
সুরভি থাই স্যুপ খাবে।
থাই স্যুপটা আমারও খেতে বেশ লাগে। সুরভিকে নিয়ে গেলাম ভূতের আড্ডা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। ভূরের আড্ডা রেস্টুরেন্ট সুরভির একেবারেই পছন্দ না। হঠাত বেশ কয়েকটা ভূত চলে আসে। সুরভি ভূত ভয় পায়। আমি হাসি। আসলে বাসার কাছে ভূরের আড্ডা রেস্টুরেন্ট। রিকশা ভাড়া চল্লিশ টাকা। গল্প করতে করতে গরম-গরম থাই স্যুপটা খেতে বেশ ভালো লাগে। সাথে অনথন। সুরভি আর আমি খাচ্ছি। নানান রকম গল্প করছি। তখন তিন চারজন লোক লাইন ধরে এসে চিৎকার করে বলে যায়- আসছে আ-স-ছে! ঠিক তার দশ মিনিট পর রেস্টুরেন্টের সব বাতি বন্ধ হয়ে যায়। চারিদকে বিকট ভয়ানক মিউজিক চলতে থাকে। তখন একসাথে লাইন ধরে পাঁচ সাত জন ভূত আসে। বিকট সব মুখোশ পরা। একদম টেবিলের কাছে এসে ভয় দেখায়। তারপর ভয়ের মিউজিক চলে গিয়ে আসে বাজনা। তখন বাজনার তালে তালে ভূত গুলো নাচতে শুরু করে। সুরভি তো ভয়ে শেষ। খামচি দিয়ে আমার শার্ট ধরে রাখে। সুরভির ভয় দেখে আমার খুব হাসি পায়।
স্যুপ খেতে আমার কোনো টাকা খরচ হয়নি।
গোপনে আস্তে করে সুরভির পার্স থেকে এক হাজার টাকার একটা নোট নিয়ে নিয়েছি। ছেলেরা যেমন ম্যানিব্যাগে টাকা গুছিয়ে রাখে, মেয়েরা তাদের ব্যাগে টাকা গুছিয়ে রাখে না। সুরভির পার্সে অনেক গুলো পকেট। প্রতিটা পকেটেই দেখি টাকা আছে। সেখান থেকে প্রায়ই আমি টাকা নিই। সুরভি বুঝে না। গত পাঁচ বছরে বহু বার নিয়েছি। সে বুঝতে পারেনি। ভবিষ্যতে আরো নিবো। হে হে। সে যদি গুছিয়ে হিসাব করে রাখতো তাহলে কি আমি নিতাম? যেহেতু সে বেহিসাবি তাই নিয়েছি। এটা তার শাস্তি। এখন, আমি নিজে থেকেই সুরভিকে বলি- এরকম হুটহাট খেতে ইচ্ছা করলে আমাকে বলবে। কোনো সমস্যা নাই। ক'দিন আর বাঁচবো? খেয়ে-পড়ে আনন্দ করে বাঁচি। এটাই বুদ্ধিমানের কাজ। সুরভি খুশি, আমিও খুশি।
রাতে ঘুমাতে যাবো তখন পরী বলল-
আসো ধাঁধা-ধাঁধা খেলি। আমি বললাম ওকে। আমরা তিনজন বেলকনিতে বসলাম। সুরভি কফি বানিয়ে আনলো। তিনজন হাতে কফির মগ। পরী আমাদের ধাঁধা দিলো- বহু দাঁত রয়েছে কিন্তু কোনো কিছু খায় না, জিনিসটি কি? পরীর ধাঁধার উত্তর আমি বা সুরভি পারলাম না। পরী অবশ্য বলেছে, একটু ভাবো পারবে। খুব সহজ। আমরা দু'জন অনেক ভাবাভাবি করেও পারলাম না। পরী ধাঁধার উত্তর দিলো না। সে আমাদের সকাল পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এবার সুরভির পালা। সুরভি হাসতে হাসতে আমাদের ধাঁধা দিলো- তুমি যে ভাষায়ই কথা বলো না কেন, সব ভাষাতেই জবাব দিতে পারে কে? সুরভির ধাঁধার উত্তর আমি বা পরী দিতে পারলাম না। সুরভি আমাদের সকাল পর্যন্ত সময় দিলো। এবার আমার পালা।