somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

পদাতিক চৌধুরি
আমি আমার নিরক্ষর,কিন্তু বুদ্ধিমতি মায়ের কাছ থেকে এই শিক্ষাই পেয়েছিলাম,যথাযথ কর্তব্য পালন করেই উপযুক্ত অধিকার আদায় করা সম্ভব। - মহাত্মা গান্ধি

মরীচিকা (পর্ব -২৯ )

০৬ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দরজা খুলেই দেখি বাইরে মিলিদি দাঁড়িয়ে।
- আরে মিলিদি যে!
চোখে মুখে বেশ উৎকণ্ঠা সহ আমতা আমতা করতে করতে,
-হ্যাঁ দাদা একটা বিশেষ কথা জানতে এসেছিলাম।
- বিশেষ কথা? আমার কাছে? এইরে! যাক তুমি আমার কাছে কি জানতে চাও?
-আপনি রমেনদাকে দেখা করতে বলেছিলেন কেন, সেটা যদি একটু বলেন।
- ও এই কথা! রমেনদা বেশ কিছুদিন ধরে একটি পারিবারিক সমস্যার মধ্যে আছে।
-কি সমস্যা? আমাকে কি বলা যাবে?
-বলা যাবে বলতে, তুমি তো জানো রমেনদার মা ওর দুই ছেলেকে নিয়ে গ্রামে থাকেন। সাম্প্রতিককালে ওর মা একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। বড় ছেলেই সর্বক্ষণ ওনাকে দেখাশোনা করছে। এই নিয়েই রমেনদা খুব দুশ্চিন্তিত।
-আমরাও বেশ কিছুদিন ধরে দেখছি দাদা, মানুষটা একদম বদলে গেছে। কিছু জিজ্ঞেস করলে মুখে কিছু বলে না, কেবল যন্ত্রের মত কাজ করে যায়। আমরা সকলে বলাবলি করছিলাম নিশ্চয় ওনার কিছু একটা হয়েছে।আজ আপনি ওকে দেখা করতে বলাতে নিশ্চিত হলাম যে ওর বিষয়টি নিশ্চয়ই আপনি জানেন।আর সে জন্যই খোঁজখবর নিতে আপনার কাছে কাছে আসা।
মিলিদির সঙ্গে ঘরের ভিতরে থেকে কথা বলাটা সমীচীন হবে না বিবেচনা করে বাইরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে এতক্ষন কথা বলছিলাম। শেষ কথাগুলি এক দমে বলে ঝড়ের বেগে চলে গেল। আমি তার পশ্চাদ্গমন নিরীক্ষণ করতে লাগলাম।

ঘরে ঢুকে আবার ভাবতে লাগলাম রমেনদার অবসন্ন জীবনের কথা।এমন হাসিখুশি প্রাঞ্জল একজন মানুষ চোখের সামনে এভাবে গুটিয়ে থেকে নিজেকে ক্রমশ শেষ করে দিচ্ছে- মেনে নিতেও খুব কষ্ট হচ্ছে। মিলিদির কাছ থেকে বিষয়টা জেনে চিন্তাটা আরো বেড়ে গেল। আপন মনে যখন এসব ভাবছিলাম,মিলিদির চলে যাওয়ার ঠিক পনেরো-কুড়ি মিনিট পরে আবার দরজায় ঠক ঠক শব্দ। এবার অবশ্য একেবারে নিশ্চিত ছিলাম রমেনদা ছাড়া অন্য কেউ নয়। হলোও তাই।
না, এবার আর অনুমান ভুল হয়নি। একেতো নিকষকালো গায়ের রং সঙ্গে সারা মুখে সাদা কালো বেশ কিছুদিনের বাসি দাঁড়ি, দরজার আবছা আলোয় রীতিমত ভয়ার্ত মূর্তি মুহূর্তে আমার অন্তরে কু ডাক ডাকতে বাধ্য করলো। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেললাম। বেশ কিছুক্ষণ দুজনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। নিজের হৃদস্পন্দন নিজেই অনুভব করতে লাগলাম। এভাবেই কয়েক সেকেন্ড পর রমেনদার মুখ থেকে তেমন কোন অশনি খবর না পেয়ে অস্পষ্টভাবে চোখের ইশারায় ভিতরে আসতে বলাতে এক্কেবারে কাছে চলে এল। আমিও বুঝতে পারলাম যে এ যাত্রায় তেমন কোন ভয়ানক ঘটনা ঘটেনি। মায়ের অবস্থা তাহলে স্থিতিশীলই আছে। কিছুটা আশ্বস্ত হয়ে,
-দেখো রমেনদা আমরা পৃথিবীতে কেউ চিরদিনের জন্য আসিনি। সময় হলে আমাদের প্রত্যেককে পৃথিবীর মায়া-মহব্বত ছেড়ে চলে যেতে হবে। তোমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।মা-বাবার এমন শয্যাশায়ী অবস্থা কোন সন্তানই দেখতে পারে না। তোমার মানসিক অবস্থা আমি বুঝতে পারছি। আন্তরিকভাবে আমি তোমার সঙ্গে সমব্যথী। মাসিমার দ্রুত আরোগ্য লাভ- কামনা করছি। কিন্তু পাশাপাশি একটা কথা বলার যে এভাবে ভেঙ্গে না পড়ে বরং ওনার সুচিকিৎসার বা উপযুক্ত সেবা-শুশ্রূষার ব্যবস্থা করাটাই তোমার এই মুহূর্তে কর্তব্য হওয়াটা কাম্য। একইসঙ্গে তুমি একজন দায়িত্বশীল বাবাও বটে। দু-দুটি সন্তানও আছে তোমার। সুতরাং সকলের মঙ্গলের কথা ভেবে তোমাকে দৈনন্দিন কাজকর্ম যথাযথভাবে চালিয়ে যাওয়াটাই সমীচীন বলে আমার বিশ্বাস।

