবই যোগ্য ছেলে! না জানি কোন মেয়ের সাথে ইটিস পিটিস সম্পর্ক! ইস, এই রকম একটা ছেলের সাথে যদি আমার বিয়ে হতো! আমার ভাগ্য যেই খারাপ, বাবা মা কোথা থেকে পচা ধচা একটা ছেলে এনে আমার কাছে গছিয়ে দেবে, লুচ্ছা সাদেক ভাই তো আছেই আমার লাইফের বারোটা বাজানোর জন্য! বড় একটা দীর্ঘশ্বাস বের হলো বুকের ভিতর থেকে। পরের দিন রিকশায় করে আপুর সাথে ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছি। কায়দা করে আপুর কাছে ভাইয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। নিজের ভাই সব মেয়েদের কাছেই সুপার হিরো। আসা যাওয়ার সারা রাস্তা আপু ভাইয়ার প্রশংসা করতে করতে কান ব্যাথা করে ফেলল। যেটা জানতে চাই, সেটাই শুধু বলে না! ধ্যাত, প্রথম দিনের প্ল্যান পুরো মাটি হলো। টানা তিন দিনের কান ব্যাথার পর যা উদ্ধার হলো সেটা সত্যই আশাব্যঞ্জক। বুয়েটের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময় তিশা আপুর লুনা নামের এক বান্ধবীকে পছন্দ করত, একদিন লুকিয়ে বাসায় আপুর রুম থেকে নিজের রুমে ডেকে কথা বলছিল, হাতে নাতে মা'র কাছে ধরা পড়ে। মা'র কাছ থেকে টানা সাত দিন নন ষ্টপ বকাবকি শুনার পর থেকে নাকি এখন অতিশয় ভদ্র ছেলে! শুনে মনে বড়ই শান্তি পেলাম। ভাইয়ার চোখ দুইটা দারুন। ছেলেদের বড় বড় চোখ আমার খুবই পছন্দের! লুনা আপুর কি অবস্থা জিজ্ঞেস করতেই জানলাম, তার নাকি অলরেডি বিয়ে হয়ে গেছে। খুবই ভালো হয়েছে! যাক বাবা, আপদ বিদায় হয়েছে!

পাঁচ দিন পরে, বিকাল বেলা আমি বের হলাম পার্লারে যাবার জন্য। অনেক দিন হলো ফেসিয়াল আর ভ্রু প্ল্যাক করি না, দেখতে একদম পঁচা লাগছে। পার্লারে যেয়ে সুন্দর করে দুইটা কাজ করার পর বাসায় ফিরব, আয়নায় নিজের ফেস দেখে তো আমি নিজেই মুগ্ধ! ইস, কি যে সুন্দর লাগছে! মোবাইল বের করে তাড়াতাড়ি কয়েকটা সেলফি তুললাম, বাসায় যেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিতে হবে। মনটা খুব উড়ু উড়ু লাগছে। গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে সিড়ি দিয়ে প্রায় দৌড়ে উঠছি! দোতলায় এসে হঠাৎ থমকে দাড়ালাম। শাকিল ভাই কেবল বাসা থেকে বের হয়ে এসেছে, মনে হয় নীচে নামবে। আমাকে দেখে তো অবাক, এই মেয়ে এই বাড়িতে কোথা থেকে আসল? ছেলেরা নতুন কোন মেয়ে দেখলে এমনিতে তাকায়, তার উপর আবার আমি পার্লার থেকে সাজুনী বুড়ি হয়ে এসেছি। বড় বড় চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছি। আমার যা লজ্জা লাগছে, গাধা কোথাকার, এভাবে কোন মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়? মাথা হালকা নীচু করে আমি ডান হাত দিয়ে কানের পাশে পড়ে থাকা অবিন্যস্ত চুল গুলি ঠিক করছি। এক মিনিট পরে সালাম দিলাম। দেখি কি বলে ভাইয়া?
-আপনি কি তিন তলায় নতুন এসেছেন?
-জী ভাইয়া।
-আপনার নাম কি?
-নুসরাত ইয়াসমিন প্রভা।
-ও, আচ্ছা।
আর কিছু না বলে ভাইয়া আমার পাশ দিয়ে নীচে নেমে যাচ্ছে। সবুজ হাফ স্লীভ শার্ট আর ব্লু জিন্স প্যান্টে ভাইয়া কে যা লাগছে না! ইস, আমার তো এখনই পছন্দ হয়ে গেল দেখছি! দেখি তো ভাইয়ার কি অবস্থা? সেদিন একটা তামিল মুভিতে দেখেছি, কোন ছেলের যদি কোন মেয়েকে দেখে পছন্দ হয়, তাহলে এক থেকে বিশ গনার মধ্যেই ঘুরে আবার তাকাবে। আমি সাথে সাথেই গনা শুরু করলাম। দশ পার হবার পর টেনশন বেড়ে গেল, হায় খোদা! যাক, তের গুনার পর পরই ভাইয়া মাথা ঘুরিয়ে পিছনে আমার দিকে তাকাল। আমি লজ্জায় উপরে তিন তলায় দে দৌড়…….

