
আমাদের দেশে অনেক রকম সম্মেলন হয়, হচ্ছে।
এক দলের'ই অনেক রকম সম্মেলন হয়। যেমন- ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন, ত্রিবার্ষিক সম্মেলন, সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, কৃষক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শ্রমিক লীগের সম্মেলন, লীগের জাতীয় সম্মেলন, ছাত্রলীগের সম্মেলন, মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলন এরকম বহু সম্মেলন হচ্ছে। এখন কথা হচ্ছে, এই সম্মেলন থেকে জাতি কি পায়? সম্মেলনে জাতির কি উন্নতি হয়? অথবা এই সম্মেলন থেকে কারা লাভবান হয়? দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এই সমস্ত সম্মেলন কতটা প্রয়োজনীয়?
রাজনীতিবিদরা মনে করেন-
দলকে গতিশীল করতে যথাসময়ে সম্মেলন দরকার। সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে গুছিয়ে নেওয়া যায়। দল থেকে মন্দলোককে ঝাঁটা মেরে বিদায় করা যায়। ভালো লোককে দলে প্রবেশ করানো যায়। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ৮১ জন। এবার চিন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত, কানাডা, অস্টোলিয়া, ইতালি, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের দুই/তিন ডজন অতিথি আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেয়। এবার আওয়ামীলীগের সম্মেলনে আগত বিদেশি অতিথিরা একবাক্যে বলেছেন, শেখ হাসিনা একজন 'rare leader'- দুর্লভ নেতা। সম্মেলনে কর্মী-সর্মকদের বেশ চাঙ্গা- উৎফুল্ল দেখা যায়। পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের কর্মকান্ড শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীত।
ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলন সবচেয়ে বেশি হয়।
একটা সম্মেলনে অনেক টাকা খরচ হয়। এই টাকা কে দেয়? কেন দেয়? সম্মেলনের সময়, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পদপ্রত্যাশী নেতাদের ছোট-বড় ব্যানার ও পোস্টারে ভরে যায়। নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। বাস, ট্রাক ভরতি করে লোকজন সকাল থেকেই সম্মেলন কেন্দ্রে আসতে শুরু করে। প্রচুর লোকজন হয়। এই সমস্ত লোকজন কি নিজের ইচ্ছায় সম্মেলনে আসে? সম্মেলনে এসে তাদের লাভ কি? টাকা পায়? খাবার পায়? যারা এই সম্মেলনে আসে তাদের কি কোনো কাম-কাজ নেই? মানুষ এরকম নানান কথা ভাবে! আসলে মানুষের কাজই হচ্ছে- ভাবা।
বিএনপি এখন একটি অচল, স্থবির দল।
বিএনপির বর্তমান নিষ্ক্রিয়তায় আওয়ামী লীগের উল্লসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং সতর্ক হওয়ার কারণ আছে। আওয়ামীলীগ বহু কাজ করছে দেশের জন্য। যা বিএনপি ত্রিশ বছর ক্ষমতায় থাকলেও করতে পারতো না। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, চার লেনের রাস্তা, ফ্লাইওভার ইত্যাদি। আরও অনেক ভালো ভালো কাজ দিয়ে আওয়ামী লীগ দেশের সমস্ত মানুষের মন জয় করে নিতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। শেখ হাসিনার তুলনা হয় না।
তবে এক রিকশাওয়ালাকে বলতে শুনলাম-
রিকশাওয়ালা বেশ রেগেমেগে আরেক রিকশাওয়ালাকে বলছে- এইসব সম্মেলন আমাদের ভাত দিবে না। যারা এইখানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) আসছে তাদের কামকাজ নাই অথবা তাদের ভাতের চিন্তা নাই। আমরা কর্ম কইরা খাই। আমাদের রিকশা চালায়েই খেতে হয়। বৌ-বাচ্চা আছে। এই সম্মেলন করে রাস্তায় যানজট বেশি হয়। আমরা রিকশা চালাইবার পারি না। যদি এই সুম্মিলন (সম্মেলন) করে পেঁয়াজ আর চালের দামটা কমতো তয় আমাদের জন্যই ভালো হইতো। তখন কইতাম সেইরাম একটা সম্মেলন! আমরার সম্মেলন! সম্মেলন থিক্কা উপগার পাইছি।
আবার কেউ কেউ বলেন, সম্মেলনের কারনে রাস্তায় যানজট হয়। আওয়ামী লীগ যদি এই সম্মেলন মধ্যরাত্রে করতো তাহলে সাধারন মানূষের কষ্ট হতো না। দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কথা মাথায় রেখে এরকম সম্মেলন-টম্মেলন মধ্যরাত্রে করলে সাধারন মানুষের খুব উপকার হয়।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



