কোচিং আর কোচিং! এই কোচিং আমার জীবন টা কে পানি পানি করে দিলো! মনে মনে এই বকা দিতে দিতে উঠে রেডি হলাম। সকালে দুইটা কোচিং এর পর এখন আবার। আজ আর কোন রকম অজুহাত ও দেখাতে পারবোনা। গত সপ্তাহে দাওয়াত খেতে গিয়েছি, এই অজুহাতে কোচিং ক্লাশ করিনি। আজ ও যদি না করি...... !
আর ভাবা গেলো না। আম্মুর বকা
রাস্তায় বের হয়ে দোয়া করলাম, আল্লাহ! রিক্সা যেন না পাই। কিন্তু কিসের কি! গলির মুখেই রিক্সা পেয়ে গেলাম। বের ও হতে হলোনা পুরো গলিটা।
স্যারের বাসায় ঢুকতে গিয়ে আবার মন খারাপ হয়ে গেলো। আজো দেরী করে ফেলেছি। স্যারের পাশের সিটে বসতে হবে :'( এই একটা সিটে না বসার জন্য সবাই আগেভাগেই চলে আসে। কারণ আর কিছুই না, স্যারের পাশের সিটে বসা মানেই স্যারের হাতের কাছাকাছি থাকা আর কিছু ভুল হওয়া মাত্রই স্যারের স্পেশাল মাথা ঝাকানি (জাম ভর্তা করে যেভাবে ঠিক সেভাবে স্যার আমাদের মাথা থুক্কু মাথার মগজ ভর্তা করতে চান) খাওয়া। এই ভয়ে সবাই আগে এসে পেছনের সিট গুলি দখল করে।
আজ কপালে কি দূর্গতি আছে ভাবতে ভাবতে রুমে ঢুকলাম। ঢুকেই টাশকি খাওয়ার উপক্রম। হায় আল্লাহ! আজ সূর্য কোনদিকে উঠেছে! রমা আর পিয়া দেখি স্যারের দুই পাশের সিটে বসে আছে। আর অন্য সিটগুলি খালি। খুশিতে আটখানা ষোলখানা হয়ে বসলাম সিটে। যাক বকুনি থেকে বাঁচলাম, এতোটাই খুশি ছিলাম যে আর কিছু ভাবার সময় ই পেলাম না।
ঠিক তখনি স্যার রুমে এসে পড়াতে শুরু করলো। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, রমা আর পিয়ার পড়ার চেয়ে স্যারের হাতের দিকে আগ্রহটা বেশি। রমা আর পিয়া হল আমাদের ব্যাচের সবচেয়ে পড়ুয়া দু স্টুডেন্ট। ওদের জীবনে মনে হয় পড়া ছাড়া আর কিছুই নেই। সেই দুজনকেই দেখছি বই আর পড়া বাদ দিয়ে স্যারের হাতের মোবাইলের দিকে। এটা তো নতুন কিছু না। স্যার তো আমাদের অংক করতে দিয়ে প্রায়ই মোবাইলটা নিয়ে নড়াচড়া করতে থাকেন। এটা এভাবে দেখার কি হলো? ভাবতে গিয়েই পিয়ার চোখে চোখ পড়ে গেলো। সাথে সাথে ওর চেহারাটা ছোট্ট হয়ে গেলো আর ও অংক করা শুরু করলো।
ব্যাপারটা সন্দেহজনক। উদ্ধার করতেই হবে। প্রথমে তো সামনের সিটে বসা, আর এখন এই অবস্থা!
ক্লাশ শেষে রমাকে ধরলাম। বল, ব্যাপার কি? কি হয়েছে তোদের? ও যা বললো, তা শুনে মাথাটা নষ্ট হবার জোগাড়।
আমাদের ব্যাচের সব চাইতে সুন্দরী মেয়ে তাজিন। গত ক্লাশে স্যার নাকি তার মোবাইল দিয়ে তাজিনের ছবি তুলেছে। অংক করতে গিয়ে হাতে থাকা মোবাইল নাড়াচাড়ার এক পর্যায়ে ছবিটা তুলে ফেলে। আর ঠিক তখনি পিয়া স্যার কে অংক বিষয়ক একটা জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে স্যারের মোবালের ছবিটা দেখে ফেলে।
এখন দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে গেলো। এজন্যই ওরা স্যারের পাশে বসেছে। যেন স্যার কোনভাবেই ওদের ছবি তুলতে না পারে। গত ক্লাশে আমার ও কেমন জানি মনে হয়েছিলো স্যারের আচরণে, আজ সেটার কারণ জানলাম। স্যার কে যে এ বিষয়ে কিছু বলবো, আমি কিংবা আমরা, কেউ ই সাহস পাচ্ছিনা। কারণ ছবিটা তোলা হয়েছে আরো এক সপ্তাহ আগে। আর স্যার কে প্রায়ই এভাবে মোবাইল নিয়ে নাড়াচাড়া করতে তো দেখেছি। আগে আরো অন্যদের ছবি তুলেছে কিনা জানি না। অন্যদের মধ্যে আমি নিজে আছি কিনা, তাই বা কে বলতে পারে? ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। কারণ কিছুদিন আগেই আমি ফটোশপ সমন্ধে জেনেছি। ফটোশপে যে একটা ছোট্ট জিনিস কে বড় করা যায় জানি। স্যার তো এতো বোকা ও না যে ছবিগুলো মোবাইলে রেখে দিবেন। পরিমল নামক শিক্ষকের ই বন্ধু উনি। এটা ও হঠাত মনে পড়লো। যদি জিজ্ঞাসা করি, সরাসরি অস্বীকার করবে। কি করা যায়, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিনা।
তাহলে কি আমরা মেয়েরা প্রতিনিয়ত এভাবেই সহ্য করে যাবো? কোন উপায় কি নেই প্রতিরোধের?
পাদটীকাঃ সম্পূর্ণ সত্য ঘটনা এটা। আমার এক বোনের কাছ থেকে শোনা। শুধুই শুনলাম। কোন রকম উত্তর দিতে পারলাম না। কি উত্তর দিবো, ভাষা জানা নেই। যদি বলি ওই স্যারের কাছে পড়া ছেড়ে দিতে সেটা হবে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যাওয়া। আর এই সব মানুষদের এই অপরাধগুলো করার প্রশ্রয় দেওয়া। সবাই মিলে যে স্যার কে জিজ্ঞাসা করতে যাবো সেটা ও পারলাম না। কারণ, এর উত্তর কখনো পজিটিভ আসবেনা। পরবর্তী প্রদক্ষেপে হয়তো ছবিগুলো নেটে চলে যাবে, অথবা ছবি যাদের, তারা হবে ব্ল্যাক মেইলের স্বীকার।
এভাবেই কি চলতে থাকবে? আমরা নিরবে সয়ে যাবো? প্রশ্রয় দিবো এই অপকর্মের? আমি কিছুই বলতে পারিনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