মাথা নিচু করে রমেনদা আমার কথাগুলো শুনে গেল।মুখে একটা টু-শব্দ করল না। কথা শেষ হতেই আমরা দুজনে আবার বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলাম। বুঝতে পারছিলাম না যে তারও কিছু বলার থাকতে পারে বা কিছু বলার জন্য অপেক্ষায় আছে। কিছুটা অনন্যেপায় হয়ে,
-আচ্ছা রমেনদা আমাকে একবার তোমাদের গ্রামে নিয়ে যাবে?
এবার দেখলাম মুখ তুলে আমার দিকে তাকালো। দুই ঠোঁটের মাঝে কিঞ্চিৎ শুভ্র দন্ত রাজি তার উৎফুল্ল মনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরল।
-দাদা আপনি আমাদের গ্রামে যাবেন? আমরা যে খুব গরিব!
-তোমার পারিবারিক অবস্থা নিয়ে ভেবো না রমেনদা। আমরাও তোমার চেয়ে খুব বেশি সম্পদশালী নই। বরং তোমার অন্য কোনো সমস্যা থাকলে আমাকে জানাতে পারো।
-দাদা সমস্যা একটু আছে বৈকি, মাথা চুলকাতে চুলকাতে।
-কী সমস্যা? প্লিজ আমাকে জানাও।
-দাদা গ্রামে আমাদের মাটির বাড়ি। আগে খড়ের ছাউনি ছিল। কিন্তু এখন সব নষ্ট হয়ে গেছে। দু'টি ত্রিপল টাঙিয়ে কোনোক্রমে আমরা বসবাস করি।
আমি উচ্চঃস্বরে হাসতে হাসতে বললাম,
-ও এই সমস্যা! শোনো তাহলে, তোমাকে বলার সুযোগ কোনদিন হয়নি। তুমি বিশ্বাস নাও করতে পারো যে গ্রামে আমাদেরও মাটির বাড়িতে বসবাস। কাজেই তোমার এই সমস্যাটিও আমার কাছে কোন সমস্যা নয় বরং অজুহাত আর কি।
-আসলে দাদা আরেকটি সমস্যা ছিল। আপনাকে বলতে ভীষণ লজ্জা লাগছে।
-ও বুঝেছি! তুমি ঠিক করে রেখেছো যে আমাকে তুমি নিয়ে যাবেই না। সে জন্য একের পর এক সমস্যার উল্লেখ করছ। বেশ! তোমাকে আর অহেতুক ভয় পেতে হবে না। আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলাম।
-না না দাদা ভয় পাবো কেন? প্লিজ আমাকে ভুল বুঝবেন না।আপনি হলেন সাক্ষাৎ দেবতা। আপনাকে নিয়ে যেতে পারলে আমার পিতৃভূমি ধন্য হবে। কিন্তু সমস্যাটা যে মুখে আনতে পারছি না।
-আরে! আরে! কি সব উল্টোপাল্টা কথা বলছো! তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে যে আমাকে দেবতার আসনে বসালে। ঠিক আছে বাপু তোমাকে আর আমি বিব্রতকর অবস্থায় ফেলবো না। তোমার সমস্যার কথা আর বলতে হবে না। তোমার গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পাকাপাকিভাবে আমি সরে এলাম।
-খুব খারাপ লাগছে দাদা আপনার সিদ্ধান্ত বদলের কথা শুনে। তবে আসল সমস্যাটি তাহলে আপনাকে বলেই ফেলি।
-দেখো রমেনদা তোমার আপত্তি আছে যখন তাহলে দরকার কি প্রসঙ্গটি তোলার?
-আসলে আমাদের আদিবাসী সমাজের একটি অন্যতম প্রধান বদঅভ্যাস হলো হাঁড়িয়া সংস্কৃতি। সারাদিন হাঁড়িয়া খেয়ে পড়ে থাকাটা যেমন স্বাভাবিক ঠিক ততটাই এর কুপ্রভাব সমাজকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। অথচ আমরা আদিবাসী সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই হাঁড়িয়া সংস্কৃতি ছেড়ে বার হতেও পারবো না। কিন্তু এর সমস্যাটি হাঁড়িয়া মানুষকে কর্মবিমুখ করে তোলে। আপনি আমার গ্রামে গিয়ে দেখতে পাবেন গোটা এলাকার অনেকেই এখানে ওখানে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। হয়তো আমার বাড়ির সামনেও দুই একজনকে দেখতে পাবেন। আর একথা ভেবেই আপনাকে নিয়ে যেতে অস্বস্তি বোধ করছিলাম।
- দেখো রমেনদা, তোমার হয়তো তোমাদের সমাজে বহুকাল ধরে চলে আসা হাঁড়িয়া সংস্কৃতির প্রসঙ্গে অস্বস্তি বোধ হতে পারে। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই যে তোমরা একটি বঞ্চিত জাতি। সুপ্রাচীন কাল থেকেই তোমরা শাসকের চূড়ান্ত উদাসীনতার শিকার। হতাশা মানুষকে মদ্যাসক্ত করে তোলে। যে কারণে আমার মনে হয়, বংশপরম্পরায় জাতি হিসেবে আদিবাসীরা দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি হাঁড়িয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। কাজেই সমস্যাটি আঞ্চলিক বা তাৎক্ষণিক নয় বরং সুবৃস্তিত এবং সুদূরপ্রসারী। মদ যেকোনো মানুষ বা তার পরিবারকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। আর এভাবেই তোমাদের সমাজে প্রজন্মের পর প্রজন্ম হাঁড়িয়া পান করে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে ফেলছে কর্মদক্ষতা বা কর্মক্ষমতা। তবে অন্যান্য পানিয়ের তুলনায় হাঁড়িয়াতে অ্যালকোহলের পরিমাণ কম থাকায় আমার মনে হয় এটা অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকারক। তবুও সমাজের একজন সচেতন সভ্য হিসেবে আমার মনে হয় তোমার কিছু করণীয় আছে। আর এই মহৎ কাজে যদি তুমি কোনো ভাবে আমার সাহায্য চাও তাহলে আমি সর্বতোভাবে তা দিতে প্রস্তুত আছি।
-দাদা এই জন্যই বলছিলাম আপনি দেবতা!
-আরে! আরে! করছোটা কি! ছি: ছি: ছি: তুমি না আমার চেয়ে বয়সে অনেকটাই বড়। আর এইভাবে প্রণাম করে আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে দিলে? তোমার এমন আচরণে আমি অত্যন্ত বিব্রতবোধ করছি রমেনদা।
-ঠিক আছে দাদা আপনি অস্বস্তিতে পড়ছেন যখন তাহলে আর কখনো করবো না। তবে আপনি যে সচেতনতার কথা আমাদের সমাজে প্রচার করার কথা বলছেন তা খুব একটা কাজে আসবে বলে আমার মনে হয় না।আপনাকে আগেও বলেছি যে গ্রামে অনাহার , অপুষ্টি, দারিদ্রতা মানুষের নিত্যসঙ্গী।সামান্য চিকিৎসার জন্যও বহু দূরে শহরের হসপিটালে যেতে হয়। আর সেখানে গেলেই যে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা মিলবে এমন নয়। এক হিসেবে বলা যায় বিনা চিকিৎসাই যেন আদিবাসীদের নিয়তি।খুব প্রয়োজনে মাঝে মাঝে দু-একজন অবশ্য শহরের হসপিটালে যায় ঠিকই কিন্তু সুস্থ হয়ে গ্রামে ফিরে আসাটাও একটা ভাগ্যের ব্যাপার।

