somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ ভুয়া বিবাহ

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তনিমা বাড়ি পটুয়াখালির চর এলাকাতে । ১২বছর বয়সে তার বাবা তাকে বিয়ে দেয় চল্লিশোর্ধ এক ব্যক্তি সঙ্গে। বিয়ের কোন কিছু বোঝার আগে তার কপালে লেখা হয় তনিমা স্বামী পরিক্ততা।এ অঞ্চলে বেশিরভাগ মেয়েদের বিয়ে নামমাত্র দেয়া হয়, বাবার কুল রক্ষা করার জন্য। মৌসুম বিয়ে হিসাবে একটা কথাও প্রচলিত আছে।তনিমা ভূয়া বিয়ের শিকার হয়। তার বিয়ে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া হয়েছে।অথচ আমাদের আইন বলে বিবাহ হলো দুজন নারী ও পুরুষের সামাজিকভাবে একত্রে বসবাসের স্বীকৃতি আদায়ের বৈধ মাধ্যম। মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহের প্রধান তিনটি শর্ত হলো ছেলে ও মেয়ে উভয়কে সাবালক ও সাবালিকা হতে হবে, ছেলে ও মেয়ে উভয়েই বিবাহের ব্যাপারে সম্মত এবং দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ সম্পন্ন হতে হবে। কিন্তু প্রায়শই ভুয়া বিবাহ সম্পন্নের ঘটনা ঘটছে। বিয়ে সম্পন্নের ক্ষেত্রে যথাযথ পদ্ধতিও মানা হয় না বেশিরভাগ সময়। আর এ সমস্যার প্রধান শিকার হচ্ছে নারী।
মুসলিম বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।বিবাহের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কাজিদের অফিসে সম্পন্ন করা হলে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য মঙ্গলজনক হয়। মুসলিম বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হলেও ।তেমনভাবে পদক্ষেপ এখনো নেয়া হয়নি। যার কারণে আইনি সহায়তা পেতে নারী অনেক ঝুঁকি পোহাতে হয়।এই ঝুকির কারণে নারী আইনের আশ্রয় নিতে চায় না। ফলে নারীরা সমাজে রয়েছে যাচ্ছে অবহেলিত। অসামাজিক বিবাহ, একাধিক বিবাহ, বাল্যবিবাহ, যৌতুকবিহীন বিবাহসহ ভুয়া বিবাহ পর্যন্ত প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া সহজ করা। অনেক ক্ষেত্রে নিকাহনামা পর্যন্ত প্রয়োজনের সময় খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্তমান আইন অনুযায়ী মুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে যেকোনো স্থানে বিবাহের রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব। এর ফলে দেখা যায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অনৈতিক বিবাহের সংখ্যা অহরহই ঘটছে। কেননা, এ আইনের ফলে ছেলে ও মেয়েকে শনাক্ত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। কেউ যদি জোর করে মেয়েকে উঠিয়ে এনে বা পালিয়ে এসে ছেলে ও মেয়ে অন্যত্র বিবাহ বা একাধিক বিবাহ (প্রথম পক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে) করেন, তাহলে বর্তমান আইনে তা শনাক্ত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশনকারী এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না। তিনি আইন অনুযায়ী ছেলে ও মেয়েকে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহের রেজিস্ট্রেশন করেন মাত্র।
আমাদের দেশে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে কাজি অফিসে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতার কারণে বিবাহ করতে বাধাপ্রাপ্ত হলে ছেলে ও মেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট বা নোটারি পাবলিকের সম্মুখে হলফনামা আদায় করেন। এরপর হলফনামার ভিত্তিতে যেকোনো কাজি অফিসে গিয়ে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করেন। এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছেলে ও মেয়ে উভয়েই বা যেকোনো পক্ষ বাবা-মা বা অভিভাবকদের অসম্মতিতে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করার জন্য হলফনামা সংগ্রহ করে থাকে। ছেলে ও মেয়ে সাধারণত নিজেদের সাবালক ও সাবালিকা প্রমাণের মাধ্যমে নোটারি পাবলিকের হলফনামার ভিত্তিতে বিবাহ করে থাকেন। নোটারি পাবলিকের বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে হলফনামা সংগ্রহ করে বিবাহ হলে ছেলে ও মেয়ে সাধারণত ভিন্ন কোনো স্থানে গিয়ে কাজিদের মাধ্যমে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করে থাকেন। যেহেতু আইনে কনেপক্ষের স্থায়ী ঠিকানায় বিবাহ বাধ্যতামূলক করা হয়নি। যার কারণে এখানে নারীরা অন্যরকম একটা সমস্যায় পড়েন। ফলে আইনগত কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে অভিভাবকেরা ছেলে ও মেয়েকে খুঁজে পেতে গিয়ে হয়রানির সম্মুখীন হন।
বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে গ্রাম পর্যায়ে প্রকোপটা বেশি। বিবাহের ক্ষেত্রে বর ও কনের বয়স নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্রাদি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয় বিধায় এ ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগ হয়। অনুমানের ওপর বা সাক্ষীদের মতের ভিত্তিতে উপস্থিত বর ও কনের বয়স নির্ধারণ হয় বিধায় বর ও কনেপক্ষের অভিভাবকদ্বয় এ সুযোগ নিয়ে থাকেন। বয়সের জটিলতা নিরসনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ বা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে বয়সের সঠিক প্রমাণপত্র বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হলে বাল্যবিবাহ রোধে শতভাগ সফলতা অর্জন করা সম্ভব হতো।বিবাহের পর পারিবারিক জীবনে দাম্পত্য কলহের নানা ঘটনায় বর বা কনে বা উভয়েই তালাক গ্রহণ করতে চায়। কনেপক্ষ যদি ভরণপোষণ বা নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে ন্যায়বিচারের জন্য যায়, তাহলে আদালত বিবাহের বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নিকাহনামার অনুলিপি আদালতে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। সে ক্ষেত্রে দেখা যায়, বরপক্ষ বা স্বামী নিকাহনামা গায়েব করে ফেলেন। তাই এ ধরনের জটিলতা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য কনেপক্ষের স্থায়ী ঠিকানায় বিবাহ সম্পন্ন ।
বিশ্বের অনেক দেশেই বর ও কনের বিবাহের বয়স যুগোপযোগী করা হয়েছে। আমাদের দেশে সাধারণত যখন কোনো কারণে বিবাহবিচ্ছেদের প্রশ্ন আসে, তখনই দেনমোহরের অংশ পরিশোধ বা আদায়ের বিষয়টি চলে আসে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেনমোহর, সন্তানের ভরণপোষণ ইত্যাদি আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়ে কনেপক্ষকে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কাজিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রের কিছু বিধিবিধান রয়েছে। বর্তমান সরকার ২০০৭ সালে কাজিদের নিয়োগ, পরিচালনা, জবাবদিহিতা আইন মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের হাতে ন্যস্ত করে। এসব বিষয় উল্লেখ করে কাজিদের পক্ষ থেকে এর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্ট বিভাগে তিনটি রিট করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাদেশ বাতিলও করেন হাইকোর্ট বিভাগ। বর্তমান সরকার যে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছিল, তাতে কাজিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসক দুই পক্ষেরই ক্ষমতা রয়েছে। স্পষ্ট বিধান না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। কাজিদের মাধ্যমেই বিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদিত হয়। তাই দ্রুত এ জটিলতা নিরসন করে ভুয়া কাজি ও ভুয়া বিবাহ রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করা জরুরি।


Click This Link
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×