চূড়ান্ত ভোটার তালিকা
মোট ভোটার ৮,১০,৫৮,৬৯৮
নারীঃ ৪,১২,৩৬,১৪৯
পুরুষঃ ৩,৯৮,২২,৫৪৯
নারী বেশিঃ ১৪,১৩,৬০০
তানভীর সোহেল
পুরুষ ভোটারের চেয়ে এবার নারী ভোটারের সংখ্যা ১৪ লাখেরও বেশি। দেশের ইতিহাসে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। ২০০১ সালের সর্বশেষ তালিকার তুলনায় এবার ভোটার বেড়েছে ৬০ লাখ ৫৮ হাজার ৪২ জন। অর্থাৎ সাত বছরে ভোটার বৃদ্ধির হার আট শতাংশ।
‘নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তথ্যাবলী’ থেকে দেখা গেছে, দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা আট কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৮। এর মধ্যে নারী ভোটার চার কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৯ এবং পুরুষ ভোটার তিন কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৫৪৯ জন। অর্থাৎ পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ জন বেশি। অর্থাৎ ভোটার তালিকায় নারী ভোটারের সংখ্যা পৌনে দুই শতাংশ বেশি।
ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদত হোসেন নারী ভোটার বেশি হওয়ার ঘটনাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে প্রথম আলোকে বলেন, একটা প্রচার ছিল যে, নারীরা ভোটার হতে নিবন্ধন কেন্দ্রে আসবে না। কিন্তু সেই ধারণা ভুল প্রমাণ হয়েছে। তবে তিনি জানান, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন) মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বলেন, বাংলাদেশে এবারই প্রথম পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি দেখা গেল।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের আগে প্রথম ভোটার তালিকা তৈরি হয়। এরপর সাতটি নির্বাচনের আগে তা হালনাগাদ করা হয়। ’৭৩ সালের নির্বাচনের আগে নতুন ভোটার তালিকা এবং বাকি সাতটি নির্বাচনের আগে হালনাগাদ ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিটি ভোটার তালিকায় নারী ভোটারের চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা বেশি ছিল। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৈরি হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী দেশে পুরুষ ভোটার তিন কোটি ৮৬ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭২ এবং নারী ভোটার তিন কোটি ৬৩ লাখ ১৫ হাজার ৬৮৪ জন। ওই তালিকায় পুরুষ ভোটার ২৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৮৮ জন বেশি ছিল। অর্থাৎ পুরুষ ভোটার শতকরা তিন দশমিক ১৫ ভাগ বেশি ছিল।
২০০১ সালের ভোটার তালিকার তুলনায় এবারের তালিকায় নারী ভোটার বেড়েছে ৪৯ লাখ ২০ হাজার ৪৬৫ জন। অর্থাৎ সর্বশেষ ভোটার তালিকার পর সাত বছরে নারী ভোটার বাড়ার হার ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে পুরুষ ভোটার বেড়েছে ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৭৭ জন। এই বৃদ্ধির হার প্রায় তিন শতাংশ।
ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, ভোটার তালিকার কাজ শেষ হওয়ার পরও আবেদনের মাধ্যমে পাঁচ শতাধিক মানুষ ভোটার হয়েছে। এদের বেশির ভাগই পুরুষ। নানা কাজে বাড়ির বাইরে বা দেশের বাইরে থাকায় তারা নির্ধারিত সময়ে ভোটার হতে পারেনি। এ ধরনের আবেদন প্রায়ই আসছে।
১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনের আগে তৈরি ভোটার তালিকায় পুরুষ দুই কোটি ৮৭ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯৪ ও নারী ভোটার ছিল দুই কোটি ৭৯ লাখ ৫৬ হাজার ৯৪১ জন। একই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে হালনাগাদ তালিকায় পুরুষ দুই কোটি ৩৭ লাখ ৬৫ হাজার ৭৫২ ও নারী ভোটার ছিল দুই কোটি ৩২ লাখ ৩৮ হাজার ২০৪ জন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে হালনাগাদ তালিকায় পুরুষ ভোটার ছিল তিন কোটি ৩০ লাখ ৪০ হাজার ৭৫৭ ও নারী দুই কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার ৯৮৬। ’৮৮ সালের তালিকায় দুই কোটি ৬৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪৪ জন পুরুষ ও দুই কোটি ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৫ জন নারী ভোটার ছিল। ’৮৬ সালের তালিকায় পুরুষ দুই কোটি ৫২ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৫ ও নারী ভোটার দুই কোটি ২৬ লাখ ৫২ হাজার ৫৯৪ জন। ’৭৯ সালের তালিকায় পুরুষ দুই কোটি ৩৪ হাজার ৭১৭ ও নারী ভোটার ছিল এক লাখ ৮৩ লাখ ২৯ হাজার ১৪১ জন।
এবার নারী ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকা তৈরির কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, দেশের বাইরে ও ভেতরে পেশাগত কাজে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় অনেক পুরুষের পক্ষে ভোটার হওয়া সম্ভব হয়নি। কাজের কারণে মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে দেশের বাইরে থাকতে হয়। এদের বেশির ভাগই পুরুষ। পুরুষ ভোটার কমার এটাও একটা কারণ হতে পারে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আগের ভোটার তালিকায় দেখা গেছে ভুয়া ও দ্বৈত ভোটারদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি। এবার সেই সুযোগ না থাকায় পুরুষ ভোটার কমেছে। এটাও একটা কারণ।
আজকের প্রথম আলো থেকে নেয়া
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



