somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্ধ রাজার চেয়ে পশু শ্রেয়

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কী-যে অদ্ভূত ধারণা আমার,ভাবনা আমার।আমার মনে হয়, যুদ্ধ এ যুগের ক্ষমতাশীল ব্যাক্তির খ্যাতী স্বরুপ।যুদ্ধ ব্যাতীত সেই ক্ষমতাশীল ব্যাক্তি নীজকে প্রকাশ করতে যেন অক্ষম।তাই,কোন ছলে যেন সেই ক্ষমতাশীল ব্যাক্তিকে যুদ্ধ বাধাতেই হয়। যেমন,মার্কিন প্রেসিডেন্ট জজ ডব্লিউ বুশের সন্ত্রাস বিরুদী যুদ্ধ বিশ্ববাসীর নিকট হিংস্র হিসাবে পরিচিতি লাভ করে ।অনুরুপ গাজায় ,ইসরাইলী বোমাবর্ষণে,ইসরাইল বর্বরতার চরম শিখর ছাড়িয়ে হিংস্রের চরম শিখরে পা রেখেছে।আর,যে ক্ষমতাধর ব্যাক্তি অন্য ক্ষমতাধর ব্যাক্তিকে ধবংস করতে পারে,দেশ দখলে নিতে পারে,মানুষকে কীট,পতঙ্গের মত মারতে পারে সে ততবেশী হিংস্রত অর্জন করতে পারে।
এই প্রতিযোগিতা এখন বিশ্বের শক্তিমান দেশগুলোর প্রেসীডেন্টের যেন প্রধান কর্তব্য হয়ে পরেছে।আর তার প্রমান করে ইরাকের প্রেসীডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কে ফাঁসিতে ঝোলিয়ে। শুধু এশিয়ার জনগন নয়,
পৃথিবীবাসী সাদ্দাম হোসেনকে যেভাবে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় তা মেনে নিতে পারেনি ।তেমনি পারেনি বিশ্বের মানুষ গাজায়,হিংস্রের ন্যায় ইসরাইলীর হামলা।তেমনি পারেনা বর্তমান বিশ্বের মানুষ সহজ ভাবে মেনে নিতে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফির নিহতকে ও অজ্ঞাতনামা স্হানে তার কবরকে।হয়তু গাদ্দাফি স্বৈরশাসছিলেন,তাই বলে কি তাকে পাগলা কুকুরের মত গুলি করে মারতে হবে।তাকে কি পৃথবীর কোন আদলতে বিচার করা যেতনা।এক লিবিয়ান গর্বের সহিত বলেছেন,তিনি তাকে গুলি করে হত্যা করেন। মানুষ কতটা নির্বোধ হলে মানুষ খুন করতে পারে এবং জাহির করতে পারে সে খুনি তারই প্রমান করে ঐ লিবিয়ানীয় লোক।
আমার ঘৃণা হয় কোন খুনীর নাম লয়তে,বিবেকের কাছে হয়তু খুনির ক্ষমা আছে,কিন্তু কোরআনের বিধানে নাই,আল্লাহর কাছে নাই।এবার দেখার বিষয় আরববাসীরা গাদ্দাফির খুনের বিচার কোন আইনে করে।এবং সেই খুনীর মদতদাতার কে বিচার করে।কে বিচার করবে,খুনী কি কখনো খুনীর বিচার করতে পারে?পারে না,খুনী খুন করতে পারে।তাহলে বিচার করবে কে?খুনী।আরব বিশ্বে যে প্রাণ গুলো ধ্বংস হচ্ছে তার খুনী কারা তা বিশ্ববাসীর অজানা নয়।যদি ভালবাসত ক্ষমতাশীল মানুষ গুলো সকল জাতীকে সমান ভাবে তাহলে দুর্বল দেশের প্রানগুলোকে ঐভাবে অকালে মৃত্যু বরণ করতে হতনা,বিকলংক অবস্হায় বাঁচতে হতোনা ।তারা(ক্ষমতাশীল ব্যাক্তিরা) বোধ হয় ভাববার সময় পায়না তাদের স্ত্রী,পুত্র,
