somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রোফেসর আশরাফি এবং আবার মোসাদ চক্র !! (ইমন ভাইকে মনে রাখার চেষ্টা)

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল বেলা আরাম করে ঘুমিয়ে ছিলাম, এমন সময়ে এস থ্রিটা বেজে উঠল । রিংটোন শুনেই বুজলাম শান্ত ফোন করেছে । এতো সকালে আবার কি হল ?
-কি হল ?
-তুই কোথায় ? এখনই স্পেস গার্ডেনে আয় ।
-কি হয়েছে ?
-কি হয়েছে আসলেই দেখতে পাবি । জলদি আয় ।
শান্তর গলা শুনে খানিকটা চিন্তিত হলাম । এতো সকালে প্রফেসর আশরাফির আবার কি দরকার পড়ল আমাদের ? কে জানে ?
কিন্তু স্পেস গার্ডেনে গিয়ে আমি একটা ধাক্কার মত খেলাম । স্পেস গার্ডেনে প্রফেসর আশরাফির সব ঘর গুলো তছনছ করা । কেউ যেন বুলডোজার দিয়ে সব কিছু গুড়িয়ে দিয়েছে । সব থেকে করুন অবস্থা প্রফেসরের ল্যাবটার । একটা জিনিসও যেন আর আস্ত নেই । বসার ঘরটার অবস্থা একটু ভাল ।
শান্ত বসার ঘরের বড় সোফাটার উপর চুপ করে বসে আছে । আমি কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবো ঠিক তখনই তাতা এসে হাজির । তাতা মানে তানিয়া তাবাসসুম । এসেই একটা চিত্কার দিলেন ।
-হায় আল্লাহ ! এটা কি ? এসব কি ? প্রফেসরের উপর হামলা করলো কে ?
শান্ত কিছু বলতে যাবে ঠিক এই সময়ে ঘরের লাইট আপনা আপনি বন্ধ হয়ে গেল ! তারপর কোথা থেকে একটা প্রজেক্টর চালু হয়ে গেল । আমাদের তিনজনের সামনের সাদা দেওয়ালে প্রফেসরের চেহারা ভেসে উঠল । প্রফেসর বলে উঠল
-এতোক্ষনে তাতা নিশ্চই চলে এসেছে । কারন তানিয়ার চিত্কার ছাড়া এই প্রজেক্টর চালু হবে না । যা হোক এর পরে যা দেখবে তা সবই আমার সিসি ক্যামেরার ধারনকৃত ।
এই টুকু বলেই সাদা দেওয়াল থেকে প্রোফেসর আশরাফির চেহারাটা গায়েব হয়ে গেল । ফিরে এল তার কিছুক্ষন পরেই । প্রফেসর আশরাফি কে দেখা গেল সোফার উপর পা তুলে বসে আছে । ঠিক এখন যেখানে শান্ত বসে আছে । নিজের ল্যাপটপে কি যেন করছেন । একটু পরেই নাসিরউল্লাহকে দেখা গেল । প্রোফেসরকে গ্লাসে কিসের যেন শরবত এনে দিল । রং দেখে মনে হচ্ছে বেলে শরবত । প্রফেসর আশরাফি গ্লাসে চুমুক দিলেন । তারপর গ্লাসটা নামিয়ে রেখে ঘরের ডান দিকে রওনা দিলেন । আমার কাছে মনে হল তিনি কিসের যেন সংকেত পেলেন । কারন বেলের সরবত চুমুক দেওয়ার আগে প্রফেসরের চেহারা যেমন ছিল মুহুর্তের ভিতরেই কেমন যেন বদলে গেল ।
প্রোফেসর আশরাফি উঠে ডান দিকে চলে গেলেন । ঐদিকে প্রোগেসরের ল্যাবটা ! ফিরে এলেন একটু পরেই । আবার চুমুক দিলেন গ্লাসে !
আমরা তিন জনই একদম দম বন্ধ করে সব কিছু দেখছি । সামনে কি হয় এটা দেখার জন্য ! বেলের সরবত টুকু শেষ করে যখন প্রোফেসর আশরাফি গ্লাস টা সামনের টেবিলের উপর রাখলেন ঠিক তখনই একদল লোক হুড়মুড় করে ঘরের ভিতরে ঘুকে পড়লো । দলের প্রত্যেকটা মানুষ কালো পোষাক সাথে মুখোস পরা এবং ফুললী আর্মড ! তারা ঘরে ঢুকেই প্রথমে একটা একে ফর্টি সেভেনের নল প্রোফেসর আশরাফির মাথায় ঠেকালো !
তারপর খানিকটা ভাঙা ইংরেজিতে বলল
একদম চুপ ! কোন বোকামী করবে তো মাথার খুলি উড়িয়ে দিবো !
ইংরেজি শুনে কেন জানি মনে হলো এরা ঠিক আমেরিকান না । অন্য কোন দেশের !
কিন্তু কোথাকার ? এমন টান কোন দেশের হয় ! আমি এই কথাই ভাবছিলাম তখন তানিয়ে তাবাসসুম বলল
-এদের ইংরেজি টান অনেকটা ইসরায়েলীদের মত !
শান্ত বলল
-তাই নাকি !! কিভাবে বুঝলেন ?
তানিয়া তাবাসসুম বলল
-আমার এক ইহুদি প্রোফেসর ছিল যার বাড়ি তেল আবীবে ! আমাদের যখন পড়াতেন তখন তিনি ঠিক এই রকম ভাবেই উচ্চারন করতেন !
আমি বললাম
-তার মানে আবার মোসাদ !
শান্ত একটু চিন্তিত গলায় বলল
-এর অর্থ কি দাড়ালো ? ইসরায়েলী মোসাদ আবার এসেছে আমাদের দেশে ! কিন্তু কোন কথা নাই বার্তা নাই প্রোফেসর আশরাফিকে কেন কিডন্যাপ করলো ওরা ?
তানিয়া তাবাসসুম বলল
-নিশ্চই তারা স্যারের উপর প্রতিশোধ নিতে এসেছে !
আমরা আবার দেওয়ালের স্ক্রীনের চোখ রাখলাম ! তেমন কিছুই না ! কেবল দেখলাম মোসাদের এজেন্ট রা পুরা ঘর দোর ভাঙ্গচুর করছে ! ঠিক কোন কিছু খুজছে বলে মনে হল না ! তারপর প্রোফেসর আশরাফির মাথা একে ফোর্ট সেভেন ঠেকিয়ে তাকে নিয়ে চলে গেল ।