দশ
কাজী সাহেব যখন আমার রুমে ঢুকে আমাকে শাকিল ভাইয়ের সাথে নিকাহতে রাজি আছি নাকি জিজ্ঞেস করলেন, আমি কোন রকম চিন্তা ভাবনা ছাড়াই তিন বার কবুল বলে দিলাম, তাও আবার জোরে জোরে। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ আর বাবা আমার বেহায়াপনা দেখা মাথা নাড়তে নাড়তে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। কে কি মনে করল তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। শাকিল ভাইয়ের সাথে আমার বিয়ে হচ্ছে এটাই সবচেয়ে বড় কথা, কতটা দিন ধরে আমি শুধু এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করে আছি সেটা শুধু আমিই আর আমার উপর আল্লাহ জানেন!

এগারো
আধা ঘন্টা পর তিশা আপু যখন আমাকে দেখতে রুমে আসলেন, আমি দৌড়ে যেয়ে আপুকে জড়িয়ে ধরে বেডে এনে বসিয়ে, সব সত্যি কথা এক নিশ্বাসে বলে দিলাম। অনেকক্ষন বুকের মধ্যে চাপা দিয়ে রেখেছিলাম, এত ভারী লাগছিলো, সব কথা বলার পর বুকটা একদম হালকা হয়ে গেল। তবে এই কাহিনী শুনে তিশা আপুর মাথা মনে হয় পুরোপুরি আউট হয়ে গেল, অসম্ভব অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিয়ে আমার দিকে টানা দুই মিনিট তাকিয়ে থাকল। তারপর উঠে যেয়ে টেবিলে রাখা জগ থেকে পরপর দুই গ্লাস পানি খেয়ে বেডে আমার পাশে আবার এসে বসল। গলা শুকিয়ে গিয়েছিল মনে হয়।
-প্রভা, হায় খোদা, তুই এটা কি সর্বনাশ করেছিস? সবাইকে তো সত্যটা জানাতে হবে? কে জানাবে?
-তুমি আপু, এই জন্যই তো একমাত্র তোমাকেই বললাম!
-বলিস কি? শুনেই তো আমার গা হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। বলব কিভাবে আমি, আমার তো সাহস হচ্ছে না রে…..
-তোমাকেই বলতে হবে আপু, তুমি ছাড়া এটা আর কারো পক্ষেই দুই বাসায় বলা সম্ভব না।
-সেটা না হয় বললাম, কিন্তু জানার পর তো দুই বাসাই তোকে মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলবে। সেইগুলি না হয় দাঁত চেপে সহ্য করলি, কিন্তু ভাইয়া? ভাইয়াকে কিভাবে সামলাবি? এই বিয়ে নিয়ে ভাইয়ার যা অবস্থা, এই কাহিনী শুনলে নির্ঘাত তোকে নিজের হাতেই খুন করে ফেলবে। যা ক্ষেপে আছে!
-সবাইকে বলতে পারলেও আমি ভাইয়াকে বলতে পারব না। সন্ধ্যায় আমি ভাইয়াকে তোর সাথে সম্পর্ক নিয়ে অনেক উলটা পালটা কথা বলেছি, এখন এই কাহিনী আমি বলতে গেলে ভাইয়া নির্ঘাত আমার মাথা ফাটিয়ে ফেলবে। তোকে বা অন্য কাউকে দিয়ে বলাতে হবে, আমার মনে হয় তুই নিজেই গিয়ে বল। বিয়ে যেহেতু হয়ে গেছে, এই সিচুয়েশান তো তোকে ফেস করতেই হবে, আজ না হোক কাল।
-ঠিক আছে, উনাকে আমিই বলব, তবে একা। সবার সামনে এই কাহিনী আমি উনাকে বলতে পারব না। উনাকে বলার পর আমার কপালে কি আছে জানি না, তবে এত বড় মিথ্যা কথা উনার কাছে গোপন রাখতে পারব না।
-তুই এখানে চুপ করে বসে থাক, আমি বাসা থেকে একটু ঘুরে দেখে আসি এখন কি অবস্থা!