মা,বাবা,ভাই,বোনকে যদি অন্যে আঘাত করে প্রাণ কেড়ে নেয় তাহলে তাদের মন,প্রাঁণের অবস্হা কেমন হবে। আর তাদের ঐ ভাবনা না থাকার কারন হচ্ছে,তারা জন্ম সুত্রে ক্ষমতাবান।তাদের গায়ে কেউ কখনো আচর দিতে পারেনি,আঘাত করতে পারেনি,ক্ষতি করতে পারেনি।তাই তারা দুঃখ কী, দুঃখের ব্যাথা কত বড় ভয়ংকর যন্ত্রণা স্বরুপ তারা জানে না ।যাক তারা সময় পায়না ভাবেনা কিন্তু দুঃখ উপলব্ধি যদি করে তারা তাহলেও দুর্বল দেশের মানুষগুলোর শান্তিতে মৃত্যু হয়।আমার ক্ষুদ্র জ্ঞ্যান বোধ গম্য নয়,তারা কিশের নেশায়,কিশের আশায় মানুষ হত্যা করে দেশ দখলে নেয়।আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় তারা মানুষ,আর ততটা কষ্ট হয় যতটুকু অবিশ্বাস করতে কষ্ট হয় প্রভু পৃথিবীতে নাই।মাঝে মাঝে সত্যি-সত্যি মনে হয় আমার এই পৃথিবীতে প্রভু নাই।আর সত্যি যদি তিঁনি থাকতেন নিশ্চয় তিনি জীবের জন্য দুঃখ সৃষ্টি কারীদের বিরুদ্ধে নয়,যারা জীবের জন্য শান্তি কামনা না করে- তাদের অন্তরে শান্তি উদয় করে বুঝাতেন অনুরুপ অন্যের জন্য শান্তি সৃষ্টি কর।মাঝে,মাঝে মনে পরে শেখ সাদীর অমর বানীর কথা “অকৃতজ্ঞ মানুষ অপেক্ষা কৃতজ্ঞ কুকুর শ্রেয়” চিন্তাশীল ব্যাক্তি এই বানী অনেকেই অনেক ভাবে নেবে,অনেক সুন্দর ব্যাখ্যা দিবে ।মূলতঃ জ্ঞ্যান সুন্দর অর্থাৎ জ্ঞ্যানহীন ক্ষমতাবান রাজা অপেক্ষা জ্ঞ্যানবান পশু,জন্তু উত্তম ।এরুপ উপমা শেখ সাদী বুঝাতে চেয়েছে আমার ধারনা।আমার ধারনা মানুষ কখনো মানুষকে দুঃখ দেয়না, তা হিংস্র,জন্তু,জানোয়ার,ইতর প্রাণীর কাজ। পৃথিবীর অবস্হা দেখে মনে হয়,এই পৃথিবীতে এখন আর কোন মানুষ নাই-সব যেন হিংস্র,দুর্বল প্রাণী।এই কথাটি এই জন্য বল্লাম,যারা জীবের জন্য দুঃখ সৃস্টি করে তারা হিংস্র,ইতর প্রাণী, আর তা যারা সয়ে যায় তারা দুর্বল-কাপুরুষ।মনে পড়ে যায় সুফিয়া কামালের সেই অগ্নি তপ্ত বাক্যটি,”অবিচার দিয়ে অবিচারকে জয় করা যায় না।অবিচারকে প্রতিবাদ প্রয়োজনে প্রত্যাঘাত দ্বারা প্রতিদান দিতে হয়।কিন্তু কোথায় সেই প্রতিবাদী মানুষ আমি এই যুগে এই পৃথিবীতে তাকে খোঁজে পাইনা ।তবে একজন খোজে পেয়েছি সাংবাদীক সম্মেলনে উপস্হিত হয়ে মার্কীন প্রেসীডেন্ট বুশকে জুতা ছুড়ে মারা ইরাকী সাংবাদীক জাইদীকে ।সেও আমার বিবেক বিরুদ্ধ,বিবেক দ্বারা বিবেচনা করে আমি হেরে যায় আমার বিবেকের কাছে।আমার বিবেকের কাছে জাইদী সেই সাংবাদীক সম্মেলন মুর্হুতে মুক্ত চিন্তার মানুষ নয়,একজন খাটি দেশ প্রেমীক।হয়তু জাইদী বুদ্ধদেব গুহের এই কথাটি জানতেন,
অবিচারকে যারা তুঙ্গে চড়াতে পারে,খুতহীনভাবেই,তারাই একটা পুরো জাতের ,শহরের ,এমনকি দেশের মালিক হয়।বিশ্ববাসী বুশের অবিচার দু,চোখ ভরে দেখেছে,মনে,প্রানে উপলব্ধি করছে কেউ সঠিক প্রতিবাদ করতে সাহস করেনি।তেমনি গাজায়,ইসরাইলীর বর্বরতার হামলা পৃথিবীবাসী দু,চোখ ভরে দেখছে ,মনে ,প্রানে ,উপলব্ধি করছে কেউ ফলপ্রসু প্রতিবাদ করেনি।তেমনি,লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফীকে জন্তুর মত মেরে অঙ্গাত স্হানে তাকে কবর দিয়ে খুনিরা কাপুরুষ্তার পরিচয় করলেও কেউ প্রতবাদ করছে না।আর না করাটাও অস্বাবাবিক কিছু নয়।কারন,জীব মাত্রই ভয়ংকর প্রাণীকে ভয় পায় আর সেই ভয়ংকর প্রাণী বিশ্বেরএখন শক্তিমান দেশগুলো ।আর বিশ্বের কাছে তারা মানুষ নামে নয়,শ্রেষ্ঠ হিংস্র প্রাণী নামেই পরিচিতি লাভ করছে।আর তাদের অন্ধত্বই ঐ হিংস্র,পশুত্বে পরিনত করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৪৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×