somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আওয়ামী লীগের সম্মেলন

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের দেশে অনেক রকম সম্মেলন হয়, হচ্ছে।
এক দলের'ই অনেক রকম সম্মেলন হয়। যেমন- ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন, ত্রিবার্ষিক সম্মেলন, সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, কৃষক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শ্রমিক লীগের সম্মেলন, লীগের জাতীয় সম্মেলন, ছাত্রলীগের সম্মেলন, মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলন এরকম বহু সম্মেলন হচ্ছে। এখন কথা হচ্ছে, এই সম্মেলন থেকে জাতি কি পায়? সম্মেলনে জাতির কি উন্নতি হয়? অথবা এই সম্মেলন থেকে কারা লাভবান হয়? দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এই সমস্ত সম্মেলন কতটা প্রয়োজনীয়?

রাজনীতিবিদরা মনে করেন-
দলকে গতিশীল করতে যথাসময়ে সম্মেলন দরকার। সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে গুছিয়ে নেওয়া যায়। দল থেকে মন্দলোককে ঝাঁটা মেরে বিদায় করা যায়। ভালো লোককে দলে প্রবেশ করানো যায়। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ৮১ জন। এবার চিন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত, কানাডা, অস্টোলিয়া, ইতালি, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের দুই/তিন ডজন অতিথি আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেয়। এবার আওয়ামীলীগের সম্মেলনে আগত বিদেশি অতিথিরা একবাক্যে বলেছেন, শেখ হাসিনা একজন 'rare leader'- দুর্লভ নেতা। সম্মেলনে কর্মী-সর্মকদের বেশ চাঙ্গা- উৎফুল্ল দেখা যায়। পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের কর্মকান্ড শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীত।

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলন সবচেয়ে বেশি হয়।
একটা সম্মেলনে অনেক টাকা খরচ হয়। এই টাকা কে দেয়? কেন দেয়? সম্মেলনের সময়, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পদপ্রত্যাশী নেতাদের ছোট-বড় ব্যানার ও পোস্টারে ভরে যায়। নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। বাস, ট্রাক ভরতি করে লোকজন সকাল থেকেই সম্মেলন কেন্দ্রে আসতে শুরু করে। প্রচুর লোকজন হয়। এই সমস্ত লোকজন কি নিজের ইচ্ছায় সম্মেলনে আসে? সম্মেলনে এসে তাদের লাভ কি? টাকা পায়? খাবার পায়? যারা এই সম্মেলনে আসে তাদের কি কোনো কাম-কাজ নেই? মানুষ এরকম নানান কথা ভাবে! আসলে মানুষের কাজই হচ্ছে- ভাবা।

বিএনপি এখন একটি অচল, স্থবির দল।
বিএনপির বর্তমান নিষ্ক্রিয়তায় আওয়ামী লীগের উল্লসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং সতর্ক হওয়ার কারণ আছে। আওয়ামীলীগ বহু কাজ করছে দেশের জন্য। যা বিএনপি ত্রিশ বছর ক্ষমতায় থাকলেও করতে পারতো না। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, চার লেনের রাস্তা, ফ্লাইওভার ইত্যাদি। আরও অনেক ভালো ভালো কাজ দিয়ে আওয়ামী লীগ দেশের সমস্ত মানুষের মন জয় করে নিতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। শেখ হাসিনার তুলনা হয় না।

তবে এক রিকশাওয়ালাকে বলতে শুনলাম-
রিকশাওয়ালা বেশ রেগেমেগে আরেক রিকশাওয়ালাকে বলছে- এইসব সম্মেলন আমাদের ভাত দিবে না। যারা এইখানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) আসছে তাদের কামকাজ নাই অথবা তাদের ভাতের চিন্তা নাই। আমরা কর্ম কইরা খাই। আমাদের রিকশা চালায়েই খেতে হয়। বৌ-বাচ্চা আছে। এই সম্মেলন করে রাস্তায় যানজট বেশি হয়। আমরা রিকশা চালাইবার পারি না। যদি এই সুম্মিলন (সম্মেলন) করে পেঁয়াজ আর চালের দামটা কমতো তয় আমাদের জন্যই ভালো হইতো। তখন কইতাম সেইরাম একটা সম্মেলন! আমরার সম্মেলন! সম্মেলন থিক্কা উপগার পাইছি।
আবার কেউ কেউ বলেন, সম্মেলনের কারনে রাস্তায় যানজট হয়। আওয়ামী লীগ যদি এই সম্মেলন মধ্যরাত্রে করতো তাহলে সাধারন মানূষের কষ্ট হতো না। দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কথা মাথায় রেখে এরকম সম্মেলন-টম্মেলন মধ্যরাত্রে করলে সাধারন মানুষের খুব উপকার হয়।


সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৫
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×