শাকিলের রুম (সন্ধ্যা ৭ঃ৪৫)
পাঁচ মিনিট পর তিশা আপু কিভাবে যেন লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে আপনার এই রুমে এনে দিয়ে বললঃ
-ভাইয়া মনে হয় বাথরুমে মাথায় পানি ঢালছে। তুই বেডে বসে থাক। ভাইয়াকে যেভাবে পারিস তুই সামলা। আমি দুই বাসায় যেয়ে বলি তুই কি অঘটন ঘটিয়েছিস? খবরদার, এই রুম থেকে বের হবি না। এই কাহিনী শুনার পর বাবা তোকে এই বাসায় পেলে একদম পিটিয়ে মেরে ফেলবে। তোর বাবা আমাদের বাসায় এসে বাবাকে যা বলে গেছে, তাতে কয়দিনে যে বাবা'র রাগ কমে কে জানে?

প্রায় পনের মিনিট ধরে নুসরাতের মুখে পুরো কাহিনী শুনার পর শাকিলের ইচ্ছে করছে দুই হাত দিয়ে টেনে টেনে নিজের মাথার সবকয়টা চুল ছিড়ে ফেলতে। কত বড় বিপদ থেকে যে বেঁচে গেছে ও সেটা শুধু আল্লাহই জানে। সামান্যের জন্য কানের পাশ দিয়ে গুলি বের হয়ে গেছে, টাচ করেনি। এই মেয়ে চিঠি গুলি পাঠিয়েছে আর আমি এত দিন ভেবে এসেছি সেগুলি দিয়েছে ……….। সব রাগ যেয়ে পড়ল নুসরাতের উপর।
-বেকুবের মতো চিঠি পাঠিয়েছ কেন? চিঠিতে নাম লিখবে না? কিভাবে আমি বুঝব সেগুলি তোমার? গাধা কোথাকার?
-কেন? প্রত্যেকটা চিঠির শেষে আমি আমার নামের আদ্যক্ষর লিখে দিতাম। পুরো নামটা ইচ্ছে করেই দিতাম না, অন্য কারো হাতে পড়লে? বিপদে তো আমি পড়ব, আপনি না!
মেজাজটা আরো খারাপ হয়ে গেল শাকিলের, কি ঘোড়ার ডিম বলে এই মেয়ে? মাথা খারাপ নাকি?
-তুমি তো শেষে লিখতে প। তুমি তো লিখবে ন। নিজের নাম কি কেউ ভূল করে?
-আমি তো প ই লিখব। আমার ডাক নাম প্রভা। আমাদের বাসায়, আপনাদের বাসায় সব জায়গায় তো আমাকে এই নামেই ডাকে। কেন আপনি আমার এই ডাক নামটা জানেন না?

হতভম্ব হয়ে চরম অবিশ্বাসের দৃষ্টি নিয়ে শাকিলের দিকে তাকিয়ে আছে নুসরাত। আসলেই এটা অনেক কষ্টকর ব্যাপার। বিশেষ করে এতগুলি প্রেম পত্র কাউকে দেবার পর সেই যদি ……..। দুঃখের বিষয় হলো, এই ডাক নাম শাকিল বেমালুম ভূলে গেছে, মনে হয় এই নামটা কোথায় যেন শুনেছিল! ধ্যাত, কত কিছু আর একটা মাথায় রাখা যায়?