আমি ধাঁধা দিলাম- বহুদিন না ঘুমিয়ে একজন মানুষ কিভাবে বাঁচতে পারে? অতি সহজ ধাঁধা। যে কেউই পারবে। অথচ পরী বা সুরভি পারলো না। আমিও তাদের মতো করে সকাল পর্যন্ত সময় দিলাম। হে হে
সকালে সুরভিকে বললাম, আজ নাস্তা বানাতে হবে না।
আমরা আজ হোটেলে নাস্তা খাবো। পরী-সুরভি খুব খুশি। তাদের খুশি দেখে আমিও খুশি। ফ্রেশ ট্রেশ হয়ে আমরা বাসার কাছে হোটেলে গেলাম। এই হোটেলটার খাবার বেশ স্বাদ হয়। আমি বললাম, যার যেটা ভালো লাগে অর্ডার দিয়ে দাও। আমি খাবো নেহারি আর তন্দুর রুটি। সুরভি নিলো পরোটা, ডিম ভাজি আর ডাল। পরী নিলো স্যুপ আর পরোটা। নাস্তা শেষে তিনজনই চা নিলাম। নাস্তা শেষ করে বাসায় ফেরার পথে দেখি এক লোক পেয়ারা বিক্রি করছে। পেয়ারা গুলো বেশ সুন্দর। ৮০ টাকা কেজিতে তিন কেজি নিয়ে নিলাম। বাসায় ফিরলাম। এখনও আমার কোনো টাকা খরচ হয়নি। সুরভি যখন দাঁত ব্রাশ করছিল তখন আবার একটা এক হাজার টাকা নোট তার পার্স থেকে সরিয়ে ফেলেছি। হে হে। অবশ্য আমার নীতি আছে। একমাসে দুইবারের বেশি টাকা নিই না। বেশি লোভ করতে গেলে শেষে ধরা খেয়ে যাবো।
সুরভিকে দুপুরে বাসায় রান্না করতে হবে না।
আজ আমাদের দোতলায় দাওয়াত আছে। মাসে কমপক্ষে দশদিন দোতলায় আমাদের দাওয়াত থাকেই। দোতলার ভাবী রান্না জানেন। অতি সামান্য রান্নাও খেতে দারুন লাগে। পোয়া মাছ আমি খাই না। অথচ একদিন ভাবীর ঘরে পোয়া মাছ দিয়ে ভাত খেলাম। কি সুন্দর করেই না রান্না করেছেন। আলু, বেগুন, টোমেটো দিয়ে পোয়া মাছ ভেজে রান্না করেছেন। খেতে দূর্দান্ত হয়েছে। আরেকদিন খেলাম তেলাপিয়া মাছ। আমি তেলাপিয়া মাছ খাই না। অথচ সেদিন তেলাপিয়া দিয়ে ভাত খেলাম। আসলে রান্না ভালো হলে যে কোনো খাবারই খাওয়া যায়। গত সপ্তাহে এই ভাবীর ঘরেই খেলাম পাঙ্গাস মাছ। অথচ আমি পাঙ্গাস খাই না। সেদিন খেয়ে দেখলাম। খেতে বেশ। কাটা নাই। বেশ তুলতুলে। চমৎকার রান্না। তিন পিছ পাঙ্গাস মাছ আমি একাই খেয়ে ফেললাম। অথচ আমি কোনো দিন বাজার থেকে পোয়া, তেলাপিয়া বা পাঙ্গাস কিনি নি।

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