আমার সব থেকে অবাক লাগছে যে প্রোফেসর আশরাফি কোন রকম বাধা দিল না । কেমন নিরিহ মানুষের মত মোসাদের এজেন্ট দের সাথে চলে গেল ।
আশ্চর্য !!
প্রজেক্টর বন্ধ হয়ে গেল । ঘরে আবার আলো ফিরে এল ।
-তাহলে ...
শান্ত কিছু বলতে গেল তখনই সাংবাদিক মোশতাক আন্দালিব ঘরে প্রবেশ করলো ।
-কি হয়েছে ? এসব কি ? ঘরের এঅবস্থা কে করলো ?
আমরা কিছুক্ষন মোশতাক আন্দালিবের দিকে তাকিয়ে রইলাম । তারপর তাকালাম তাতার দিকে । তানিয়াও আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলো । আমাদের চোখের ইশারায় বুঝিয়ে দিলাম । তানিয়া তাবাসসুম আবার চিত্কার করে উঠল ।
-হায় আল্লাহ । এসব কি ?
ঠিক আগের মতই আবার ঘরের লাইট বন্ধ হয়ে গেল । তারপর প্রজেক্টর চালু হয়ে গেল । সব ভিডিও দেখার পর সাংবাদিক মোস্তাক খানিকটা গম্ভীর হয়ে গেল । বললেন
-শ্যামল তো বেশ বিপদেই পড়েছে । কি করা যায় বলত ?
দ্বিতীয়বার আবার যখন আমি ভিডিও টা একটা জিনিস আবার নজরে আসল । সেটা হল শরবতে চুমুক দেওয়ার আগে প্রোফেসর আশরাফির হাতে ওনার ল্যাপটপটা ছিল । এমনকি যখন উঠে চলে গেলেন তখন ল্যাপটপটা প্রোফেসরের হাতেই ছিল । কিন্তু ফিরে আসার সময় ল্যাপটপটা আর ছিল না ।
আমি আবার ল্যাবটার ভিতরে গিয়ে ল্যাপটপটা তন্ন তন্ন করে খুজলাম । কিন্তু কোথাও পেলাম না । এই ব্যাপারটা একটু খটকা লাগল । আমি আবার ফিরে এলাম বসার ঘরে । সবার মুখই দেখলাম খুব গম্ভীর । আসলে প্রোফেসর আশরাফিকে এভাবে মোসাদের এজেন্ট দের হাতে ধরা পরতে দেখে সবারই মন খারাপ । যদিও আমরা এখনও সিওর না যে প্রোফেসর কে মোসাদের এজেন্টরাই ধরে নিয়ে গেছে ! কেবল ধারনা করতে পারি !!
-আচ্ছা !!
তানিয়া তাবাসসুম বলল
-ব্রিগেডিয়ার এস্তেমদাদকে খবর দেন । উনি নিশ্চই কিছু করবেন ।
সাংবাদিক মোস্তাক বললেন
-উনি সেই কবে জার্মানীতে গেছেন এখনও ফেরত্ আসেন নি । দাড়াও আমি মেজর ইফতেখার কে ফোন করছি ।
কিন্তু মেজর ইফতেখার কেও ফোনে পাওয়া গেল না । শান্ত বলল
-নাসিরউল্লাহ গেল কই ? এজেন্টরা তো নাসিরউল্লাহ কে নিয়ে যায় নি । তাহলে ?
আরে তাই তো নাসিরউল্লাহটা গেল কই ? কোথাও নাসিরউল্লাহকে পাওয়া গেল না । এখন আমাদের হাতের ভিতরে হাত রাখে বসে বসে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নাই । কারন আমাদের হাতে কোন ক্লু নাই । প্রোফেসর আশরাফি থাকলে কিছু না কিছু বের করেই ফেলত । কিন্তু আমরা কিছুই বের করতে পারলাম না ।
কিছুক্ষনের ভিতরেই তাতার কলিগ শাহীনুর এসে হাজির । যথারীতি সে এসেও সবার মত একটা চিত্কার করে উঠল । তারপর জানতে চাইল কি হয়েছে । আমরা তিন আবার তানিয়া তাবাসসুমের দিকে তাকালাম অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে ।
তানিয়া আবারও চিৎকারের প্রস্তুতি নিল !