শাকিলের মাথায় তখন অন্য কিছু ঘুরছে। হায় হায়, আমি মনে করেছিলাম এই সব চিঠিগুলি দিয়েছে তিশার বান্ধবী পায়েল। রেগুলার আমাদের বাসায় আসে। বাসায় দেখা হলে গায়ে পড়ে পড়ে কথা বলে, ওকে দোষ দিয়ে লাভ কি, আমি নিজেও বলি। মেয়ে দেখতে যা সুন্দর, চেহারাও খুব মিষ্টি। তার উপর সবসময় সাজুগুজু করে এই বাসায় আসে! এই মেয়ে আমার সাথে কথা বলার সময় চোখের ভাষায় কি যেন সব সময় বলার চেষ্টা করে! প্রথম চিঠিটা পাবার পর একদিন বিকাল বেলা বাসায় ফিরে দেখি আমার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে কেমন যেন করে আমার সামনে থেকে সড়ে গেল আর রুমে যেয়ে টেবিলের উপর বই গুলির নীচে পেলাম দ্বিতীয় চিঠি। আমার কি দোষ? আজ মঙ্গলবার, রবিবার অফিসে বসে চিন্তা করলাম, অনেক দিন তো হলো, অনেকগুলি চিঠিও পড়লাম, মেয়েটাকে কিছু এমনিতেই বলা দরকার। ভাবছি আসছে বৃহঃস্পতিবার বিকালে একবার ফোন দিয়ে আমার সাথে এই শুক্রবার বাইরে ঘুরতে যেতে বলব। এই শুক্রবার অফিস ছুটি আর কোন ক্লাস নেই, পায়েলকে নিয়ে সারাদিন ঘুরাও যাবে আর কথাও বলা যাবে। তিশার মোবাইল থেকে পায়েলের নাম্বার গতকালকেই নিয়েছি, আমার কাছে নিয়ে এসেছিল কি একটা মোবাইলে সমস্যা দেখানোর জন্য। মাত্র দুইদিন এদিক ওদিক হলেই সাড়ে সর্বনাশ হয়ে যেত। সাথে সাথেই তিশাকে বলে দিত। আর তিশা সারাদিন যেভাবে আমার পিছনে লেগে থাকে নির্ঘাত কবরে চিরস্থায়ী ভাবে শুয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত এই নিয়ে আমাকে খেপাত!

