somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

নিজেকে জানো

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন।
আপনি কি নিজেকে জানেন? জানলে কতটুকু জানেন? নিজের ব্যক্তিত্ব বা পার্সোনালিটি সম্পর্কে ধারণা রাখুন। ব্যক্তি হিসেবে আপনি কেমন, সেটা আপনার থেকে ভালো কেউ জানবে না, তাই নিজের খবর নিজেকেই রাখতে হবে। একজন মানুষ তার নিজের আত্মাকে চিনবে তখনই, যখন তার লক্ষ্য থাকবে নিশ্চিত, আর সে সেই লক্ষ্যে থাকবে স্থির, অবিচল। অর্থের পিছনে দৌড়ানো ঠিক না। আপনাদের প্রথম কর্তব্য হওয়া উচিত আত্মার উন্নয়ন সাধন। নিজেকে জানতে হলে প্রচুর পরিমানে পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের প্রয়োজন আছে। সত্যিকার অর্থে নিজেকে জানার জন্য কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। এটা নির্ভর করে তার বুদ্ধিমত্তার উপর।

নিজেকে জানার মত বড় গুণ আর নেই।
আপনি নিজেকে ভালো করে দেখুন। যতোটা সম্ভব জানতে চেষ্টা করুন। আপনার নিজের ভালো দিক, খারাপ দিক গুলো ভাল করে জানতে চেষ্টা করুন। আপনার প্রতিভা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। আমি বিশ্বাস করি- প্রতিভা শূন্য মানুষ নেই। আপনার মধ্যে অবশ্যই কোনো না কোনো প্রতিভা আছে'ই। মানুষের নিজের ভেতরে, তার নিজস্ব অস্তিত্বে যেসব গুপ্তধন রয়েছে সে গুলোকে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা প্রচেষ্টার অবসরটুকুও যেন তার নেই। জীবনে সাফল্য লাভ ও সন্তুষ্টির ব্যাপারে পবিত্র কুরআন চমৎকার জীবনযাপন পদ্ধতির দিকনির্দেশনা দেওয়া আছে। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আত্মসচেতনতা। আত্মসচেতনতা মানে হলো নিজেকে চেনা, নিজের সম্পর্কে জানা।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, নিজেকে জানার মত বড় গুণ আর নেই। ‘মানুষ কি মনে করে, তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর জন্য পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে? তোমরা কি ভেবেছ তোমাদের অহেতুক সৃষ্টি করেছি।’ মোটেও নয় বরং বিশেষ উদ্দেশ্যের জন্যই আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। অনেক হয়েছে, আর না- এখন সময় এসেছে নিজেকে চেনা ও জানার, নিজেকে সংশোধন করার। অনেকে বলতে পারেন, কেবল নিজেকে চিনলে লাভ কী? হ্যাঁ, লাভ আছে রে ভাই। সৃষ্টির সেরা জীব ভিক্ষা করবে কেন? করে; এজন্যই যে সে জানে না সে যে কে? মানুষ যদি নিজেকে চিনতে পারতো তবে কাউকে ভিক্ষা করতে হতো না। নবী (স.) বলেন, তুমি যদি আল্লাহকে চিনতে চাও তবে আগে নিজেকে চেনো। মানুষ আসলে নিজেকে চেনার চেষ্টাই করে না। তাকায় কিন্তু দেখে না, শ্রবণ করে কিন্তু শুনে না, পড়ে কিন্তু বুঝে না।

সৃষ্টিকর্তা বলেন, আমি মানুষের জন্য সব কিছু সৃষ্টি করেছি, সাত আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তা মানুষের জন্যই সৃষ্টি। অথচ মানুষ না খেয়ে থাকে, ভিক্ষা করে। কারণ সে জানেই না যে বিশ্বের সমস্ত কিছু তার জন্যই সৃষ্টি করতে হয়েছে। আপনার অবস্থার পরিবর্তন তখনই হবে যখন আপনি পরিবর্তন চাইবেন। আপনি যদি একটি চেয়ারকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরাতে চান তবে তার আগেও আপনাকে চিন্তা করতে হবে আমি চেয়ারটি সরাবো কি সরাবো না। একটি চেয়ারও সরবে না যদি সরাতে না চান, আর জীবন তো সরবেই না। জীবনের পরিবর্তন চাইলেই পরিবর্তন ঘটবে। সহজ সরল কথা হলো- নিজেকে জানো, শান্তিতে থাকো। নিজেদের জানতে হলে ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। ইতিহাস মানেই আমাদের চেনা-জানা অতীতের মানুষের গল্প।

