
“আমি এই দেশে, এই সমাজে জন্মেছি বলেই শুধু এই দেশের, এই সমাজেরই নই, আমি সকল দেশের সকল মানুষের”!!
-কাজী নজরুল ইসলাম।
পৃথিবীতে দুটি শ্রেণি- একটি ধনী, অন্যটি গরিব।
গরিবের সংখ্যাই বেশি। এরাই সব তৈরি করে কিন্তু এদেরই খাবার জোটে না। আমি গরীব বলেই গরীবের দুঃখ-কষ্ট বুঝি। গরিব যে ভাষায় শুনতে চায়, সেই ভাষা আমি জানি। গরীবের জীবনযাপন করি, ওভাবে চলাফেরা করি। বর্তমান সমাজ মহাত্মা গান্ধী, জওয়াহেরলাল নেহরু বা রবীন্দ্রনাথের সমাজ না। এই সমাজে বোকা লোক গুলো আজও মার্ক্সবাদ, শ্রেণি, শ্রেণিসংগ্রাম বিশ্বাস করে। আমি বুঝে গেছি, গনতন্ত্রে শান্তি নাই। মানুষের আসল শান্তি আছে সমাজতন্ত্রে। সেই দেশ ভাগের আগে থেকে আজ পর্যন্ত- বিট্রিশ আমল, পাকিস্তান আমল, বঙ্গবন্ধুর আমল, জিয়ার আমল এমন কি এরশাদ, খালেদা আর হাসিনার আমল তো নিজের চোখেই দেখলাম। সবাই'ই এক। চোর, বাটপার, মিথ্যাবাদী, ভন্ড আর দূর্নীতিবাজ দিয়ে ভরা। স্বচ্ছ মহৎ মানুষ তো দেখলাম না।
সরকারী দলের আর কোনো দূর্নীতিবাজ ধরা হবে না?
মাত্র দুই চারজন দূর্নীতিবাজদের ধরা হয়েছে। তাই ভয়ে সমস্ত দূর্নীতিবাজসহ নব্য ধনীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে উন্নত দেশে স্থায়ীভাবে যাওয়ার জন্য পাগল হয়ে গেছে। বহু ছেলে বুড়ো এবং তাদের স্ত্রী পুত্র কন্যারা IELTS এ ভর্তি হয়েছে। যে করেই হোক বিদেশে চলে যেতে হবে। হাজার হাজার টাকা খরচ করছে। নানান ফন্দিফিকির করছে। যে করেই হোক ইউরোপের কোনো না কোনো দেশে যেতে হবেই। বলা তো যায় না যদি গ্রেফতার করা হয়! তাদের প্রথম পছন্দ কানাডা, দ্বিতীয় পছন্দ অস্ট্রেলিয়া এবং তৃতীয় পছন্দের দেশ হচ্ছে আমেরিকা। তারা ঐ দেশের সরকারকে বুঝায় এদেশে থাকা তাদের জন্য নিরাপদ নয়। যে কোনো সময় তাকে হত্যা করা হতে পারে। ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা উন্নত দেশে গিয়ে হাজার হালে থাকবে। দেশ থেকে নিয়মিত টাকা যাবে। সেই টাকায় সুখবিলাস করবে।
আমি দূর্নীতিবাজ নই।
অথচ সুরভিও চায় এই দেশ ছেড়ে চলে যেতে। IELTS করতে চাচ্ছে। আমি তাকে থামিয়ে রেখেছি। আমার ভাবীও কানাডা যাওয়ার জন্য খুব চেষ্টা করছেন। আমার সমস্যা হলো এই দেশ যতই খারাপ হোক- মায়া পড়ে গেছে। এই দেশ নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী। তবে একথাও সত্য ইন্ডিয়া যত সহজে যাওয়া যায়, কানাডা, অস্ট্রলিয়া বা আমেরিকা যাওয়া যদি তত সহজ হতো তাহলে এই পোড়া দেশে কেউ থাকতো না। কেউ না। এটা তো চোরের দেশ, দূর্নীতিবাজের দেশ, দূষিত দেশ, দুষ্টলোকের দেশ, অদক্ষ ও অযোগ্য লোকদের দেশ, নির্বোধ লোকের দেশ। সহজ সরল ভালো মানুষদের এই দেশে টিকে থাকাই মুশকিল। সবাই একটু শান্তিতে থাকতে চায়। শান্তিতে বাঁচতে চায়। যা এই দেশে সম্ভব না। দিনকে দিন এই দেশের মানুষজন অমানুষে পরিনত হচ্ছে। এই দেশে আপনাকে কেউ ভালো থাকতে দিবে না। আপনাকে শান্তিতে চাকরী করতে দিবে। আপনার আনন্দ দেখলেই তাদের শরীর জ্বলে।
বাঁচতে হলে এই দেশ ছেড়ে ভাগতে হবে।
সমাজে আমাদের সাফল্য-ব্যর্থতা অনেকটাই নির্ভর করে মানুষ সম্পর্কে আমাদের ধারণা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর। চারপাশে নিত্য নতুন ভুল, মিথ্যা ও অন্যায়ের ছড়াছড়ি দেখা যায়। জবরদস্তি, বিভেদ-বিভ্রান্তি, সামাজিক বিযুক্তি, ঘৃণা-বিদ্বেষ, হিংসা-প্রতিহিংসা, হত্যা-আত্মহত্যা, ধর্ষন, ডাকাতি ও নিরাপত্তাহীনতা সবার জীবনকেই অস্বাভাবিক করে রেখেছে। তাই মানুষ হয়ে পড়েছে নিষ্ঠুর। আসুন আমরা সবাই দেশকে ভালোবেসে সমাজকে বদলে দিতে চেষ্টা করি!
জলে ও স্থলে বিশৃঙ্খলার কারণ হলো- মানুষ গুনাহ ও প্রবৃত্তির মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে যাওয়া। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলার আদেশ ও নিষেধের দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ না করার কারণে। ‘তোমাদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা শুরা, আয়াত:৩০)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