রমেনদা আরো বলতে লাগলো,
-জানেন দাদা আদিবাসীরা জানে এক জীবনে ওদের পাহাড়প্রমাণ যন্ত্রণার কথা।আর শিক্ষার কথা নাইবা বললাম।এইসব বঞ্চনা অবিচার থেকে মুক্তি পেতেই বোধহয় বংশপরম্পরায় নিজেদের হাতে তৈরি হাঁড়িয়ার মধ্যে নিজেদেরকে ডুবিয়ে রেখেছে। আপনাকে তাহলে একটা গল্প বলি, কয়েক বছর আগে শহরের ডাক্তারবাবুরা স্বাস্থ্য-শিবির করতে গ্রামে এসেছিলেন।খুব আগ্রহ ভরে গ্রামবাসীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবং ডাক্তার বাবুদের দেওয়া প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সংগ্রহ করেছিল। ডাক্তারবাবুরা খুব খুশি, খুশি গ্রামবাসীরাও। কিন্তু দু'দিনব্যাপী শিবিরের দ্বিতীয় দিনে ডাক্তারবাবুরা সুস্বাস্থ্যের জন্য আলোচিত সভায় আদিবাসী সমাজের উদ্দেশ্যে হাঁড়িয়া পানের প্রসঙ্গ তোলেন এবং তাদের রোগ ব্যাধি, অপুষ্টির জন্য সরাসরি হাঁড়িয়াকে দায়ী করলে সংঘবদ্ধভাবে গ্রামবাসীরা তার প্রতিবাদ জানিয়েছিল। আসলে শহরের বাবুদের জানার কথা নয় যে হাঁড়িয়া আমাদের ঐতিহ্য। আমাদের বহু অনুষ্ঠানের সঙ্গে হাঁড়িয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত।কাজেই সেই হাঁড়িয়ার কথা বলাতেই গ্রামবাসীদের সম্মানে আঘাত লাগাটা খুবই স্বাভাবিক। কয়েকজন সরাসরি শহরের বাবুদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিল,
-বাবুরা আমরা হাঁড়িয়া ছেড়ে দিলে যে আপনাদের মত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানীয় জল সহ আধুনিক জীবন ধারণের উপকরণের দাবি করব। পারবেন বাবুরা আমাদের সব দাবি পূরণ করতে?পারবেন আমাদের ছেলেমেয়েদের আপনাদের সন্তানদের সঙ্গে একাসনে বসাতে বা সমানাধিকার দিতে? কিংবা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে?সেদিন কিন্তু ডাক্তারবাবুরা আর কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি।