দুপুর বেলাতেই চ্যানেল ফোর্টি নাইনে স্পেশাল বুলেটিং প্রচারিত হল । দেশের স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক প্রোফেসর আশরাফি নিজ বাসা থেকে অপহৃত ! জানা গেল তাকে খোজার জন্য দেশে RAB আর DB নাকি উঠে পরে লেগেছে । প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশ আছে !!

আমাদের কিছুই করার নেই । আসলে কোন কিছু করতেই পারছি না । স গুলো অভিজানের আগে প্রোফেসরই আমাদের সব কর্ম পন্থা ঠক করে দিত ! কিন্তু এখানে সেই নেই । আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না কি করবো ?
কেবল সারাদিন টিভির সামনে বসে থাকি প্রোফেসরের উদ্ধারের কথা মশোনার জন্য ! দেখলাম প্রত্যেকটা চ্যানেলই প্রোফেসরের অপহরেনর খবর বেশ গুরুত্বের সাথেই প্রচার করছে । জানা গেল দেশের প্রত্যেকটা এয়ারপোর্টে বিশেষ সুরক্ষা ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে । সাথে সাথে সকল জাহাজ বন্দর এবং স্থল বন্দর গুলোতেও সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । কোন ভাবেই যেন প্রোফেসর কে দেশের বাইরে নিয়ে যেতে না পেরে সেই ব্যবস্থা !!
তার উপর পুরো দেশে RAB, DB, আর্মী, পুলিশের স্পেশাল এজেন্টা নেমে পরেছে । যেকোন মূল্যেই প্রোফেসর কে খুজে বের করবেনই !!