সেটা থেকে তো বিরাট বাঁচা বাঁচলাম, কিন্তু এই মেয়েকে নিয়ে এখন আমি কি করব? মিলিয়ন ডলার কোশ্চেন? ঘটনা শুনে মনে হচ্ছে পুরো কাহিনী না শুনেই আমার বাবা নুসরাতের উকিল বাবা'র ঠেলায় আইনি মামলার ভয়ে আমাকে ঈদ-উল-আযহা ছাড়াই কুরবানী দিয়ে দিয়েছে! সারা জীবন বাবার ভয়ে ভয়ে কাটিয়েছি, এই একটা চান্স শোধ নেবার! একেবারে সারাজীবনের সুদ সহ আসল আদায় করা যাবে। কিন্তু তাতে তো এই মেয়ের বারোটার উপর কিছু থাকলে সেটা বেজে যাবে! আহা, যেই চিঠি গুলি লিখত, পড়লে পুরো মাথা ঘুরে যায়! এর মধ্যে আট নাম্বারটা ছিল কঠিন! হানিমুনে যেয়ে কি কি করবে সেটার লিষ্ট, নির্ঘাত বাবা এটা পড়েই ঠান্ডা হয়ে গেছে! ঐ দিন সন্ধ্যায় কি একটা কাজে বাসায় এসেছিলাম, লাষ্ট সেমিষ্টারটা প্রোজেক্টের ঝামেলার জন্য প্রায় সারাসময়ই হলে ছিলাম। চিঠিটা পেয়ে না পড়ে ব্যাগে করে হলে নিয়ে গিয়েছিলাম। রাতের বেলা ঘুমানোর আগে ঐ চিঠি পড়ে আমার খবর হয়ে গিয়েছিল। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। ওই রাতের কথা মনে পড়তেই মনে শয়তানি বুদ্ধি আসা শুরু করল। আমাকে হানিমুনের থিওরিটিক্যাল লোভ দেখিয়েছ, আরে ওটা তো দ্বিতীয় পর্ব, আমি বরং তোমাকে আজকে প্রথম পর্বের প্র‍্যাকটিকাল ট্রেনিং দেই! আমার রুমেই তো আছ, বিয়েও হয়ে গেছে, অসুবিধা কি? বিকাল থেকে যেই প্যারা দিয়েছে আমাকে, তার কিছুটা তো হলেও ফেরত দেয়া দরকার! ঠিক না? শাকিল নুসরাতের দিকে ভালো করে তাকালো।
-আমার সাথে তো তোমার দেখাই হয় না। না দেখেই প্রেমে পড়ে গেছ? তাও আবার বারটা প্রেম পত্র!
-আপনি যখন বুয়েটে পড়তেন, তখন খুব কম দেখা হতো। হলেই তো থাকতেন সব সময়। পাশ করে চাকরি নেবার পরে তো আমি আপনাকে প্রতিদিনই দেখি। রাত ১০ঃ০০ থেকে ১০ঃ১৫ মিনিটে বাসায় আসেন। আমি লাইট নিভিয়ে বারান্দায় গ্রিলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি।
মেয়ে অতিশয় সত্য কথা বলেছে। ঠিক এই সময়েই শাকিল ইভেনিং এম বি এ'র ক্লাস শেষ করে বাসায় ফেরে।
-বাসা ভাড়ার টাকা প্রতি মাসে এত রাতে দিতে আসতে কেন? তাও আবার শাড়ি পড়ে?
-এত রাত ছাড়া আপনি বাসায় থাকেন? কত কষ্ট করে এত রাতে শাড়ি পড়ে আসতাম, একবার ভালো করে দেখতেনও না। শাড়ি পড়তে কত কষ্ট হয় জানেন? একবার নিজে পড়ে দেখুন! টাকাটা হাতে নিয়ে মুখের উপর দরজা ঠাস করে লাগিয়ে দিতেন। বন্ধ দরজার ঐ পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কতদিন কেঁদেছি আমি, আচঁল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বাসায় চলে যেতাম।

অভিমানে দেখি নুসরাতের চোখে এখনও জল চলে এসেছে। এই মেয়ে তো দেখি ভালোই ফিদা হয়েছে আমার জন্য! এই মেয়ের কথা যে আমি একেবারে চিন্তাই করিনি কখনো তা না; তবে উকিল, ডাক্তার আর পুলিশকে আমি দুই চোখে দেখতে পারি না। এর বাপ এই ব্যাড লিষ্টে ছিল দেখে এই মেয়ের নাম আমি মন থেকে প্রথমেই কেটে দিয়েছিলাম। এই জন্যই কোন প্রশ্রয় দিতাম না। মেয়ে দেখতে সুন্দর, স্বাস্থ্য একটু ভালো, আর প্রথম দিন সিড়িতে আসলেও নুসরাত কে দুর্দান্ত লাগছিলো, আমি তো হঠাৎ দেখে থ! সাজুগুজু করলে ভালোই লাগে! মাপ করে দিব? দোষ পুরাপুরি ওর ও না। কাউকে ভালো লাগতেই পারে, প্রেম পত্র তো লিখে, কাউকে দেবার জন্যই। লঘু পাপে গুরু দন্ড অবস্থা দেখি এই মেয়ের!

