সেই দিনটি খুব দূরে নয় যেদিন হাতে হাতে আই-ফোন থাকবে। মানুষ তার নিজের কনট্রোল হারাচ্ছে নিজের অজান্তে।
নিজেকে অন্যের হাতে সপে দিচ্ছে জেনে অথবা না জেনে।
আমাদের কার্যক্রম অটোম্যাটিকলি চলে যাচ্ছে আই ক্লাউড অথবা ড্রপ বক্সে।
পৃথিবী আজ মুঠো ফোনে, একটু আনমনা হলে হারাতে পারে নিমেষেই।
ঘরে ঘরে বাচ্চাদের হাতে ভিডিও গেম অথবা আইপ্যাড যাতে ফিল্ম দেখে ভাই চড়াও হচ্ছে বোনের উপর। বাসায় ছেলে মেয়ে রেখে যাওয়া আজ আর তেমন নিরাপদ নয়।
আমরা কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছি?
ব্রিটিশ স্কুলের এক হেড টিচার একজন এশিয়ান মাকে তাঁর বাচ্চার খেলার জন্য পিস্তল কিনে দিতে বারণ করেছিলেন।
ইংরেজরা বাচ্চাদের জন্য এসব অস্ত্র জাতীয় খেলনা সহজে কিনে দেয় না অথচ আমরা আদরের ছলে অবলীলাক্রমে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি করে চলেছি যা নিজেরাও হয়তো বুঝতে পারছি না। একটি উন্নত দেশের দৃষ্টিভঙ্গি আর আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কত তফাৎ ভেবে বিস্মিত হই।
ব্রিটেনে বেশির ভাগ মানুষ টাকা জমিয়ে হলিডে করে বা জীবনকে তাঁদের মতো করে উপভোগ করে।
ইমিগ্রান্টরা বিত্তশালী হলে বাচ্চাদের দামী কম্পিউটার আর লেটেস্ট ফোন কিনে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
সন্তানদের প্রতি অভিভাবকের ভালোবাসা প্রদর্শনের এই পদ্ধতি আমাকে চিন্তাগ্রস্ত করে।
মনে পড়ে সেই শোনা কথা-
অর্থ মানুষকে বদলায় না তার ভেতরের মানুষটিকে বাইরে নিয়ে আসে। একজন মন্দ মানুষ বিত্তশালী হলে পাশের দুর্বল মানুষটিকে বেদখল করে সে আরো বিত্তশালী হতে চায় আর একজন ভালো মানুষ বিত্তশালী হলে পাশের দুর্বল মানুষের জন্য আশ্রয় গড়ে তোলে।
দেশে বিদেশে যেখানেই আমরা থাকি না কেন আমাদের চিন্তাধারার বৃহৎ পরিবর্তন সহজে হয় না।
সামনে স্বাধীনতা দিবস।
আমি একটি কবিতা লেখার শব্দ খুঁজে ফিরছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