পরদিন সকাল বেলা আবার শান্তর ফোন পেয়েই ঘুম ভাঙ্গলো । ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি প্রার দশটা বাজে ! ফোন রিসিভ করতেই শান্ত বলল
-নাস্তা করার দরকার নাই ! নাসিউল্লাহ ঘিয়ে ভাজা পরোটা আর খাসীর নিহারী বানিয়েছে । জলদি আয় !
এই বলে শান্ত ফোন রেখে দিল ।
আমি আগা মাথা কিছুই বুঝলাম না । কি বলছে শান্ত ?
ঘিয়ে ভাজা পরোটা আর খাসীর নিহারী !! মানে কি ?
আমি কোন মতে হাত মুখ ধুয়েই রওনা দিলাম । যখন স্পেস গার্ডেনে পৌছালাম তখন আমার মনে হল আমি স্বপ্ন দেখছি । সব কিছু একদম ঠিক । একদম আগের মত ! সবাই ডাইনিং টেবিলে বাসে পরোটা খাচ্ছে । নাসিরউল্লাহ সবাইকে তুলে দিচ্ছে ।
সাংবাদিক মোস্তাক আন্দালিব মুখে পরোটা দিতে দিতে বলল
-আরে ফারহান !! বস !! বস !! পরোটাটা খুব ভাল হয়েছে । এবার নাসিরুল্লাহ কে একটা পুরস্কার দিতেই হবে হবে দেখছি । ভাবছি ওর একটা ইন্টার ভিউ ছেপে দিবো পত্রিকায় !! কি বল তানিয়া ?
তানিয়া বলল
-ঠিক বলেছেন । নিহারীর ঝোলটা অসাম হয়েছে !
দেখলাম নাসিরউল্লাহ কেমন লজ্জা পাচ্ছে !!
আরে এখানে হচ্ছেটা কি ?প্রোফেসর কে ধরে নিয়ে গেছে একটা দিনও হয় নি আর এখানে সবাই বসে বসে পরোটা আর নিহারী খাচ্ছে । আমার মুখর কথা মুখেই রয়ে গেল দেখলাম প্রোফেসর আসরাফি একটা ধবধবে সাদা দিয়ে মুখ মাথা মুছতে মুছতে বেরিয়ে ঘরে ঢুকলো । আমাকে দেখে হেসে বলল
-আরে ফারহান চলে এসেছো যে ? নাস্তা কর ।
-কিন্তু !!
প্রোফেসর বলল
-সব বলব ! আগে নাস্তা কর তারপর !!

পরোটাটা আসলেই বেশ সুস্বাদু হয়েছে । আমি একাই পাঁচটা খেয়ে ফেললাম । খাওয়া শেষে সবাই বসলাম বাসর ঘরে । সব কিছু জানার জন্য আমার আর তর সইছিল না । কিভাবে কি হল ? কিভাবে প্রোফেসর ছাড়া পেল ? কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল ? কেনই বা নিয়ে গিয়েছিল ? আর কিভাবে এসব কিছু ঠিক হল ?

