somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প- ২৩

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার বন্ধু সালাউদ্দিন।
সালাউদ্দিন একজন আগাগোড়া ব্যর্থ মানুষ। সে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মালোশিয়া গিয়েছে, ফিজি গিয়েছে, নিউজিল্যান্ড গিয়েছে। কিছু দিন আগে সৌদি আরব গিয়েছে। কোনো দেশেই ছয় মাসের বেশি থাকে নি। অনেক ধার-দেনা করে বিদেশ গিয়েছে। কোনো দেশেই তার ভালো লাগে না। কাজ করে আরাম পায় না। এখন সে বেকার। সালাউদ্দিনের সাথে আমার পরিচয় দুই যুগের বেশি সময় ধরে। আমরা একই সাথে লেখাপড়া করেছি বারো ক্লাশ পর্যন্ত। তবে গত পাঁচ বছর সালা উদ্দিনের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না। তিন মাসে আগে একদিন সালাউদ্দিন আমাকে ফোন দেয়। আমাদের পুরোনো হাজার হাজার সৃতি আবার নতুন করে সব মনে পড়ে। এখন আমাদের প্রায়ই দেখা হয়, আড্ডা হয়।

সালা উদ্দিন প্রতি সপ্তাহে দুই দিন আমার বাসায় আসে।
সুরভির রান্না সালাউদ্দিনের খুবই পছন্দ। আমার সাথে আড্ডা দেয়। তারপর চলে যায়। সালাউদ্দিন বিয়ে করেছে প্রায় এক বছর হলো। সালাউদ্দিনের বউ মিলি। মিলি অনেক গুনী মেয়ে। মাস্টার্স করেছে। একটা স্কুলের শিক্ষিকা। স্কুলে মিলি বিজ্ঞান ও অংক শেখায় ছাত্রছাত্রীদের। স্কুল শেষে দু'টা কোচিং এ ব্যাচে ছাত্রছাত্রীদের পড়ায়। কোচিং শেষে মিলি একটা কোর্স করছে। ওয়েব ডেভেলপমেন্টের। সেখানে যায়। সকাল সাত টায় বাসা থেকে বের হয় মিলি, রাত দশ টায় বাসায় ফিরে। স্কুলে পড়িয়ে এবং কোচিং এ পড়িয়ে মিলি মাসে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা ইনকাম করে। এদিকে সালাউদ্দিনের কোনো কামকাজ নেই। সারা দিন সে তার স্ত্রীকে সময় দেয়। সকালে স্কুলে পৌঁছে দেয়। স্কুলে শেষ হলে কোচিং এ পৌঁছে দেয়। কোচিং শেষ কোর্সের ক্লাশে নিয়ে যায়। এক হিসেবে দু'জন সারাদিন একসাথেই থাকে।

এইভাবেই যাচ্ছে বন্ধু সালাউদ্দিনের দিনকাল।
সালাউদ্দিনের ফ্যামিলির অবস্থা ভালো না। বেশ অভাব! মিলি পারাবারিক অবস্থাও তত উন্নত নয়। মিলি যা ইনকাম করে তার কোর্স ফি, ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ আর সিনএনজি ভাড়া দিয়েই সব শেষ হয়ে যায়। বিয়েরপরও মিলি থাকে তার মায়ের কাছে। ভাড়া বাড়িতে। মিলির বাবা নেই। সালাউদ্দিন সপ্তাহে দুই দিন মিলির বাসায় থাকে। মিলির বাসা সালাউদ্দিনের বাসার দূরত্ব ত্রিশ টাকা রিকশা ভাড়া। এইভাবেই চলছে গত এক বছর ধরে। সালাউদ্দিন চাকরী পাচ্ছে না। বউকে নিজের বাসায়ও তুলতে পারছে না। চাকরী পেলেই সালাউদ্দিন বড় বাসা নেবে তখন মিলিকে বড় অনুষ্ঠান করে তুলে নেবে। অনেক চাকরীর সন্ধান করে, এখন চাকরীর আশা বাদ দিয়েছে সালাউদ্দিন। মিলি সালাউদ্দিনকে বলে যেভাবে দিন যাচ্ছে যাক না। চিন্তা করে প্রেসার বাড়িয়ে লাভ কি!

সালাউদ্দিন ছেলেটা ভালো।
বেশ বুদ্ধিমান। তবে তার বুদ্ধি কোনো কাজে লাগে নি। আমরা মাঝে মাঝে চায়ের দোকানে খুব আড্ডা দেই। একদিন সালাউদ্দিন রাত বারোটায় ঘর থেকে বের হয়ে গেছে। আমি বললাম, এত রাতে বের হলি ক্যান?
সালাউদ্দিন বলল, সুমন (সালাউদ্দিনের একমাত্র শালা) অসুস্থ। ডাক্তার দেখাতে হবে। ডাক্তারের সিরিয়াল দিতে যাচ্ছি।
আমি বললাম, এত রাতে কেন?
সালাউদ্দিন বলল, এই ডাক্তার উপমহাদেশের নাম্বার ওয়ান। সিরিয়াল পাওয়াই খুব কষ্টের। সিরিয়াল দেয় ভোর ছয় টায়। পরে গেলে আর সিরিয়াল নেবে না।
আমি বললাম, ভোর ছয়টায় সিরিয়াল নেয়, তাহলে তুই রাত বারোটায় ঘর থেকে বের হলি কেন?
সালাউদ্দিন বলল, ভোরে যদি ঘুম থেকে উঠতে না পারি? অথবা সিরিয়াল দিতে না পারি। অনেক লম্বা লাইন হয় তো! দশজনের বেশি সিরিয়াল নেয় না। বললাম না উপমহাদেশের নাম্বার ওয়ান ডাক্তার।
আমি বললাম, তোর ধানমন্ডি যেতে সময় লাগবে আধা ঘন্টা। রাত বারোটায় বের হলি। সারা রাত করবি কি?
সালাউদ্দিন বলল, এই হাঁটাহাঁটি করবো। কোনো চায়ের দোকান খোলা থাকলে চা-টা খাবো। তুই বুঝতে পারছিস না। সুমন অসুস্থ আমাদের সবার মন খারাপ।

তখন আমি গভীর ঘুমে।
রাত দুইটায় সালাউদ্দিন আবার আমাকে ফোণ দিয়ে বলল, দোস্ত সময় তো কাটে না। একাএকা ভালো লাগে। কেমন ভয়ভয় লাগছে!
আমি বললাম, অপেক্ষা কর আমি আসছি। সুরভিকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে আমি বাসা থেকে বের হলাম। তারপর রাত আড়াই টায় আমি সালাউদ্দিনের কাছে যাই। সালাউদ্দিন আমাকে দেখে খুব খুশি। খুশীতে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। ধানমন্ডি লেকের পাড়ে বসে আড্ডা দেই ভোর পর্যন্ত। সকালে ডাক্তারের সিরিয়াল দিয়ে বাসায় ফিরি।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৪৭
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×