
মৃত্যু মানুষের স্বাভাবিক নিয়তি। তাই বলে যদি এমন হয়, কোনো দুর্ঘটনার ফলে নিমিষেই ঝরে যাচ্ছে একেকটি প্রাণ, তবে তা সত্যিই বেদনাদায়ক এবং একই সঙ্গে উদ্বেগের। আজ স্বাধীন পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে অন্য একটি বাসকে ওভারটেক করলে বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। নয় জনের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে তিনটি শিশু। প্রতিটা মৃত্যু আমাকে ভীষন কষ্ট দেয়। আজ যারা মারা গেল এরা আমার কেউ আত্মীয়স্বজন নয়। সড়ক দূর্ঘটনা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এর থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো উপায় নেই? অল্প দক্ষ বা অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানোই সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। টাকা দিলেই লাইসেন্স পাওয়া যায়। কিন্তু লাইসেন্সধারী তো অভিজ্ঞ নয়। তাই দূর্ঘটনা হয়। হচ্ছে।
প্রতিটা সড়ক দূর্ঘটণায় মৃত্যু বড্ড মর্মান্তিক, হৃদয়বিদারক!
নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা সহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। দেশের সব সড়ক- মহাসড়ক গুলো যদি ফোরলেন করা হতো অথবা সড়কের মাঝখানে একটা আইল্যান্ডও দেয়া হতো তাহলে এসব মর্মান্তিক দূর্ঘটনা এড়ানো যেতে, এতোগুলো প্রাণ অকালে নিভে যেতো না এবং সড়ক দূর্ঘটনা ৪ ভাগের তিনভাগই কমে যেতো, এটি না থাকায় প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, এর জন্য রাষ্ট্র এর দায় এড়াতে পারে না।
লম্বা যাত্রায় মাইক্রোবাস চালকদের দক্ষতা কম।
তারা বড় গাড়ির সাথে প্রতিযোগিতা করে চালায়। ফলে দূর্ঘটনার কবলে পরে। চোখে ঘুম নিয়ে ভোরে ভোরে বরযাত্রী লম্বা যাত্রায় ও দূর্ঘটনার কারণ। মানুষ যখন যা করবে তা যদি সে মন দিয়ে করে তবে ভুলের সম্ভাবনা খুবই কম। সড়ক পরিবহন আইনের এই কড়াকড়ি মূলত চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই। কারণ, বাঙালী এমনিতে ঠিক হয় না! ঘাড়ে চেপে ধরলে যদি সে নিরুপায় হয়, তবেই সে একটু পাল্টায়।
কোথাও গেলে আমাকে বাস বা গাড়িতে করেই যেতে হয়।
একটু উনিশ বিশ হলে তো আমি শেষ। সাথে সাথে আমার সমস্ত স্বপ শেষ। মা কাঁদবে, সুরভি কাঁদবে। সরকারের কোনো কিছু যাবে আসবে না। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বছরে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি যতই জটিল সমস্যা হোক না কেন; সকলের সামগ্রিক চেষ্টা, সচেতনতার মাধ্যমে এ থেকে রক্ষা পাওয়া খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। তাই “নিরাপদ সড়ক চাই” এ স্লোগানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
জনাব ইলিয়াস কাঞ্চন- এ সময়ের মহানায়ক
আমাদের নিরাপত্তার জন্যে একাই লড়ছেন। অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের বিরুদ্ধে যেসব পরিবহন শ্রমিক-মালিক বাজে ভাষায় পোস্টার করেছে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হোক। আমরা ইলিয়াস কাঞ্চনের পক্ষে আছি। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পক্ষে আছি।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