একটুপরই প্রোফেসর আশরাফি এসে বাসলেন আমাদের সামনে । তার হাতে তার সেই পছন্দের ল্যাপটপ !
আমি সবার চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখি আমার মত সবার চেহারায় একটা কৌতুহলী ভাব রয়েছে । সবাই প্রশ্নের ঝুড়ি নিয়ে বসেছে । সবার আগে তাতা প্রশ্ন করলো । তানিয়া বলল
-স্যার আপনি ছাড়া পেলেন কিভাবে ??
প্রোফেসর আশরাফী হেসে বলল
-ছাড়া পেলাম মানে ? আমাকে আবার কে ধরলো !!
আমরা প্রোফেসরের কথার কোন মানেই বুঝলাম না ।
মোস্তাক আন্দালিব বলল
-শ্যামল আর সাসপেন্স না বাড়িয়ে সব গোড়া থেকে বল !! আমরা সবাই জানতে আগ্রহী !
প্রোফেসর বলল
-আচ্ছা বলছি !
দেখলাম নাসিরউল্লাহও এসে হাজির হয়েছে !!
প্রোফেসর বলতে লাগলো !
-তোমরা সবাই তো আমার সিসি ক্যামেরার দৃশ্যটা দেকেছ, তাই না ? এখন বল এটা দেখে কি তোমাদের কিছু অসংগতি মনে হয়েছে ?
সবাই একটু চুপ করে রইলো ।
শান্ত বলল
-আমার সব থেকে অবাক লেগেছে এতো গুলো লোক আপনা রল্যাবে ঢুকে পড়লো আর আপনি একটুও টের পেলেন না ?
সাংবাদিক মোস্তাক বলল
-তোমাকে বড় নিরিহ মনে হয়েছে । দেখে মনে হয়েছে কেমন একটা নিরিহ মেয়েকে ওরা ধরে নিয়ে যাচ্ছে !! এমন তো হবার কথা না !! ব্লুরে গানটা তো সবমসয় সোফার নিচেই থাকে । ওটা দিয়ে তো আক্রমন করা যেত ।
প্রোফেসরকে দেখলাম মিটি মিটি হাসতে !
আমার দিকে তাকিয়ে বললেন
-ফারহানের কি মনে হয়েছে ?
আমি বললাম
-আমার মনে হয়েছে আপন টের পেয়েছিলেন । তাই শরবতটা খাওয়ার মাঝ খানে আপনি উঠে পড়েছিলেন । কিন্তু বুঝলাম না আপনি কেন আবার ফিরে এলেন ? আর সব থেকে খটকা লেগেছে এই দেখে যে ফিরে আসার সময় আপনার হাতে আপনার ল্যাপটপ টা ছিল না । এর মানে কি ?