রমেনদার কথা শুনে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল।আমার ধারণা ছিল নিতান্ত অশিক্ষিত আদিবাসী মানুষ গুলো সহজ সরল নিজেদের ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা না থাকার জন্য এভাবে মদ্যাসক্ত হয়ে নিজেদেরকে শেষ করে দিচ্ছে।কিন্তু তাদের সহনশীলতা তাদের অসহায় সচেতনতা ও সংযমশীলতার পরিচয় পেয়ে ওদের প্রতি অন্তরের শ্রদ্ধা শতগুন বেড়ে গেল।
রমেনদা আবারো বলতে লাগলো,
-দাদা আমরা অধিবাসীরা চূড়ান্ত ব্যর্থ একটি সম্প্রদায়।জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি জিনিস আমাদের জীবনে প্রবলভাবে আছে; সেটা হলো না প্রাপ্তি। তবুও আদিবাসীরা গ্রাম ছাড়ার কথা ভাবতেও পারে না।অমি অবশ্য গ্রাম ছেড়েছি কিন্তু সারাক্ষণ মন পড়ে থাকে গ্রামে। আমার বন্ধুরা অনেকে আমাকে নিয়ে উপহাস করে। তারা আমার মায়ের মত চৌদ্দ পুরুষের ভিটা আগলে পড়ে আছে। তবে এখন দু-একজন অবশ্য আমার মতো বাইরে কাজে-কর্মে যাচ্ছে বলে শুনেছি।