কি করা যায়! আমার বাসায় এই কাহিনী শুনলে, আমি না ঠেকালে, সোজা ঘাড় ধরে বের করে দেবে। আমি চুপ করে আছি দেখে মেয়ে মনে হয় আরো ভয় পেয়েছে। মাথা নীচু করে নিঃশব্দে কান্না করছে, চোখ বেয়ে টপটপ করে অবিরত জল পড়ছে। খুবই অসহায় অবস্থা, কোন জায়গায় যাবার অবস্থা নেই। এই রুম থেকেই বের হতে পারবে না, বের হলেই ওর খবর আছে! তিশা নির্ঘাত এতক্ষনে সবাইকে বলে দিয়েছে। দুই বাসার সবাই ওর জন্য বাইরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে গনধোলাই দেবার জন্য। বেচারা, প্রেম পত্র লিখে এত বড় বিপদে কেউ পরে? মনে হচ্ছে, আমি ছাড়া আর কেউ নুসরাতকে বাঁচাতে পারবে না। আমি মেনে নিলেই কেস ফিনিস। প্রেগন্যান্সির ব্যাপারে কয়েকদিন পরে সবাইকে বুঝিয়ে বললেই হবে যে, সাদেকের সাথে আঙটি পড়ানো থামাতেই মিথ্যে কথা বলেছে। মায়া লাগছে দেখে, তিশা ঠিক কাজটাই করেছে আমার কাছে এনে দিয়ে। চোখের জলে ভেজা ভেজা মুখটা দেখতে এখন ভালোই লাগছে। ইচ্ছে করছে হাত দিয়ে চোখের জলগুলি মুছে দেই। কিন্তু না, এখন খবরদার এই কাজ করা যাবে না। নতুন বিয়ে হয়েছে, কোনরকম প্রশ্রয় দেয়া যাবে না, দিলেই সোজা মাথায় উঠে বসবে। তার চেয়ে বরং আমার বেডে বসে কিছুক্ষন কান্নাকাটি করুক, দুনিয়াটা যে খুব কঠিন একটা জায়গা সেটা বুঝুক। এতদিন তো বাপের হোটেলে খেয়ে দেয়ে ফুর্তি করে বেরিয়েছে, এবার বুঝুক দুনিয়াদারি কত কঠিন! আর আমি এই সময়টাতে রুমের বাইরে যেয়ে সম্ভাব্য একটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ থামানোর একটা দুঃসাহসিক প্রচেস্টা করে আসি!

বেড থেকে উঠে কেবল দরজার হ্যান্ডেলটা ধরেছি, সাথে সাথেই তীক্ষ্ণ চিৎকারে মাথা ঘুড়িয়ে দেখি নুসরাত দৌড়ে এসে আমার পা'য়ের উপর ঝাপিয়ে পড়ার উপক্রম! মোহরানা দেয়া ছাড়াই সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে ধরতে হলো আমার! কিছুই বুঝলাম না। ঘটনা কি?
-কি করছ তুমি?
-আপনি আমাকে রেখে পালাচ্ছেন কেন? সামান্য একটু দয়ামায়াও হচ্ছে না আমার জন্য?
ও, আচ্ছা, নুসরাত মনে করেছে ওকে রেখে আমি দরজা খুলে ভাগছি! ঘর পোড়া গরুর সিঁদুর দেখলে ডরায় অবস্থা! দুই কাঁধ ধরে বেডে এনে বসালাম, তারপর কষে একটা ধমক দিলাম।
-মেয়েদের বুদ্ধি কম থাকে জানি, হুমায়ুন আহমেদ নিজেই বইতে লিখে গেছেন। কিন্তু আমার তো মনে হচ্ছে, তুমি বুদ্ধিশুন্যতায় ভুগছ। বেকুব কোথাকার? বাইরে আমি যাব না তো, তুমি যাবে গন্ডগোল থামাতে? তুমি গেলে তো আমি বেঁচে যাই! যাও?
বকা খেয়ে বুদ্ধি কিছুটা খুলল, দুই পাশে মাথা নাড়ছে, নিজে যাবে না। দুই চোখ দিয়ে অঝোরে এখনও জল ঝরছে।
-দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়ে চুপচাপ বেডে বসে থাক। নতুন আর কোন ঝামেলা লাগাবে না। যে বিশাল গিট্টু লাগিয়ে এসেছ, বাইরে যেয়ে কিভাবে তার সমাধান করা যায় দেখি! আর কান্নাকাটি থামাও। শরীরের ৫৫ ভাগ পানির ১০ ভাগ তো মনে হয় বিকাল থেকে কান্নাকাটি করতে করতে কমিয়ে ফেলেছ। আর কমালে অসুখ বাঁধিয়ে আমাকে আরেক বিপদে ফেলবে!