প্রোফেসর আশরাফ বললেন
-যাক তোমাদের পরবেক্ষন শক্তি বেশ ভাল ! এবার শোন আসল কথা ! আসলে আমিও বেশ কিছুদিন থেকে বুঝতে পারছিল আমার উপর হামলা হটে পারে । কয়েকদিন থেকেই আমার বাড়ির আসেপাশে কয়েকজনকে সন্দেহ জনক ভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছি । মেজর ইফতেখারও আমাকে ফোন করে বলেছিল যে মোসাদের এজেন্টরা আমার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উঠে পরে লেগেছে ! আবার তাদের এক্টিভিটি নাকি বেরে গেছে !
ঘটনার দিনই আমি টের পাই যে ওরা আসছিল ! আমি টের পেয়েই আমার ল্যাবে চলে যাই !! দেখলে না আমি শরবত খাওয়ার মাঝ খানে উঠে গেলাম।
তানিয়া বলল
-তাহলে আপনি আবার এলেন কেন ? আর ধরাই বা পড়লেন কেন ?
প্রোফেসর হাসতে হাসতে বলল
-আমি তো আসি নি !
আমরা সবাই একসাথে বললাম
-মানে ??
প্রোফেসর বলল
-গতবার মনে আছে !
তানিয়া তাড়াতাড়ি বলল
-মনে আছে, আমার মনে আছে !
-কি মনে আছে ?
এইবার তাতা খনিকটা বিভ্রান্ত মনে হল । তাই তো কি মনে আছে ?
তাতা বলল
-অনেক কিছুই তো মনে আছে ! আপনি কোনটা বলছেন !
প্রোফেসর আশরাফি বলল
-মনেআছে আমি ফারহানের অ্যান্টি ম্যাটার বানিয়েছিলাম !
আমি এখন সব বুঝতে পারলাম । আমি বললাম
-তার মানে এজেন্টদের সাথে যে গিয়েছিল সে আপনার অ্যান্টি ম্যাটার ছিল ।
প্রোফেসর কেবল হাসলো !
তারপর বলল
-গুড ! সব বলছি । তোমরা নিশ্চই জানো আমার এখানে লিফট ছাড়া আসা যায় না । সিড়ি দিয়ে কেবল নিচের তলা পর্যন্ত আসা যায় । আসলে এজেন্টরা যখন লিফটের ভিতর ঢুকে তখনই আমি জানতে পারি । ইচ্ছা করলেই তখনই ওদেরকে অজ্ঞান করে ফেলতে পারতাম । কিন্তু তাতে করে আসল হোতাকে ধরা যেত না । তাই আমি আমার ল্যাবে যাই । অ্যান্টিম্যাটার জেনারেটর দিয়ে নিজের একটা অ্যান্টিম্যাটার তৈরি করি । তারপর ওটার ভিতর একটা ট্র্যাাকিং ডিভাইস দিয়ে দেই ।
তানিয়া বলল
-তাই তো বলি আপনাকে এতো সহজে কিভাবে ধরবে ওরা !!
শান্ত বলল
-ওরা কি মোসাদের এজেন্টই ছিল ? আর আপনাকেই বা কেন ধরলো !
প্রোফেসর আশরাফি বলল
-হুম ! ওরা মোসাদের এজেন্ট ছিল । আসলে গতবারে ওদের প্লানটা আমার কারনেই ভেস্তে গেছিল, তাই এবার কিছু করার আগে আমাকেই সরিয়ে দিতে চাইছিল ।
মোস্তাক আন্দালিব বলল
-আমাদের একটা ফোন করে জানাতে পারতে !! আমরা কি টেনশনেই না ছিলাম ।
প্রোফেসর বলল
-পারতাম কিন্তু তাতে ওরা বুঝে ফেলার একটা চান্স থাকতো ! তোমরা আমার কাছের লোক না ওরা যদি বুঝতে পারতো যে ভুল লোক কে ধরে নিয়ে গেছে তাহলে তোমাদের উপর হামলা হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকতো !
আমি বললাম
-কিন্তু আপনি আর নাসিরউল্লাহ কোথায় লুকিয়েছিলেন ? ওরা আপনাদের কে খুজে পেল না ?
-এসো দেখাচ্ছি !!
এই বলেই সবাইকে তিনি ল্যাবের ভিতরে নিয়ে গেল । আমি অবাক হয়ে দেখলাম ল্যাবটা একদম আগের মত । কালকে যে অবস্থা ছিল আজ তার কিছু নাই ! প্রোফেসর একটা সুইচ টিপ দিলেন ! ওমনি ঘরের কয়েক জায়গা ফাকা হয়ে গেল ।
তানিয়া চিৎকার করতে যাচ্ছিল কিন্তু থেমে গেল । আমরা দেখলাম নিচে অবিকল একই রকম একটা ঘর ! আস্তে আস্তে ঘরের ফ্লোরটা নিচে নামতে লাগলো ! আর নিচের ফ্লোরটা উপরে উঠতে লাগলো ! যখন আমরা নিচে নেমে গেলাম উপর দিয়ে ছাদটা আপনা আপনি মিলে গেল !
আমি বললাম
-আপনি সারাক্ষন এখানেই ছিলেন ? উপরে ওরা ভাঙ্গচুর করছিল আর আপনি এখানে বসে বসে মজা দেখছিলেন !!
প্রোফেসর জোরে হেসে উঠলো !! বলল
-বেটারা সব একেকটা আহাম্মক ! ভেবেছে এতো সহজেই আমাকে ধরতে পারবে !
আমরা আবার উপরে চলে এলাম । এই সময়ে প্রোফেসরের এলজি অপটিমাসটা বেজে উঠল । ফোনে কিছুক্ষন কথা বলে প্রোফেসর আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল
-মেজর ইফতেখার ফোন করছিল ! ওদের আসল ঘাটিটা খুজে পেয়েছে !! সব কটা কে হাতে না হাতে ধরতে পরেছে !! সবাই আর্মির আন্ডারে আছে !! দেখি আজই আমাকে একবার টপটেনে জেতে হবে !
তানিয়া বলল
-কেন স্যার ?
-আরে খুব তাড়াতাড়ি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার দাওয়াত পাচ্ছি ! ভাল একটা স্যুট বানাতে হবে না !!