মিলিদির রমেনদার প্রতি খোঁজ খবর নেওয়ার মধ্যে তার চোখে-মুখের অভিব্যক্তি আমাকে বেশ মুগ্ধ করেছিল।এমন একটি দিনের জন্য আমি যে অনেকদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম।সেদিন সন্ধ্যাবেলায় মিলিদির আগমন ও খোঁজখবর নেওয়ার প্রসঙ্গটি আমি রমেনদার কাছে গোপন করেছিলাম।অবশ্য ওর মায়ের অবস্থার জন্য এক্ষণে এরকম খবর পরিবেশন করাটা সমীচীন নয় বিবেচনা করে। যদিও পরে বিষয়টি আমি প্রকাশ করে ফেলি। আমারও মনে হয়েছিল উভয়ের মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে এটাই প্রসঙ্গ উত্থাপনের মোক্ষম সময়। বিপদের দিনে মানুষ যদি মানুষের পাশে না দাঁড়ায় তাহলে সে বন্ধু কিসের! সেইমতো একদিন মিলিদিকে ডেকে বিষয়টি সরাসরি উপস্থাপন করি।আমার কথাতে স্বভাবসুলভ নারী ভঙ্গিমায় কিছুটা লাজুক লাজুক চাহনিতে বিনুনিতে হাত ঘষতে ঘষতে কিশোরী সুলভ ভঙ্গিমায় ঘাড় ঘুরিয়ে মিলিদি অন্য দিকে তাকিয়েছিল।সেদিন অপরাহ্ণে আপাদমস্তক মিলিদির শরীরে যেন খুশির ছান্দিক নৃত্যম পর্যবেক্ষণ করলাম।বসন্তের প্রারম্ভে বৃক্ষরাজি যেমন ফুলে ফুলে নবরুপ ধারণ করে, তেমনি মিলিদির অন্তরঙ্গে খুশির ঝলক যেন তার বহিরঙ্গে বসন্তের আগমনী বার্তা রচনা করেছিল।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪১
৩২টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রগলভ (ড্রাফট কবিতা-২)

লিখেছেন সোনালী ডানার চিল, ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৫৭



বলিনি আমার দূ:খেও তুমি থাকো-
অন্ধকারে শীতল ঘরের কোণে
বলিনি আমার দূ:স্থতা তুমি নাও
বিষাদ মাখানো একাকীত্বের ক্ষণে!

আমি তো বলিনি কোথায় কান্না রাখা
বিগলীত করো হরিনী চোখের বাকে
চাইনি আমি তো কোমল বাহু-জোড়া
মৃদ্যু উষ্ণতায় যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভকামনা কবি গুলতেকিন..!

লিখেছেন সোহানী, ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:২৩



কি বললেন? গুলতেকিন বিয়ে করেছে?...

- ছি: ছি: এ বয়সে এ মহিলার ভীমরতি হয়েছে।..... নাতি পুতি নিয়া সুখে থাকবে না তো, নানি এখন বিয়ের পিঁড়িতে...খিক্ খিক্ খিক্ !!

- ওওও তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ লাভ অন ফায়ার

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৯




মেঘলা চোখ খুলে প্রথমে বুঝতে পারলো না ও কোথায় আছে । মাত্র কয়েক সেকেন্ড লাগলো ওর সব কিছু মনে করতে । সাথে সাথেই মনে পড়ে গেল অজ্ঞান হওয়ার আগে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি এসেছি

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫২



আমার সোনা বন্ধুরে তুমি কোথায় রইলা রে
দিনে রাইতে তোমায় আমি খুইজা মরি রে
যদি না পাই তোমারে আমার জীবনের তরে
সোনার জীবন আঙ্গার হইবে
মরন কালে যেন বন্ধু একবার তোমায় পাই
যদি না পাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয়তমা ও ভালোবাসায় অন্যরকম সম্ভাষণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৯


প্রিয়তমা
যখন তুমি হাসো ,এই পৃথিবী থমকে যায় ,চমকে তাকায় ।
আর আমি তোমার নেশায় ,
অবাক চেয়ে রই ।
আকাশের যত তারকারাজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×