আমার কথা শুনে নুসরাত মনে হয় একটু সাহস পেল। ওড়না দিয়ে দুই চোখ মুছে ফেলে আমার দিকে কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। থাকুক, আমি বেশ বড় করে একটা শ্বাস নিয়ে বেড থেকে উঠে দরজা খুলে বাইরে বের হলাম………..

উৎর্সগ: ব্লগার স্রাঞ্জি সে কে! উনি প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে রাখেন আমাকে নিয়ে অসাধারন সব মন্তব্য করে! আর স্রাঞ্জির কাছে আমার কৃতজ্ঞতা রইল ব্লগের প্রতি মাসের গল্পগুলির সংকলন বের করার জন্য! এটা একটা নি:সন্দেহে দুর্দান্ত কাজ!

পুনশ্চঃ
১. বেশিরভাগ মেয়েরাই নিজের পছন্দের ছেলেকে বোকা আর হাঁদারাম মনে করে, যদিও বেশির ভাগ ছেলেরাই তা নয়!
২. প্রেগন্যান্সির প্রাথমিক সিমটম অনেক গুলি, আমি শুধু খুব কমন কয়েকটা নিয়ে লিখেছি যা সাধারনত মিস হয় না।
৩. পার্লার থেকে বের হবার পর পৃথিবীর যে কোন মেয়েকেই আগের চেয়ে দুর্দান্ত লাগে!

সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল।
স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত @ নীল আকাশ
জানুয়ারি, ২০১৯
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:০৪
৩৮টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"জয় চেরনোবগ"

লিখেছেন উদাসী স্বপ্ন, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৩:৫৯


ইউরোপের অনেক রেস্টুরেন্টের বারে ফানবোর্ডে লেখা থাকে "ড্রিংক বিয়ার সেভ ওয়াটার"। এই লেখাটা প্রথমবার দেখে বেশ হাসি আসলেও বারটেন্ডার যখন বললো আফ্রিকার অনেক দেশে বিশুদ্ধ পানির দাম বীয়ারের চেয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভৌতিক কাহিনী - জ্বীন সাধনা [প্রথম পর্ব]

লিখেছেন নীল আকাশ, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:১৩



ভর দুপুরবেলা। রিক্সা থেকে নেমেই তাড়াহুড়া করে কুরিয়ার সাভির্সের একটা দোকানে ঢুকল রুমি। ছোট কাগজে লেখা একটা গোপন নাম্বার দেখাতেই দোকানদার ওর হাতে একটা মাঝারি সাইজের প্যাকেট তুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

» প্রকৃতির ছবি, দেশের ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা)-২

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৪

বিভিন্ন সময়ে তোলা ক্যানন ক্যামেরার ছবি। আশাকরি ভালো লাগবে আপনাদের ।



হীম পড়েছে তো হয়েছেটা কী-টক খেতে কী মানা
পকেট থেকে বের করো তো পয়সা দু'আনা,
কিপটে মানুষ ফাঁকি বাজি-কত কিছু জানো
যেমন করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিরল কাঁটার বাতাস

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৪০


আমার গাড়িতে একটা লাশ। আমি গাড়িটা চালিয়ে যাচ্ছি। হ্যাঁ, আমিই বহন করে নিয়ে যাচ্ছি লাশটাকে। লাশটা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে না। একজন মানুষ যখন মারা যায়, তার রক্ত, বীর্য, ঘাম,... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই বৈশাখে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১০




বৈশাখ মাস।
দুপুরে ভাত খেতে বসে দেখি, সুরভি রুই মাছ রান্না করেছে পটল দিয়ে। আমার প্রচন্ড রাগ লাগল। রুই মাছ কেউ পটল দিয়ে রান্না করে?
সুরভি হাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×