আমার কথাঃ
প্রোফেসর আশরাফি !! এই চরিত্রটা ইমন ভাইয়ের একটা অনবদ্য সৃষ্টি ! প্রোফেসর আশরাফির নাম আসলেই সেখানে ইমন জুবায়ের নাম আসবে ! মানুষ তাকে মনে করবে ! এই জন্য আমার আজকের এই লেখা !
দয়া করে ইমন ভাইয়ের লেখার সাথে এই টাকে তুলনা করবেন না কারন তার মত করে লেখা সম্ভব না কিছুতেই ! সেই ক্ষমতা আমার নাই !
আমি কেবল এইটা লেখার চেষ্টা করেছি, এই কথা মনে করে যে এই লেখাটা পড়বে একবার হলেও তার মনে হবে যে আমাদের ব্লগে ইমন জুবায়ের নামে একজন গুনি মানুষ ছিল ! ছিল বলছি কেন আছে ! থাকবে !!
সময়ের সাথে সাথে হয়তো ইমন ভাইকে সবাই ভুলে যাবে ! ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ! আগে যারা প্রতিদিন একবার করে হলেও ইমন ভাইয়ের ব্লগে যেতেন এখন কি যান ? জানি না যান কিনা ? যতই দিন যাবে ততই যাওয়াই কমে যাবে ! কিন্তু আমি যতদিন আছি ততদিন তো ভুলে যেতে দিবো না । অন্তত যারা আমার লেখা পড়ে তারা তো জানবে !
প্রোফেসর আশরাফিকে আমি আবার নিয়ে আসবো ! প্রত্যেক মাসে অন্তত একটা গল্প আসবেই, যতদিন আমি ব্লগে আছি ততদিন আসবে !! আমি জানি না সামু কি করবে তাকে মনে রাখার জন্য কিন্তু আমার ব্লগে সে সদা চিরন্তন থাকবে !!

ইমন ভাইয়ের সব লেখাগুলো পাবেন এখানে
Click This Link

ইমন ভাইয়ের লেখা প্রোফেসর আশরাফি সিরিজ
১. Click This Link
২. Click This Link
৩. Click This Link
৪. Click This Link
৫. Click This Link
৬. Click This Link
৭. Click This Link

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৩ রাত ১১:০৫
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বর্গে এখন বাচ্চা বিক্রি শুরু হয়েছে।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৬ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:০৭






স্বর্গে এখন বাচ্চা বিক্রি শুরু হয়েছে। আমরা এখন এমন এক স্বর্গে বাস করছি যেখানে মা তার একমাত্র সন্তানকে বিক্রি করে বেঁচে থাকতে চান। কি দুঃখের, কি লজ্জার দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গামারি

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৬ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:০৯



২০১৬ সালের মার্চ মাসের সকালে কাধে ছোট একটি ব্যাগ ঝুলিয়ে বেড়িয়েছি বাড়ি থেকে। গাজীপুরের টাকশাল-শিমুলতলী পথ ধরে রেল লাইনে উঠে পায়ে হেঁটে চলে যাবো রাজেন্দ্রপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত। ভাওয়াল-গাজীপুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি গরীব আমার ১৩ টাকায় একটি ডিম ১৫ টাকায় একটি সাগর কলা কিনে খাওয়ার অবস্থা নেই।

লিখেছেন ভার্চুয়াল তাসনিম, ১৬ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:১২

প্রিয় রাষ্ট্র,
গতকাল মাত্র শোক দিবস চলে গিয়েছে। আপনি কি দেখেছেন? এই শোক দিবসে দেশের আপামর জনসাধারণ শোক পালন না করে ডিম নিয়ে মেতে ছিল। বুঝেছি মেনেছি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অস্থিতিশীল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভিন্ন নিক থেকে ব্লগিং করার কথা ভাবছি

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:৩৩


" কষ্টের পোস্টে কিছু লিখতে যে সূক্ষ অনুভূতি আর সংবেদনশীলতা দরকার, তা আজকের চাপের পৃথিবীত বজায় রাখা মুশকিল। কেউ কেউ হয়তো পারেন- যেমন স্বপ্নবাজ সৌরভ।" - নিমো... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্টের সন্তান বিভক্তি

লিখেছেন পথিক৬৫, ১৬ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:৪০

বরগুনায় পুলিশ ছাত্রলীগ পেটাল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, "বাড়াবাড়ি হয়েছে"। ঘটনার পরের দিনই এসপি সাহেব বদলির নোটিশ পেলেন। দেশের মিডিয়া এই ঘটনাকে নিয়ে হুমরি খেয়ে পড়ল। কার পক্ষ নিবে- পুলিশ নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×