একটা কথা মনে রাখতে হবে আপনার জন্ম আপনার হাতে নেই কিন্তু আপনার জীবনের সফলতা আপনার হাতে। আপনি কত ফিট লম্বা হবেন তা আপনার হাতে নেই কিন্তু আপনি কত বড় হবেন তা আপনার হাতে। আপনার গায়ের রং কেমন হবে তা আপনার হাতে নেই কিন্তু আপনার জীবনকে আলোকময় করা আপনার হাতে। মানুষ মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত জ্ঞানী হতে পারেনা, জ্ঞানী হওয়ার প্রয়াস করতে পারে মাত্র। এই জন্যই যে নিজেকে জেনেছে সে জ্ঞানের কাছাকাছি গিয়েছে, যে নিজেকে জানেনি সে জ্ঞানকেই বুঝতে পারেনি। আমরা কেউই এই পৃথিবীতে গুরুত্বহীন নই। ঠেলাগাড়ি যে চালায়, দিনশেষে সেও একটা পরিবারে ফিরে যায়, যেখানে সে কারো বাবা, ছেলে, স্বামী কিংবা ভাই। কাজেই নিজের মূল্য দেওয়া শিখতেই হবে। আর সেই শিক্ষাটা শুরুই হয় নিজেকে জানার মাধ্যমেই।

একটি ছোট গল্প দিয়ে লেখাটি শেষ করি-
প্রাচীন গ্রিসের মানুষেরা মনে করতো পৃথিবীর সবকিছুর কেন্দ্র হচ্ছে গ্রিস আর গ্রিসের কেন্দ্র হচ্ছে একটা মন্দির। সেই মন্দিরটার নাম হচ্ছে ডেলফি মন্দির। সারা দেশের মানুষ ঐ মন্দিরে আসতো নিজের অতীত বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকে জানার জন্য।

মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে যেই প্রশ্নই করা হতো ভিতর থেকে একটা নারী কণ্ঠে প্রতিধ্বনি হয়ে উত্তরটা প্রশ্নকর্তার কাছে ফিরে আসতো। একদিন সক্রেটিসের বন্ধু মন্দিরে গিয়ে জিগ্যেস করলো, “এখন এথেন্সের সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি কে”? মন্দিরের ভিতর থেকে সক্রেটিসের নাম প্রতিধ্বনিত হয়ে সক্রেটিসের বন্ধুটির কাছে ফিরে আসলো।

সক্রেটিসের বন্ধুটি যখন সক্রেটিসকে এই কথাটি জানালো তখন সক্রেটিস একটু অবাক হলেন। তখন তিনি ভাবলেন আমি তো কিছুই জানিনা, তারপরেও আমাকে সবচেয়ে জ্ঞানী বলা হলো? তিনি তখন তা পরীক্ষা করার জন্য এথেন্সের যতো জ্ঞানী আছে তাদের কাছে গিয়ে জ্ঞান সম্পর্কে জানতে চাইলেন। কিন্তু অবাক করার বিষয় যার কাছেই গিয়েছেন তিনিই এমন ভাব দেখিয়েছেন যে, জ্ঞানটা যেন একা তারই আছে অন্য কারোর কাছে নেই। তারা প্রত্যেকেই নিজেকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী বলে জাহির করেছেন।

সক্রেটিস তখনই বুঝতে পারলেন যারা নিজেদের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী বলে দাবি করছেন তারা আসলেই জানেন না তাদের সীমাবদ্ধতা কি। কিন্তু সক্রেটিস জানেন তার অজ্ঞতা কোথায়। সক্রেটিস বুঝতে পারলেন তারা নিজের সম্পর্কে জানেন না, কিন্তু সক্রেটিস জানেন এটাই তাকে সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষে পরিণত করেছে। তাই তিনি বলেছেন, নিজেকে জানো, নিজেকে চিনো। যে নিজেকে চিনতে পারবে সেই পৃথিবীতে বেশি পাণ্ডিত্য অর্জন করতে পারবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:১৯
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×